📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 খিলাফত প্রতিষ্ঠার দায়িত্বের কারণেই মানুষ সবার সেরা

📄 খিলাফত প্রতিষ্ঠার দায়িত্বের কারণেই মানুষ সবার সেরা


মানুষের সৃষ্টি তত্ত্ব আলোচনা করলে দেখা যায় যে মানুষ নিকৃষ্টভাবে সৃষ্টি হয়েছে। এক ফোঁটা অপবিত্র পানি থেকেই তার সৃষ্টি। এদিক দিয়ে সে অতি তুচ্ছ। আল্লাহতায়ালার ফুঁকে দেয়া রূহ সম্বলিত দেহ নিয়ে কোন বান্দা যদি শয়তানের পদাংক অনুসরণ করে তাহলে তার মর্যাদা রক্ষিত হতে পারেনা, বরং সে পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্তরে চলে যাবে- কারণ একমাত্র আল্লাহতায়ালার প্রতিনিধিত্ব সঠিকভাবে করার উপরই তার ইজ্জত হেফাজত করা সম্ভব।
তাহলে দেখা যাচ্ছে আল্লাহর প্রতিনিধি হবার কারণেই মানুষের মর্যাদা দুনিয়ার সকল সৃষ্টির চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং উন্নত। দুনিয়ায় প্রতিটি বস্তুই তার অধীন এবং তার ব্যবহারের জন্য নিয়োজিত। আল্লাহর নির্ধারিত পন্থায় তা থেকে সে খেদমত গ্রহণ করার অধিকারী।
খলীফা হিসাবে খিলাফতের দায়িত্ব পালন করতে হলে এবং পরকালে আল্লাহর আযাব থেকে নাজাত পেতে হলে আল্লাহর দ্বীন বা বিধানকে এ দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত ও বিজয়ী করে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে। কারণ এই দুনিয়ায় খিলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আল্লাহ মানুষকে এত বেশী মর্যাদা দিয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ করে পয়দা করেছেন। তাদের এই মর্যাদা একমাত্র খিলাফত প্রতিষ্ঠার উপরই নির্ভরশীল এবং এই উদ্দেশ্যেই আল্লাহতায়ালা যুগে যুগে নবী রাসূল (সা) পাঠিয়েছেন যেন আল্লাহর সেই মহান উদ্দেশ্য পালনের জন্য তাঁরা বান্দাদেরকে পথ দেখিয়ে দেন।

📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 নবী ও রাসূল (সাঃ) দ্বীন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করেছেন

📄 নবী ও রাসূল (সাঃ) দ্বীন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করেছেন


هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِيْنِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُله -

“তিনিই তাঁর রাসূল প্রেরণ করেছেন পথ নির্দেশ ও সত্য দ্বীনসহ সকল দ্বীনের উপর তাকে বিজয়ী করে তোলার জন্য।” (সূরা আস সাফ- ৯ নং আয়াত)
এখানে এই আয়াতের আলোকে দেখা যায় যে, এ দুনিয়ায় খিলাফত প্রতিষ্ঠার মহান লক্ষ্যে সমাজে বিদ্যমান অন্যান্য বিধান বা ব্যবস্থাকে উৎখাত করে আল্লাহর দ্বীনকে পুরোপুরি কায়েম করতে হবে। নবী রাসূলদের ইতিহাস তাঁদের জীবন চরিত এ কথারই উজ্জ্বল নিদর্শন। আল্লাহতায়ালার তরফ থেকে প্রত্যেক নবী ঐ একই কাজ করে গেছেন।

شَرَعَ لَكُم مِّنَ الدِّيْنِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ -

“তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের নিয়ম বিধান নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন যার হুকুম তিনি নূহকে দিয়েছিলেন। আর যা (হে মুহাম্মাদ) এখন তোমার প্রতি আমরা ওহির সাহায্যে পাঠিয়েছি। আর যার হেদায়াত ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসাকে দিয়েছিলাম। এই তাকিদ সহকারে যে, কায়েম কর এই দ্বীনকে এবং এতে ছিন্ন-ভিন্ন হয়োনা।” (সূরা আশুরা, ১৩ আয়াত)।
আল্লাহ এ দুনিয়াতে যত নবী রাসূল পাঠিয়েছেন সকলের উপর একই দায়িত্ব ছিল। সকলেরই উদ্দেশ্য ছিল দ্বীন কায়েম করা। এমনিভাবে সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) এর নবুয়ত প্রাপ্তির পর থেকে মক্কায় ১৩ বছর এবং মদীনায় ১০ বছর এই ২৩ বছরের জিন্দেগী আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে মানবজাতির জন্য একমাত্র পথিকৃত। এ দুনিয়ার খিলাফত প্রতিষ্ঠার যে পথ তা মহামানব রাসূলেরই (সা) প্রদর্শিত পথ। এ পথ ছাড়া খিলাফত বা আল্লাহতায়ালার দ্বীন প্রতিষ্ঠার অন্যকোন পথ নেই। আল্লাহ প্রদত্ত আদর্শ একমাত্র রাসূল প্রদর্শিত পথেই বাস্তবায়ন সম্ভব-আল্লাহর রাসূল এ পথই দেখিয়ে গেছেন, যে পথ ধরে আমাদের চলতে হবে। সমাজ ব্যবস্থা, রাষ্ট্র ব্যবস্থা, অর্থব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার অর্থাৎ জীবনের সার্বিক বিভাগ ও দিকের উপর আল্লাহর বিধানকে পুরোপুরি কার্যকর ও বাস্তবায়ন করার মধ্যেই মানুষের খিলাফতের দায়িত্ব পালনের যথার্থতা নিহিত।

📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 মানুষের ইচ্ছাশক্তির স্বাধীনতা

📄 মানুষের ইচ্ছাশক্তির স্বাধীনতা


আল্লাহতায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন কিন্তু তাদেরকে পুরোপুরি স্বাধীনতা দিয়ে ছেড়ে দেননি। সর্বত্রই মানুষ আল্লাহতায়ালার অধীন। কোন অবস্থাতেই এবং কোনক্রমেই মানুষ আল্লাহর নিয়ন্ত্রণমুক্ত হতে পারেনা। আল্লাহ মানুষকে সীমিত স্বাধীনতা দিয়ে পয়দা করেছেন। আর সেই সীমিত স্বাধীনতাই হলো "FREEDOM OF CHOICE" ইচ্ছাশক্তির স্বাধীনতা। আল্লাহতায়ালা মানুষের জন্য রাসূলদের (আ) মাধ্যমে ভালো ও মন্দ পথ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিয়েছেন। মানুষ ভাল কাজ করতে পারে অথবা মন্দ কাজও করতে পারে। ভাল কাজের পুরষ্কার লাভ এবং খারাপ কাজের পরিণতিতে শাস্তি পাওয়ার কথাও আল্লাহতায়ালা বলে দিয়েছেন। এখন এই সীমিত স্বাধীনতা পাওয়ার পর মানুষ কিভাবে তা ব্যবহার করে তাই আল্লাহতায়ালা দেখবেন।

📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 আল্লাহতায়ালাই একমাত্র ক্ষমতার মালিক

📄 আল্লাহতায়ালাই একমাত্র ক্ষমতার মালিক


আল্লাহতায়ালা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন: - أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالأمر
অর্থাৎ “সৃষ্টি যার নির্দেশ দেয়ার একমাত্র ক্ষমতা তাঁরই।” (সূরা আল আরাফ ৫৪ আয়াত)।
সূরা আল আনয়াম- ৫৭, সূরা ইউসুফ-এর ৪০ ও ৬৭ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন- - إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ
অর্থাৎ "সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর।” মানুষ যত শক্তিশালী হোক না কেন, যত আশ্চর্য রকমের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারই করুক না কেন- তারা কখনো সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী নয়। আল্লাহতায়ালা মানুষকে যতটুকু ক্ষমতা দিয়েছেন এর বেশী তার এক বিন্দুও করার কোনই শক্তি নেই। তারা এ দুনিয়া পরিচালনা করার কোন জ্ঞানই রাখেনা। দৃশ্য-অদৃশ্য এই বিশাল বিশ্ব জাহান সম্পর্কে সব কিছু জানার কোন ক্ষমতাই তাদের নেই। কিন্তু আল্লাহতায়ালা তাঁর দ্বীন বা তাঁর বিধানকে বুঝে আল্লাহর খিলাফত প্রতিষ্ঠার মত ক্ষমতা মানুষকে দিয়েছেন মাত্র।
সূরা আদ-দাহরের ২য় এবং ৩য় আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেছেন:

إِنَّا خَلَقْنَا الإِنْسَانَ مِنْ نُطْفَةٍ أَمْشَاجٍ نَبْتَلِيْهِ فَجَعَلْنَهُ سَمِيعًا بَصِيرًا - إِنَّا هَدَيْنَهُ السَّبِيلَ إِمَّا شَاكِرًا وَإِمَّا كَفُورًا -

"আমিতো মানুষকে সৃষ্টি করেছি সংমিশ্রিত শুক্রবিন্দু থেকে। তাকে পরীক্ষা করবার জন্য। এ জন্য আমি তাকে করেছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন। আমি তাকে পথের নির্দেশ দিয়েছি। হয় সে কৃতজ্ঞ হবে নয় সে অকৃতজ্ঞ হবে।”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00