📄 নবী ও রাসূল (সাঃ) দ্বীন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করেছেন
هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِيْنِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُله -
“তিনিই তাঁর রাসূল প্রেরণ করেছেন পথ নির্দেশ ও সত্য দ্বীনসহ সকল দ্বীনের উপর তাকে বিজয়ী করে তোলার জন্য।” (সূরা আস সাফ- ৯ নং আয়াত)
এখানে এই আয়াতের আলোকে দেখা যায় যে, এ দুনিয়ায় খিলাফত প্রতিষ্ঠার মহান লক্ষ্যে সমাজে বিদ্যমান অন্যান্য বিধান বা ব্যবস্থাকে উৎখাত করে আল্লাহর দ্বীনকে পুরোপুরি কায়েম করতে হবে। নবী রাসূলদের ইতিহাস তাঁদের জীবন চরিত এ কথারই উজ্জ্বল নিদর্শন। আল্লাহতায়ালার তরফ থেকে প্রত্যেক নবী ঐ একই কাজ করে গেছেন।
شَرَعَ لَكُم مِّنَ الدِّيْنِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ -
“তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের নিয়ম বিধান নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন যার হুকুম তিনি নূহকে দিয়েছিলেন। আর যা (হে মুহাম্মাদ) এখন তোমার প্রতি আমরা ওহির সাহায্যে পাঠিয়েছি। আর যার হেদায়াত ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসাকে দিয়েছিলাম। এই তাকিদ সহকারে যে, কায়েম কর এই দ্বীনকে এবং এতে ছিন্ন-ভিন্ন হয়োনা।” (সূরা আশুরা, ১৩ আয়াত)।
আল্লাহ এ দুনিয়াতে যত নবী রাসূল পাঠিয়েছেন সকলের উপর একই দায়িত্ব ছিল। সকলেরই উদ্দেশ্য ছিল দ্বীন কায়েম করা। এমনিভাবে সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) এর নবুয়ত প্রাপ্তির পর থেকে মক্কায় ১৩ বছর এবং মদীনায় ১০ বছর এই ২৩ বছরের জিন্দেগী আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে মানবজাতির জন্য একমাত্র পথিকৃত। এ দুনিয়ার খিলাফত প্রতিষ্ঠার যে পথ তা মহামানব রাসূলেরই (সা) প্রদর্শিত পথ। এ পথ ছাড়া খিলাফত বা আল্লাহতায়ালার দ্বীন প্রতিষ্ঠার অন্যকোন পথ নেই। আল্লাহ প্রদত্ত আদর্শ একমাত্র রাসূল প্রদর্শিত পথেই বাস্তবায়ন সম্ভব-আল্লাহর রাসূল এ পথই দেখিয়ে গেছেন, যে পথ ধরে আমাদের চলতে হবে। সমাজ ব্যবস্থা, রাষ্ট্র ব্যবস্থা, অর্থব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার অর্থাৎ জীবনের সার্বিক বিভাগ ও দিকের উপর আল্লাহর বিধানকে পুরোপুরি কার্যকর ও বাস্তবায়ন করার মধ্যেই মানুষের খিলাফতের দায়িত্ব পালনের যথার্থতা নিহিত।
📄 মানুষের ইচ্ছাশক্তির স্বাধীনতা
আল্লাহতায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন কিন্তু তাদেরকে পুরোপুরি স্বাধীনতা দিয়ে ছেড়ে দেননি। সর্বত্রই মানুষ আল্লাহতায়ালার অধীন। কোন অবস্থাতেই এবং কোনক্রমেই মানুষ আল্লাহর নিয়ন্ত্রণমুক্ত হতে পারেনা। আল্লাহ মানুষকে সীমিত স্বাধীনতা দিয়ে পয়দা করেছেন। আর সেই সীমিত স্বাধীনতাই হলো "FREEDOM OF CHOICE" ইচ্ছাশক্তির স্বাধীনতা। আল্লাহতায়ালা মানুষের জন্য রাসূলদের (আ) মাধ্যমে ভালো ও মন্দ পথ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিয়েছেন। মানুষ ভাল কাজ করতে পারে অথবা মন্দ কাজও করতে পারে। ভাল কাজের পুরষ্কার লাভ এবং খারাপ কাজের পরিণতিতে শাস্তি পাওয়ার কথাও আল্লাহতায়ালা বলে দিয়েছেন। এখন এই সীমিত স্বাধীনতা পাওয়ার পর মানুষ কিভাবে তা ব্যবহার করে তাই আল্লাহতায়ালা দেখবেন।
📄 আল্লাহতায়ালাই একমাত্র ক্ষমতার মালিক
আল্লাহতায়ালা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন: - أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالأمر
অর্থাৎ “সৃষ্টি যার নির্দেশ দেয়ার একমাত্র ক্ষমতা তাঁরই।” (সূরা আল আরাফ ৫৪ আয়াত)।
সূরা আল আনয়াম- ৫৭, সূরা ইউসুফ-এর ৪০ ও ৬৭ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন- - إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ
অর্থাৎ "সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর।” মানুষ যত শক্তিশালী হোক না কেন, যত আশ্চর্য রকমের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারই করুক না কেন- তারা কখনো সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী নয়। আল্লাহতায়ালা মানুষকে যতটুকু ক্ষমতা দিয়েছেন এর বেশী তার এক বিন্দুও করার কোনই শক্তি নেই। তারা এ দুনিয়া পরিচালনা করার কোন জ্ঞানই রাখেনা। দৃশ্য-অদৃশ্য এই বিশাল বিশ্ব জাহান সম্পর্কে সব কিছু জানার কোন ক্ষমতাই তাদের নেই। কিন্তু আল্লাহতায়ালা তাঁর দ্বীন বা তাঁর বিধানকে বুঝে আল্লাহর খিলাফত প্রতিষ্ঠার মত ক্ষমতা মানুষকে দিয়েছেন মাত্র।
সূরা আদ-দাহরের ২য় এবং ৩য় আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেছেন:
إِنَّا خَلَقْنَا الإِنْسَانَ مِنْ نُطْفَةٍ أَمْشَاجٍ نَبْتَلِيْهِ فَجَعَلْنَهُ سَمِيعًا بَصِيرًا - إِنَّا هَدَيْنَهُ السَّبِيلَ إِمَّا شَاكِرًا وَإِمَّا كَفُورًا -
"আমিতো মানুষকে সৃষ্টি করেছি সংমিশ্রিত শুক্রবিন্দু থেকে। তাকে পরীক্ষা করবার জন্য। এ জন্য আমি তাকে করেছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন। আমি তাকে পথের নির্দেশ দিয়েছি। হয় সে কৃতজ্ঞ হবে নয় সে অকৃতজ্ঞ হবে।”
📄 মানুষের সামনে দু'টো পথ
আল্লাহতায়ালা মানুষ সৃষ্টি করে তাদেরকে অন্ধকারে ফেলে দেন নাই- আল্লাহ তাঁর নির্দেশ বাস্তবায়ন করে দেখানোর জন্য নবী রাসূল এবং মানুষকে স্বাধীনতা দান করেই এই দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। এখন এই মানুষের সামনে রয়েছে দুটি পথ-
(১) ইসলামের পথ ও (২) কুফরের পথ। যারা ইসলামের পথে অর্থাৎ রাসূলের প্রদর্শিত পথে চলবে- তারা ইহকালে ও পরকালে কল্যাণ লাভ করবে। শুধু তাই
নয় পরজীবনে তারা অনন্তকাল জান্নাতবাসী হয়ে থাকবে। আর যারা কুফরের পথে চলবে- অর্থাৎ শয়তানের আনুগত্য করবে তাদের দুনিয়াতে কোন কল্যাণ হবেনা-আর আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আযাব। এখানে উল্লেখ্য যে শয়তানের পথে চলে কোন ব্যক্তি বা কোন জাতি আর্থিক সমৃদ্ধি লাভ করলেও তা আত্মার শান্তি আনতে পারেনা। আল্লাহর দৃষ্টিতে যা কল্যাণ মানুষের দৃষ্টিতে তা কল্যাণ মনে না হলেও সেখানেই মূলতঃ আসল কল্যাণ নিহিত। আর বস্তুতঃ শুধুমাত্র আর্থিক সমৃদ্ধি যে মানুষের আত্মার শান্তি, উন্নতি এবং কল্যাণ বয়ে আনতে পারেনা আধুনিক বিশ্বের অনেক সমৃদ্ধ দেশের জনজীবনই তার প্রমাণ বহন করে। মনের প্রশান্তি ও কল্যাণ আর্থিক সমৃদ্ধির উপরে নয়-বরং নৈতিক এবং আত্মার উন্নতির উপরই নির্ভরশীল।
আজ তথাকথিত পাশ্চাত্য সভ্যতা এবং ধনীদেশগুলোর দিকে তাকালে কী দেখা যায়? এই সব দেশের বৈষয়িক উন্নতি এবং সমাজ জীবনে মানবতাবোধ ও নৈতিকতা কি সমান্তরালভাবে চলছে? আমরা দেখছি এ দুনিয়ার বৈষয়িক জীবনে তাদের চরম উন্নতি হলেও, মানবতা এবং নৈতিকতা আজ বিপর্যস্ত। উপরে চাকচিক্য জৌলুসের ছড়াছড়ি থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের সামাজিক জীবন আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে তা কি একবার চিন্তা করেছেন? পুঁজিবাদ এবং সমাজবাদের যাঁতাকলে মানবতাবাদ ডুকরে কাঁদছে। সেখানকার মানুষ মুক্তির পথ খুঁজছে। সাদা-কালোতে ভেদাভেদ, দুর্বলের উপর সবলের জুলুম, প্রভুত্বের লড়াই, অস্ত্রের ঝন-ঝনানি, নৈতিক বিপর্যয়, খর্ব বাকস্বাধীনতা, অবাধ যৌনাচার, উলঙ্গ সংস্কৃতি, নেশাপান, আত্মহত্যা, দাম্পত্য কলহ ও বিচ্ছেদ, মানসিক ব্যাধির ব্যাপকতা সর্বোপরি কুমারী মাতা হওয়ার অভিশাপ কিসের আলামত বহন করে তা কারো বুঝতে বাকি থাকার কথা নয়। শান্তি কাকে বলে তা মনকে একবার জিজ্ঞাসা করুন।
আল্লাহতায়ালা মানুষ সৃষ্টি করে তাদেরকে অন্ধকারে ফেলে দেন নাই- আল্লাহ তাঁর নির্দেশ বাস্তবায়ন করে দেখানোর জন্য নবী রাসূল এবং মানুষকে স্বাধীনতা দান করেই এই দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। এখন এই মানুষের সামনে রয়েছে দুটি পথ-
(১) ইসলামের পথ ও (২) কুফরের পথ। যারা ইসলামের পথে অর্থাৎ রাসূলের প্রদর্শিত পথে চলবে- তারা ইহকালে ও পরকালে কল্যাণ লাভ করবে। শুধু তাই নয় পরজীবনে তারা অনন্তকাল জান্নাতবাসী হয়ে থাকবে। আর যারা কুফরের পথে চলবে- অর্থাৎ শয়তানের আনুগত্য করবে তাদের দুনিয়াতে কোন কল্যাণ হবেনা-আর আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আযাব। এখানে উল্লেখ্য যে শয়তানের পথে চলে কোন ব্যক্তি বা কোন জাতি আর্থিক সমৃদ্ধি লাভ করলেও তা আত্মার শান্তি আনতে পারেনা। আল্লাহর দৃষ্টিতে যা কল্যাণ মানুষের দৃষ্টিতে তা কল্যাণ মনে না হলেও সেখানেই মূলতঃ আসল কল্যাণ নিহিত। আর বস্তুতঃ শুধুমাত্র আর্থিক সমৃদ্ধি যে মানুষের আত্মার শান্তি, উন্নতি এবং কল্যাণ বয়ে আনতে পারেনা আধুনিক বিশ্বের অনেক সমৃদ্ধ দেশের জনজীবনই তার প্রমাণ বহন করে। মনের প্রশান্তি ও কল্যাণ আর্থিক সমৃদ্ধির উপরে নয়-বরং নৈতিক এবং আত্মার উন্নতির উপরই নির্ভরশীল।
আজ তথাকথিত পাশ্চাত্য সভ্যতা এবং ধনীদেশগুলোর দিকে তাকালে কী দেখা যায়? এই সব দেশের বৈষয়িক উন্নতি এবং সমাজ জীবনে মানবতাবোধ ও নৈতিকতা কি সমান্তরালভাবে চলছে? আমরা দেখছি এ দুনিয়ার বৈষয়িক জীবনে তাদের চরম উন্নতি হলেও, মানবতা এবং নৈতিকতা আজ বিপর্যস্ত। উপরে চাকচিক্য জৌলুসের ছড়াছড়ি থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের সামাজিক জীবন আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে তা কি একবার চিন্তা করেছেন? পুঁজিবাদ এবং সমাজবাদের যাঁতাকলে মানবতাবাদ ডুকরে কাঁদছে। সেখানকার মানুষ মুক্তির পথ খুঁজছে। সাদা-কালোতে ভেদাভেদ, দুর্বলের উপর সবলের জুলুম, প্রভুত্বের লড়াই, অস্ত্রের ঝন-ঝনানি, নৈতিক বিপর্যয়, খর্ব বাকস্বাধীনতা, অবাধ যৌনাচার, উলঙ্গ সংস্কৃতি, নেশাপান, আত্মহত্যা, দাম্পত্য কলহ ও বিচ্ছেদ, মানসিক ব্যাধির ব্যাপকতা সর্বোপরি কুমারী মাতা হওয়ার অভিশাপ কিসের আলামত বহন করে তা কারো বুঝতে বাকি থাকার কথা নয়। শান্তি কাকে বলে তা মনকে একবার জিজ্ঞাসা করুন।