📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 আল্লাহতায়ালাই একমাত্র ক্ষমতার মালিক

📄 আল্লাহতায়ালাই একমাত্র ক্ষমতার মালিক


আল্লাহতায়ালা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন: - أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالأمر
অর্থাৎ “সৃষ্টি যার নির্দেশ দেয়ার একমাত্র ক্ষমতা তাঁরই।” (সূরা আল আরাফ ৫৪ আয়াত)।
সূরা আল আনয়াম- ৫৭, সূরা ইউসুফ-এর ৪০ ও ৬৭ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন- - إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ
অর্থাৎ "সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর।” মানুষ যত শক্তিশালী হোক না কেন, যত আশ্চর্য রকমের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারই করুক না কেন- তারা কখনো সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী নয়। আল্লাহতায়ালা মানুষকে যতটুকু ক্ষমতা দিয়েছেন এর বেশী তার এক বিন্দুও করার কোনই শক্তি নেই। তারা এ দুনিয়া পরিচালনা করার কোন জ্ঞানই রাখেনা। দৃশ্য-অদৃশ্য এই বিশাল বিশ্ব জাহান সম্পর্কে সব কিছু জানার কোন ক্ষমতাই তাদের নেই। কিন্তু আল্লাহতায়ালা তাঁর দ্বীন বা তাঁর বিধানকে বুঝে আল্লাহর খিলাফত প্রতিষ্ঠার মত ক্ষমতা মানুষকে দিয়েছেন মাত্র।
সূরা আদ-দাহরের ২য় এবং ৩য় আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেছেন:

إِنَّا خَلَقْنَا الإِنْسَانَ مِنْ نُطْفَةٍ أَمْشَاجٍ نَبْتَلِيْهِ فَجَعَلْنَهُ سَمِيعًا بَصِيرًا - إِنَّا هَدَيْنَهُ السَّبِيلَ إِمَّا شَاكِرًا وَإِمَّا كَفُورًا -

"আমিতো মানুষকে সৃষ্টি করেছি সংমিশ্রিত শুক্রবিন্দু থেকে। তাকে পরীক্ষা করবার জন্য। এ জন্য আমি তাকে করেছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন। আমি তাকে পথের নির্দেশ দিয়েছি। হয় সে কৃতজ্ঞ হবে নয় সে অকৃতজ্ঞ হবে।”

📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 মানুষের সামনে দু'টো পথ

📄 মানুষের সামনে দু'টো পথ


আল্লাহতায়ালা মানুষ সৃষ্টি করে তাদেরকে অন্ধকারে ফেলে দেন নাই- আল্লাহ তাঁর নির্দেশ বাস্তবায়ন করে দেখানোর জন্য নবী রাসূল এবং মানুষকে স্বাধীনতা দান করেই এই দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। এখন এই মানুষের সামনে রয়েছে দুটি পথ-
(১) ইসলামের পথ ও (২) কুফরের পথ। যারা ইসলামের পথে অর্থাৎ রাসূলের প্রদর্শিত পথে চলবে- তারা ইহকালে ও পরকালে কল্যাণ লাভ করবে। শুধু তাই
নয় পরজীবনে তারা অনন্তকাল জান্নাতবাসী হয়ে থাকবে। আর যারা কুফরের পথে চলবে- অর্থাৎ শয়তানের আনুগত্য করবে তাদের দুনিয়াতে কোন কল্যাণ হবেনা-আর আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আযাব। এখানে উল্লেখ্য যে শয়তানের পথে চলে কোন ব্যক্তি বা কোন জাতি আর্থিক সমৃদ্ধি লাভ করলেও তা আত্মার শান্তি আনতে পারেনা। আল্লাহর দৃষ্টিতে যা কল্যাণ মানুষের দৃষ্টিতে তা কল্যাণ মনে না হলেও সেখানেই মূলতঃ আসল কল্যাণ নিহিত। আর বস্তুতঃ শুধুমাত্র আর্থিক সমৃদ্ধি যে মানুষের আত্মার শান্তি, উন্নতি এবং কল্যাণ বয়ে আনতে পারেনা আধুনিক বিশ্বের অনেক সমৃদ্ধ দেশের জনজীবনই তার প্রমাণ বহন করে। মনের প্রশান্তি ও কল্যাণ আর্থিক সমৃদ্ধির উপরে নয়-বরং নৈতিক এবং আত্মার উন্নতির উপরই নির্ভরশীল।
আজ তথাকথিত পাশ্চাত্য সভ্যতা এবং ধনীদেশগুলোর দিকে তাকালে কী দেখা যায়? এই সব দেশের বৈষয়িক উন্নতি এবং সমাজ জীবনে মানবতাবোধ ও নৈতিকতা কি সমান্তরালভাবে চলছে? আমরা দেখছি এ দুনিয়ার বৈষয়িক জীবনে তাদের চরম উন্নতি হলেও, মানবতা এবং নৈতিকতা আজ বিপর্যস্ত। উপরে চাকচিক্য জৌলুসের ছড়াছড়ি থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের সামাজিক জীবন আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে তা কি একবার চিন্তা করেছেন? পুঁজিবাদ এবং সমাজবাদের যাঁতাকলে মানবতাবাদ ডুকরে কাঁদছে। সেখানকার মানুষ মুক্তির পথ খুঁজছে। সাদা-কালোতে ভেদাভেদ, দুর্বলের উপর সবলের জুলুম, প্রভুত্বের লড়াই, অস্ত্রের ঝন-ঝনানি, নৈতিক বিপর্যয়, খর্ব বাকস্বাধীনতা, অবাধ যৌনাচার, উলঙ্গ সংস্কৃতি, নেশাপান, আত্মহত্যা, দাম্পত্য কলহ ও বিচ্ছেদ, মানসিক ব্যাধির ব্যাপকতা সর্বোপরি কুমারী মাতা হওয়ার অভিশাপ কিসের আলামত বহন করে তা কারো বুঝতে বাকি থাকার কথা নয়। শান্তি কাকে বলে তা মনকে একবার জিজ্ঞাসা করুন।

আল্লাহতায়ালা মানুষ সৃষ্টি করে তাদেরকে অন্ধকারে ফেলে দেন নাই- আল্লাহ তাঁর নির্দেশ বাস্তবায়ন করে দেখানোর জন্য নবী রাসূল এবং মানুষকে স্বাধীনতা দান করেই এই দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। এখন এই মানুষের সামনে রয়েছে দুটি পথ-
(১) ইসলামের পথ ও (২) কুফরের পথ। যারা ইসলামের পথে অর্থাৎ রাসূলের প্রদর্শিত পথে চলবে- তারা ইহকালে ও পরকালে কল্যাণ লাভ করবে। শুধু তাই নয় পরজীবনে তারা অনন্তকাল জান্নাতবাসী হয়ে থাকবে। আর যারা কুফরের পথে চলবে- অর্থাৎ শয়তানের আনুগত্য করবে তাদের দুনিয়াতে কোন কল্যাণ হবেনা-আর আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আযাব। এখানে উল্লেখ্য যে শয়তানের পথে চলে কোন ব্যক্তি বা কোন জাতি আর্থিক সমৃদ্ধি লাভ করলেও তা আত্মার শান্তি আনতে পারেনা। আল্লাহর দৃষ্টিতে যা কল্যাণ মানুষের দৃষ্টিতে তা কল্যাণ মনে না হলেও সেখানেই মূলতঃ আসল কল্যাণ নিহিত। আর বস্তুতঃ শুধুমাত্র আর্থিক সমৃদ্ধি যে মানুষের আত্মার শান্তি, উন্নতি এবং কল্যাণ বয়ে আনতে পারেনা আধুনিক বিশ্বের অনেক সমৃদ্ধ দেশের জনজীবনই তার প্রমাণ বহন করে। মনের প্রশান্তি ও কল্যাণ আর্থিক সমৃদ্ধির উপরে নয়-বরং নৈতিক এবং আত্মার উন্নতির উপরই নির্ভরশীল।
আজ তথাকথিত পাশ্চাত্য সভ্যতা এবং ধনীদেশগুলোর দিকে তাকালে কী দেখা যায়? এই সব দেশের বৈষয়িক উন্নতি এবং সমাজ জীবনে মানবতাবোধ ও নৈতিকতা কি সমান্তরালভাবে চলছে? আমরা দেখছি এ দুনিয়ার বৈষয়িক জীবনে তাদের চরম উন্নতি হলেও, মানবতা এবং নৈতিকতা আজ বিপর্যস্ত। উপরে চাকচিক্য জৌলুসের ছড়াছড়ি থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের সামাজিক জীবন আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে তা কি একবার চিন্তা করেছেন? পুঁজিবাদ এবং সমাজবাদের যাঁতাকলে মানবতাবাদ ডুকরে কাঁদছে। সেখানকার মানুষ মুক্তির পথ খুঁজছে। সাদা-কালোতে ভেদাভেদ, দুর্বলের উপর সবলের জুলুম, প্রভুত্বের লড়াই, অস্ত্রের ঝন-ঝনানি, নৈতিক বিপর্যয়, খর্ব বাকস্বাধীনতা, অবাধ যৌনাচার, উলঙ্গ সংস্কৃতি, নেশাপান, আত্মহত্যা, দাম্পত্য কলহ ও বিচ্ছেদ, মানসিক ব্যাধির ব্যাপকতা সর্বোপরি কুমারী মাতা হওয়ার অভিশাপ কিসের আলামত বহন করে তা কারো বুঝতে বাকি থাকার কথা নয়। শান্তি কাকে বলে তা মনকে একবার জিজ্ঞাসা করুন।

📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 যে রকম কাজ সে রকম প্রতিফল

📄 যে রকম কাজ সে রকম প্রতিফল


মানুষ সৃষ্টির পর তারা দুনিয়াতে অশান্তিতে থাকুক এটা আল্লাহর ইচ্ছা নয়, আর মৃত্যুর পরপারের জীবনে জাহান্নামের আগুনে জলুক এটাও আল্লাহতায়ালার কাম্য নয়। আল্লাহ মানুষকে স্বাধীনতা দিয়েছেন। তার ফলেই সে ইচ্ছা করলে কুফর অবলম্বন করতে পারে আবার ঈমানও আনতে পারে। আর এর উপর ভিত্তি করেই তার প্রতিদান হবে- জাহান্নাম অথবা জান্নাত। হাদীস শরীফে আছে: রাসূল (সা)
বলেছেন যে “বেহেশত এবং দোযখ উভয় জায়গাতে মানুষের জন্য আসন রাখা হয়েছে।” এখন এই দুনিয়াতে যে যে রকম কাজ করবে সে সে রকম আসনই লাভ করবে। এক শ্রেণীর লোক বলে "আল্লাহ যখন উভয় স্থানেই আসন রেখেছেন তখন একদল লোকতো জাহান্নামেও যাবে”। আমি বলতে চাই- আপনি নিজকে কোন দলভুক্ত করতে চান- যদি জাহান্নামে যাওয়ারই জন্য ফায়সালা করে থাকেন তাহলে কোন কথা নেই আর তা না করে থাকলে আল্লাহ প্রদত্ত এবং রাসূল (সাঃ) প্রদর্শিত পথের কথা সহজভাবে চিন্তা করলে এটা কি পরিষ্কার হয়ে যায়না যে, মানুষ তার স্বাধীনতা কিভাবে প্রয়োগ করবে তারই হেদায়াত ও মাপকাঠি দান করে আল্লাহতায়ালা তাদেরকে প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করার সক্ষম ও যোগ্য করে গড়ে তুলেছেন?
তাহলে দেখা যাচ্ছে এ দুনিয়াতে মানুষ যা করবে তার প্রতিফল হিসাবেই জাহান্নাম অথবা জান্নাত লাভ করবে। সুতরাং এ দুনিয়াটা মানুষের জন্য একটি পরীক্ষাগার। কর্মের মাধ্যমেই তার নিজের ঈমান বা কুফর প্রমাণ হবে। এ দুনিয়া শুধুমাত্র একটি কর্মস্থল- পুরষ্কার বা শাস্তি পাওয়ার জায়গা এটা নয়। মাটির তৈরী মানুষ আলমে আরওয়াহ থেকে "আত্মা” নিয়ে দুনিয়ায় শরীরে প্রবেশ করেছে। এই দেহ নশ্বর। কিন্তু আত্মা অবিনশ্বর। এ কারণেই মৃত্যুর পরপারে এখানকার কর্মফল ভোগ করার জন্য তার আত্মার জন্য একটি জীবন লাভ অবশ্যম্ভাবী। পরপারের সেই জিন্দেগীতে সে পুরস্কার স্বরূপ হয় জান্নাত পাবে না হয় শাস্তি স্বরূপ জাহান্নামে যাবে, এটাই অনিবার্য পরিনতি।

📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 মানুষ আল্লাহর গোলাম বা দাস

📄 মানুষ আল্লাহর গোলাম বা দাস


আল্লাহতায়ালা আল কোরআনে বলেছেন-
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ -
এরশাদ হচ্ছে- "আমি মানুষ ও জ্বীনকে একমাত্র আমার গোলামী বা দাসত্ব করার জন্য পয়দা করেছি।” (সূরা আযযারিয়াত- ৫৬)। অর্থাৎ আল্লাহতায়ালা বলেছেন, মানুষ ও জ্বীন সৃষ্টির উদ্দেশ্য এই যে, তারা আল্লাহরই ইবাদাত করবে। একটু আগেই আমরা তা জেনেছি। এখন ইবাদাত কী এবং কাকে বলে এবং কিভাবে তা করা যায় তা জানার চেষ্টা করবো। প্রচলিত অর্থে নামাজ,
রোজা, হজ্জ, যাকাত, দাড়ি-টুপি এবং লম্বা পাঞ্জাবীই কি ইবাদাত না মসজিদে বসে রাতভর নফল নামাজ পড়া, যিকর আযকার করা, তসবিহ তাহলীল করা ইত্যাদি শুধু ইবাদাত?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00