📘 মাযহাব অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ > 📄 পরিশিষ্ট

📄 পরিশিষ্ট


পরিশিষ্ট ক: 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন আয-যুবাইর
খলীফা ইয়াযীদ ইবন মু'আউইয়াহর শাসনামলের (৬০-৬৪ হিজরি; ৬৮০-৬৮৩ সাল) শেষ দিকে 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন আয-যুবাইরকে হিজায অঞ্চলের খলীফা ঘোষণা করা হয়। হিজাযের এ বিদ্রোহের কথা জানতে পেরে ইয়াযীদ তা দমন করার জন্য তার সেনাপতি মুসলিম ইবন 'উকবাহর নেতৃত্বে একদল সৈনিক প্রেরণ করেন। ৬৪ হিজরিতে (৬৮৩ সাল) খলীফার প্রেরিত সেই সেনাবাহিনী মাক্কা যাওয়ার পথে মাদীনায় ব্যাপক লুটতরাজ চালায়। তবে মাক্কা পৌঁছার পূর্বে তাদের বাহিনী প্রধান মারা যায় এবং হুসাইন ইবন নুমাইর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়।
এ সেনাবাহিনী পবিত্র মাক্কা নগরী অবরোধ করে ও শহরের চারপাশে পাহাড়ের উপর ভারী প্রস্তর নিক্ষেপক কামান স্থাপন করে। এমনকি বৃষ্টির মতো তাঁদের এ পাথর নিক্ষেপের কারণে কা'বার দেওয়ালের কিয়দংশ ভেঙে পড়ে এবং কা'বার কালো পাথরে (হাজ্ব আসওয়াদ) ফাটল ধরে। তবে অবরোধকালে ইয়াযীদের মৃত্যু হওয়ায় উমাইয়া সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তারপর উমাইয়া শাসনের বিরুদ্ধে ইব্‌ন আয-যুবাইরের বিদ্রোহে ইরাকিরাও একাত্মতা ঘোষণা করে। ইব্‌ন আয-যুবাইরের ভাই মুস'আবকে ইরাকের আমীর নিয়োগ করা হয়। তার অল্প কিছুদিন পর দক্ষিণ আরব, মিশর ও সিরিয়ার কিছু অংশও খলীফা ইব্‌ন আয-যুবাইরের সাথে যোগ দেয় এবং তার নেতৃত্বকে সুসংহত করার জন্য তাকে মাক্কা ছাড়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু ইব্‌ন আয-যুবাইর পবিত্র মাক্কা নগরী ত্যাগ করতে অনিচ্ছুক ছিলেন।
মারওয়ান ইবন আল-হাকাম (৬৪-৬৫ হিজরি; ৬৮৩-৬৮৫ সাল) উমাইয়া খিলাফাতের দায়িত্ব নেওয়ার পর দামাস্কাস ও সিরিয়াকে আবারও উমাইয়া শাসনের অধীনে নিয়ে আসে। মারওয়ানের পুত্র 'আবদুল-মালিকের (৬৫-৮৬ হিজরি; ৬৮৫-৭০৫ সাল) শাসনামলের প্রায় মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত হিজায ছিল খলীফা ইন্ন আয-যুবাইরের শাসনাধীন। পরিশেষে 'আবদুল-মালিক তার লৌহহস্ত সেনাপতি হাজ্জাজ ইবন ইউসুফের নেতৃত্বে একটি বিশাল সিরীয় সেনাবাহিনী প্রেরণ করে। তারা হিজাযের উপর সর্বশেষ আঘাত হানে।
৭২ হিজরির ১ জুল-কাদা (২৫ মার্চ ৬৯২ সাল) থেকে হাজ্জাজ সাড়ে ছয় মাসের জন্য মাক্কা অবরোধ করে রাখে। আবু বাক্রের কন্যা ও 'ইশাহ এর বোন আসমা ছিলেন ইন্ন আয-যুবাইরের মা। তার বীরোচিত উপদেশে উদ্বুদ্ধ হয়েই ইব্‌ন আয-যুবাইর শহীদ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বীর বিক্রমে লড়াই চালিয়ে যান। তার মস্তক বিচ্ছিন্ন করে দামাস্কাস পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং দেহটি প্রকাশ্য স্থানে কিছু সময় ঝুলিয়ে রাখার পর তার বৃদ্ধ মা'র নিকট হস্তান্তর করা হয়। ইব্‌ন আয-যুবাইরের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে প্রথম যুগের সর্বশেষ বীরপুরুষদের একজনের বিদায় ঘটে এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্ব উমাইয়াদের লৌহমুষ্টিতে আবদ্ধ হয়ে পড়ে।
পরিশিষ্ট খ: কিছু বিপথগামী উপদল
খাওয়ারিজ (একবচনে খারিজি; আক্ষরিক অর্থ বিচ্ছিন্নতাবাদী)। এরা ছিল মূলত খলীফা 'আলি ইবন আবি তালিবের সেনাবাহিনীরই একটি অংশ। ৩৭ হিজরিতে (৬৫৭ সাল) 'আলি ও মু'আঁউইয়াহ (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) ইন আবি সুফিয়ান এর মধ্যে সিফফীনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। খিলাফাহকে কেন্দ্র করে 'আলি ও মু'আউইয়াহর মধ্যকার ভুল বোঝাবোঝি এক পর্যায়ে যুদ্ধের রূপ নেয়। এই যুদ্ধের সময়ই এই ফিরকা 'আলির সেনাবাহিনী থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল। রক্তপাত বন্ধ করার লক্ষ্যে যখন দুপক্ষের মধ্যে সালিশ অনুষ্ঠিত হলো তখন 'আলি-এর অনুসারীদের একটি বিশাল অংশ প্রধানত তামীম গোত্রের লোকেরা সালিশের বিরোধিতা করে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন ওয়াহহ্ রাসিবীকে তাদের নেতা নির্বাচিত করে। তারা 'আলি ও মু'আউইয়াহ উভয়কে কাঁফির ঘোষণা করে। কারণ তাদের মতে, তারা উভয়ে ওয়াহয়ির আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত ফায়সালা বাদ দিয়ে মানবীয় সালিশের আশ্রয় নিয়েছেন। যারা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি মেনে নেয়নি এবং 'আলি ও মু'আউইয়াহর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেনি এমন প্রত্যেককে তারা কাফির আখ্যায়িত করেছে।
খাওয়ারিজদের মতে সকল বিচার ফয়সালা সরাসরি কুর'আঁন থেকে আসা উচিত। তারা তাদের এ অবস্থানের বিরোধিতাকারী যেকোনো মুসলিমের রক্তপাত ও তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করাকে বৈধ মনে করত। খাওয়ারিজরা অন্য মুসলিমকে বিয়ে করা ও তাদের থেকে উত্তরাধিকার লাভ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী যে ব্যক্তি ব্যভিচার, মিথ্যাচার, নেশাগ্রহণ ইত্যাদি কাবীরা গুনাহে লিপ্ত হয় সে একজন মুরতাদ (ধর্মত্যাগী)।
তাদের চরমপন্থী শাখা আজরাকীদের ধারণা অনুযায়ী, এভাবে যে একবার কাফির হয়েছে সে কখনো ঈমানে পুনঃপ্রবেশ করতে পারবে না; তাকে তার স্ত্রী ও সন্তানাদিসহ হত্যা করতে হবে। খলীফা 'আলি বাধ্য হয়ে তাদের শিবিরে আক্রমণ করেন ও তাদেরকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। ৩৭ হিজরির (৬৫৭ সাল) সে আক্রমণে ইন্ন ওয়াব ও তার অধিকাংশ অনুসারী নিহত হয়। এটি নাহরাওয়ানের যুদ্ধ নামে পরিচিত। তবে এ বিজয়ের বিনিময়ে 'আলি-কে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। বিদ্রোহ দমন হওয়া তো দূরের কথা, এর ফলে বরং পরের দুবছরে আরও বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহ দেখা দিয়েছিল। আব্দুর-রহমান ইবন মুলযিম নামক এক খারিজির ছুরিকাঘাতে 'আলি নিহত হন। মুলযিম ছিল এমন এক মহিলার স্বামী যার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য নাহরাওয়ানের যুদ্ধে নিহত হয়েছিল।
মু'তাযিলা একটি দার্শনিক মতবাদ, এটি সাধারণত যুক্তিবাদ নামে পরিচিত। হিজরি দ্বিতীয় শতকে ওয়াসিল ইবন 'আতা' ও 'আম্ম ইবন 'উবাইদ এ মতবাদটি প্রচার শুরু করেন। পরবর্তীকালে 'আব্বাসি শাসকরা এ দর্শন দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়ে পড়ে। এমনকি তৎকালীন সকল বিশেষজ্ঞকে এ মতবাদ মেনে চলতে বাধ্য করার লক্ষ্যে একটি সরকারি তদন্ত বাহিনী তৈরি করা হয়। অবশ্য খলীফা মুতাওয়াক্কিল (৫৭২-৫৮৮ হিজরি; ১১৭৭-১১৯২ সাল) মতবাদটি পরিত্যাগ করেন এবং এ তদন্ত প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেন। এদের উল্লেখযোগ্য বিচ্যুত আকীদাগুলো হলো: আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান, কুর'আঁন একটি সৃষ্ট বস্তু এবং তার অর্থগুলোই কেবল ঐশী, জান্নাতি লোকেরা আল্লাহকে দেখবে না, ঐশী হস্তক্ষেপ ছাড়াই মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা শক্তি রয়েছে এবং কাবীরা গুনাহ সম্পাদনকারী ব্যক্তি বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের মাঝামাঝি অবস্থানে চলে যায়।
শী'আহ (বাংলায় এদের শিয়া বলা হয়)। ইয়াযীদ ইবন মু'আউইয়াহর শাসনামলের শুরুতে চতুর্থ খলীফা 'আলি ইবন আবি তালিবের পুত্র হুসাইন তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। 'আলি ইবন আবি তালিবের ইরাকি অনুসারীরা তাকে ইরাকে এসে নেতৃত্ব দেওয়ার নিমন্ত্রণ জানায়। তবে পরবর্তীকালে তারা তাকে পরিত্যাগ করে এবং এর পরিণতিতে কারবালায় ইয়াযীদের সৈনিকদের হাতে (৬১ হিজরি; ৬৮০ সাল) তিনি শাহাদাত বরণ করেন। 'আলি-এর অনুসারীদের অনেকেই এই নিদারুণ মানসিক যন্ত্রণায় ইসলামের মূল স্রোত থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। 'আলি-এর প্রতি তাদের ভালোবাসা ও তাঁর বিরোধীদের প্রতি তাদের ঘৃণা প্রকাশে তারা মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তাদের ধারণা প্রথম তিন খলীফা আবু বাক্স, 'উমার ও 'উসমান, 'আলির কাছ থেকে ইমামের পদ ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। তাই তাদেরকে এরা প্রথমে জবরদখলকারী ও পরে কাফির বলে আখ্যায়িত করে। প্রথম তিন খলীফার খিলাফআহকে মেনে নেওয়ার কারণে নাবি-এর সকল সহাবিকে মুরতাদ ঘোষণা করা হয়। কেবল সালমান আল-ফারিসি, আবু জার আল-গিফারি ও মিকদাদ ইবন আল-আসওয়াদ কিন্দকে এ গুরুতর অভিযোগ থেকে ছাড় দেওয়া হয়। অবশ্য কিছু কিছু বর্ণনায় আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া যায়। কারণ তাদের ব্যাপারে ধারণা করা হয় যে, তারা নাবি-এর মৃত্যুর পর 'আলির খিলাফাহ লাভের অধিকারকে ব্যাপক সমর্থন দিয়েছিলেন। এ দাবির সমর্থনে কিছু জাল হাদীস উদ্ভাবন করা হয়েছে। এসব জাল হাদীসের ভিত্তিতে দাবি করা হয় যে, নাবি তাঁর সকল সহাবিদের কাছ থেকে এই মর্মে আনুগত্যের একটি শপথ পাঠ করিয়েছিলেন, নাবি -এর মৃত্যুর পর 'আলীই হবেন তাদের নেতা। তাদের ধারণা অনুযায়ী, ১০ম হিজরীর জুল-হিজ্জাহ মাসের ১৮ তারিখে বিদায় হাজ্জের পর মাক্কা থেকে মাদীনায় ফেরার পথে গাদীর খুম নামক স্থানে এ শপথ গ্রহণ করা হয়েছিল। তারা আরও দাবি করে যে, 'আলি ও নাবি কন্যা ফাতিমার বংশধরদের কয়েকজনই কেবল মুসলিম উম্মাহর ইমাম হওয়ার অধিকার রাখতেন। এমনকি তারা যাদেরকে ইমাম উপাধি দিয়েছে তাদের প্রতি তারা আল্লাহর কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্যও আরোপ করেছে। তাদেরকে আল্লাহর নবীদের চেয়েও উপরে স্থান দিয়েছে। এসব বিশ্বাসকে আঁয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি নিম্নোক্ত ভাষায় ব্যক্ত করেছেন:
"ইমামের রয়েছে একটি সম্মানিত অবস্থান, একটি সমুন্নত পদমর্যাদা এবং একটি সৃষ্টিশীল প্রতিনিধিত্ব বা খিলাফাহ। তার সার্বভৌমত্ব ও রাজত্বের সামনে মহাবিশ্বের সকল পরমাণু আনুগত্য করে। আর আমাদের (শী'আহ) মাযহাবের অন্যতম মৌলিক বিশ্বাস হলো, ইমামদের এমন একটি স্থান রয়েছে যেখানে কোনো নৈকট্যশীল ফেরেশতা কিংবা কোনো নবীও পৌঁছাতে পারেন না। অধিকন্তু আমাদের নিকট যেসব বর্ণনা ও হাদীস রয়েছে সেগুলোর ভিত্তিতে জানা যায় যে, এ পৃথিবী সৃষ্টি হওয়ার পূর্বে সর্বশ্রেষ্ঠ নাবি মুহাম্মাদ ও বারো জন ইমাম আলো আকারে বিদ্যমান ছিলেন। তাদের দিয়ে আল্লাহ পাক তাঁর সিংহাসন পরিবেষ্টিত করে রেখেছিলেন।"
তবে প্রত্যেক নতুন ইমামের পদবি অনুসারে তাদের মধ্যে নতুন শী'আহ উপদল সৃষ্টি হয়েছে। তারা নতুন ইমামের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এসব কারণে ঐতিহাসিকভাবেই শী'আহদের দলাদলির প্রবণতা অত্যন্ত বেশি। তারা বিচিত্র ধরনের বিশ্বাস লালন করত। উল্লেখ্য যে, ইসলামের মূল ধারা থেকে ছিটকে পড়া বিদ'আতি উপদলগুলোর অধিকাংশই কোনো না কোনো শী'আহ ফিরকা থেকে জন্ম নিয়েছে। দৃষ্টান্তস্বরূপ, মুহাম্মাদ ইবন নুসাইরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত নুসাইরি উপদলটি ২৪০ হিজরিতে (৮৫৫ সাল) দাবি করেছিল যে, 'আলি ছিলেন স্বয়ং আল্লাহর আত্মপ্রকাশ। মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল আদ-দুরযির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত উপদলটি দাবি করেছিল যে, মিশরের ফাতিমি শী'আহ খলীফা হাকিম বিআমরিল্লাহ (৩৫৫-৪১১ হিজরি; ৯৬৬-১০২১ সাল) ছিলেন মানবাকৃতিতে আল্লাহর সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ। আর নুবুওয়াতের দাবিদার 'আলি মুহাম্মাদ রিদা ও তার শিষ্য হুসাইন 'আলি (বাহাউল্লাহ) বাহাই নামের উপদলটি প্রতিষ্ঠা করে যে নিজেকে প্রতীক্ষিত ঈসা ও আল্লাহর বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দাবি করেছিল।
পরিশিষ্ট ৩: ফিক্হশাস্ত্রের কিছু পরিভাষা উরফ
কোনো বিশেষ এলাকা বা জনগোষ্ঠীর সাধারণ যেসব প্রথা বা ঐতিহ্য ইসলামি আইনে সন্নিবিষ্ট হয়েছে সেগুলোই 'উরফ। ইসলামি আইনের কোনো মৌলিক নীতির সাথে সাংঘর্ষিক না-হলে স্থানীয় প্রথা ইসলামি আইনের একটি দ্বিতীয় পর্যায়ের উৎস হিসেবে বিবেচ্য হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বিয়ের স্থানীয় প্রথা। ইসলামের বিধান অনুসারে, বিবাহ সম্পাদনের অংশ হিসেবে দেনমোহর অবশ্যই সুনির্ধারিত হতে হবে। তবে তা পরিশোধের জন্য কোনো সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়নি। মিশরীয় ও অন্য কিছু অঞ্চলের প্রথা হলো যে, মুকাদ্দাম নামে এর একটি অংশ বিয়ের সময় প্রদান করতে হবে। আর বাকিটুকু কেবল মৃত্যু কিংবা বিবাহ বিচ্ছেদের সময় দিতে হবে। একে বলা হয় মু'আখার।
'উরফ-এর আরেকটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যেতে পারে বিভিন্ন অঞ্চলে ভাড়া দেওয়া-নেওয়া সংক্রান্ত বিচিত্র নিয়মনীতির মধ্যে। ইসলামি আইন অনুযায়ী বিক্রীত পণ্য সম্পূর্ণরূপে হস্তান্তরিত হওয়ার আগ পর্যন্ত মূল্য পরিশোধের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে এটি একটি প্রচলিত নিয়ম যে, ভাড়ার স্থান বা বস্তু নির্দিষ্ট সময় ধরে ব্যবহৃত হওয়ার আগেই ভাড়া পরিশোধ করা হয়। 'উরফ-এর আরেকটি উদাহরণ হলো, সিরিয়া অঞ্চলে দাব্বাহ শব্দের প্রচলিত অর্থ। সেখানে দাব্বাহ শব্দ দ্বারা ঘোড়াকে বোঝানো হয়। অথচ আরবিতে এর স্বাভাবিক অর্থ হলো যেকোনো চতুষ্পদ জন্তু। অতএব, সিরিয়াতে সম্পাদিত কোনো চুক্তিতে কোনো কিছু দাব্বাহ আকারে পরিশোধের শর্ত দেওয়া হলে তার সঠিক অর্থ হবে ঘোড়া। পক্ষান্তরে, আরব বিশ্বের অন্যত্র এটিকে অধিকতর স্পষ্টতার সাথে ঘোড়া হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে।
ইসতিহসান (আক্ষরিক অর্থ: প্রাধান্য) ইসতিহসান হলো পরিস্থিতির জন্য অধিকতর উপযোগী হওয়ার কারণে একটি প্রমাণকে আরেকটি প্রমাণের উপর প্রাধান্য দেওয়া। হতে পারে যে, প্রাধান্য দানকৃত প্রমাণটি তুলনামূলকভাবে দুর্বল। এটি হতে পারে একটি ‘আঁম বা সাধারণ হাদীসের উপর একটি খাঁস বা সুনির্দিষ্ট হাদীসকে প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যমে। কিংবা হতে পারে কিয়াসের মাধ্যমে গৃহীত আইনের উপর অধিকতর উপযোগী অন্য কোনো আইনকে প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যমে। কোনো পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয়সংক্রান্ত চুক্তির আলোচনায় ইসতিহসান নীতির অধিক প্রয়োগ দেখা যায়। নাবি ﷺ বলেছেন,
"কেউ যেন নিজ অধিকারে না আসা পর্যন্ত কোনো খাদ্যদ্রব্য বিক্রি না করে।" কিয়াস ও এই হাদীস অনুযায়ী উৎপাদনকারীর সাথে পণ্য ক্রয়ের সকল অগ্রিম চুক্তি অবৈধ। কারণ চুক্তির সময় এক্ষেত্রে পণ্যটির কোনো অস্তিত্ব নেই। তবে, লোকেরা এ ধরনের চুক্তি সার্বজনীনভাবে গ্রহণ করে নেওয়ায় এবং এ ধরনের চুক্তির প্রয়োজন সুস্পষ্ট হওয়ায় কিয়াসভিত্তিক সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করে ইসতিহসান নীতির ভিত্তিতে এগুলোকে বৈধ করা হয়েছে।
ইসতিসহাব (আক্ষরিক অর্থ: সংযোগ অনুসন্ধান) কোনো অবস্থাকে ইতিপূর্বে সংঘটিত কোনো অবস্থার সাথে সংযোগ করে ফিকহি আইন বের করে আনার প্রক্রিয়া। এ নীতির ভিত্তি হলো যে, বিশেষ অবস্থাতে প্রযোজ্য ফিকহি আইন ঠিক ততক্ষণ পর্যন্ত বৈধ থাকে যতক্ষণ না নিশ্চিতভাবে জানা যাবে যে, সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কারও দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে তার জীবিত থাকা কিংবা মৃত্যুবরণ করার বিষয়টি সংশয়পূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে সে এখনো জীবিত থাকলে যেসব নীতি প্রযোজ্য হতো ইসতিসহাব নীতির ভিত্তিতে সেসবই বলবৎ থাকবে।
ইসতিসলাহ্ (আক্ষরিক অর্থ: কল্যাণ অনুসন্ধান)
ইমাম আবু হানীফাহ্ উদ্ভাবিত ইসতিহসান নীতি ইমাম মালিক ও তাঁর ছাত্রবৃন্দও আরও নিয়ন্ত্রিতভাবে ইসতিসলাহ্ নামে প্রয়োগ করেছেন। এর সরল অর্থ হলো, কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে অধিক উপযোগী কোনো পন্থা অবলম্বন করা। এতে এমন কিছু বিষয় আলোচিত হয় যা শারী'আহতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা না হলেও তার বৃহত্তর মানবকল্যাণ নীতির মধ্যে তা নিহিত রয়েছে।
খলীফা 'আলি-এর একটি সিদ্ধান্তে ইসতিসলাহ্-এর উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যায়। সিদ্ধান্তটি ছিল এই যে, সংঘবদ্ধ হত্যাকারী চক্রের প্রত্যেক সদস্যকেই হত্যার অপরাধে অভিযুক্ত করা হবে, যদিও প্রকৃত হত্যাকাণ্ডটি মাত্র একজন সংঘটিত করেছে। কিন্তু এক্ষেত্রে শারী'আহ আইনে কেবল প্রকৃত হত্যাকারীর কথাই বলা হয়েছে। আরেকটি উদাহরণ হলো, রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে ধনী মানুষের কাছ থেকে যাকাত ছাড়াও অন্যান্য কর আদায় করার ব্যাপারে একজন মুসলিম শাসকের অধিকার। অথচ শারী'আহতে কেবল যাকাতকে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিয়াসের মাধ্যমে উৎসারিত আইনের তুলনায় মানবকল্যাণের সাথে অধিক সংগতিপূর্ণ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও ইমাম মালিক ইসতিসলাহ নীতি প্রয়োগ করেছেন।

পরিশিষ্ট ক: 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন আয-যুবাইর
খলীফা ইয়াযীদ ইবন মু'আউইয়াহর শাসনামলের (৬০-৬৪ হিজরি; ৬৮০-৬৮৩ সাল) শেষ দিকে 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন আয-যুবাইরকে হিজায অঞ্চলের খলীফা ঘোষণা করা হয়। হিজাযের এ বিদ্রোহের কথা জানতে পেরে ইয়াযীদ তা দমন করার জন্য তার সেনাপতি মুসলিম ইবন 'উকবাহর নেতৃত্বে একদল সৈনিক প্রেরণ করেন। ৬৪ হিজরিতে (৬৮৩ সাল) খলীফার প্রেরিত সেই সেনাবাহিনী মাক্কা যাওয়ার পথে মাদীনায় ব্যাপক লুটতরাজ চালায়। তবে মাক্কা পৌঁছার পূর্বে তাদের বাহিনী প্রধান মারা যায় এবং হুসাইন ইবন নুমাইর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়।
এ সেনাবাহিনী পবিত্র মাক্কা নগরী অবরোধ করে ও শহরের চারপাশে পাহাড়ের উপর ভারী প্রস্তর নিক্ষেপক কামান স্থাপন করে। এমনকি বৃষ্টির মতো তাঁদের এ পাথর নিক্ষেপের কারণে কা'বার দেওয়ালের কিয়দংশ ভেঙে পড়ে এবং কা'বার কালো পাথরে (হাজ্ব আসওয়াদ) ফাটল ধরে। তবে অবরোধকালে ইয়াযীদের মৃত্যু হওয়ায় উমাইয়া সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তারপর উমাইয়া শাসনের বিরুদ্ধে ইব্‌ন আয-যুবাইরের বিদ্রোহে ইরাকিরাও একাত্মতা ঘোষণা করে। ইব্‌ন আয-যুবাইরের ভাই মুস'আবকে ইরাকের আমীর নিয়োগ করা হয়। তার অল্প কিছুদিন পর দক্ষিণ আরব, মিশর ও সিরিয়ার কিছু অংশও খলীফা ইব্‌ন আয-যুবাইরের সাথে যোগ দেয় এবং তার নেতৃত্বকে সুসংহত করার জন্য তাকে মাক্কা ছাড়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু ইব্‌ন আয-যুবাইর পবিত্র মাক্কা নগরী ত্যাগ করতে অনিচ্ছুক ছিলেন।
মারওয়ান ইবন আল-হাকাম (৬৪-৬৫ হিজরি; ৬৮৩-৬৮৫ সাল) উমাইয়া খিলাফাতের দায়িত্ব নেওয়ার পর দামাস্কাস ও সিরিয়াকে আবারও উমাইয়া শাসনের অধীনে নিয়ে আসে। মারওয়ানের পুত্র 'আবদুল-মালিকের (৬৫-৮৬ হিজরি; ৬৮৫-৭০৫ সাল) শাসনামলের প্রায় মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত হিজায ছিল খলীফা ইন্ন আয-যুবাইরের শাসনাধীন। পরিশেষে 'আবদুল-মালিক তার লৌহহস্ত সেনাপতি হাজ্জাজ ইবন ইউসুফের নেতৃত্বে একটি বিশাল সিরীয় সেনাবাহিনী প্রেরণ করে। তারা হিজাযের উপর সর্বশেষ আঘাত হানে।
৭২ হিজরির ১ জুল-কাদা (২৫ মার্চ ৬৯২ সাল) থেকে হাজ্জাজ সাড়ে ছয় মাসের জন্য মাক্কা অবরোধ করে রাখে। আবু বাক্রের কন্যা ও 'ইশাহ এর বোন আসমা ছিলেন ইন্ন আয-যুবাইরের মা। তার বীরোচিত উপদেশে উদ্বুদ্ধ হয়েই ইব্‌ন আয-যুবাইর শহীদ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বীর বিক্রমে লড়াই চালিয়ে যান। তার মস্তক বিচ্ছিন্ন করে দামাস্কাস পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং দেহটি প্রকাশ্য স্থানে কিছু সময় ঝুলিয়ে রাখার পর তার বৃদ্ধ মা'র নিকট হস্তান্তর করা হয়। ইব্‌ন আয-যুবাইরের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে প্রথম যুগের সর্বশেষ বীরপুরুষদের একজনের বিদায় ঘটে এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্ব উমাইয়াদের লৌহমুষ্টিতে আবদ্ধ হয়ে পড়ে।
পরিশিষ্ট খ: কিছু বিপথগামী উপদল
খাওয়ারিজ (একবচনে খারিজি; আক্ষরিক অর্থ বিচ্ছিন্নতাবাদী)। এরা ছিল মূলত খলীফা 'আলি ইবন আবি তালিবের সেনাবাহিনীরই একটি অংশ। ৩৭ হিজরিতে (৬৫৭ সাল) 'আলি ও মু'আঁউইয়াহ (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) ইন আবি সুফিয়ান এর মধ্যে সিফফীনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। খিলাফাহকে কেন্দ্র করে 'আলি ও মু'আউইয়াহর মধ্যকার ভুল বোঝাবোঝি এক পর্যায়ে যুদ্ধের রূপ নেয়। এই যুদ্ধের সময়ই এই ফিরকা 'আলির সেনাবাহিনী থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল। রক্তপাত বন্ধ করার লক্ষ্যে যখন দুপক্ষের মধ্যে সালিশ অনুষ্ঠিত হলো তখন 'আলি-এর অনুসারীদের একটি বিশাল অংশ প্রধানত তামীম গোত্রের লোকেরা সালিশের বিরোধিতা করে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন ওয়াহহ্ রাসিবীকে তাদের নেতা নির্বাচিত করে। তারা 'আলি ও মু'আউইয়াহ উভয়কে কাঁফির ঘোষণা করে। কারণ তাদের মতে, তারা উভয়ে ওয়াহয়ির আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত ফায়সালা বাদ দিয়ে মানবীয় সালিশের আশ্রয় নিয়েছেন। যারা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি মেনে নেয়নি এবং 'আলি ও মু'আউইয়াহর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেনি এমন প্রত্যেককে তারা কাফির আখ্যায়িত করেছে।
খাওয়ারিজদের মতে সকল বিচার ফয়সালা সরাসরি কুর'আঁন থেকে আসা উচিত। তারা তাদের এ অবস্থানের বিরোধিতাকারী যেকোনো মুসলিমের রক্তপাত ও তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করাকে বৈধ মনে করত। খাওয়ারিজরা অন্য মুসলিমকে বিয়ে করা ও তাদের থেকে উত্তরাধিকার লাভ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী যে ব্যক্তি ব্যভিচার, মিথ্যাচার, নেশাগ্রহণ ইত্যাদি কাবীরা গুনাহে লিপ্ত হয় সে একজন মুরতাদ (ধর্মত্যাগী)।
তাদের চরমপন্থী শাখা আজরাকীদের ধারণা অনুযায়ী, এভাবে যে একবার কাফির হয়েছে সে কখনো ঈমানে পুনঃপ্রবেশ করতে পারবে না; তাকে তার স্ত্রী ও সন্তানাদিসহ হত্যা করতে হবে। খলীফা 'আলি বাধ্য হয়ে তাদের শিবিরে আক্রমণ করেন ও তাদেরকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। ৩৭ হিজরির (৬৫৭ সাল) সে আক্রমণে ইন্ন ওয়াব ও তার অধিকাংশ অনুসারী নিহত হয়। এটি নাহরাওয়ানের যুদ্ধ নামে পরিচিত। তবে এ বিজয়ের বিনিময়ে 'আলি-কে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। বিদ্রোহ দমন হওয়া তো দূরের কথা, এর ফলে বরং পরের দুবছরে আরও বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহ দেখা দিয়েছিল। আব্দুর-রহমান ইবন মুলযিম নামক এক খারিজির ছুরিকাঘাতে 'আলি নিহত হন। মুলযিম ছিল এমন এক মহিলার স্বামী যার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য নাহরাওয়ানের যুদ্ধে নিহত হয়েছিল।
মু'তাযিলা একটি দার্শনিক মতবাদ, এটি সাধারণত যুক্তিবাদ নামে পরিচিত। হিজরি দ্বিতীয় শতকে ওয়াসিল ইবন 'আতা' ও 'আম্ম ইবন 'উবাইদ এ মতবাদটি প্রচার শুরু করেন। পরবর্তীকালে 'আব্বাসি শাসকরা এ দর্শন দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়ে পড়ে। এমনকি তৎকালীন সকল বিশেষজ্ঞকে এ মতবাদ মেনে চলতে বাধ্য করার লক্ষ্যে একটি সরকারি তদন্ত বাহিনী তৈরি করা হয়। অবশ্য খলীফা মুতাওয়াক্কিল (৫৭২-৫৮৮ হিজরি; ১১৭৭-১১৯২ সাল) মতবাদটি পরিত্যাগ করেন এবং এ তদন্ত প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেন। এদের উল্লেখযোগ্য বিচ্যুত আকীদাগুলো হলো: আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান, কুর'আঁন একটি সৃষ্ট বস্তু এবং তার অর্থগুলোই কেবল ঐশী, জান্নাতি লোকেরা আল্লাহকে দেখবে না, ঐশী হস্তক্ষেপ ছাড়াই মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা শক্তি রয়েছে এবং কাবীরা গুনাহ সম্পাদনকারী ব্যক্তি বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের মাঝামাঝি অবস্থানে চলে যায়।
শী'আহ (বাংলায় এদের শিয়া বলা হয়)। ইয়াযীদ ইবন মু'আউইয়াহর শাসনামলের শুরুতে চতুর্থ খলীফা 'আলি ইবন আবি তালিবের পুত্র হুসাইন তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। 'আলি ইবন আবি তালিবের ইরাকি অনুসারীরা তাকে ইরাকে এসে নেতৃত্ব দেওয়ার নিমন্ত্রণ জানায়। তবে পরবর্তীকালে তারা তাকে পরিত্যাগ করে এবং এর পরিণতিতে কারবালায় ইয়াযীদের সৈনিকদের হাতে (৬১ হিজরি; ৬৮০ সাল) তিনি শাহাদাত বরণ করেন। 'আলি-এর অনুসারীদের অনেকেই এই নিদারুণ মানসিক যন্ত্রণায় ইসলামের মূল স্রোত থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। 'আলি-এর প্রতি তাদের ভালোবাসা ও তাঁর বিরোধীদের প্রতি তাদের ঘৃণা প্রকাশে তারা মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তাদের ধারণা প্রথম তিন খলীফা আবু বাক্স, 'উমার ও 'উসমান, 'আলির কাছ থেকে ইমামের পদ ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। তাই তাদেরকে এরা প্রথমে জবরদখলকারী ও পরে কাফির বলে আখ্যায়িত করে। প্রথম তিন খলীফার খিলাফআহকে মেনে নেওয়ার কারণে নাবি-এর সকল সহাবিকে মুরতাদ ঘোষণা করা হয়। কেবল সালমান আল-ফারিসি, আবু জার আল-গিফারি ও মিকদাদ ইবন আল-আসওয়াদ কিন্দকে এ গুরুতর অভিযোগ থেকে ছাড় দেওয়া হয়। অবশ্য কিছু কিছু বর্ণনায় আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া যায়। কারণ তাদের ব্যাপারে ধারণা করা হয় যে, তারা নাবি-এর মৃত্যুর পর 'আলির খিলাফাহ লাভের অধিকারকে ব্যাপক সমর্থন দিয়েছিলেন। এ দাবির সমর্থনে কিছু জাল হাদীস উদ্ভাবন করা হয়েছে। এসব জাল হাদীসের ভিত্তিতে দাবি করা হয় যে, নাবি তাঁর সকল সহাবিদের কাছ থেকে এই মর্মে আনুগত্যের একটি শপথ পাঠ করিয়েছিলেন, নাবি -এর মৃত্যুর পর 'আলীই হবেন তাদের নেতা। তাদের ধারণা অনুযায়ী, ১০ম হিজরীর জুল-হিজ্জাহ মাসের ১৮ তারিখে বিদায় হাজ্জের পর মাক্কা থেকে মাদীনায় ফেরার পথে গাদীর খুম নামক স্থানে এ শপথ গ্রহণ করা হয়েছিল। তারা আরও দাবি করে যে, 'আলি ও নাবি কন্যা ফাতিমার বংশধরদের কয়েকজনই কেবল মুসলিম উম্মাহর ইমাম হওয়ার অধিকার রাখতেন। এমনকি তারা যাদেরকে ইমাম উপাধি দিয়েছে তাদের প্রতি তারা আল্লাহর কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্যও আরোপ করেছে। তাদেরকে আল্লাহর নবীদের চেয়েও উপরে স্থান দিয়েছে। এসব বিশ্বাসকে আঁয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি নিম্নোক্ত ভাষায় ব্যক্ত করেছেন:
"ইমামের রয়েছে একটি সম্মানিত অবস্থান, একটি সমুন্নত পদমর্যাদা এবং একটি সৃষ্টিশীল প্রতিনিধিত্ব বা খিলাফাহ। তার সার্বভৌমত্ব ও রাজত্বের সামনে মহাবিশ্বের সকল পরমাণু আনুগত্য করে। আর আমাদের (শী'আহ) মাযহাবের অন্যতম মৌলিক বিশ্বাস হলো, ইমামদের এমন একটি স্থান রয়েছে যেখানে কোনো নৈকট্যশীল ফেরেশতা কিংবা কোনো নবীও পৌঁছাতে পারেন না। অধিকন্তু আমাদের নিকট যেসব বর্ণনা ও হাদীস রয়েছে সেগুলোর ভিত্তিতে জানা যায় যে, এ পৃথিবী সৃষ্টি হওয়ার পূর্বে সর্বশ্রেষ্ঠ নাবি মুহাম্মাদ ও বারো জন ইমাম আলো আকারে বিদ্যমান ছিলেন। তাদের দিয়ে আল্লাহ পাক তাঁর সিংহাসন পরিবেষ্টিত করে রেখেছিলেন।"
তবে প্রত্যেক নতুন ইমামের পদবি অনুসারে তাদের মধ্যে নতুন শী'আহ উপদল সৃষ্টি হয়েছে। তারা নতুন ইমামের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এসব কারণে ঐতিহাসিকভাবেই শী'আহদের দলাদলির প্রবণতা অত্যন্ত বেশি। তারা বিচিত্র ধরনের বিশ্বাস লালন করত। উল্লেখ্য যে, ইসলামের মূল ধারা থেকে ছিটকে পড়া বিদ'আতি উপদলগুলোর অধিকাংশই কোনো না কোনো শী'আহ ফিরকা থেকে জন্ম নিয়েছে। দৃষ্টান্তস্বরূপ, মুহাম্মাদ ইবন নুসাইরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত নুসাইরি উপদলটি ২৪০ হিজরিতে (৮৫৫ সাল) দাবি করেছিল যে, 'আলি ছিলেন স্বয়ং আল্লাহর আত্মপ্রকাশ। মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল আদ-দুরযির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত উপদলটি দাবি করেছিল যে, মিশরের ফাতিমি শী'আহ খলীফা হাকিম বিআমরিল্লাহ (৩৫৫-৪১১ হিজরি; ৯৬৬-১০২১ সাল) ছিলেন মানবাকৃতিতে আল্লাহর সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ। আর নুবুওয়াতের দাবিদার 'আলি মুহাম্মাদ রিদা ও তার শিষ্য হুসাইন 'আলি (বাহাউল্লাহ) বাহাই নামের উপদলটি প্রতিষ্ঠা করে যে নিজেকে প্রতীক্ষিত ঈসা ও আল্লাহর বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দাবি করেছিল।
পরিশিষ্ট ৩: ফিক্হশাস্ত্রের কিছু পরিভাষা উরফ
কোনো বিশেষ এলাকা বা জনগোষ্ঠীর সাধারণ যেসব প্রথা বা ঐতিহ্য ইসলামি আইনে সন্নিবিষ্ট হয়েছে সেগুলোই 'উরফ। ইসলামি আইনের কোনো মৌলিক নীতির সাথে সাংঘর্ষিক না-হলে স্থানীয় প্রথা ইসলামি আইনের একটি দ্বিতীয় পর্যায়ের উৎস হিসেবে বিবেচ্য হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বিয়ের স্থানীয় প্রথা। ইসলামের বিধান অনুসারে, বিবাহ সম্পাদনের অংশ হিসেবে দেনমোহর অবশ্যই সুনির্ধারিত হতে হবে। তবে তা পরিশোধের জন্য কোনো সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়নি। মিশরীয় ও অন্য কিছু অঞ্চলের প্রথা হলো যে, মুকাদ্দাম নামে এর একটি অংশ বিয়ের সময় প্রদান করতে হবে। আর বাকিটুকু কেবল মৃত্যু কিংবা বিবাহ বিচ্ছেদের সময় দিতে হবে। একে বলা হয় মু'আখার।
'উরফ-এর আরেকটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যেতে পারে বিভিন্ন অঞ্চলে ভাড়া দেওয়া-নেওয়া সংক্রান্ত বিচিত্র নিয়মনীতির মধ্যে। ইসলামি আইন অনুযায়ী বিক্রীত পণ্য সম্পূর্ণরূপে হস্তান্তরিত হওয়ার আগ পর্যন্ত মূল্য পরিশোধের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে এটি একটি প্রচলিত নিয়ম যে, ভাড়ার স্থান বা বস্তু নির্দিষ্ট সময় ধরে ব্যবহৃত হওয়ার আগেই ভাড়া পরিশোধ করা হয়। 'উরফ-এর আরেকটি উদাহরণ হলো, সিরিয়া অঞ্চলে দাব্বাহ শব্দের প্রচলিত অর্থ। সেখানে দাব্বাহ শব্দ দ্বারা ঘোড়াকে বোঝানো হয়। অথচ আরবিতে এর স্বাভাবিক অর্থ হলো যেকোনো চতুষ্পদ জন্তু। অতএব, সিরিয়াতে সম্পাদিত কোনো চুক্তিতে কোনো কিছু দাব্বাহ আকারে পরিশোধের শর্ত দেওয়া হলে তার সঠিক অর্থ হবে ঘোড়া। পক্ষান্তরে, আরব বিশ্বের অন্যত্র এটিকে অধিকতর স্পষ্টতার সাথে ঘোড়া হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে।
ইসতিহসান (আক্ষরিক অর্থ: প্রাধান্য) ইসতিহসান হলো পরিস্থিতির জন্য অধিকতর উপযোগী হওয়ার কারণে একটি প্রমাণকে আরেকটি প্রমাণের উপর প্রাধান্য দেওয়া। হতে পারে যে, প্রাধান্য দানকৃত প্রমাণটি তুলনামূলকভাবে দুর্বল। এটি হতে পারে একটি ‘আঁম বা সাধারণ হাদীসের উপর একটি খাঁস বা সুনির্দিষ্ট হাদীসকে প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যমে। কিংবা হতে পারে কিয়াসের মাধ্যমে গৃহীত আইনের উপর অধিকতর উপযোগী অন্য কোনো আইনকে প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যমে। কোনো পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয়সংক্রান্ত চুক্তির আলোচনায় ইসতিহসান নীতির অধিক প্রয়োগ দেখা যায়। নাবি ﷺ বলেছেন,
"কেউ যেন নিজ অধিকারে না আসা পর্যন্ত কোনো খাদ্যদ্রব্য বিক্রি না করে।" কিয়াস ও এই হাদীস অনুযায়ী উৎপাদনকারীর সাথে পণ্য ক্রয়ের সকল অগ্রিম চুক্তি অবৈধ। কারণ চুক্তির সময় এক্ষেত্রে পণ্যটির কোনো অস্তিত্ব নেই। তবে, লোকেরা এ ধরনের চুক্তি সার্বজনীনভাবে গ্রহণ করে নেওয়ায় এবং এ ধরনের চুক্তির প্রয়োজন সুস্পষ্ট হওয়ায় কিয়াসভিত্তিক সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করে ইসতিহসান নীতির ভিত্তিতে এগুলোকে বৈধ করা হয়েছে।
ইসতিসহাব (আক্ষরিক অর্থ: সংযোগ অনুসন্ধান) কোনো অবস্থাকে ইতিপূর্বে সংঘটিত কোনো অবস্থার সাথে সংযোগ করে ফিকহি আইন বের করে আনার প্রক্রিয়া। এ নীতির ভিত্তি হলো যে, বিশেষ অবস্থাতে প্রযোজ্য ফিকহি আইন ঠিক ততক্ষণ পর্যন্ত বৈধ থাকে যতক্ষণ না নিশ্চিতভাবে জানা যাবে যে, সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কারও দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে তার জীবিত থাকা কিংবা মৃত্যুবরণ করার বিষয়টি সংশয়পূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে সে এখনো জীবিত থাকলে যেসব নীতি প্রযোজ্য হতো ইসতিসহাব নীতির ভিত্তিতে সেসবই বলবৎ থাকবে।
ইসতিসলাহ্ (আক্ষরিক অর্থ: কল্যাণ অনুসন্ধান)
ইমাম আবু হানীফাহ্ উদ্ভাবিত ইসতিহসান নীতি ইমাম মালিক ও তাঁর ছাত্রবৃন্দও আরও নিয়ন্ত্রিতভাবে ইসতিসলাহ্ নামে প্রয়োগ করেছেন। এর সরল অর্থ হলো, কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে অধিক উপযোগী কোনো পন্থা অবলম্বন করা। এতে এমন কিছু বিষয় আলোচিত হয় যা শারী'আহতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা না হলেও তার বৃহত্তর মানবকল্যাণ নীতির মধ্যে তা নিহিত রয়েছে।
খলীফা 'আলি-এর একটি সিদ্ধান্তে ইসতিসলাহ্-এর উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যায়। সিদ্ধান্তটি ছিল এই যে, সংঘবদ্ধ হত্যাকারী চক্রের প্রত্যেক সদস্যকেই হত্যার অপরাধে অভিযুক্ত করা হবে, যদিও প্রকৃত হত্যাকাণ্ডটি মাত্র একজন সংঘটিত করেছে। কিন্তু এক্ষেত্রে শারী'আহ আইনে কেবল প্রকৃত হত্যাকারীর কথাই বলা হয়েছে। আরেকটি উদাহরণ হলো, রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে ধনী মানুষের কাছ থেকে যাকাত ছাড়াও অন্যান্য কর আদায় করার ব্যাপারে একজন মুসলিম শাসকের অধিকার। অথচ শারী'আহতে কেবল যাকাতকে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিয়াসের মাধ্যমে উৎসারিত আইনের তুলনায় মানবকল্যাণের সাথে অধিক সংগতিপূর্ণ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও ইমাম মালিক ইসতিসলাহ নীতি প্রয়োগ করেছেন।

📘 মাযহাব অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ > 📄 শব্দ বিশ্লেষণ

📄 শব্দ বিশ্লেষণ


‘আক্বল عقل বহুবচনে ‘উকূল; আক্ষরিক অর্থ মন বা বুদ্ধিমত্তা। বুদ্ধি-বিবেক যাকে ভালো কিংবা মন্দ মনে করে তার ভিত্তিতে ইসলামি আইন নির্ধারণের প্রক্রিয়া।
‘আব্বাসি عباسی মুসলিম খলীফাদের দ্বিতীয় প্রধান রাজবংশ। এর সূচনা খলীফা আবু আল-‘আব্বাস সাফফাহ্ (১৩২-১৩৬ হিজরি; ৭৫০-৭৫৪ সাল) এর ক্ষমতারোহণের মাধ্যমে এবং পরিসমাপ্তি মঙ্গোলদের হাতে খলীফা আল-মুসতা‘সিমের (৬৩৯-৬৫৫ হিজরি; ১২৪২-১২৫৮ সাল) নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে।
‘উলামা’ علماء একবচনে ‘আলিম; আক্ষরিক অর্থ জ্ঞানী। তবে এ পরিভাষাটি দিয়ে সাধারণত ইসলামি বিশেষজ্ঞদের বোঝানো হয়।
