📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 ইবাদাতের অর্থ

📄 ইবাদাতের অর্থ


ইবাদত শব্দটি আরবী 'আবদ' শব্দ থেকে উদ্ভব হয়েছে। যার অর্থ হলো দাস বা গোলাম। অতএব ইবাদাত শব্দের অর্থ হলো দাসত্ব বা গোলামী।
যে ব্যক্তি অন্যের দাস সে যদি প্রকৃত পক্ষে তার মনিবের সমীপে একান্ত অনুগত হয়ে থাকে এবং তার সাথে ঠিক ভৃত্যের ন্যায় ব্যবহার করে তবে একেই বলা হয় দাসত্ব বা ইবাদাত। পক্ষান্তরে কেউ যদি কারো গোলাম হয় এবং তার মনিবের নিকট থেকে যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে কিন্তু সে যদি মনিবের হুকুম ও ইচ্ছামত কাজকর্ম না করে তাকে কী বলা যাবে বলুন? বলতে হবে সে অকৃতজ্ঞ। সে তার গোলাম হতে পারেনা।
আল্লাহতায়ালা মানুষের মনিব। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার গোলামী করার জন্য। অথচ বান্দাহ তার পরিবর্তে যদি তার প্রতি বিদ্রোহ করে এবং হুকুমের বিপরীত কাজ করে আল্লাহ কিছুতেই তাকে বরদাস্ত করতে পারেন না। এই মাটির পৃথিবীতে যদি একজন মানুষ তার অধীনস্থ আরেক মানুষকে তার হুকুমের বিপরীত কিছু করতে দেখে তাহলে সে তার অধীনস্থদের ঔদ্ধত্য বরদাস্ত করতে পারেনা। কি করে মহান স্রষ্টা-মালিক এই বান্দাদের বিদ্রোহ, ঔদ্ধত্য এবং বিরোধী কাজকর্ম বরদাস্ত করতে পারেন তা কি হালকাভাবেও কখনো ভেবে দেখেছেন? দুনিয়ার সচরাচর কাজকারবারেও যদি প্রভু-ভৃত্যের সম্পর্ক এই হয় তাহলে মহান স্রষ্টার সাথে সম্পর্ক কী হবে তা একটি বার ভেবে দেখলেও সত্যিকার ইবাদাতের মত ইবাদাত করার জন্য গোলাম নির্দ্বিধায় বাধ্য-একান্তভাবে সে মনিবের আনুগত্য না করে পারেনা।
আল্লাহতায়ালার সাথে তাঁর বান্দার সম্পর্ক হলো প্রভু ও ভৃত্যের সম্পর্ক। তাই 'বান্দা' বা চাকরকে প্রথমত মনিবকে প্রভু বলে স্বীকার করতে হবে এবং মনে করতে হবে যে যিনি আমাকে দৈনন্দিন রুজী দান করেন এবং যিনি আমার মালিক, যিনি হেফাজত ও রক্ষণাবেক্ষণ করেন তারই অনুগত হওয়া আমার কর্তব্য। তিনি ছাড়া অন্য কেউই আমার আনুগত্য লাভ করার অধিকারী নন। সকল সময় মনিবের আনুগত্য করা, তাঁর হুকুম পালন করা, তাঁর অনুবর্তিতা মুহূর্তের জন্যও পরিত্যাগ না করা, মনিবের বিরুদ্ধে মনে কোন কথার স্থান না দেওয়া এবং অন্য কারো কথা পালন না করাই বান্দার দ্বিতীয় কর্তব্য। গোলাম সব সময়ই গোলাম, তার এই কথা বলবার কোন অধিকার নাই যে আমি মনিবের এই আদেশ মানব আর অমুক আদেশ মানব না, কিংবা আমি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মনিবের গোলাম আর অন্যান্য সময়ে আমি তার গোলামী থেকে সম্পূর্ণ আজাদ ও মুক্ত। মনিবের প্রতি সম্মান ও সম্ভ্রম প্রদর্শন, তার সমীপে আদব রক্ষা করে চলা বান্দার তৃতীয় কাজ। আদব ও সম্মান প্রকাশের যে পন্থা মনিব নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন তা অনুসরণ করা, সালাম দেয়ার জন্য মনিব যে যে সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন সেই সময়ে নিশ্চিতরূপে উপস্থিত হওয়া এবং মনিবের আনুগত্য ও দাসত্ব স্বীকারে নিজের প্রতিজ্ঞা ও আন্তরিক নিষ্ঠা প্রমাণ করা এই তিনটি প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে যে কার্যটি সম্পূর্ণ হয় আরবী পরিভাষায় তাকেই বলে “ইবাদাত”। আমাদের শেষ নবী এবং তাঁর পূর্ববর্তী আম্বিয়ায়ে কেরামের যাবতীয় শিক্ষার সারকথা হচ্ছে-
اَلا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ -
"আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদাত করোনা।” অর্থাৎ দাসত্ব ও আনুগত্য লাভের যোগ্য সারাজাহানে একজনই মাত্র বাদশাহ আছেন তিনি আল্লাহ তায়ালা। অনুসরণ যোগ্য একটি মাত্র বিধান বা আইন আছে তা হলো আল্লাহর দেওয়া জীবন ব্যবস্থা এবং একটি মাত্র সত্তাই আছেন যাঁর পূজা, উপাসনা, আরাধনা করা যেতে পারে। আর সে সত্তা হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ।

📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 আল্লাহর প্রত্যেক হুকুম মেনে চলাই ইবাদাত

📄 আল্লাহর প্রত্যেক হুকুম মেনে চলাই ইবাদাত


সকল সময় মনিবের আনুগত্য করা, তাঁর হুকুম পালন করা, তাঁর অনুবর্তিতা মুহূর্তের জন্যও পরিত্যাগ না করা, মনিবের বিরুদ্ধে মনে কোন কথার স্থান না দেওয়া এবং অন্য কারো কথা পালন না করাই বান্দার দ্বিতীয় কর্তব্য। গোলাম সব সময়ই গোলাম, তার এই কথা বলবার কোন অধিকার নাই যে আমি মনিবের এই আদেশ মানব আর অমুক আদেশ মানব না, কিংবা আমি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মনিবের গোলাম আর অন্যান্য সময়ে আমি তার গোলামী থেকে সম্পূর্ণ আজাদ ও মুক্ত। মনিবের প্রতি সম্মান ও সম্ভ্রম প্রদর্শন, তার সমীপে আদব রক্ষা করে চলা বান্দার তৃতীয় কাজ। আদব ও সম্মান প্রকাশের যে পন্থা মনিব নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন তা অনুসরণ করা, সালাম দেয়ার জন্য মনিব যে যে সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন সেই সময়ে নিশ্চিতরূপে উপস্থিত হওয়া এবং মনিবের আনুগত্য ও দাসত্ব স্বীকারে নিজের প্রতিজ্ঞা ও আন্তরিক নিষ্ঠা প্রমাণ করা এই তিনটি প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে যে কাৰ্যটি সম্পূর্ণ হয় আরবী পরিভাষায় তাকেই বলে “ইবাদাত”। আমাদের শেষ নবী এবং তাঁর পূর্ববর্তী আম্বিয়ায়ে কেরামের যাবতীয় শিক্ষার সারকথা হচ্ছে-
اَلا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ -
"আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদাত করোনা।” অর্থাৎ দাসত্ব ও আনুগত্য লাভের যোগ্য সারাজাহানে একজনই মাত্র বাদশাহ আছেন তিনি আল্লাহ তায়ালা। অনুসরণ যোগ্য একটি মাত্র বিধান বা আইন আছে তা হলো আল্লাহর দেওয়া জীবন ব্যবস্থা এবং একটি মাত্র সত্তাই আছেন যাঁর পূজা, উপাসনা, আরাধনা করা যেতে পারে। আর সে সত্তা হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ।
মোট কথা আল্লাহতায়ালা যা করতে হুকুম করেছেন তা করা এবং যা করতে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকাই হচ্ছে ইবাদাত। এখানে উল্লেখ্য যে, আল্লাহর হুকুম-আহকাম, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাষ্ট্রীয় এবং আন্তর্জাতিক অর্থাৎ জীবনের প্রত্যেকটি দিকে ও বিভাগে কার্যকর করতে হবে। শুধু মাত্র নামাজ-রোজা, তসবীহ-তাহলিলই একমাত্র ইবাদাত নয়। বৃহত্তর ইবাদাত ও উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে এগুলো মানুষকে প্রস্তুত করে ও সুসংগঠিত করে গড়ে তোলে মাত্র। আল্লাহতায়ালা সূরা আল বাইয়্যেনার ৫ নং আয়াতে বলেছেন:
وَمَا أُمِرُوا إِلا لِيَعْبُدُوا اللهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ
এরশাদ হচ্ছে-“তাদেরকে এছাড়া অন্য কোন হুকুম দেয়া হয়নি যে তারা খাঁটিমনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দাসত্ব করবে।”
যেহেতু আল্লাহতায়ালা শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদাত করার জন্য মানুষকে সৃষ্টি করেছেন অর্থাৎ একমাত্র তাঁরই দাসত্ব এবং আনুগত্য করার জন্যই সৃষ্টি করেছেন- সুতরাং অন্য কাউকে এতে অংশিদার করা যাবে না। একনিষ্ঠ, খাঁটি এবং পরিপূর্ণভাবে একমাত্র আল্লাহরই দাসত্ব বা গোলামী করতে হবে। আর এই দাসত্বের মধ্যেই প্রকৃতপক্ষে মানুষের স্বাধীনতার অর্থ নিহিত। এ জন্যেই রাসূল (সাঃ) দুনিয়ায় তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য বলতে গিয়ে বলেছেন:
فَإِنِّي أَدْعُوكُمْ إِلَى عِبَادَةِ اللَّهِ مِنْ عِبَادَةِ الْعِبَادِ -
অর্থাৎ- “আমি আল্লাহর বান্দাদেরকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব গ্রহণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।” (হায়াতুসাহাবা: ১৪১, মূল সূত্র: বায়হাকী)
মানুষের উপর থেকে মানুষের প্রভুত্বকে খতম করে, মানুষের দাসত্বের শৃংখল উৎপাটিত করে একমাত্র আল্লাহর খাঁটি এবং একনিষ্ঠ বান্দা বানাবার মহান উদ্দেশ্য নিয়েই এ দুনিয়ায় রাসূল (সা) এর আগমন হয়েছিল। সুতরাং পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর গোলামী করার মাধ্যমেই অন্যান্য সকল সত্তার দাসত্বের শৃংখল থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব।

