📄 মানুষের সামনে দু'টো পথ
আল্লাহতায়ালা মানুষ সৃষ্টি করে তাদেরকে অন্ধকারে ফেলে দেন নাই- আল্লাহ তাঁর নির্দেশ বাস্তবায়ন করে দেখানোর জন্য নবী রাসূল এবং মানুষকে স্বাধীনতা দান করেই এই দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। এখন এই মানুষের সামনে রয়েছে দুটি পথ-
(১) ইসলামের পথ ও (২) কুফরের পথ। যারা ইসলামের পথে অর্থাৎ রাসূলের প্রদর্শিত পথে চলবে- তারা ইহকালে ও পরকালে কল্যাণ লাভ করবে। শুধু তাই
নয় পরজীবনে তারা অনন্তকাল জান্নাতবাসী হয়ে থাকবে। আর যারা কুফরের পথে চলবে- অর্থাৎ শয়তানের আনুগত্য করবে তাদের দুনিয়াতে কোন কল্যাণ হবেনা-আর আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আযাব। এখানে উল্লেখ্য যে শয়তানের পথে চলে কোন ব্যক্তি বা কোন জাতি আর্থিক সমৃদ্ধি লাভ করলেও তা আত্মার শান্তি আনতে পারেনা। আল্লাহর দৃষ্টিতে যা কল্যাণ মানুষের দৃষ্টিতে তা কল্যাণ মনে না হলেও সেখানেই মূলতঃ আসল কল্যাণ নিহিত। আর বস্তুতঃ শুধুমাত্র আর্থিক সমৃদ্ধি যে মানুষের আত্মার শান্তি, উন্নতি এবং কল্যাণ বয়ে আনতে পারেনা আধুনিক বিশ্বের অনেক সমৃদ্ধ দেশের জনজীবনই তার প্রমাণ বহন করে। মনের প্রশান্তি ও কল্যাণ আর্থিক সমৃদ্ধির উপরে নয়-বরং নৈতিক এবং আত্মার উন্নতির উপরই নির্ভরশীল।
আজ তথাকথিত পাশ্চাত্য সভ্যতা এবং ধনীদেশগুলোর দিকে তাকালে কী দেখা যায়? এই সব দেশের বৈষয়িক উন্নতি এবং সমাজ জীবনে মানবতাবোধ ও নৈতিকতা কি সমান্তরালভাবে চলছে? আমরা দেখছি এ দুনিয়ার বৈষয়িক জীবনে তাদের চরম উন্নতি হলেও, মানবতা এবং নৈতিকতা আজ বিপর্যস্ত। উপরে চাকচিক্য জৌলুসের ছড়াছড়ি থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের সামাজিক জীবন আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে তা কি একবার চিন্তা করেছেন? পুঁজিবাদ এবং সমাজবাদের যাঁতাকলে মানবতাবাদ ডুকরে কাঁদছে। সেখানকার মানুষ মুক্তির পথ খুঁজছে। সাদা-কালোতে ভেদাভেদ, দুর্বলের উপর সবলের জুলুম, প্রভুত্বের লড়াই, অস্ত্রের ঝন-ঝনানি, নৈতিক বিপর্যয়, খর্ব বাকস্বাধীনতা, অবাধ যৌনাচার, উলঙ্গ সংস্কৃতি, নেশাপান, আত্মহত্যা, দাম্পত্য কলহ ও বিচ্ছেদ, মানসিক ব্যাধির ব্যাপকতা সর্বোপরি কুমারী মাতা হওয়ার অভিশাপ কিসের আলামত বহন করে তা কারো বুঝতে বাকি থাকার কথা নয়। শান্তি কাকে বলে তা মনকে একবার জিজ্ঞাসা করুন।
আল্লাহতায়ালা মানুষ সৃষ্টি করে তাদেরকে অন্ধকারে ফেলে দেন নাই- আল্লাহ তাঁর নির্দেশ বাস্তবায়ন করে দেখানোর জন্য নবী রাসূল এবং মানুষকে স্বাধীনতা দান করেই এই দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। এখন এই মানুষের সামনে রয়েছে দুটি পথ-
(১) ইসলামের পথ ও (২) কুফরের পথ। যারা ইসলামের পথে অর্থাৎ রাসূলের প্রদর্শিত পথে চলবে- তারা ইহকালে ও পরকালে কল্যাণ লাভ করবে। শুধু তাই নয় পরজীবনে তারা অনন্তকাল জান্নাতবাসী হয়ে থাকবে। আর যারা কুফরের পথে চলবে- অর্থাৎ শয়তানের আনুগত্য করবে তাদের দুনিয়াতে কোন কল্যাণ হবেনা-আর আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আযাব। এখানে উল্লেখ্য যে শয়তানের পথে চলে কোন ব্যক্তি বা কোন জাতি আর্থিক সমৃদ্ধি লাভ করলেও তা আত্মার শান্তি আনতে পারেনা। আল্লাহর দৃষ্টিতে যা কল্যাণ মানুষের দৃষ্টিতে তা কল্যাণ মনে না হলেও সেখানেই মূলতঃ আসল কল্যাণ নিহিত। আর বস্তুতঃ শুধুমাত্র আর্থিক সমৃদ্ধি যে মানুষের আত্মার শান্তি, উন্নতি এবং কল্যাণ বয়ে আনতে পারেনা আধুনিক বিশ্বের অনেক সমৃদ্ধ দেশের জনজীবনই তার প্রমাণ বহন করে। মনের প্রশান্তি ও কল্যাণ আর্থিক সমৃদ্ধির উপরে নয়-বরং নৈতিক এবং আত্মার উন্নতির উপরই নির্ভরশীল।
আজ তথাকথিত পাশ্চাত্য সভ্যতা এবং ধনীদেশগুলোর দিকে তাকালে কী দেখা যায়? এই সব দেশের বৈষয়িক উন্নতি এবং সমাজ জীবনে মানবতাবোধ ও নৈতিকতা কি সমান্তরালভাবে চলছে? আমরা দেখছি এ দুনিয়ার বৈষয়িক জীবনে তাদের চরম উন্নতি হলেও, মানবতা এবং নৈতিকতা আজ বিপর্যস্ত। উপরে চাকচিক্য জৌলুসের ছড়াছড়ি থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের সামাজিক জীবন আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে তা কি একবার চিন্তা করেছেন? পুঁজিবাদ এবং সমাজবাদের যাঁতাকলে মানবতাবাদ ডুকরে কাঁদছে। সেখানকার মানুষ মুক্তির পথ খুঁজছে। সাদা-কালোতে ভেদাভেদ, দুর্বলের উপর সবলের জুলুম, প্রভুত্বের লড়াই, অস্ত্রের ঝন-ঝনানি, নৈতিক বিপর্যয়, খর্ব বাকস্বাধীনতা, অবাধ যৌনাচার, উলঙ্গ সংস্কৃতি, নেশাপান, আত্মহত্যা, দাম্পত্য কলহ ও বিচ্ছেদ, মানসিক ব্যাধির ব্যাপকতা সর্বোপরি কুমারী মাতা হওয়ার অভিশাপ কিসের আলামত বহন করে তা কারো বুঝতে বাকি থাকার কথা নয়। শান্তি কাকে বলে তা মনকে একবার জিজ্ঞাসা করুন।
📄 যে রকম কাজ সে রকম প্রতিফল
মানুষ সৃষ্টির পর তারা দুনিয়াতে অশান্তিতে থাকুক এটা আল্লাহর ইচ্ছা নয়, আর মৃত্যুর পরপারের জীবনে জাহান্নামের আগুনে জলুক এটাও আল্লাহতায়ালার কাম্য নয়। আল্লাহ মানুষকে স্বাধীনতা দিয়েছেন। তার ফলেই সে ইচ্ছা করলে কুফর অবলম্বন করতে পারে আবার ঈমানও আনতে পারে। আর এর উপর ভিত্তি করেই তার প্রতিদান হবে- জাহান্নাম অথবা জান্নাত। হাদীস শরীফে আছে: রাসূল (সা)
বলেছেন যে “বেহেশত এবং দোযখ উভয় জায়গাতে মানুষের জন্য আসন রাখা হয়েছে।” এখন এই দুনিয়াতে যে যে রকম কাজ করবে সে সে রকম আসনই লাভ করবে। এক শ্রেণীর লোক বলে "আল্লাহ যখন উভয় স্থানেই আসন রেখেছেন তখন একদল লোকতো জাহান্নামেও যাবে”। আমি বলতে চাই- আপনি নিজকে কোন দলভুক্ত করতে চান- যদি জাহান্নামে যাওয়ারই জন্য ফায়সালা করে থাকেন তাহলে কোন কথা নেই আর তা না করে থাকলে আল্লাহ প্রদত্ত এবং রাসূল (সাঃ) প্রদর্শিত পথের কথা সহজভাবে চিন্তা করলে এটা কি পরিষ্কার হয়ে যায়না যে, মানুষ তার স্বাধীনতা কিভাবে প্রয়োগ করবে তারই হেদায়াত ও মাপকাঠি দান করে আল্লাহতায়ালা তাদেরকে প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করার সক্ষম ও যোগ্য করে গড়ে তুলেছেন?
তাহলে দেখা যাচ্ছে এ দুনিয়াতে মানুষ যা করবে তার প্রতিফল হিসাবেই জাহান্নাম অথবা জান্নাত লাভ করবে। সুতরাং এ দুনিয়াটা মানুষের জন্য একটি পরীক্ষাগার। কর্মের মাধ্যমেই তার নিজের ঈমান বা কুফর প্রমাণ হবে। এ দুনিয়া শুধুমাত্র একটি কর্মস্থল- পুরষ্কার বা শাস্তি পাওয়ার জায়গা এটা নয়। মাটির তৈরী মানুষ আলমে আরওয়াহ থেকে "আত্মা” নিয়ে দুনিয়ায় শরীরে প্রবেশ করেছে। এই দেহ নশ্বর। কিন্তু আত্মা অবিনশ্বর। এ কারণেই মৃত্যুর পরপারে এখানকার কর্মফল ভোগ করার জন্য তার আত্মার জন্য একটি জীবন লাভ অবশ্যম্ভাবী। পরপারের সেই জিন্দেগীতে সে পুরস্কার স্বরূপ হয় জান্নাত পাবে না হয় শাস্তি স্বরূপ জাহান্নামে যাবে, এটাই অনিবার্য পরিনতি।
📄 মানুষ আল্লাহর গোলাম বা দাস
আল্লাহতায়ালা আল কোরআনে বলেছেন-
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ -
এরশাদ হচ্ছে- "আমি মানুষ ও জ্বীনকে একমাত্র আমার গোলামী বা দাসত্ব করার জন্য পয়দা করেছি।” (সূরা আযযারিয়াত- ৫৬)। অর্থাৎ আল্লাহতায়ালা বলেছেন, মানুষ ও জ্বীন সৃষ্টির উদ্দেশ্য এই যে, তারা আল্লাহরই ইবাদাত করবে। একটু আগেই আমরা তা জেনেছি। এখন ইবাদাত কী এবং কাকে বলে এবং কিভাবে তা করা যায় তা জানার চেষ্টা করবো। প্রচলিত অর্থে নামাজ,
রোজা, হজ্জ, যাকাত, দাড়ি-টুপি এবং লম্বা পাঞ্জাবীই কি ইবাদাত না মসজিদে বসে রাতভর নফল নামাজ পড়া, যিকর আযকার করা, তসবিহ তাহলীল করা ইত্যাদি শুধু ইবাদাত?