উম্মাহ امة বহুবচনে উমাম; আক্ষরিক অর্থ জাতি। তবে এ পরিভাষাটি সাধারণত গোটা মুসলিম জাতিকে বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, যা কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা কিংবা কোনো বর্ণ বা ভাষার গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়।
আদীব أداب একবচনে আদাব; ইসলামি শিষ্টাচার।
উদু' وضوء পবিত্রতার একটি অবস্থা যা বিশেষ ধরনের কিছু ইবাদাতের পূর্বশর্ত। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কনুই পর্যন্ত হাত ও মুখমণ্ডল ধোয়া, মাথা মাসেহ করা এবং গোড়ালি পর্যন্ত উভয় পা ধোয়া।
উমাওয়ি أموي মুসলিম খলীফাদের প্রথম প্রধান রাজবংশ যার সূচনা খলীফা মু'আউইয়াহ (৪১ হিজরি; ৬৬১ সাল) ক্ষমতারোহণের মাধ্যমে এবং পরিসমাপ্তি খলীফা দ্বিতীয় মারওয়ানের (১২৬-১৩২ হিজরি; ৭৪৪-৭৫০ সাল) নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে।
আসার أثر বহুবচনে আঁসার; সহাবি ও তাঁদের ছাত্রদের বক্তব্য বা সিদ্ধান্ত।
আহলুর- রাই أهل আক্ষরিক অর্থ মতামতের জনগোষ্ঠী। প্রথম দিকের কিছু বিশেষজ্ঞকে এ উপাধি দেওয়া হয়েছিল। কারণ তাঁরা নাবি ﷺ-এর কথা ও কার্যাবলির ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে অধিক মাত্রায় যুক্তি ব্যবহার করতেন।
আহলুল- হাদীস أهل আক্ষরিক অর্থ হাদীসের অনুসারী। প্রথম দিকের الحديث সেসব বিশেষজ্ঞকে এ উপাধি দেওয়া হয়েছিল যারা মাত্রাতিরিক্ত যুক্তিপ্রদর্শন এড়িয়ে নাবি ﷺ-এর সুন্নাহর আক্ষরিক ব্যাখ্যার উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতেন। বর্তমান সময়ে ভারত ও পাকিস্তানে এটি একটি নেতিবাচক পরিভাষা হিসেবে মাযহাব বিরোধীদের জন্য ব্যবহার করা হয়।
ইজতিহাদ اجتهاد! বহুবচনে ইজতিহাদাত। ব্যাপক গবেষণার মাধ্যমে ইসলামি আইন বের করার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রক্রিয়া।
ইজমা' إجماع ইসলামি আইনের কোনো বিষয়ে সহাবি কিংবা মুসলিম বিশেষজ্ঞদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত।
ইত্তিবা' إتباع গোঁড়ামি ছেড়ে জ্ঞান ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে মাযহাবের অনুসরণ।
ইমাম إمام! বহুবচনে আ'ইম্মাহ। আক্ষরিক অর্থ নেতা, তবে ইসলামি পরিভাষায় এ শব্দটি দ্বারা শাসক বা জাম্'আহ সলীতে নেতৃত্ব দানকারী কিংবা অসাধারণ ইসলামি জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তিকে বোঝানো হয়।
ঈমান إيمان আক্ষরিক অর্থ বিশ্বাস; ইসলামের সঠিক বিশ্বাস।
উসুল أصول একবচনে আসুল; যেকোনো জ্ঞানের মৌলিক নীতিমালা। যেমন, উসুল আল-ফিক্হ পরিভাষাটি দ্বারা কুর'আন, সুন্নাহ, ইজমা' ও কিয়াস নামক ইসলামি আইনের উৎসগুলোকে বোঝায়।
কাদি قاضي বহুবচনে কুদাঁত; বিচারক।
কায্যাব كذاب আক্ষরিক অর্থ চরম মিথ্যুক; হাদীসশাস্ত্রে এ নামটি হাদীসের এমন বর্ণনাকারীকে দেওয়া হয় যার মিথ্যা কথা বলার অভ্যাস জানা।
কিয়াস قیاس যৌক্তিক পদ্ধতিতে ইসলামি আইন উৎসারণ। সাদৃশ্যপূর্ণ পরিস্থিতির ভিত্তিতে পূর্বের আইন থেকে নতুন আইন বের করে আনা হয়।
কুর' قرء বহুবচনে কুরু'; মহিলাদের ঋতুস্রাব অথবা দুই ঋতুস্রাবের মধ্যবর্তী পবিত্রতার সময়।
খামর خمر আক্ষরিক অর্থ আঙুরের গাজানো রস। ইসলামি আইনে এ পরিভাষাটি দ্বারা সব ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্যকে বোঝানো হয়।
খলীফা خليفة বহুবচনে খুলাফা'; আক্ষরিক অর্থ উত্তরাধিকারী। নাবি ﷺ-এর ইন্তেকালের পর আবু বাক্স ছিলেন প্রথম খলীফা। পরবর্তী সময়ে এটি সকল মুসলিম শাসকদের উপাধিতে পরিণত হয়।
জানীবাহ جنابة দৈহিক মিলন কিংবা স্বপ্নদোষের ফলে অপবিত্রতা।
জাম্'আ جمع হাদীস শাস্ত্রে দুটি আপাত সংঘাতপূর্ণ হাদীসের অর্থসমূহ এমনভাবে সমন্বয় করা যাতে একটি অপরটির বিস্তৃত ব্যাখ্যা দান করে।
জিহাদ جهاد আক্ষরিক অর্থ সংগ্রাম; ইসলামকে ছড়িয়ে দেওয়ার শারীরিক, মনস্তাত্ত্বিক কিংবা আধ্যাত্মিক সংগ্রাম। তবে, ইসলামি পরিভাষায় কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।
জাহির ظاهر বহুবচনে জাওয়াহির। কুর'আন কিংবা হাদীসের পাঠের সুস্পষ্ট আক্ষরিক অর্থ।
যাকাত زكاة এক প্রকার বাধ্যতামূলক দান যা বছরে একবার প্রত্যেক মুসলিমের মৌলিক প্রয়োজন পূরণের পর উদ্বৃত্ত সম্পদ থেকে ইসলামি রাষ্ট্র আদায় করে। উক্ত সম্পদ কমপক্ষে একবছর তার অধিকারে থাকতে হবে এবং তার পরিমাণ সাড়ে ৫২ ভরি রূপার বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি হতে হবে।
তাওহীদ توحيد আল্লাহর একত্বের বিশুদ্ধ ধারণা। এটি কেবল ইসলামেই পাওয়া যায়, যেখানে আল্লাহকে তাঁর সত্তা, গুণ ও ক্ষমতার দিক দিয়ে অনন্যরূপে এক ও একক মনে করা হয়।
তাওয়াসসুল توسل আল্লাহর নিকট প্রার্থনার সময় কোনো মধ্যস্থতাকারীর হস্তক্ষেপ কামনা করা।
তাকওয়া تقوی আল্লাহ যা করার নির্দেশ দিয়েছেন তা করা ও যা নিষেধ করেছেন তা পরিহার করার মাধ্যমে তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা।
তাকলীদ تقليد কোনো বিশেষ মাযহাবের অন্ধ অনুসরণ।
তাফসীর تفسير কুর'আনের আয়াতের অর্থের ব্যাখ্যা।
তাবি 'ঊন تابعون একবচনে তাঁবি 'ই; আক্ষরিক অর্থ অনুসারী। যারা সাহাবীদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের তত্ত্বাবধানে অধ্যয়ন এবং মুসলিম হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন।
তারজীহ ترجيح অধিকতর নির্ভরযোগ্যতার কারণে হাদীসের একটি বর্ণনা অথবা বিশেষজ্ঞের কোনো একটি বক্তব্যকে একই বিষয়ের অন্য বর্ণনার উপর প্রাধান্য দেওয়া।
তলাক্ طلاق বিবাহ বিচ্ছেদ; ইসলামে দুধরনের তুলাক রয়েছে। তলাক রাজ 'ই, যেক্ষেত্রে স্ত্রীকে নতুন বিয়ে ছাড়াই আবার ফিরিয়ে আনা যায়। আর তলাক বাইন, যেক্ষেত্রে মহিলাটিকে ফিরিয়ে আনা যায় না, যতক্ষণ না সে অন্য কাউকে বিয়ে করে এবং পুনরায় তলাকপ্রাপ্তা হয়।
তাসহীহ تصحيح মাযহাবের বিশেষজ্ঞদের দেওয়া বক্তব্যের বিশুদ্ধতা যাচাই সাপেক্ষে শ্রেণিবিন্যাস করা কিংবা হাদীসের বিশুদ্ধতা যাচাই করা।
তাহাঁরাহ طهارة ইসলামি শারী'আহর নির্দেশনা অনুযায়ী অর্জিত পরিচ্ছন্নতা, যাতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়মে দেহ, বস্ত্র ও 'ইবাদাতের স্থানের পরিশুদ্ধি।
তায়াম্মুম تیمم পানি না পাওয়া কিংবা অসুস্থতার কারণে পানি ব্যবহারে অক্ষম হলে মাটি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন।
দু'আঁ' دعاء বহুবচনে আদ 'ইয়াহ। অনানুষ্ঠানিক প্রার্থনা, যার কোনো নির্দিষ্ট ধরন বা সময়সীমা নেই; আবেদন।
দ'ঈফ ضعیف আক্ষরিক অর্থ দুর্বল। হাদীস শাস্ত্রে এর অর্থ হলো এক বা একাধিক বর্ণনাকারীর ত্রুটি কিংবা বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ার কারণে কম নির্ভরযোগ্য হাদীস।
নাহ্ও نحو ব্যাকরণ।
ফাঁসিক্ فاسق যে মুসলিম ইচ্ছাকৃতভাবে এবং বারবার ইসলামি আইন লঙ্ঘন করে।
ফাতওয়া فتوی বহুবচনে ফাতাওয়া; দীনি গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে আইনি সিদ্ধান্ত।
ফিক্হ فقه শারী'আহ যথাযথ উপলব্ধি ও সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ; ইসলামি আইনতত্ত্ব।
ফুরু’ فروع একবচনে ফার'। প্রাথমিক মূলনীতিগুলো থেকে উৎসারিত ইসলামি আইনের দ্বিতীয় পর্যায়ের নীতিমালা।
বাই’ بيع ব্যবসায় চুক্তি।
বিদ'আহ بدعة দীনি 'ইবাদাহ বা আকীদাহতে নতুন সংযোজন।
মুকাদ্দাম مقدّم দেনমোহরের অংশবিশেষ যা বিভিন্ন দেশের স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী বিয়ের সময় কনেকে প্রদান করা হয়।
মাযহাব مذهب বহুবচনে মাযাহিব। আইনি কিংবা দার্শনিক মতবাদ।
মাশহুর مشهور আক্ষরিক অর্থ বিখ্যাত। হাদীস শাস্ত্রে এ পরিভাষাটি দ্বারা নাবি ﷺ-এর সেসব কথা ও কাজকে বুঝায় যা বিভিন্ন উৎস থেকে অসংখ্য লোক থেকে বর্ণিত হওয়ার সুবাদে সুপরিচিত।
মাসজিদ مسجد বহুবচনে মাসাজিদ; সলাত আদায়ের নির্ধারিত ঘর।
মুনাজারাত مناظرات একবচনে মুনাজারাহ; ইসলামের আইনি বিষয়ে বিভিন্ন মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যকার বিতর্ক।
মুফতি مفتي ইসলামের আইনের সিদ্ধান্ত প্রদানে সক্ষম বিশেষজ্ঞ।
মুরসাল مرسل সহাবিদের কোনো ছাত্র থেকে নাবি ﷺ-এর প্রতি আরোপিত হাদীস যেখানে বর্ণনাকারী সাহাবির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
মুস্তাহাব مستحب খুবই প্রশংসনীয় কাজ যা করা হলে পুরস্কার রয়েছে, কিন্তু না করলে কোনো শাস্তি নেই। সুন্নাহ নামেও পরিচিত।
মু'আখখার مُؤخر কোনো কোনো অঞ্চলের স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী দেনমোহরের যে অংশ স্বামীর মৃত্যু কিংবা বিবাহ বিচ্ছেদের সময় স্ত্রীকে প্রদান করা হয়।
শির্ক شرك আল্লাহর গুণাবলি কোনো সৃষ্টিকে দেওয়া কিংবা সৃষ্টির কোনো গুণাবলী আল্লাহকে দেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করা।
শূরা شوری পারস্পরিক পরামর্শ বা পরামর্শমূলক সংস্থা।