মোট কথা আল্লাহতায়ালা যা করতে হুকুম করেছেন তা করা এবং যা করতে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকাই হচ্ছে ইবাদাত। এখানে উল্লেখ্য যে, আল্লাহর হুকুম-আহকাম, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাষ্ট্রীয় এবং আন্তর্জাতিক অর্থাৎ জীবনের প্রত্যেকটি দিকে ও বিভাগে কার্যকর করতে হবে। শুধু মাত্র নামাজ-রোজা, তসবীহ-তাহলিলই একমাত্র ইবাদাত নয়। বৃহত্তর ইবাদাত ও উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে এগুলো মানুষকে প্রস্তুত করে ও সুসংগঠিত করে গড়ে তোলে মাত্র। আল্লাহতায়ালা সূরা আল বাইয়্যেনার ৫ নং আয়াতে বলেছেন:
وَمَا أُمِرُوا إِلا لِيَعْبُدُوا اللهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ
এরশাদ হচ্ছে-“তাদেরকে এছাড়া অন্য কোন হুকুম দেয়া হয়নি যে তারা খাঁটিমনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দাসত্ব করবে।”
যেহেতু আল্লাহতায়ালা শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদাত করার জন্য মানুষকে সৃষ্টি করেছেন অর্থাৎ একমাত্র তাঁরই দাসত্ব এবং আনুগত্য করার জন্যই সৃষ্টি করেছেন- সুতরাং অন্য কাউকে এতে অংশিদার করা যাবে না। একনিষ্ঠ, খাঁটি এবং পরিপূর্ণভাবে একমাত্র আল্লাহরই দাসত্ব বা গোলামী করতে হবে। আর এই দাসত্বের মধ্যেই প্রকৃতপক্ষে মানুষের স্বাধীনতার অর্থ নিহিত। এ জন্যেই রাসূল (সাঃ) দুনিয়ায় তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য বলতে গিয়ে বলেছেন:
فَإِنِّي أَدْعُوكُمْ إِلَى عِبَادَةِ اللَّهِ مِنْ عِبَادَةِ الْعِبَادِ -
অর্থাৎ- “আমি আল্লাহর বান্দাদেরকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব গ্রহণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।” (হায়াতুসাহাবা: ১৪১, মূল সূত্র: বায়হাকী)
মানুষের উপর থেকে মানুষের প্রভুত্বকে খতম করে, মানুষের দাসত্বের শৃংখল উৎপাটিত করে একমাত্র আল্লাহর খাঁটি এবং একনিষ্ঠ বান্দা বানাবার মহান উদ্দেশ্য নিয়েই এ দুনিয়ায় রাসূল (সা) এর আগমন হয়েছিল। সুতরাং পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর গোলামী করার মাধ্যমেই অন্যান্য সকল সত্তার দাসত্বের শৃংখল থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব।

📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 আল্লাহর ইবাদাত বা গোলামীতে শরীক বানানোর পরিণাম

📄 আল্লাহর ইবাদাত বা গোলামীতে শরীক বানানোর পরিণাম


কিন্তু আজ মানব সম্প্রদায় আল্লাহতায়ালার দাসত্বের মধ্যে অনেককেই শরীক বানিয়ে নিয়েছে। কেউ কেউ দু'একটি ক্ষেত্রে আল্লাহর গোলাম এবং অন্য ক্ষেত্রে আবার আল্লাহকে বাদ দিয়ে অপর কোন শক্তির গোলামে পরিণত হয়েছে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে মানুষ পুরোপুরিই আল্লাহকে বাদ দিয়ে দুনিয়ার গোলামে পরিণত হয়েছে। যারা আদৌ আল্লাহর গোলামী করতে নারাজ তারা তো নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী। কিন্তু যারা আল্লাহকে মানে অথচ তাঁর হুকুম মানেনা তাদেরকে নিয়েই কথা।
এই শ্রেণীর লোকের আজ কি অবস্থা! তারা আজ সমাজে শক্তিশালী ব্যক্তিদেরকে তাদের খোদা বলে মেনে নিয়েছে। তাইতো আজ আল্লাহর ইবাদাত বাদ দিয়ে চলছে ব্যক্তি বিশেষদের ইবাদাত-চলছে মানুষের তৈরী ভ্রান্ত মতবাদের গোলামী। আল্লাহর হুকুমের অবমাননা হচ্ছে নির্বিবাদে। অন্যদিকে সমাজের কর্তা ব্যক্তিদের হুকুম আজ সানন্দচিত্তে মেনে চলা হচ্ছে- তাইতো দেখা যায় গ্রামের মাতব্বর থেকে শুরু করে দেশের কর্ণধারদের গোলামী আজ অবাধে চলছে। এরই মধ্যে পাচ্ছে মানুষ তৃপ্তি। মূলতঃ তারা পরাধীন অথচ মনে মনে স্বাধীনভাবে সাময়িক তৃপ্তি লাভ করছে মাত্র। দুনিয়ার অনেক শক্তিই আজ মানুষের খোদা সেজে বসেছে। আর মানুষও স্বাধীনতাবোধকে জলাঞ্জলী দিয়ে তাদেরই গোলামী করে চলছে।
ছোট্ট একটি কথা ধরুন- যদি আপনার গ্রামের চৌকিদার একটি কথা বলে আর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বলে আরেকটি- আপনি কার কথা শুনবেন? নিঃসন্দেহে চেয়ারম্যানের কথা। এমনিভাবে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আর উপজিলা চেয়ারম্যান বললে শুনবেন উপজিলা চেয়ারম্যানের কথা, উপজিলা চেয়ারম্যান সাহেব আর জিলা চেয়ারম্যান বললে শুনবেন জিলা চেয়ারম্যানের কথা। অনুরূপভাবে উপরের দিকে যেতে যেতে যদি দেশের প্রেসিডেন্ট এবং আল্লাহর কথা আসে কার কথা শুনবেন বলুন? তাহলে এখন কি বলতে পারেন যে আল্লাহর কথা বাদ দিয়ে প্রেসিডেন্ট এর কথা শুনবেন? কিন্তু ভেবে দেখুনতো একবার- কি করছি আমরা। আল্লাহর গোলামী বাদ দিয়ে আজ আমরা গোলামী করছি বিভিন্ন ব্যক্তির। আল্লাহর হুকুমকে অস্বীকার করছি অথবা তার একক সত্তাকে শরীক বানিয়ে নিয়েছি। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর গোলামী বাদ দিয়ে স্বাধীন জীবনকে খুন করে আজ ব্যক্তির গোলামে পরিণত হয়ে নফসের খায়েস পূর্ণ করছি মাত্র। আর মনে মনে ভাবছি আমরা স্বাধীন। আমরা কত খুশী। একবার বিবেককে জিজ্ঞাসা করে দেখুন কোথায় আছি? আল্লাহর দেয়া স্বাধীন বিবেককে সঠিকভাবে প্রয়োগ না করে মানুষের গোলাম সেজে বসেছি। আর মানুষের মনগড়া মতবাদের কাছে স্বাধীনতা বিক্রি করে দিয়েছি।
অবশ্য এরকমও আছে যে কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা আল্লাহর গোলামী করছি আবার কোন কোন ক্ষেত্রে আল্লাহকে বাদ দিয়ে মানুষের গোলামী করছি। অর্থাৎ কিছু ক্ষেত্রে আল্লাহর গোলাম আবার কিছু ক্ষেত্রে মানুষের গোলাম। এ সব চরিত্রের লোকদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন:
اَفَتُؤْمِنُوْنَ بِبَعْضِ الْكِتٰبِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يُفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلا خِزْيٌ فِي الْحَيَوةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيمَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدَّ الْعَذَابِ - (البقرة : ٥٨)
“তোমরা কিতাবের কিছু অংশ মানবে আর কিছু অংশ মানবেনা? জেনে রাখ, তোমাদের মধ্যে যাদেরই এরূপ আচরণ হবে তাদের এতদ্ব্যতীত আর কী শাস্তি হতে পারে যে, তারা পার্থিব জীবনে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হতে থাকবে এবং পরকালে তাদেরকে কঠোরতম শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করা হবে।” (আল বাকারাহঃ ৮৫)
আল্লাহ তায়ালা নিজেই এটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে যারা আল্লাহর হুকুম কিছু মানে আর কিছু মানেনা তাদের জন্য ইহকালে রয়েছে চরম লাঞ্ছনা-গঞ্জনা এবং পরকালে রয়েছে ভীষণ আযাব।

📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 পরিপূর্ণভাবে দাসত্ব বা গোলামী করার মধ্যেই মুক্তি নিহিত

