📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 প্রত্যেক সৃষ্টিরই উদ্দেশ্য আছে

📄 প্রত্যেক সৃষ্টিরই উদ্দেশ্য আছে


বিজ্ঞান, দর্শন অথবা কলা সবকিছুই এ অভিমত ব্যক্ত করে যে কারণ ছাড়া কোন কিছু সংগঠিত হয়না। তেমনিভাবে অন্য দিকে উদ্দেশ্য ছাড়া কোন সৃষ্টির অস্তিত্ব অকল্পনীয়। এখন প্রশ্ন জাগে এই যে মহা বিশ্বের সৃষ্টি, এই যে জানা-অজানা অসংখ্য মাখলুকাত যারা সকলেই সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি “মানুষের” সেবায় নিয়োজিত সেই 'মানুষ' সৃষ্টির কারণ বা উদ্দেশ্য কী?
এই মানুষ সৃষ্টির নিশ্চয়ই একটা উদ্দেশ্য আছে। আর এই উদ্দেশ্য শুধু তিনিই বলতে পারেন যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টজীব মানুষ তার মস্তিষ্ক দিয়ে তার স্রষ্টা সম্পর্কে নানারূপ অবান্তর কল্পনার জাল বুনতে পারে, নানাজন নানারূপে অর্থহীন কিছু সংলাপ পেশ করতে পারে বটে- অথবা সসীম মগজের খোঁড়া যুক্তিতে স্রষ্টার অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে বসতে পারে কিন্তু স্রষ্টার উদ্দেশ্যকে জানা হবে না। মানুষ যার সৃষ্টি তার কাছেই এ প্রশ্নের সঠিক জওয়াব জানতে হবে।
মহান আল্লাহতায়ালা মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং এই মহাবিশ্বকে বৈচিত্রময় করে গড়ে তুলেছেন। পৃথিবীর মাঝে জীবজন্তু, বৃক্ষ-তরুলতা, শূন্যলোকে গ্রহ, উপগ্রহ, তারকারাজি এক অপূর্ব সৌন্দর্যে সুষমামন্ডিত এবং সুসামঞ্জস্যশীল করে তৈরী করে একমাত্র মানবকুল সৃষ্টির মাধ্যমেই তার সৃষ্টির যথার্থতা সার্থক করে তুলতে চেয়েছেন। মানবকূলকে সবকিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ বা প্রধান করে সৃষ্টি করে বাকি সকল কিছুই মানুষের অধীন এবং সেবায় নিয়োজিত করে মহান আল্লাহতায়ালা তার উদ্দেশ্যকে পরিপূর্ণ করে তুলতে চেয়েছেন। মনুষ্যজাতির কর্মকান্ডের মাঝ দিয়ে তিনি তার সৃষ্টির যথার্থতা নিরূপণ করতে চান।

📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 মানুষের সাথে অন্যান্য সৃষ্টির পার্থক্য

📄 মানুষের সাথে অন্যান্য সৃষ্টির পার্থক্য


তাই আমরা দেখি দুনিয়ার অন্য কোন প্রাণীর জন্য মহান আল্লাহতায়ালার কোন নির্দেশনামা নেই- নেই কোন আসমানী কিতাব। কোন জীবজন্তু বা পক্ষীকুলের জন্য তিনি কখনো কোন পয়গাম্বর বা নবী-রসূল পাঠান নাই। কিন্তু মানুষের জন্য তিনি পাঠিয়েছেন নবী-রাসূল, দিয়েছেন গাইড লাইনস এবং হেদায়াত।
মানুষ ছাড়া বিশ্বের আর যত সৃষ্টি আছে সবকিছুই আল্লাহতায়ালা প্রদত্ত সুনির্দিষ্ট এবং সুনির্ধারিত নিয়ম মোতাবেকই চলছে। আম গাছে কখনো লিচু ফল ধরেনা, পূর্বের সূর্য কখনো পশ্চিমে উদয় হয়না। আগুন দহন করে, পানি করে ঠান্ডা। আল্লাহতায়ালা যেভাবে তাদের হুকুম করেছেন তারা সেভাবেই চলছে সৃষ্টিলগ্ন থেকে। কিন্তু মানুষকে তিনি সেভাবে সৃষ্টি করে ছেড়ে দেননি। আল্লাহতায়ালা মানুষকে বুদ্ধি দিয়ে, বিবেক দিয়ে এবং সীমিত স্বাধীনতা দিয়ে এ দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। আল্লাহতায়ালা মানুষের Animality র-সাথে সাথে দান করেছেন Rationality কারণ তিনি দেখতে চান যে মানুষ হক এবং বাতিল পার্থক্য করতে পারে কিনা, মানুষ তার বুদ্ধি ও বিবেক দিয়ে আল্লাহকে চিনে আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলে, না কি শয়তানের পদাংক অনুসরণ করে পশুর মত ন্যায় অন্যায় বিচার না করে অনৈতিকভাবে জীবন যাপন করে, কিংবা ইতর প্রাণীর মত পশুর চেয়েও নিকৃষ্টভাবে এ দুনিয়ার জীবন কাটায়?

📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 মানুষের চলার পথ চেনার উপায়

📄 মানুষের চলার পথ চেনার উপায়


আল্লাহতায়ালা তাই মানুষকে সৃষ্টি করে অন্ধকারে ছেড়ে দেননি। এই দুনিয়ায় মানুষের সঠিক চলার পথ কী এবং কোনটি তা জানা এবং বুঝার জন্য যুগে যুগে মানব জাতির জন্য তিনি পাঠিয়েছেন নবী-রাসূল (আ) ও ঐশী গ্রন্থ। অনুরূপভাবে সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) এর নিকট হযরত জিব্রাইল (আ) এর মাধ্যমে সমগ্র মানব জাতির জন্য পাঠিয়েছেন মহাগ্রন্থ আল-কোরআন।
সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) তার জীবনের প্রতিটি কাজ এবং কথা দিয়ে মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নির্দেশিত পথই বাস্তবভাবে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন- যাতে মানুষ এই পথ চিনতে ভুল না করে।

📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 খলীফা বা প্রতিনিধি হিসেবে মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য

📄 খলীফা বা প্রতিনিধি হিসেবে মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য


এ দুনিয়ায় মানুষের মর্যাদা হচ্ছে সে আল্লাহর খলীফা- অর্থাৎ আল্লাহর প্রতিনিধি। প্রতিনিধির কাজ এই যে সে যার প্রতিনিধি তারই আনুগত্য ও অনুসরণ করে চলবে। সে নিজের মনিব ব্যতীত অন্য কারো যেমন আনুগত্য করতে পারেনা, তেমনি মনিবের প্রজাদেরকে নিজের প্রজা বা খাদেম বানাতে পারেনা। প্রতিনিধি কখনো কোন অবস্থাতেই নিজে মনিব সেজে বসতে পারেনা। প্রতিনিধি তার মনিবের প্রদত্ত সকল সুযোগ সুবিধাদি মনিবের হুকুম মত পরিচালনা করতে পারে কিন্তু নিজে কখনোও মনিবের আমানতের খেয়ানত করতে পারেনা।
এখন যদি কোন প্রতিনিধি মনিবের হুকুম না মেনে নিজের ইচ্ছামত প্রজাদের উপর শাসন চালায় অথবা কোন শক্তির অধীনস্থ হয়, মনিবের আমানত খেয়ানত করে, মনিবের নির্দেশ অমান্য করে এবং তাঁর দেয়া বিধান লংঘন করে, মনিবের দেয়া ধন-সম্পদে মনিবের ইচ্ছামত আইন-কানুন প্রণয়ন না করে- অর্থাৎ মনিবের হুকুম মত প্রতিটি কাজ সম্পন্ন না করে তাহলে সে প্রতিনিধি হতে পারেনা- সে হবে মনিবের বিদ্রোহী এবং বিরোধী। সে ব্যক্তি কখনো মনিবের নিকট থেকে পুরস্কার আশা করতে পারেনা। বরং মনিবের হুকুমের বিরোধী কাজ করার পরিণামে তাকে ভীষণ শাস্তি ভোগ করতে হবে। এমনিভাবে এ দুনিয়ায় প্রতিটি কার্যকলাপের জন্য মানুষকে প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর মনিব অর্থাৎ আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করতে হবে, কারণ এ দুনিয়ায় সে ছিল আল্লাহর প্রতিনিধি। এ জীবন অবসানের পর আল্লাহতায়ালা দেখবেন যে সেই প্রতিনিধি- তার দেয়া মালমাত্তার সঠিক ব্যবহার করেছে কিনা, তাঁর দেয়া আইনে দেশ চালিয়েছে কিনা, তাঁর দেয়া অর্থ-ব্যবস্থায় অর্থসম্পদের ব্যবহার হয়েছে কিনা, তাঁর দেয়া বিধান মোতাবেক ইহজগতের কাজ সেই প্রতিনিধি পালন করেছে কিনা- আল্লাহতায়ালা তার কাছে সব জানতে চাইবেন- সে যদি তাঁর হুকুম মতই সবকিছু করে থাকে নিঃসন্দেহে মনিব খুশি হবেন এবং তাকে পুরস্কৃত করবেন। আল্লাহতায়ালা বলেন:

فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنّى هُدًى فَمَنْ تَبِعَ هُدَايَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ - وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِأَيْتِنَا أُولَئِكَ اَصْحٰبُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خُلِدُونَ -

"আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে হেদায়াত আসবে যারা আমার দেয়া হেদায়াতের অনুসরণ করবে, তাদের জন্য কোনরূপ শাস্তির ভয় এবং কোন দুশ্চিন্তার কারণ নাই, আর যারা নাফরমানি করবে এবং আমার বাণী ও নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে যাবে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।” (আল বাকারা ৩৮-৩৯)
তাই প্রতিনিধির সর্বপ্রথম কর্তব্য হলো সে যার প্রতিনিধি- তার আজ্ঞানুবর্তিতা, তার শাসন এবং সর্বোচ্চ ক্ষমতাকে দ্বিধাহীন চিত্তে মেনে নেয়া। সে যদি এটা করতে রাজী না হয় তাহলে প্রথমেই সে বিদ্রোহী হয়েছে- সে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে বলে ধরে নিতে হবে। সে যদি কোন সৎকাজ করেও তা অর্থহীন হয়ে যাবে- কারণ সে মূলতই প্রতিনিধিত্বের সঠিক দাবী পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00