সওম صوم সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য, পানীয়, দৈহিক মিলন ও সমস্ত অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকা। একে সিয়ামও বলা হয়।
সুলাত / صلاة বহুবচনে সুলাওয়াত। দাঁড়ানো, রুকু', বসা ও صلاة সাজদাহ সংবলিত মুসলিমদের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ 'ইবাদাহ।
সাহাবাহ صحابة একবচনে সাহাবি। যিনি মুসলিম অবস্থায় নাবি ﷺ-কে দেখেছেন এবং মুসলিম হিসেবে ইন্তেকাল করেছেন; সহচর।
সহীহ صحيح আক্ষরিক অর্থ নির্ভুল। হাদীস শাস্ত্রে এ পরিভাষাটি দ্বারা এমন হাদীসকে বোঝানো হয়, যেখানে বর্ণনাকারীদের গ্রহণযোগ্য ধারাবাহিকতা রয়েছে; অর্থাৎ প্রত্যেক বর্ণনাকারী তার ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারীর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং যেখানে প্রত্যেক বর্ণনাকারীই ন্যায়পরায়ণ ও উত্তম স্মৃতিশক্তির অধিকারী হিসেবে পরিচিত।
সুজুদ سجود সলাতের সময় মাটিতে কপাল লাগানো।
সুন্নাহ سنة নাবি ﷺ-এর জীবন পদ্ধতি, অর্থাৎ তাঁর কথা, কাজ ও মৌনসম্মতি। হাদীসের বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণনায় নাবি ﷺ-এর সুন্নাহ পাওয়া যায়। প্রচলিত অর্থে সুন্নাহ শব্দটি ফার্দ (ফরজ) কিংবা ওয়াজিবের বাইরে পছন্দনীয় কোনো কাজকে বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়।
সুন্নি سني যে ব্যক্তি নাবি ﷺ-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে, অর্থাৎ ইসলামের যথাযথ কিংবা মূল স্রোতের অনুসারী। বিভিন্ন বিচ্যুত উপদল ও ইসলামের বিশুদ্ধ ধারার অনুসারীদের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য সাধারণত এ পরিভাষাটি ব্যবহৃত হয়। তবে ভারতীয় উপমহাদেশে সুন্নি নামধারী কিছু চরম বিদ'আতী ফিরকারও অস্তিত্ব দেখা যায়।
হাজ্জ حج নির্দিষ্ট 'ইবাদাহ পালনের লক্ষ্যে জুল-হিজ্জাহ মাসের ৮-১২/১৩ তারিখে মাক্কায় অবস্থিত কা'বাহর উদ্দেশ্যে গমন। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম সুস্থ দেহ ও মস্তিস্কের অধিকারী সব প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের উপর এটি একটি বাধ্যতামূলক দায়িত্ব।
হাদীস حديث বহুবচনে আহাদীস। নাবি ﷺ-এর কথা, কাজ বা মৌনসম্মতি।
হারাম حرام নিষিদ্ধ কর্ম ও বস্তুসমূহের আইনগত শ্রেণিভূক্তির নাম।
হালাল حلال অনুমোদিত শ্রেণিভুক্ত কাজকর্ম ও বস্তুসমূহের আইনগত নাম।
হিজায حجاز আরব উপদ্বীপের পশ্চিম উপকূল; মাক্কা ও মাদীনাহ শহর এর অন্তর্ভুক্ত।

‘আক্বল عقل বহুবচনে ‘উকূল; আক্ষরিক অর্থ মন বা বুদ্ধিমত্তা। বুদ্ধি-বিবেক যাকে ভালো কিংবা মন্দ মনে করে তার ভিত্তিতে ইসলামি আইন নির্ধারণের প্রক্রিয়া।
‘আব্বাসি عباسی মুসলিম খলীফাদের দ্বিতীয় প্রধান রাজবংশ। এর সূচনা খলীফা আবু আল-‘আব্বাস সাফফাহ্ (১৩২-১৩৬ হিজরি; ৭৫০-৭৫৪ সাল) এর ক্ষমতারোহণের মাধ্যমে এবং পরিসমাপ্তি মঙ্গোলদের হাতে খলীফা আল-মুসতা‘সিমের (৬৩৯-৬৫৫ হিজরি; ১২৪২-১২৫৮ সাল) নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে।
‘উলামা’ علماء একবচনে ‘আলিম; আক্ষরিক অর্থ জ্ঞানী। তবে এ পরিভাষাটি দিয়ে সাধারণত ইসলামি বিশেষজ্ঞদের বোঝানো হয়।
উম্মাহ امة বহুবচনে উমাম; আক্ষরিক অর্থ জাতি। তবে এ পরিভাষাটি সাধারণত গোটা মুসলিম জাতিকে বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, যা কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা কিংবা কোনো বর্ণ বা ভাষার গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়।
আদীব أداب একবচনে আদাব; ইসলামি শিষ্টাচার।
উদু' وضوء পবিত্রতার একটি অবস্থা যা বিশেষ ধরনের কিছু ইবাদাতের পূর্বশর্ত। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কনুই পর্যন্ত হাত ও মুখমণ্ডল ধোয়া, মাথা মাসেহ করা এবং গোড়ালি পর্যন্ত উভয় পা ধোয়া।
উমাওয়ি أموي মুসলিম খলীফাদের প্রথম প্রধান রাজবংশ যার সূচনা খলীফা মু'আউইয়াহ (৪১ হিজরি; ৬৬১ সাল) ক্ষমতারোহণের মাধ্যমে এবং পরিসমাপ্তি খলীফা দ্বিতীয় মারওয়ানের (১২৬-১৩২ হিজরি; ৭৪৪-৭৫০ সাল) নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে।
আসার أثر বহুবচনে আঁসার; সহাবি ও তাঁদের ছাত্রদের বক্তব্য বা সিদ্ধান্ত।
আহলুর- রাই أهل আক্ষরিক অর্থ মতামতের জনগোষ্ঠী। প্রথম দিকের কিছু বিশেষজ্ঞকে এ উপাধি দেওয়া হয়েছিল। কারণ তাঁরা নাবি ﷺ-এর কথা ও কার্যাবলির ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে অধিক মাত্রায় যুক্তি ব্যবহার করতেন।
আহলুল- হাদীস أهل আক্ষরিক অর্থ হাদীসের অনুসারী। প্রথম দিকের الحديث সেসব বিশেষজ্ঞকে এ উপাধি দেওয়া হয়েছিল যারা মাত্রাতিরিক্ত যুক্তিপ্রদর্শন এড়িয়ে নাবি ﷺ-এর সুন্নাহর আক্ষরিক ব্যাখ্যার উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতেন। বর্তমান সময়ে ভারত ও পাকিস্তানে এটি একটি নেতিবাচক পরিভাষা হিসেবে মাযহাব বিরোধীদের জন্য ব্যবহার করা হয়।
ইজতিহাদ اجتهاد! বহুবচনে ইজতিহাদাত। ব্যাপক গবেষণার মাধ্যমে ইসলামি আইন বের করার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রক্রিয়া।
ইজমা' إجماع ইসলামি আইনের কোনো বিষয়ে সহাবি কিংবা মুসলিম বিশেষজ্ঞদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত।
ইত্তিবা' إتباع গোঁড়ামি ছেড়ে জ্ঞান ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে মাযহাবের অনুসরণ।
ইমাম إمام! বহুবচনে আ'ইম্মাহ। আক্ষরিক অর্থ নেতা, তবে ইসলামি পরিভাষায় এ শব্দটি দ্বারা শাসক বা জাম্'আহ সলীতে নেতৃত্ব দানকারী কিংবা অসাধারণ ইসলামি জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তিকে বোঝানো হয়।
ঈমান إيمان আক্ষরিক অর্থ বিশ্বাস; ইসলামের সঠিক বিশ্বাস।
উসুল أصول একবচনে আসুল; যেকোনো জ্ঞানের মৌলিক নীতিমালা। যেমন, উসুল আল-ফিক্হ পরিভাষাটি দ্বারা কুর'আন, সুন্নাহ, ইজমা' ও কিয়াস নামক ইসলামি আইনের উৎসগুলোকে বোঝায়।
কাদি قاضي বহুবচনে কুদাঁত; বিচারক।
কায্যাব كذاب আক্ষরিক অর্থ চরম মিথ্যুক; হাদীসশাস্ত্রে এ নামটি হাদীসের এমন বর্ণনাকারীকে দেওয়া হয় যার মিথ্যা কথা বলার অভ্যাস জানা।
কিয়াস قیاس যৌক্তিক পদ্ধতিতে ইসলামি আইন উৎসারণ। সাদৃশ্যপূর্ণ পরিস্থিতির ভিত্তিতে পূর্বের আইন থেকে নতুন আইন বের করে আনা হয়।
কুর' قرء বহুবচনে কুরু'; মহিলাদের ঋতুস্রাব অথবা দুই ঋতুস্রাবের মধ্যবর্তী পবিত্রতার সময়।
খামর خمر আক্ষরিক অর্থ আঙুরের গাজানো রস। ইসলামি আইনে এ পরিভাষাটি দ্বারা সব ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্যকে বোঝানো হয়।
খলীফা خليفة বহুবচনে খুলাফা'; আক্ষরিক অর্থ উত্তরাধিকারী। নাবি ﷺ-এর ইন্তেকালের পর আবু বাক্স ছিলেন প্রথম খলীফা। পরবর্তী সময়ে এটি সকল মুসলিম শাসকদের উপাধিতে পরিণত হয়।
জানীবাহ جنابة দৈহিক মিলন কিংবা স্বপ্নদোষের ফলে অপবিত্রতা।
জাম্'আ جمع হাদীস শাস্ত্রে দুটি আপাত সংঘাতপূর্ণ হাদীসের অর্থসমূহ এমনভাবে সমন্বয় করা যাতে একটি অপরটির বিস্তৃত ব্যাখ্যা দান করে।
জিহাদ جهاد আক্ষরিক অর্থ সংগ্রাম; ইসলামকে ছড়িয়ে দেওয়ার শারীরিক, মনস্তাত্ত্বিক কিংবা আধ্যাত্মিক সংগ্রাম। তবে, ইসলামি পরিভাষায় কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।
জাহির ظاهر বহুবচনে জাওয়াহির। কুর'আন কিংবা হাদীসের পাঠের সুস্পষ্ট আক্ষরিক অর্থ।
যাকাত زكاة এক প্রকার বাধ্যতামূলক দান যা বছরে একবার প্রত্যেক মুসলিমের মৌলিক প্রয়োজন পূরণের পর উদ্বৃত্ত সম্পদ থেকে ইসলামি রাষ্ট্র আদায় করে। উক্ত সম্পদ কমপক্ষে একবছর তার অধিকারে থাকতে হবে এবং তার পরিমাণ সাড়ে ৫২ ভরি রূপার বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি হতে হবে।
তাওহীদ توحيد আল্লাহর একত্বের বিশুদ্ধ ধারণা। এটি কেবল ইসলামেই পাওয়া যায়, যেখানে আল্লাহকে তাঁর সত্তা, গুণ ও ক্ষমতার দিক দিয়ে অনন্যরূপে এক ও একক মনে করা হয়।
তাওয়াসসুল توسل আল্লাহর নিকট প্রার্থনার সময় কোনো মধ্যস্থতাকারীর হস্তক্ষেপ কামনা করা।
তাকওয়া تقوی আল্লাহ যা করার নির্দেশ দিয়েছেন তা করা ও যা নিষেধ করেছেন তা পরিহার করার মাধ্যমে তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা।
তাকলীদ تقليد কোনো বিশেষ মাযহাবের অন্ধ অনুসরণ।
তাফসীর تفسير কুর'আনের আয়াতের অর্থের ব্যাখ্যা।
তাবি 'ঊন تابعون একবচনে তাঁবি 'ই; আক্ষরিক অর্থ অনুসারী। যারা সাহাবীদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের তত্ত্বাবধানে অধ্যয়ন এবং মুসলিম হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন।
তারজীহ ترجيح অধিকতর নির্ভরযোগ্যতার কারণে হাদীসের একটি বর্ণনা অথবা বিশেষজ্ঞের কোনো একটি বক্তব্যকে একই বিষয়ের অন্য বর্ণনার উপর প্রাধান্য দেওয়া।
তলাক্ طلاق বিবাহ বিচ্ছেদ; ইসলামে দুধরনের তুলাক রয়েছে। তলাক রাজ 'ই, যেক্ষেত্রে স্ত্রীকে নতুন বিয়ে ছাড়াই আবার ফিরিয়ে আনা যায়। আর তলাক বাইন, যেক্ষেত্রে মহিলাটিকে ফিরিয়ে আনা যায় না, যতক্ষণ না সে অন্য কাউকে বিয়ে করে এবং পুনরায় তলাকপ্রাপ্তা হয়।
তাসহীহ تصحيح মাযহাবের বিশেষজ্ঞদের দেওয়া বক্তব্যের বিশুদ্ধতা যাচাই সাপেক্ষে শ্রেণিবিন্যাস করা কিংবা হাদীসের বিশুদ্ধতা যাচাই করা।
তাহাঁরাহ طهارة ইসলামি শারী'আহর নির্দেশনা অনুযায়ী অর্জিত পরিচ্ছন্নতা, যাতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়মে দেহ, বস্ত্র ও 'ইবাদাতের স্থানের পরিশুদ্ধি।
তায়াম্মুম تیمم পানি না পাওয়া কিংবা অসুস্থতার কারণে পানি ব্যবহারে অক্ষম হলে মাটি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন।
দু'আঁ' دعاء বহুবচনে আদ 'ইয়াহ। অনানুষ্ঠানিক প্রার্থনা, যার কোনো নির্দিষ্ট ধরন বা সময়সীমা নেই; আবেদন।
দ'ঈফ ضعیف আক্ষরিক অর্থ দুর্বল। হাদীস শাস্ত্রে এর অর্থ হলো এক বা একাধিক বর্ণনাকারীর ত্রুটি কিংবা বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ার কারণে কম নির্ভরযোগ্য হাদীস।
নাহ্ও نحو ব্যাকরণ।
ফাঁসিক্ فاسق যে মুসলিম ইচ্ছাকৃতভাবে এবং বারবার ইসলামি আইন লঙ্ঘন করে।
ফাতওয়া فتوی বহুবচনে ফাতাওয়া; দীনি গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে আইনি সিদ্ধান্ত।
ফিক্হ فقه শারী'আহ যথাযথ উপলব্ধি ও সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ; ইসলামি আইনতত্ত্ব।
ফুরু’ فروع একবচনে ফার'। প্রাথমিক মূলনীতিগুলো থেকে উৎসারিত ইসলামি আইনের দ্বিতীয় পর্যায়ের নীতিমালা।
বাই’ بيع ব্যবসায় চুক্তি।
বিদ'আহ بدعة দীনি 'ইবাদাহ বা আকীদাহতে নতুন সংযোজন।
মুকাদ্দাম مقدّم দেনমোহরের অংশবিশেষ যা বিভিন্ন দেশের স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী বিয়ের সময় কনেকে প্রদান করা হয়।
মাযহাব مذهب বহুবচনে মাযাহিব। আইনি কিংবা দার্শনিক মতবাদ।
মাশহুর مشهور আক্ষরিক অর্থ বিখ্যাত। হাদীস শাস্ত্রে এ পরিভাষাটি দ্বারা নাবি ﷺ-এর সেসব কথা ও কাজকে বুঝায় যা বিভিন্ন উৎস থেকে অসংখ্য লোক থেকে বর্ণিত হওয়ার সুবাদে সুপরিচিত।
মাসজিদ مسجد বহুবচনে মাসাজিদ; সলাত আদায়ের নির্ধারিত ঘর।
মুনাজারাত مناظرات একবচনে মুনাজারাহ; ইসলামের আইনি বিষয়ে বিভিন্ন মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যকার বিতর্ক।
মুফতি مفتي ইসলামের আইনের সিদ্ধান্ত প্রদানে সক্ষম বিশেষজ্ঞ।
মুরসাল مرسل সহাবিদের কোনো ছাত্র থেকে নাবি ﷺ-এর প্রতি আরোপিত হাদীস যেখানে বর্ণনাকারী সাহাবির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
মুস্তাহাব مستحب খুবই প্রশংসনীয় কাজ যা করা হলে পুরস্কার রয়েছে, কিন্তু না করলে কোনো শাস্তি নেই। সুন্নাহ নামেও পরিচিত।
মু'আখখার مُؤخر কোনো কোনো অঞ্চলের স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী দেনমোহরের যে অংশ স্বামীর মৃত্যু কিংবা বিবাহ বিচ্ছেদের সময় স্ত্রীকে প্রদান করা হয়।
শির্ক شرك আল্লাহর গুণাবলি কোনো সৃষ্টিকে দেওয়া কিংবা সৃষ্টির কোনো গুণাবলী আল্লাহকে দেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করা।
শূরা شوری পারস্পরিক পরামর্শ বা পরামর্শমূলক সংস্থা।
সওম صوم সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য, পানীয়, দৈহিক মিলন ও সমস্ত অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকা। একে সিয়ামও বলা হয়।
সুলাত / صلاة বহুবচনে সুলাওয়াত। দাঁড়ানো, রুকু', বসা ও صلاة সাজদাহ সংবলিত মুসলিমদের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ 'ইবাদাহ।
সাহাবাহ صحابة একবচনে সাহাবি। যিনি মুসলিম অবস্থায় নাবি ﷺ-কে দেখেছেন এবং মুসলিম হিসেবে ইন্তেকাল করেছেন; সহচর।
সহীহ صحيح আক্ষরিক অর্থ নির্ভুল। হাদীস শাস্ত্রে এ পরিভাষাটি দ্বারা এমন হাদীসকে বোঝানো হয়, যেখানে বর্ণনাকারীদের গ্রহণযোগ্য ধারাবাহিকতা রয়েছে; অর্থাৎ প্রত্যেক বর্ণনাকারী তার ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারীর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং যেখানে প্রত্যেক বর্ণনাকারীই ন্যায়পরায়ণ ও উত্তম স্মৃতিশক্তির অধিকারী হিসেবে পরিচিত।
সুজুদ سجود সলাতের সময় মাটিতে কপাল লাগানো।
সুন্নাহ سنة নাবি ﷺ-এর জীবন পদ্ধতি, অর্থাৎ তাঁর কথা, কাজ ও মৌনসম্মতি। হাদীসের বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণনায় নাবি ﷺ-এর সুন্নাহ পাওয়া যায়। প্রচলিত অর্থে সুন্নাহ শব্দটি ফার্দ (ফরজ) কিংবা ওয়াজিবের বাইরে পছন্দনীয় কোনো কাজকে বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়।
সুন্নি سني যে ব্যক্তি নাবি ﷺ-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে, অর্থাৎ ইসলামের যথাযথ কিংবা মূল স্রোতের অনুসারী। বিভিন্ন বিচ্যুত উপদল ও ইসলামের বিশুদ্ধ ধারার অনুসারীদের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য সাধারণত এ পরিভাষাটি ব্যবহৃত হয়। তবে ভারতীয় উপমহাদেশে সুন্নি নামধারী কিছু চরম বিদ'আতী ফিরকারও অস্তিত্ব দেখা যায়।
হাজ্জ حج নির্দিষ্ট 'ইবাদাহ পালনের লক্ষ্যে জুল-হিজ্জাহ মাসের ৮-১২/১৩ তারিখে মাক্কায় অবস্থিত কা'বাহর উদ্দেশ্যে গমন। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম সুস্থ দেহ ও মস্তিস্কের অধিকারী সব প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের উপর এটি একটি বাধ্যতামূলক দায়িত্ব।
হাদীস حديث বহুবচনে আহাদীস। নাবি ﷺ-এর কথা, কাজ বা মৌনসম্মতি।
হারাম حرام নিষিদ্ধ কর্ম ও বস্তুসমূহের আইনগত শ্রেণিভূক্তির নাম।
হালাল حلال অনুমোদিত শ্রেণিভুক্ত কাজকর্ম ও বস্তুসমূহের আইনগত নাম।
হিজায حجاز আরব উপদ্বীপের পশ্চিম উপকূল; মাক্কা ও মাদীনাহ শহর এর অন্তর্ভুক্ত।

📘 মাযহাব অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ > 📄 গ্রন্থপঞ্জি

📄 গ্রন্থপঞ্জি


আয-যাহাবি, মুহাম্মাদ হুসাইন, আশ-শারী'আহ আল-ইসলামিয়্যাহ, (মিশর: দাঁর আল- কুতুব আল- হাদীসাহ, ২য় সংস্করণ, ১৯৬৮)।
আত-তুর্কি, 'আব্দুল্লাহ 'আব্দুল-মুহসিন, আসবাব ইখতিলাফ আল-ফুকাহা, (রিয়াদ: আস সা'দাহ, ১ম সংস্করণ, ১৯৭৪)।
আদ-দালাউই, ওয়ালীউল্লাহ, আল-ইনসাফ ফী বায়ান আসবাব আল-ইখতিলাফ, (বৈরুত: দাঁর আন- নাফা'ইস, ২য় সংস্করণ, ১৯৭৮)।
আন-নাওয়াউই, ইয়াহইয়া ইব্‌ন শারাফ আদ-দীন, আল মাজমু' শারহ আল-মুহাজ্জাব, (কায়রো: ইদারাহ আত-তাবা'আহ আল-মুনীরিয়্যাহ, ১৯২৫)।
আবু যাহরাহ, মুহাম্মাদ, তারীখ আল-মাযাহিব আল-ইসলামিয়্যাহ, (কায়রো: দাঁর আল-ফিক্স আল- 'আরাবি)।
আল-আ'জামি, মুস্তাফা, সাহীহ্ ইবন খুযাইমাহ, (বৈরুত: আল-মাকতাব আল-ইসলামিয়্যাহ, প্রথম সংস্করণ, ১৯৭৮)
আল-আলবানি, মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন, দা'ঈফ আল-জামি'ই আস-সাগীর, (বৈরুত: আল-মাকতাব আল-ইসলামিয়্যাহ, ১৯৭৯)
-, ইরওয়া আল-গালীল, (বৈরুত: আল-মাকতাব আল-ইসলামি, ১ম সংস্করণ, ১৯৭৯)
-, সাহীহ সুনানি আবি দাউদ, (বৈরুত: আল-মাকতাব আল-ইসলামি, ১ম সংস্করণ, ১৯৮৮)
-, সিফাহ সলাত আন-নাবি, (বৈরুত: আল-মাকতাব আল-ইসলামি, ৯ম সংস্করণ, ১৯৭২)
--, সিলসিলাহ আহাদীস আদ-দা'ঈফাহ ওয়াল-মাওদু'আহ, (বৈরুত: আল-মাকতাব আল- ইসলামি, ৩য় সংস্করণ, ১৯৭২)
আল-কাততাঁন, মান্না', মাবাহিস ফী 'উলূম আল-কুর'আন, (রিয়াদ: মাকতাব আল-মা'আরিফ, ৮ম সংস্করণ, ১৯৮১)।
--, আত-তাশরী' ওয়াল ফিক্হ ফী আল-ইসলাম, (মিশর: মাকতাব ওয়াহবাহ, মাতবা'আহ তাকদ্দাম, প্রথম সংস্করণ, ১৯৭৬)।
আল-খাতীব আল-বাগদাদী, আহমাদ ইবন 'আলি, আল-কিফায়াহ ফী 'ইল আর-রিওয়ায়াহ, (কায়রো: দাঁর আল- কুতুব আল-হাদীসাহ, ২য় সংস্করণ, ১৯৭২)।
আল-জাবুরী, 'আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ, ফিক্হ আল-ইমাম আল-আওযা'ঈ, (বাগদাদ, ইরাক: মাতবা'আতুল ইরশাদ, ১৯৭৭)।
আল-ফুলানী, সালিহ ইবন মুহাম্মাদ, ঈকাজ হিমাম উলিল-আবসার লিল-ইকতিদা বি সায়্যিদি আল- মুহাজিরিন ওয়াল-আনসার, (কায়রো: আল মুনীরিয়‍্যাহ প্রেস, ১৯৩৫)।
আশ-শাক'আহ, মুসতাফা, আল-আ'ইম্মাহ আল-আরবা'আহ, (কায়রো: দাঁর আল-কিতাব আল- মিসরী, ১ম সংস্করণ, ১৯৭৯)।
--, আল-ফাওয়া'ইদ আল-মাজমু'আহ, (বৈরুত: আল-মাকতাব আল-ইসলামি, ২য় সংস্করণ, ১৯৭২)।
আশ-শাওকানি, মুহাম্মাদ ইবন 'আলি, নাইল আল-আওতাঁর, (মিশর: আল হালাবী প্রেস, ১ম সংস্করণ)। ইবন 'আবিদীন, মুহাম্মাদ ফাহীম, হাশিয়াহ ইবন 'আবিদীন, (কায়রো: আল মুনীরিয়‍্যাহ প্রেস, ১৮৩৩- ১৯০০)।
ইবন 'আবদিল-বার, ইউসুফ ইবন 'উমার, জামি' বায়ান আল-'ইলম, (কায়রো: আল মুনীরিয়‍্যাহ প্রেস, ১৯২৭)।
--, আল ইস্তিকা ফী ফাদাইলিস সলাসাতিল আয়িম্মাতিল ফুকাহা, (কায়রো: মাকতাবুল কুদসী, ১৯৩১)।
ইবন 'আসাকির, 'আলি ইবন আল-হারান, তারীখ দিমিল্ক আল-কাবীর, (দামেশক: রওদাতুশ শাম, ১৯১১-১৯৩২)।
ইবন আবি 'ইয্য, শারহ আল-'আকীদাহ আত-তাহউিইয়্যাহ, (বৈরুত: আল-মাকতাব আল-ইসলামি, ১ম সংস্করণ, ১৯৭২)।
ইবন আবি হাতিম, 'আবদুর-রাহমান ইবন মুহাম্মাদ, আল-জারহ ওয়াত-তা'দীল, (হায়দ্রাবাদ, ভারত: মাজলিসু দাইরাহ মা'আরিফি আল-উসমানিয়্যাহ: ১৯৫২)।
ইবন আল-কায়্যিম, মুহাম্মাদ ইবন আবি বাক্স, ই'লাম আল-মুকি 'ঈন, (মিশর: আল-হাজ্জ 'আবদুস- সালাম প্রেস, ১৯৮৮)।
ইবন আল-জাওযি, 'আব্দুর-রাহমান ইবন আল-জাওযী, মানাকিব আল-ইমাম আহমাদ ইবন হানবাল, (বৈরুত: দাঁর আল-আফাক আল-জাদীদাহ, ২য় মুদ্রণ, ১৯৭৭)।
ইবন ইরাক, 'আলি, তানযীহ আশ-শারী'আহ আল-মারফু 'আহ, (বৈরুত, আল কুতুবুল ইলমিয়্যাহ, ১৯৭৯)।
ইবন তাইমিয়্যাহ, আহমাদ ইবন 'আব্দুল-হালীম, রাফ'উল-মালাম 'আন-আল আ'ইম্মাহ আল- আ'লাম, (বৈরুত: আল-মাকতাব আল-ইসলামিয়্যাহ, ৩য় সংস্করণ, ১৯৭০)।
ইব্‌ন মু'ঈন, ইয়াহ্ইয়া, আত-তারীখ, (মাক্কাহ: কিং 'আবদুল-আযীয ইউনিভার্সিটি, ১৯৭৯)।
ইব্‌ন রুশদ, মুহাম্মাদ ইব্‌ন আহমাদ, বিদায়াহ আল-মুজতাহিদ ওয়া নিহায়াহ আল-মুক্‌তাসিদ, (মিশর: আল মাকতাবাহ আত-তিজারিয়‍্যাহ আল-কুবরা)।
কাদরী, আনওয়ার আহমাদ, ইসলামিক জুরিস্ফুডেন্স ইন দ্যা মডার্ন ওয়ার্ল্ড, (লাহোর, পাকিস্তান: আশরাফ, প্রথম সংস্করণ, ১৯৬৩)।
ক্রেমার্স, জে এইচ এন্ড বিল, এইচ এ আর, শর্টার এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম, (ইথাকা, নিউ ইয়র্ক: কর্নেল ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৫৩)।
খোমিনি, আয়াতুল্লাহ, আল হুকুমাহ আল-ইসলামিয়্যাহ, (তেহরান, ১৯৬৯), আরবি সংস্করণ।
বেক, মুহাম্মাদ আল-খিদারী, তারীখ আত-তাশরী' আল-ইসলামি, (কায়রো: আল মাকতাবাহ আত- তির্জারিয়‍্যাহ আল-কুবরা, ১৯৬০)।
মূসা, মুহাম্মাদ ইউসুফ, মুহাঁদারাঁত ফী তারিখ আল-ফিকহ আল-ইসলামি, (কায়রো: দাঁর আল-কুতুব আল-'আরাবি, ১৯৫৫)।
রাহীমুদ্দীন, মুহাম্মাদ, ট্র্যান্সলেশন অব আল-মুয়াত্তা' ইমাম মালিক, (নিউ দিল্লি: কিতাব ভবন, ১ম সংস্করণ, ১৯৮১)।
শালাবি, মুহাম্মাদ মুসতাফাঁ, উসুল আল-ফিক্হ আল-ইসলামি, (বৈরুত: লেবানন: দাঁর আন-নাহদাহ আল-'আরাবিয়্যাহ, ২য় সংস্করণ, ১৯৭৮)।
--, আল-মাদখাল ফী আত-তা'রীফি বিল-ফিক্হ আল-ইসলামي, (বৈরুত, দার আন-নাহদাহ আল-'আরাবিয়‍্যাহ, ১৯৬৯)।
শেরওয়ানি, মাওলানা মুহাম্মাদ মাসীহুল্লাহ খান, তাকলীদ এন্ড ইজতিহাদ, (পোর্ট এলিজাবেথ, দক্ষিণ আফ্রিকা: দ্যা মাজলিস, ১৯৮০)।
সাবিক্, আস-সায়্যিদ, ফিক্‌হ আস-সুন্নাহ, (বৈরুত: দাঁর আল-কিতাব আল-'আরাবি, ৩য় সংস্করণ, ১৯৭৭)।
স্ট্রযিযেওস্কা, বোযিনা গাজানি, তারীখ আত-তাশরী' আল-ইসলামি, (বৈরুত: লেবানন: দাঁর আল- আফাঁক আল-জাদীদাহ, ১ম সংস্করণ, ১৯৮০)।
হাসান, হাসান ইবরাহীম, ইসলাম: এ রিলিজিয়াস পলিটিকাল, স্যোশাল এন্ড ইকোনোমিক স্টাডি, (ইরাক: ইউনিভার্সিটি অব বাগদাদ প্রেস, ১৯৬৭)।

আয-যাহাবি, মুহাম্মাদ হুসাইন, আশ-শারী'আহ আল-ইসলামিয়্যাহ, (মিশর: দাঁর আল- কুতুব আল- হাদীসাহ, ২য় সংস্করণ, ১৯৬৮)।
আত-তুর্কি, 'আব্দুল্লাহ 'আব্দুল-মুহসিন, আসবাব ইখতিলাফ আল-ফুকাহা, (রিয়াদ: আস সা'দাহ, ১ম সংস্করণ, ১৯৭৪)।
আদ-দালাউই, ওয়ালীউল্লাহ, আল-ইনসাফ ফী বায়ান আসবাব আল-ইখতিলাফ, (বৈরুত: দাঁর আন- নাফা'ইস, ২য় সংস্করণ, ১৯৭৮)।
আন-নাওয়াউই, ইয়াহইয়া ইব্‌ন শারাফ আদ-দীন, আল মাজমু' শারহ আল-মুহাজ্জাব, (কায়রো: ইদারাহ আত-তাবা'আহ আল-মুনীরিয়্যাহ, ১৯২৫)।
আবু যাহরাহ, মুহাম্মাদ, তারীখ আল-মাযাহিব আল-ইসলামিয়্যাহ, (কায়রো: দাঁর আল-ফিক্স আল- 'আরাবি)।
আল-আ'জামি, মুস্তাফা, সাহীহ্ ইবন খুযাইমাহ, (বৈরুত: আল-মাকতাব আল-ইসলামিয়্যাহ, প্রথম সংস্করণ, ১৯৭৮)
আল-আলবানি, মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন, দা'ঈফ আল-জামি'ই আস-সাগীর, (বৈরুত: আল-মাকতাব আল-ইসলামিয়্যাহ, ১৯৭৯)
-, ইরওয়া আল-গালীল, (বৈরুত: আল-মাকতাব আল-ইসলামি, ১ম সংস্করণ, ১৯৭৯)
-, সাহীহ সুনানি আবি দাউদ, (বৈরুত: আল-মাকতাব আল-ইসলামি, ১ম সংস্করণ, ১৯৮৮)
-, সিফাহ সলাত আন-নাবি, (বৈরুত: আল-মাকতাব আল-ইসলামি, ৯ম সংস্করণ, ১৯৭২)
--, সিলসিলাহ আহাদীস আদ-দা'ঈফাহ ওয়াল-মাওদু'আহ, (বৈরুত: আল-মাকতাব আল- ইসলামি, ৩য় সংস্করণ, ১৯৭২)
আল-কাততাঁন, মান্না', মাবাহিস ফী 'উলূম আল-কুর'আন, (রিয়াদ: মাকতাব আল-মা'আরিফ, ৮ম সংস্করণ, ১৯৮১)।
--, আত-তাশরী' ওয়াল ফিক্হ ফী আল-ইসলাম, (মিশর: মাকতাব ওয়াহবাহ, মাতবা'আহ তাকদ্দাম, প্রথম সংস্করণ, ১৯৭৬)।
আল-খাতীব আল-বাগদাদী, আহমাদ ইবন 'আলি, আল-কিফায়াহ ফী 'ইল আর-রিওয়ায়াহ, (কায়রো: দাঁর আল- কুতুব আল-হাদীসাহ, ২য় সংস্করণ, ১৯৭২)।
আল-জাবুরী, 'আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ, ফিক্হ আল-ইমাম আল-আওযা'ঈ, (বাগদাদ, ইরাক: মাতবা'আতুল ইরশাদ, ১৯৭৭)।
আল-ফুলানী, সালিহ ইবন মুহাম্মাদ, ঈকাজ হিমাম উলিল-আবসার লিল-ইকতিদা বি সায়্যিদি আল- মুহাজিরিন ওয়াল-আনসার, (কায়রো: আল মুনীরিয়‍্যাহ প্রেস, ১৯৩৫)।
আশ-শাক'আহ, মুসতাফা, আল-আ'ইম্মাহ আল-আরবা'আহ, (কায়রো: দাঁর আল-কিতাব আল- মিসরী, ১ম সংস্করণ, ১৯৭৯)।
--, আল-ফাওয়া'ইদ আল-মাজমু'আহ, (বৈরুত: আল-মাকতাব আল-ইসলামি, ২য় সংস্করণ, ১৯৭২)।
আশ-শাওকানি, মুহাম্মাদ ইবন 'আলি, নাইল আল-আওতাঁর, (মিশর: আল হালাবী প্রেস, ১ম সংস্করণ)। ইবন 'আবিদীন, মুহাম্মাদ ফাহীম, হাশিয়াহ ইবন 'আবিদীন, (কায়রো: আল মুনীরিয়‍্যাহ প্রেস, ১৮৩৩- ১৯০০)।
ইবন 'আবদিল-বার, ইউসুফ ইবন 'উমার, জামি' বায়ান আল-'ইলম, (কায়রো: আল মুনীরিয়‍্যাহ প্রেস, ১৯২৭)।
--, আল ইস্তিকা ফী ফাদাইলিস সলাসাতিল আয়িম্মাতিল ফুকাহা, (কায়রো: মাকতাবুল কুদসী, ১৯৩১)।
ইবন 'আসাকির, 'আলি ইবন আল-হারান, তারীখ দিমিল্ক আল-কাবীর, (দামেশক: রওদাতুশ শাম, ১৯১১-১৯৩২)।
ইবন আবি 'ইয্য, শারহ আল-'আকীদাহ আত-তাহউিইয়্যাহ, (বৈরুত: আল-মাকতাব আল-ইসলামি, ১ম সংস্করণ, ১৯৭২)।
ইবন আবি হাতিম, 'আবদুর-রাহমান ইবন মুহাম্মাদ, আল-জারহ ওয়াত-তা'দীল, (হায়দ্রাবাদ, ভারত: মাজলিসু দাইরাহ মা'আরিফি আল-উসমানিয়্যাহ: ১৯৫২)।
ইবন আল-কায়্যিম, মুহাম্মাদ ইবন আবি বাক্স, ই'লাম আল-মুকি 'ঈন, (মিশর: আল-হাজ্জ 'আবদুস- সালাম প্রেস, ১৯৮৮)।
ইবন আল-জাওযি, 'আব্দুর-রাহমান ইবন আল-জাওযী, মানাকিব আল-ইমাম আহমাদ ইবন হানবাল, (বৈরুত: দাঁর আল-আফাক আল-জাদীদাহ, ২য় মুদ্রণ, ১৯৭৭)।
ইবন ইরাক, 'আলি, তানযীহ আশ-শারী'আহ আল-মারফু 'আহ, (বৈরুত, আল কুতুবুল ইলমিয়্যাহ, ১৯৭৯)।
ইবন তাইমিয়্যাহ, আহমাদ ইবন 'আব্দুল-হালীম, রাফ'উল-মালাম 'আন-আল আ'ইম্মাহ আল- আ'লাম, (বৈরুত: আল-মাকতাব আল-ইসলামিয়্যাহ, ৩য় সংস্করণ, ১৯৭০)।
ইব্‌ন মু'ঈন, ইয়াহ্ইয়া, আত-তারীখ, (মাক্কাহ: কিং 'আবদুল-আযীয ইউনিভার্সিটি, ১৯৭৯)।
ইব্‌ন রুশদ, মুহাম্মাদ ইব্‌ন আহমাদ, বিদায়াহ আল-মুজতাহিদ ওয়া নিহায়াহ আল-মুক্‌তাসিদ, (মিশর: আল মাকতাবাহ আত-তিজারিয়‍্যাহ আল-কুবরা)।
কাদরী, আনওয়ার আহমাদ, ইসলামিক জুরিস্ফুডেন্স ইন দ্যা মডার্ন ওয়ার্ল্ড, (লাহোর, পাকিস্তান: আশরাফ, প্রথম সংস্করণ, ১৯৬৩)।
ক্রেমার্স, জে এইচ এন্ড বিল, এইচ এ আর, শর্টার এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম, (ইথাকা, নিউ ইয়র্ক: কর্নেল ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৫৩)।
খোমিনি, আয়াতুল্লাহ, আল হুকুমাহ আল-ইসলামিয়্যাহ, (তেহরান, ১৯৬৯), আরবি সংস্করণ।
বেক, মুহাম্মাদ আল-খিদারী, তারীখ আত-তাশরী' আল-ইসলামি, (কায়রো: আল মাকতাবাহ আত- তির্জারিয়‍্যাহ আল-কুবরা, ১৯৬০)।
মূসা, মুহাম্মাদ ইউসুফ, মুহাঁদারাঁত ফী তারিখ আল-ফিকহ আল-ইসলামি, (কায়রো: দাঁর আল-কুতুব আল-'আরাবি, ১৯৫৫)।
রাহীমুদ্দীন, মুহাম্মাদ, ট্র্যান্সলেশন অব আল-মুয়াত্তা' ইমাম মালিক, (নিউ দিল্লি: কিতাব ভবন, ১ম সংস্করণ, ১৯৮১)।
শালাবি, মুহাম্মাদ মুসতাফাঁ, উসুল আল-ফিক্হ আল-ইসলামি, (বৈরুত: লেবানন: দাঁর আন-নাহদাহ আল-'আরাবিয়্যাহ, ২য় সংস্করণ, ১৯৭৮)।
--, আল-মাদখাল ফী আত-তা'রীফি বিল-ফিক্হ আল-ইসলামي, (বৈরুত, দার আন-নাহদাহ আল-'আরাবিয়‍্যাহ, ১৯৬৯)।
শেরওয়ানি, মাওলানা মুহাম্মাদ মাসীহুল্লাহ খান, তাকলীদ এন্ড ইজতিহাদ, (পোর্ট এলিজাবেথ, দক্ষিণ আফ্রিকা: দ্যা মাজলিস, ১৯৮০)।
সাবিক্, আস-সায়্যিদ, ফিক্‌হ আস-সুন্নাহ, (বৈরুত: দাঁর আল-কিতাব আল-'আরাবি, ৩য় সংস্করণ, ১৯৭৭)।
স্ট্রযিযেওস্কা, বোযিনা গাজানি, তারীখ আত-তাশরী' আল-ইসলামি, (বৈরুত: লেবানন: দাঁর আল- আফাঁক আল-জাদীদাহ, ১ম সংস্করণ, ১৯৮০)।
হাসান, হাসান ইবরাহীম, ইসলাম: এ রিলিজিয়াস পলিটিকাল, স্যোশাল এন্ড ইকোনোমিক স্টাডি, (ইরাক: ইউনিভার্সিটি অব বাগদাদ প্রেস, ১৯৬৭)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00