📄 পরিপূর্ণভাবে দাসত্ব বা গোলামী করার মধ্যেই মুক্তি নিহিত


আল্লাহতায়ালা আরো বলেছেন:
يُأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلاَ تَتَّبِعُوا خُطُواتِ الشَّيْطَنِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ - (البقرة : (۲۰۸)
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণরূপে ইসলামে দাখিল হও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ করোনা। কারণ সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।” (সূরা আল বাকারা- ২০৮)
অর্থাৎ আল্লাহর গোলামী পরিপূর্ণভাবেই করতে হবে। আংশিক গোলামী করে এবং আংশিক বিরোধিতা করে কল্যাণ লাভের, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কোন সুযোগ মানুষের নেই।
আল্লাহ বলেন:
وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ : لَهُمْ قُلُوبٌ لاَ يَفْقَهُونَ بِهَا : وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لاَ يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَذَانٌ لاَ يَسْمَعُوْنَ بِهَا ، أُولَئِكَ كَالاَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلَّ أُوْلَئِكَ هُمُ الْغُفِلُونَ - (الاعراف : (۱۷۹)
“আমরা জাহান্নামের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ পয়দা করেছি। তাদের দিল রয়েছে কিন্তু তাদ্বারা তারা চিন্তা-ভাবনা করেনা, তাদের চক্ষু রয়েছে কিন্তু তাদ্বারা দেখেনা, তাদের কান রয়েছে কিন্তু তাদ্বারা শুনেনা, তারা জানোয়ারের মত বরং তার চেয়েও নিকৃষ্টতর- এরাই রয়েছে গাফলতে নিমজ্জিত।” (আল আরাফ- ১৭৯)
আজ আমাদের অবস্থাও তদ্রূপ হয়ে পড়েছে। খলীফা হয়ে দুনিয়ায় এসে আমরা কী করছি তা এক মুহূর্তও বিলম্ব না করে ভেবে দেখা দরকার। আল্লাহতায়ালা বলেছেন-
ياَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ .
“হে মানুষ, তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালকের ইবাদাত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ব-পুরুষদেরকে সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা আত্মরক্ষা করতে পারো।” (সূরা আল বাকারা ২১ আয়াত)
লক্ষণীয় যে, যেহেতু আল্লাহতায়ালা মানব জাতির কল্যাণ কামনা করেন এবং যেহেতু একমাত্র আল্লাহর ইবাদাতের মধ্যেই তাদের মুক্তি নিহিত- তাই তিনি বিশেষ কোন গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের প্রতি নয় বরং বিশ্বের সর্ব শ্রেণীর সর্বকালের মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন একমাত্র তাঁর ইবাদাত করার জন্য। তাঁরই আনুগত্য, দাসত্ব ও গোলামী করার জন্য। আর এ কথাও তিনি ঘোষণা করে জানিয়ে দিয়েছেন যে কেবল মাত্র এর মাধ্যমেই মানব জাতির আত্মরক্ষা সম্ভব।
মানুষের ইবাদাতের চরম পর্যায় সম্পর্কে রাসূল (সা) বলেছেনঃ
أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ -
“তুমি আল্লাহর ইবাদাত করবে এমনভাবে যেন তুমি তাকে দেখছো। তুমি যদি তাকে দেখতে না পাও মনে করবে তিনি তোমাকে দেখছেন।”
জীবনের প্রতিটি কাজে মনে রাখতে হবে যে আল্লাহ আমাকে দেখছেন। কোন কাজে আল্লাহর কী হুকুম- তা পূর্ণ খেয়াল ও সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রেখে যাবতীয় কাজ করাই এর অর্থ। কোন অন্যায় বা হারাম কাজ সে করতে পারবেনা- ভয়ে তার প্রাণ কেঁপে উঠবে যদি সে আল্লাহ তাকে দেখছেন জেনে কাজে অগ্রসর হয়। অর্থাৎ খারাপ বা বদ কাজ যত সুবিধা ও লাভজনকই হোকনা কেন- আল্লাহর নিষেধ বাণীই তাকে সে কাজ করতে দেবেনা- তাকে পিছনে ঠেলে দেবে। আর সৎ ও নেক কাজ যত কঠিন ও কষ্টদায়ক হোকনা কেন আল্লাহর নির্দেশবাণীই তাকে সে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করবে ও উৎসাহ প্রদান করবে। এটাই হবে মানব জীবনের চরম ও পরম লক্ষ্য।
কিন্তু আজ আমরা যদি আমাদের চারদিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখি আল্লাহকে হাযির নাজির জানার কথা মুখে বললেও বাস্তবে তার প্রমাণ নেই। হাটে-ঘাটে, বাসে, ট্রেনে, স্টিমারে, স্কুলে, কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে, অফিস-আদালতে অর্থাৎ সর্বস্তরে এবং সর্বজায়গায় আল্লাহর হুকুমের অবমাননাই শুধু নয় বরং বিরোধী কাজ চলছে অবাধে। মসজিদে নির্ধারিত কয়েকটি সময়ে সামান্য কিছু লোক যারা আনুষ্ঠানিকভাবে আল্লাহকে সিজদা করে অথবা করার চেষ্টা করে বাস্তব দুনিয়ায় তাদের অবস্থাই বা কী তাও বিচার্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00