📄 ইবাদাতের অর্থ
ইবাদত শব্দটি আরবী 'আবদ' শব্দ থেকে উদ্ভব হয়েছে। যার অর্থ হলো দাস বা গোলাম। অতএব ইবাদাত শব্দের অর্থ হলো দাসত্ব বা গোলামী।
যে ব্যক্তি অন্যের দাস সে যদি প্রকৃত পক্ষে তার মনিবের সমীপে একান্ত অনুগত হয়ে থাকে এবং তার সাথে ঠিক ভৃত্যের ন্যায় ব্যবহার করে তবে একেই বলা হয় দাসত্ব বা ইবাদাত। পক্ষান্তরে কেউ যদি কারো গোলাম হয় এবং তার মনিবের নিকট থেকে যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে কিন্তু সে যদি মনিবের হুকুম ও ইচ্ছামত কাজকর্ম না করে তাকে কী বলা যাবে বলুন? বলতে হবে সে অকৃতজ্ঞ। সে তার গোলাম হতে পারেনা।
আল্লাহতায়ালা মানুষের মনিব। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার গোলামী করার জন্য। অথচ বান্দাহ তার পরিবর্তে যদি তার প্রতি বিদ্রোহ করে এবং হুকুমের বিপরীত কাজ করে আল্লাহ কিছুতেই তাকে বরদাস্ত করতে পারেন না। এই মাটির পৃথিবীতে যদি একজন মানুষ তার অধীনস্থ আরেক মানুষকে তার হুকুমের বিপরীত কিছু করতে দেখে তাহলে সে তার অধীনস্থদের ঔদ্ধত্য বরদাস্ত করতে পারেনা। কি করে মহান স্রষ্টা-মালিক এই বান্দাদের বিদ্রোহ, ঔদ্ধত্য এবং বিরোধী কাজকর্ম বরদাস্ত করতে পারেন তা কি হালকাভাবেও কখনো ভেবে দেখেছেন? দুনিয়ার সচরাচর কাজকারবারেও যদি প্রভু-ভৃত্যের সম্পর্ক এই হয় তাহলে মহান স্রষ্টার সাথে সম্পর্ক কী হবে তা একটি বার ভেবে দেখলেও সত্যিকার ইবাদাতের মত ইবাদাত করার জন্য গোলাম নির্দ্বিধায় বাধ্য-একান্তভাবে সে মনিবের আনুগত্য না করে পারেনা।
আল্লাহতায়ালার সাথে তাঁর বান্দার সম্পর্ক হলো প্রভু ও ভৃত্যের সম্পর্ক। তাই 'বান্দা' বা চাকরকে প্রথমত মনিবকে প্রভু বলে স্বীকার করতে হবে এবং মনে করতে হবে যে যিনি আমাকে দৈনন্দিন রুজী দান করেন এবং যিনি আমার মালিক, যিনি হেফাজত ও রক্ষণাবেক্ষণ করেন তারই অনুগত হওয়া আমার কর্তব্য। তিনি ছাড়া অন্য কেউই আমার আনুগত্য লাভ করার অধিকারী নন। সকল সময় মনিবের আনুগত্য করা, তাঁর হুকুম পালন করা, তাঁর অনুবর্তিতা মুহূর্তের জন্যও পরিত্যাগ না করা, মনিবের বিরুদ্ধে মনে কোন কথার স্থান না দেওয়া এবং অন্য কারো কথা পালন না করাই বান্দার দ্বিতীয় কর্তব্য। গোলাম সব সময়ই গোলাম, তার এই কথা বলবার কোন অধিকার নাই যে আমি মনিবের এই আদেশ মানব আর অমুক আদেশ মানব না, কিংবা আমি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মনিবের গোলাম আর অন্যান্য সময়ে আমি তার গোলামী থেকে সম্পূর্ণ আজাদ ও মুক্ত। মনিবের প্রতি সম্মান ও সম্ভ্রম প্রদর্শন, তার সমীপে আদব রক্ষা করে চলা বান্দার তৃতীয় কাজ। আদব ও সম্মান প্রকাশের যে পন্থা মনিব নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন তা অনুসরণ করা, সালাম দেয়ার জন্য মনিব যে যে সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন সেই সময়ে নিশ্চিতরূপে উপস্থিত হওয়া এবং মনিবের আনুগত্য ও দাসত্ব স্বীকারে নিজের প্রতিজ্ঞা ও আন্তরিক নিষ্ঠা প্রমাণ করা এই তিনটি প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে যে কার্যটি সম্পূর্ণ হয় আরবী পরিভাষায় তাকেই বলে “ইবাদাত”। আমাদের শেষ নবী এবং তাঁর পূর্ববর্তী আম্বিয়ায়ে কেরামের যাবতীয় শিক্ষার সারকথা হচ্ছে-
اَلا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ -
"আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদাত করোনা।” অর্থাৎ দাসত্ব ও আনুগত্য লাভের যোগ্য সারাজাহানে একজনই মাত্র বাদশাহ আছেন তিনি আল্লাহ তায়ালা। অনুসরণ যোগ্য একটি মাত্র বিধান বা আইন আছে তা হলো আল্লাহর দেওয়া জীবন ব্যবস্থা এবং একটি মাত্র সত্তাই আছেন যাঁর পূজা, উপাসনা, আরাধনা করা যেতে পারে। আর সে সত্তা হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ।