📄 ফিক্হ সংকলন
'আব্বাসি শাসনামলের এ পর্যায়ে ফিক্হ গ্রন্থ রচনায় বিষয় বিন্যাসের একটি নতুন ধারা বিকশিত হয়। এ ধারাটি এমনই একটি আদর্শে পরিণত হয় যা আজও অব্যাহত আছে। বিভিন্ন বিষয়কে তাঁদের প্রধান শিরোনাম অনুসারে এবং শিরোনামগুলোকে বিভিন্ন অধ্যায়ে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে। এগুলোর প্রত্যেকটি শারী'আহ্ একেকটি প্রধান আলোচ্য বিষয়কে উপস্থাপন করে। এমনকি পরিচ্ছেদগুলোর ক্রমধারাও একটি অনুকরণীয় আদর্শে পরিণত হয়।
সাধারণত ইসলামি আকীদাহ বিষয়ক গ্রন্থে ঈমান নিয়ে আলোচনা করা হতো। তাই ফাকীহগণ ঈমানের পরের চারটি স্তম্ভ দিয়ে শুরু করতেন। পরিচ্ছেদগুলোকে নিম্নোক্ত ক্রমধারা অনুযায়ী বিন্যস্ত করা হতো। তুহারাহ বা পবিত্রতা, সলাত, সওম, যাকাত ও হাজ্জসংক্রান্ত বিষয়াবলি আলোচনা করার পর তাঁরা নিকাহ (বিয়ে) ও তলাক (বিবাহ-বিচ্ছেদ), তারপর বাই' (ব্যবসা-বাণিজ্য) ও আঁদাব (শিষ্টাচার) সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে নিয়ে আসতেন।
এ সকল বিষয়ের আলোচনায় লেখক নিজ মাযহাব ছাড়াও অন্যান্য মাযহাবের মতামতও উপস্থাপন করতেন। তারপর বিভিন্ন মাযহাবের যুক্তিগুলোকে খন্ডন করে নিজ মাযহাবের মতের বিশুদ্ধতা প্রমাণ করে আলোচনা শেষ করতেন。
📄 অধ্যায় সারাংশ
১ প্রথম যুগে যেসব মাযহাব বিকশিত হয়েছিল এ যুগে এসে সেগুলোর বেশিরভাগই হারিয়ে যায়। অবশিষ্ট থাকে কেবল চারটি মাযহাব।
২ মাযহাবগুলো সুসংহতকরণ ও নিয়মতান্ত্রিকতার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
৩ মাযহাবের কাঠামো বহির্ভূত ইজতিহাদ পরিত্যজ্য হয় এবং মাযহাবি ইজতিহাদ এই স্থানকে দখল করে নেয়।
৪ ফিক্হ মুকারান বা তুলনামূলক ফিক্হশাস্ত্র গড়ে ওঠে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা দলীয় চিন্তাধারাকে আরও বেগবান করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতো।