📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 আল্লাহর ইবাদাত বা গোলামীতে শরীক বানানোর পরিণাম

📄 আল্লাহর ইবাদাত বা গোলামীতে শরীক বানানোর পরিণাম


কিন্তু আজ মানব সম্প্রদায় আল্লাহতায়ালার দাসত্বের মধ্যে অনেককেই শরীক বানিয়ে নিয়েছে। কেউ কেউ দু'একটি ক্ষেত্রে আল্লাহর গোলাম এবং অন্য ক্ষেত্রে আবার আল্লাহকে বাদ দিয়ে অপর কোন শক্তির গোলামে পরিণত হয়েছে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে মানুষ পুরোপুরিই আল্লাহকে বাদ দিয়ে দুনিয়ার গোলামে পরিণত হয়েছে। যারা আদৌ আল্লাহর গোলামী করতে নারাজ তারা তো নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী। কিন্তু যারা আল্লাহকে মানে অথচ তাঁর হুকুম মানেনা তাদেরকে নিয়েই কথা।
এই শ্রেণীর লোকের আজ কি অবস্থা! তারা আজ সমাজে শক্তিশালী ব্যক্তিদেরকে তাদের খোদা বলে মেনে নিয়েছে। তাইতো আজ আল্লাহর ইবাদাত বাদ দিয়ে চলছে ব্যক্তি বিশেষদের ইবাদাত-চলছে মানুষের তৈরী ভ্রান্ত মতবাদের গোলামী। আল্লাহর হুকুমের অবমাননা হচ্ছে নির্বিবাদে। অন্যদিকে সমাজের কর্তা ব্যক্তিদের হুকুম আজ সানন্দচিত্তে মেনে চলা হচ্ছে- তাইতো দেখা যায় গ্রামের মাতব্বর থেকে শুরু করে দেশের কর্ণধারদের গোলামী আজ অবাধে চলছে। এরই মধ্যে পাচ্ছে মানুষ তৃপ্তি। মূলতঃ তারা পরাধীন অথচ মনে মনে স্বাধীনভাবে সাময়িক তৃপ্তি লাভ করছে মাত্র। দুনিয়ার অনেক শক্তিই আজ মানুষের খোদা সেজে বসেছে। আর মানুষও স্বাধীনতাবোধকে জলাঞ্জলী দিয়ে তাদেরই গোলামী করে চলছে।
ছোট্ট একটি কথা ধরুন- যদি আপনার গ্রামের চৌকিদার একটি কথা বলে আর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বলে আরেকটি- আপনি কার কথা শুনবেন? নিঃসন্দেহে চেয়ারম্যানের কথা। এমনিভাবে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আর উপজিলা চেয়ারম্যান বললে শুনবেন উপজিলা চেয়ারম্যানের কথা, উপজিলা চেয়ারম্যান সাহেব আর জিলা চেয়ারম্যান বললে শুনবেন জিলা চেয়ারম্যানের কথা। অনুরূপভাবে উপরের দিকে যেতে যেতে যদি দেশের প্রেসিডেন্ট এবং আল্লাহর কথা আসে কার কথা শুনবেন বলুন? তাহলে এখন কি বলতে পারেন যে আল্লাহর কথা বাদ দিয়ে প্রেসিডেন্ট এর কথা শুনবেন? কিন্তু ভেবে দেখুনতো একবার- কি করছি আমরা। আল্লাহর গোলামী বাদ দিয়ে আজ আমরা গোলামী করছি বিভিন্ন ব্যক্তির। আল্লাহর হুকুমকে অস্বীকার করছি অথবা তার একক সত্তাকে শরীক বানিয়ে নিয়েছি। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর গোলামী বাদ দিয়ে স্বাধীন জীবনকে খুন করে আজ ব্যক্তির গোলামে পরিণত হয়ে নফসের খায়েস পূর্ণ করছি মাত্র। আর মনে মনে ভাবছি আমরা স্বাধীন। আমরা কত খুশী। একবার বিবেককে জিজ্ঞাসা করে দেখুন কোথায় আছি? আল্লাহর দেয়া স্বাধীন বিবেককে সঠিকভাবে প্রয়োগ না করে মানুষের গোলাম সেজে বসেছি। আর মানুষের মনগড়া মতবাদের কাছে স্বাধীনতা বিক্রি করে দিয়েছি।
অবশ্য এরকমও আছে যে কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা আল্লাহর গোলামী করছি আবার কোন কোন ক্ষেত্রে আল্লাহকে বাদ দিয়ে মানুষের গোলামী করছি। অর্থাৎ কিছু ক্ষেত্রে আল্লাহর গোলাম আবার কিছু ক্ষেত্রে মানুষের গোলাম। এ সব চরিত্রের লোকদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন:
اَفَتُؤْمِنُوْنَ بِبَعْضِ الْكِتٰبِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يُفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلا خِزْيٌ فِي الْحَيَوةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيمَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدَّ الْعَذَابِ - (البقرة : ٥٨)
“তোমরা কিতাবের কিছু অংশ মানবে আর কিছু অংশ মানবেনা? জেনে রাখ, তোমাদের মধ্যে যাদেরই এরূপ আচরণ হবে তাদের এতদ্ব্যতীত আর কী শাস্তি হতে পারে যে, তারা পার্থিব জীবনে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হতে থাকবে এবং পরকালে তাদেরকে কঠোরতম শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করা হবে।” (আল বাকারাহঃ ৮৫)
আল্লাহ তায়ালা নিজেই এটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে যারা আল্লাহর হুকুম কিছু মানে আর কিছু মানেনা তাদের জন্য ইহকালে রয়েছে চরম লাঞ্ছনা-গঞ্জনা এবং পরকালে রয়েছে ভীষণ আযাব।

📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 পরিপূর্ণভাবে দাসত্ব বা গোলামী করার মধ্যেই মুক্তি নিহিত

📄 পরিপূর্ণভাবে দাসত্ব বা গোলামী করার মধ্যেই মুক্তি নিহিত


আল্লাহতায়ালা আরো বলেছেন:
يُأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلاَ تَتَّبِعُوا خُطُواتِ الشَّيْطَنِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ - (البقرة : (۲۰۸)
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণরূপে ইসলামে দাখিল হও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ করোনা। কারণ সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।” (সূরা আল বাকারা- ২০৮)
অর্থাৎ আল্লাহর গোলামী পরিপূর্ণভাবেই করতে হবে। আংশিক গোলামী করে এবং আংশিক বিরোধিতা করে কল্যাণ লাভের, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কোন সুযোগ মানুষের নেই।
আল্লাহ বলেন:
وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ : لَهُمْ قُلُوبٌ لاَ يَفْقَهُونَ بِهَا : وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لاَ يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَذَانٌ لاَ يَسْمَعُوْنَ بِهَا ، أُولَئِكَ كَالاَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلَّ أُوْلَئِكَ هُمُ الْغُفِلُونَ - (الاعراف : (۱۷۹)
“আমরা জাহান্নামের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ পয়দা করেছি। তাদের দিল রয়েছে কিন্তু তাদ্বারা তারা চিন্তা-ভাবনা করেনা, তাদের চক্ষু রয়েছে কিন্তু তাদ্বারা দেখেনা, তাদের কান রয়েছে কিন্তু তাদ্বারা শুনেনা, তারা জানোয়ারের মত বরং তার চেয়েও নিকৃষ্টতর- এরাই রয়েছে গাফলতে নিমজ্জিত।” (আল আরাফ- ১৭৯)
আজ আমাদের অবস্থাও তদ্রূপ হয়ে পড়েছে। খলীফা হয়ে দুনিয়ায় এসে আমরা কী করছি তা এক মুহূর্তও বিলম্ব না করে ভেবে দেখা দরকার। আল্লাহতায়ালা বলেছেন-
ياَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ .
“হে মানুষ, তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালকের ইবাদাত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ব-পুরুষদেরকে সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা আত্মরক্ষা করতে পারো।” (সূরা আল বাকারা ২১ আয়াত)
লক্ষণীয় যে, যেহেতু আল্লাহতায়ালা মানব জাতির কল্যাণ কামনা করেন এবং যেহেতু একমাত্র আল্লাহর ইবাদাতের মধ্যেই তাদের মুক্তি নিহিত- তাই তিনি বিশেষ কোন গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের প্রতি নয় বরং বিশ্বের সর্ব শ্রেণীর সর্বকালের মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন একমাত্র তাঁর ইবাদাত করার জন্য। তাঁরই আনুগত্য, দাসত্ব ও গোলামী করার জন্য। আর এ কথাও তিনি ঘোষণা করে জানিয়ে দিয়েছেন যে কেবল মাত্র এর মাধ্যমেই মানব জাতির আত্মরক্ষা সম্ভব।
মানুষের ইবাদাতের চরম পর্যায় সম্পর্কে রাসূল (সা) বলেছেনঃ
أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ -
“তুমি আল্লাহর ইবাদাত করবে এমনভাবে যেন তুমি তাকে দেখছো। তুমি যদি তাকে দেখতে না পাও মনে করবে তিনি তোমাকে দেখছেন।”
জীবনের প্রতিটি কাজে মনে রাখতে হবে যে আল্লাহ আমাকে দেখছেন। কোন কাজে আল্লাহর কী হুকুম- তা পূর্ণ খেয়াল ও সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রেখে যাবতীয় কাজ করাই এর অর্থ। কোন অন্যায় বা হারাম কাজ সে করতে পারবেনা- ভয়ে তার প্রাণ কেঁপে উঠবে যদি সে আল্লাহ তাকে দেখছেন জেনে কাজে অগ্রসর হয়। অর্থাৎ খারাপ বা বদ কাজ যত সুবিধা ও লাভজনকই হোকনা কেন- আল্লাহর নিষেধ বাণীই তাকে সে কাজ করতে দেবেনা- তাকে পিছনে ঠেলে দেবে। আর সৎ ও নেক কাজ যত কঠিন ও কষ্টদায়ক হোকনা কেন আল্লাহর নির্দেশবাণীই তাকে সে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করবে ও উৎসাহ প্রদান করবে। এটাই হবে মানব জীবনের চরম ও পরম লক্ষ্য।
কিন্তু আজ আমরা যদি আমাদের চারদিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখি আল্লাহকে হাযির নাজির জানার কথা মুখে বললেও বাস্তবে তার প্রমাণ নেই। হাটে-ঘাটে, বাসে, ট্রেনে, স্টিমারে, স্কুলে, কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে, অফিস-আদালতে অর্থাৎ সর্বস্তরে এবং সর্বজায়গায় আল্লাহর হুকুমের অবমাননাই শুধু নয় বরং বিরোধী কাজ চলছে অবাধে। মসজিদে নির্ধারিত কয়েকটি সময়ে সামান্য কিছু লোক যারা আনুষ্ঠানিকভাবে আল্লাহকে সিজদা করে অথবা করার চেষ্টা করে বাস্তব দুনিয়ায় তাদের অবস্থাই বা কী তাও বিচার্য।

📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 মুমিনদের পরিচয়

📄 মুমিনদের পরিচয়


অথচ এ দুনিয়ায় যে সমস্ত মানুষ আল্লাহতায়ালাকে বিশ্বাস করে এবং তার পরিপূর্ণ হুকুম আহকাম প্রতিপালন করে দুনিয়ায় এই পথে চলার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ- তাদেরকেইতো বলা হয় মুমিন বা মুসলিম। কেবল এরাই আল্লাহর ইবাদাতের মাধ্যমে খাঁটি বান্দাহ হিসাবে জীবন যাপন করে। আল্লাহতায়ালা বলেছেনঃ
إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ -
"আল্লাহ বিশ্বাসীদের নিকট থেকে তাদের জীবন ও সম্পদ ক্রয় করে নিয়েছেন- তাদের জন্য জান্নাত আছে এর বিনিময়ে।” (সূরা আত্-তাওবা ১১১)
যারা ঈমানদার, যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে তারা কখনো এ দাবী করতে পারেনা যে তাদের জীবন ও সম্পদের মালিক তারা নিজেরাই। এখানে দর্শনটা কী লক্ষ্য করুন। মূলতঃ জীবন ও ধন-সম্পদের মালিক আল্লাহতায়ালাই। অথচ তিনি বলেছেন তিনি এগুলো খরিদ করেছেন। এগুলো খরিদ করে তিনি আবার কোথাও নিয়েও যাননি বরং তাদের কাছেই গচ্ছিত রেখেছেন। আল্লাহতায়ালাই যে জীবন ও সম্পদের মালিক এবং সে আল্লাহতায়ালাই জীবন ও সম্পদ আপনার আমার কাছে আমানত রেখেছেন। আমরা তারই বান্দা হিসেবে কতটুকু তার গোলামী করছি তাই দেখতে হবে। এখন চিন্তা করতে হবে এই জীবন এবং সম্পদ কি আমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করছি না নিজেদের স্বার্থে ব্যয় করছি? ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী অথবা পার্থিব কোন আরাম আয়েশের জন্য আল্লাহর গচ্ছিত আমানত ব্যয় করা হচ্ছে নাকি অন্য কোনভাবে নফসের খায়েশ পূর্ণ করাবার জন্য ব্যয় করা হচ্ছে- তাই চিন্তা করে দেখতে হবে। আর তাই যদি করা হয় তাহলে মহান রাব্বুল আলামীনের আমানতের যে চরম খেয়ানত করা হচ্ছে- এবং এই খিয়ানতের বিনিময়ে পরকালে যে কী পুরস্কার পাওয়া যাবে তা সহজেই অনুমান করা যায়।
আল্লাহর উপর ঈমান আনার অর্থই হচ্ছে আল্লাহর উদ্দেশ্যে তার নিজের জান-মাল বিক্রি করে দেয়া। একমাত্র আল্লাহর দান বেহেশত ছাড়া দুনিয়াতে এবং আখিরাতের আর অন্য কিছুই সে প্রত্যাশা করতে পারেনা। তাই মুমিনের জীবনের লক্ষ্য দুনিয়া নয় বরং আখিরাত। দুনিয়াতে সে একমাত্র আল্লাহতায়ালার অনুগ্রহ লাভের প্রত্যাশা করবে অন্য কারো কাছে কোন প্রয়োজনের জন্যই ধর্না দেবে না এবং তার সমস্ত কাজের উদ্দেশ্যই হবে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
يَبْتَغُونَ فَضْلاً مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا -
“তারা একমাত্র আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি চায়।” (সূরা আল ফাতহ)
জীবনের এই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী বান্দাহ মুজাহিদ ফী সাবীলিল্লাহর 'ভূমিকা পালন করবে।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
ياَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنْجِيْكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ - تُؤْمِنُوْنَ بِاللَّهِ وَرَسُوْلِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ -
“হে লোকেরা যারা ঈমান এনেছো, আমি কি তোমাদের সেই ব্যবসার কথা বলবো যা তোমাদের পীড়াদায়ক আযাব থেকে রক্ষা করবে? তোমরা ঈমান আনো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আর জিহাদ করো আল্লাহর পথে, নিজেদের ধন-সম্পদ ও নিজেদের জান-প্রাণ দ্বারা-এটাই অতীব উত্তম যদি তোমরা জান।” (সূরা আসসাফ- ১০,১১)
উপরোক্ত আয়াতগুলোতে আল্লাহতায়ালা পরিষ্কার করে ঘোষণা করেছেন যে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের (সা) প্রতি ঈমান আনার পরই আল্লাহর পথে জান ও মাল দিয়ে জেহাদ করতে হবে এবং এর মধ্যেই মানুষের জন্য কল্যাণ ও উত্তম ফল নিহিত রয়েছে।

📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 দ্বীন কায়েমের প্রচেষ্টাই জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ

📄 দ্বীন কায়েমের প্রচেষ্টাই জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ


আল্লাহর পথে জান ও মাল দিয়ে যুদ্ধ করা অর্থাৎ জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ-র মানে আল্লাহর দ্বীন আল্লাহর দুনিয়ায় কায়েমের জন্য প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা। ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের প্রতিরোধ সংগ্রামও আল্লাহর পথে জিহাদ। আর এই প্রচেষ্টা এবং সংগ্রাম বিভিন্ন ভাবে হতে পারে। তবে এর চূড়ান্ত পর্যায় হচ্ছে সশস্ত্র যুদ্ধ। আল্লাহতায়ালা বলেছেন-
الَّذِينَ آمَنُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ الطَّاغُوتِ فَقَاتِلُوا أَوْلِيَاءَ الشَّيْطَانِ إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا -
“যারা ঈমানদার তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে আর যারা কাফের ও অবাধ্য তারা জুলুম ও অন্যায়ের জন্য যুদ্ধ করে। অতএব তোমরা শয়তানের অনুচরদের বিরুদ্ধে লড়াই কর। নিশ্চয়ই শয়তানের চক্রান্ত খুবই দুর্বল।” (আন নিসা- ৭৬)
এখানে স্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয়েছে যে যুলুম এবং অন্যায়ের পক্ষে যারা যুদ্ধ করে তারা শয়তানের অনুচর আর যারা এ ধরনের যালেম ও অত্যাচারীর মোকাবিলায় মযলুমদের সমর্থনে প্রতিরোধ যুদ্ধে এগিয়ে আসে, যারা দুনিয়া থেকে যুলুম ও অত্যাচার নির্মূল করে ইনসাফ ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং আল্লাহর বান্দাদেরকে শান্তিতে জীবন যাপন করার সুযোগ করে দিতে চায় তাদের যুদ্ধই আল্লাহর পথে যুদ্ধ।
আল্লাহতায়ালা আরো বলেছেন:
إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفًّا كَأَنَّهُمْ بُنْيَانٌ مَرْصُوصُ -
“আল্লাহ সেই সব মুজাহিদকে অত্যধিক ভালবাসেন যারা আল্লাহর পথে সীসা ঢালা-প্রাচীরের মত কাতারবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করে।” (সূরা আসসাফ-৪)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00