📘 মাযহাব অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ > 📄 সাহাবিদের মধ্যে মতপার্থক্য

📄 সাহাবিদের মধ্যে মতপার্থক্য


কুর'আনের এসব সুস্পষ্ট নিন্দাবাদ সত্ত্বেও নাবি -এর সহাবি ও ফিকহশাস্ত্রের প্রথম দিকের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সৃষ্ট মতপার্থক্যকে আমরা কীভাবে দেখব সেটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সহাবিগণের মধ্যে যেসব মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল তা ছিল অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ও অনিবার্য। মূলত তাঁদের ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিচার- বিশ্লেষণের পার্থক্যের কারণেই এমনটি হয়েছিল। এই বিষয়টি কুর'আনের বিভিন্ন আয়াত ও হাদীস প্রসঙ্গে তাঁদের দেওয়া ব্যাখ্যার মধ্যেও ফুটে উঠেছে। তাছাড়া যেসব কারণে তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলোই পরবর্তীকালে দূর হয়ে গিয়েছিল। দৃষ্টান্তস্বরূপ, হাদীসের ব্যাপক বিস্তৃতির কারণে কোনো একক সহাবির পক্ষে সব হাদীস জানা প্রায় একেবারেই অসম্ভব। এ কারণে তাঁরা হয়তো না জেনে কখনও কোনো ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। তবে বিশুদ্ধ তথ্য কিংবা অধিকতর প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য প্রমাণ তাঁদের সামনে উপস্থাপন করা হলে তাঁরা সাথে সাথে নিজেদের মত সংশোধন করে নিতেন। তাই এসব অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য তাঁদের দোষারোপ করা যাবে না। বস্তুত, ভুল সিদ্ধান্ত থেকে বেঁচে থাকা ও সত্য অনুসরণের এ সদিচ্ছাই তাঁদের পারস্পরিক যৌক্তিক ও স্বাভাবিক মতপার্থক্যকে ঘৃণ্য মতবিরোধিতা ও দলাদলি থেকে আলাদা করে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহর রসূল বলেছেন,
"যদি কোন বিচারক সর্বাত্মক চেষ্টা করে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত প্রদান করে, তাহলে সে পাবে দুটি পুরস্কার; তবে যদি চেষ্টা করার পর ভুল করে তবুও সে একটি পুরস্কার লাভ করবে।" (১২)
এ হাদীসের ভিত্তিতে সহাবিগণকে পরস্পরবিরোধী মতামত প্রদানের দোষ থেকে মুক্ত মনে করা হয়। তবে তাঁদের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মধ্যে আপাতদৃশ্য পার্থক্যগুলোকে সমর্থন করা ও চিরস্থায়ী রূপ দেওয়া মোটেই উচিত নয়। কারণ তাঁরা নিজেরাই মতপার্থক্যকে অপছন্দ করতেন। ইমাম শাফি'ই-র ছাত্র আল-মুযানি থেকে উদ্ধৃত নিম্নোক্ত বর্ণনায় এই বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। এক টুকরো কাপড় পরিধান করে সলাত আদায়ের ব্যাপারে সহাবি উবাই ইবন কা'ব এবং ইবন মাস'উদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়। উবাই মনে করেন, এটি করা বৈধ। অন্যদিকে ইবন মাস'উদ মনে করেন, কাপড়ের সংকট থাকলেই কেবল এটি করা যাবে। 'উমার ইবন আল-খাতাব তাদের এ মতপার্থক্য দেখে বেশ রেগে গেলেন। রাগান্বিতভাবে ঘর থেকে বেরিয়ে ঘোষণা করেলেন, "আল্লাহর রসূলের দুজন সহাবি মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে। অথচ তারা এমন সম্মানিত ব্যক্তি যাদেরকে সাধারণ মানুষ অনুসরণ করে। উবাইয়ের মত সঠিক, আর ইবন মাস'উদের নিবৃত্ত হওয়া উচিত! আমি যদি এরপর কাউকে এ বিষয়ে বিতর্ক করতে শুনি তাহলে আমি নিজেই তার মোকাবিলা করব।” (১৩)
প্রথম দিকের বিশেষজ্ঞগণ সহাবিগণের মতপার্থক্যের কারণ ও লোকদের মধ্যে সেগুলোকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার প্রবণতা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। তাঁরা সহাবিগণের মতপার্থক্য থেকে উদ্ভূত দলাদলি ও গোঁড়ামিকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁদের মতামতগুলোর অল্প কিছু নমুনা নিচে তুলে ধরা হলো।
ইমাম মালিকের অন্যতম প্রধান ছাত্র ইবন আল-কাসিম বলেন, "আমি ইমাম মালিক ও আল-লাইস উভয়কে সহাবিগণের মতপার্থক্যের ব্যাপারে নিম্নোক্ত মন্তব্য করতে শুনেছি: 'লোকেরা বলে, এই মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে তাঁদের জন্য যেকোনো মত বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু বিষয়টি একেবারেই তা নয়; বরং সিদ্ধান্তটি হয়তো সঠিক ছিল না হয় ভুল।” (১৪)
ইমাম মালিকের আর একজন ছাত্র আশহাব ইমাম মালিককে প্রশ্ন করেছিলেন, "নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকে শোনা সহাঁবিগণের যেকোনো মত অনুসরণ করা কি নিরাপদ? তিনি জবাব দিলেন, 'না, আল্লাহর কসম, সিদ্ধান্তটি সঠিক না হলে তা অনুসরণ করা নিরাপদ নয়। সত্য কেবল একটি। দুটি পরস্পরবিরোধী মতামত কি একই সময়ে সঠিক হতে পারে? সঠিক মত কেবল একটিই হতে পারে।” (১৫)
ইমাম শাফি'ই-র ছাত্র আল-মুযানি বলেছেন, "আল্লাহর রসূল-এর সহাবিগণের মাঝে বিভিন্ন সময়ে মতপার্থক্য হয়েছে এবং তাঁরা অনেক সময় একে অপরের মতকে ভুলও আখ্যায়িত করেছেন। তাঁদের একে অন্যের মতামত যাচাই করে দেখেছেন। তাঁরা যদি মনে করতেন যে, তাঁরা যা-ই বলেছেন তা সবই সঠিক তাহলে তাঁরা একে অপরের বক্তব্য পর্যালোচনা করতেন না কিংবা, একে অপরের মতকে ভুল বলেও আখ্যায়িত করতেন না।"
আল-মুযানি আরও বলেছেন, "অনেকে বলে, ইজতিহাদের ভিত্তিতে দুজন বিশেষজ্ঞের যদি একজন মত দেন এটি বৈধ, আর অপরজন মত দেন এটি অবৈধ—তাহলে তাঁরা উভয়ই সঠিক", যে ব্যক্তি এমন কথা বলে মতবিরোধকে প্রশ্রয় দেয় তাঁকে প্রশ্ন করা উচিত-"আপনি কি মৌলিক উৎস তথা কুর'আন-সুন্নাহর ভিত্তিতে এ রায় দিচ্ছেন নাকি কিয়াসের ভিত্তিতে?" যদি সে দাবি করে যে, এটি মৌলিক উৎসের ভিত্তিতে, তাহলে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা উচিত-"এটি কেমন করে মৌলিক উৎসের ভিত্তিতে হতে পারে যখন কুর'আন নিজেই মতবিরোধের নিন্দা করে?" যদি সে দাবি করে যে, এটি কিয়াসের ভিত্তিতে, তাহলে তাকে জিজ্ঞাসা করা উচিত-"মৌলিক উৎস যেখানে মতবিরোধকে প্রত্যাখ্যান করেছে সেক্ষেত্রে আপনি কীভাবে তা থেকেই এমন বিষয় অনুমোদনের ক্রিয়াস করেছেন?” বিশেষজ্ঞ তো দূরের কথা, কোনো সাধারণ ব্যক্তিও তা মেনে নেবে না।” (১৬)
যদিও সহাবিগণ কতিপয় মূলনীতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রদান করেছেন, কিন্তু নিজেদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখতে তাঁরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু, অন্ধভাবে মাযহাব আঁকড়ে থাকা পরবর্তীকালের 'আলিম ও অনুসারীদের মধ্যে সম্পূর্ণ বিপরীত বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। এমনকি, এক পর্যায়ে তাঁদের মতবিরোধ ইসলামের অন্যতম প্রধান ভিত্তি সলাতেও তাদেরকে বিভক্ত করে দিয়েছিল।
পরবর্তীকালে মাযহাবের অতি রক্ষণশীল বিশেষজ্ঞগণ তাঁদের মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে সীমার বাইরে চলে গিয়েছেন। তাঁরা এমন সিদ্ধান্তও প্রদান করেছেন যা ইসলামের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের একেবারে অন্তঃস্থলে আঘাত করেছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রথম দিকের ইমামদের মধ্যে কেবল ইমাম আবু হানীফাই মনে করতেন যে, ঈমান কমেও না বাড়েও না। কোনো ব্যক্তি হয় বিশ্বাসী নতুবা অবিশ্বাসী। (১৭) আবু হানীফাহর এ মতের ভিত্তিতে হানাফি মাযহাবের পরবর্তীকালের বিশেষজ্ঞগণ একটি সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন যে, যদি কোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করা হয়, "আপনি কি একজন বিশ্বাসী?" তাহলে তার জন্য এ উত্তর দেওয়া নিষিদ্ধ যে, "ইন শা'আল্লাহ, আমি একজন বিশ্বাসী", কারণ এতে প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত রয়েছে যে, সে তার ঈমানের অস্তিত্বের ব্যাপারে সন্দিহান। (১৮) অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের ইজমা' অনুযায়ী নিজের ঈমান সম্পর্কে সন্দেহ অবিশ্বাস করার (কুফ্র) সমতুল্য। অতএব, উত্তর দেওয়া উচিত, "আমি অবশ্যই একজন বিশ্বাসী" । (১৯) এ সিদ্ধান্তের প্রচ্ছন্ন অর্থ গ্রহণ করা হলো এই যে, অন্যান্য মাযহাবের অনুসারীবৃন্দ তাদের ঈমানের ব্যাপারে সন্দিহান; অর্থাৎ তারা কুফরে লিপ্ত। হানাফি মাযহাবের প্রথম দিকের কোনো বিশেষজ্ঞই এধরনের কথা কখনো বলেননি। কিন্তু এই মতের ভিত্তিতে পরবর্তীকালের কিছু 'আলিম সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, হানাফি মাযহাবের অনুসারীদের জন্য তৎকালীন দ্বিতীয় প্রধান মাযহাব তথা শাফি'ই মাযহাবের অনুসারীদের বিয়ে করা নিষেধ। হানাফি মাযহাবের পরবর্তী বিশেষজ্ঞগণ এ সিদ্ধান্তকে বাতিল করে দিয়েছেন। (২০) তবে তা দলাদলির এক বিভীষিকাময় ইতিহাস হিসেবে আজও রয়ে গেছে。

টিকাঃ
(১২) 'আবদুল্লাহ ইবন 'আম্র ইবন আল-'আঁস কর্তৃক বর্ণিত এ হাদীসটি সংগ্রহ করেছেন বুখারি, খন্ড ৪, পৃ. ৪৪২, হাদীস নং ৬৬৭ ও মুসলিম, খণ্ড ৩, পৃ. ৯৩০, হাদীস নং ৪২৬১।
(১৩) জামি' বায়ান আল-'ইল্ম, খন্ড ২, পৃ. ৮০-৮১।
(১৪) প্রাগুক্ত, খন্ড ২, পৃ. ৮১-৮২।
(১৫) প্রাগুক্ত, খন্ড ২, পৃ. ৮২, ৮৮, ৮৯।
(১৬) প্রাগুক্ত, পৃ. ৮৯।
(১৭) এ মতটি কুর'আন ও সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক। আল্লাহ সত্যিকারের বিশ্বাসীদের বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে, "লোকেরা বলল, তোমাদের বিরুদ্ধে বিরাট সেনা সমাবেশ ঘটেছে। তাদেরকে ভয় করো, তা শুনে তাদের ঈমান আরও বেড়ে গেলো এবং তারা বললো, আমাদের জন্য আল্লাহ যথেষ্ট এবং তিনিই সবচেয়ে উত্তম অভিভাবক।" (সূরা 'আলি 'ইমরান, ৩:১৭৩)। অন্যত্র আছে, "সত্যিকার বিশ্বাসী তো তারাই, আল্লাহকে স্মরণ করা হলে যাদের হৃদয় কেঁপে ওঠে। আর আল্লাহর আয়াত যখন তাদের সামনে পড়া হয়, তাদের বিশ্বাস বেড়ে যায় এবং তারা নিজেদের প্রভুর ওপর ভরসা করে।" (সূরা আল-আনফাল, ৮:২)। নাবি বলেছেন, "তোমাদের কেউ বিশ্বাসী হবে না যতক্ষণ না আমি তার নিকট তাঁর সন্তানাদি, পিতা ও সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হবো।" এখানে না-বোধক বক্তব্য দ্বারা ঈমানের পূর্ণতা লাভ না করা বোঝানো হচ্ছে, একেবারে ঈমানহীন হয়ে যাওয়া বোঝানো হয়নি; নতুবা আমাদের অধিকাংশকেই মু’মিন হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এ হাদীসটি ইমাম বুখারি ও মুসলিম সংগ্রহ করেছেন। বুখারি খন্ড ১, পৃ. ২০, হাদীস নং ১৪; মুসলিম, খন্ড ১, পৃ. ৩১, হাদীস নং ৭১।
(১৮) এ ধরনের যুক্তি হাদীসের সাথে সুস্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক। কেননা, 'আ'ইশাহ থেকে বর্ণিত যে, নাবি আমাদেরকে কবরস্থানে পাঠের জন্য নিম্নোক্ত দু'আ শিখিয়েছেন: "মু'মিন ও মুসলিম কবরবাসীদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের উপর করুণা বর্ষণ করুন। আর ইনশা'আল্লাহ আমরা তোমাদের সাথে শীঘ্রই মিলিত হতে যাচ্ছি।" সহীহ মুসলিম, খন্ড ২, পৃ. ৯১৯-৯২০, হাদীস নং ৩২৩১। নাবি মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চয়ই সন্দিহান ছিলেন না, অথচ তিনি এক্ষেত্রে ইনশা'আল্লাহ বলেছেন।
(১৯) ইবন আবি আল-'ইয্য, শারহ আল-'আকীদাহ আত-তাহউইয়্যাহ, (বৈরুত, আল-মাকতাব আল-ইসলামি, প্রথম সংস্করণ, ১৯৭২), পৃ. ৩৯৫-৩৯৭।
(২০) নতুন এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেছিলেন "মুফতী আস-সাকালাইন" হিসেবে খ্যাত হানাফি বিশেষজ্ঞ যিনি খ্রিষ্টান ও ইহুদি মহিলাদের বিয়ের অনুমতির ভিত্তিতে শাফি'ই মহিলাদের বিয়ের অনুমতি দিয়েছিলেন। ষোড়শ শতাব্দীর মিশরীয় হানাফি বিশেষজ্ঞ, যাইন আদ-দীন ইবন নুজাইমের আল বাহর আর-রা'ইক নামক গ্রন্থে এমনটি বলা হয়েছে। তবে, এ সিদ্ধান্তে প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত রয়েছে যে, আজও হানাফি মহিলাদের জন্য খ্রিষ্টান ও ইহুদি পুরুষদের ন্যায় শাফি'ই পুরুষদেরকে বিয়ে করা বৈধ নয়!

📘 মাযহাব অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ > 📄 অধ্যায় সারাংশ

📄 অধ্যায় সারাংশ


১ সাধারণ মুসলিমদের বদ্ধমূল ধারণা হলো, চারটি মাযহাবের সকল সি- দ্ধান্তই নির্ভুল। প্রত্যেকের জন্য এগুলোর যেকোনো একটির অনুসরণ বাধ্যতামূলক। কোনো অনুসারী নিজ মাযহাব পরিবর্তন করতে পারবে না। এমনকি নিজ মাযহাব ছাড়া অন্য কোনো মাযহাবের কোনো সিদ্ধান্ত অনুসরণ করতে পারবে না।(২১)
২ যে ব্যক্তি মাযহাবগুলোকে নির্ভুল মনে করে না কিংবা চার মাযহাবের কোনো একটিরও অনুসরণ করে না, তাকে একজন বিদ'আতি হিসেবে আখ্যায়িত করে "ওয়াহাবি" কিংবা "আহলে হাদিস" নামে ডাকা হয়।
৩ মাযহাবি দলাদলিকে সমর্থনের লক্ষ্যে হাদীসের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে বা অনির্ভরযোগ্য হাদীসগুলোকে ব্যবহার করা হয়েছে।
৪ কুর'আন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুসলিমদের মধ্যকার সংঘাত ও মত- বিরোধের নিন্দা করে।
৫ হাদীস ব্যাখ্যার যোগ্যতা ও হাদীসের জ্ঞানের তারতম্যের কারণে সহা- বিদের মধ্যে বিভিন্ন মতবিরোধ হয়েছে। তাঁদের মতের বিপক্ষে সুন্নাহ থেকে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পেলে সাথে সাথে তাঁরা তাঁদের ব্যক্তিগত মত পরিত্যাগ করতেন।
৬ প্রথম দিকের বিশেষজ্ঞগণ এ বিষয়ের উপর জোর দিয়েছেন যে, সময় পরিক্রমায় সহাবিগণের যে সিদ্ধান্তগুলো সঠিক প্রমাণিত হয়ে এসেছে কেবল সেগুলোই অনুসরণযোগ্য।
৭ সহাবিগণের মধ্যকার মতপার্থক্যগুলো কখনো তাঁদের মধ্যে অনৈক্য ও বিভাজন সৃষ্টি করেনি। পক্ষান্তরে, মাযহাবগুলোর পরবর্তী পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের মধ্যকার মতপার্থক্যগুলো মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপক অনৈক্যের জন্ম দিয়েছে।

টিকাঃ
(২১) Madh-hab of the Convert শিরোনামে Taqleed & Ijtihad গ্রন্থের লেখক লিখেছেন: "যে অঞ্চলে যে মাযহাব প্রভাবশালী, সে অঞ্চলের লোকেরা ঐ মাযহাবেরই অনুসরণ করবে। তবে যদি কোনো অঞ্চলে একাধিক মাযহাব প্রায় সমভাবে প্রচলিত থাকে, তাহলে সে যেকোনো মাযহাব বেছে নিতে পারে। তবে, একবার বেছে নিলে সে-মাযহাব থেকে বের হওয়ার আর কোনো সুযোগ তার থাকবে না।” (পৃ. ১৩)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00