📄 অধ্যায় সারাংশ
ন্যায়নিষ্ঠ চার খলীফার যুগেই কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে ফিকহের মূলনীতি অর্থাৎ ইজমা' ও কিয়াস তথা ইজতিহাদের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল।
নতুন নতুন অঞ্চলের বিজয়ের ফলে মুসলিমগণ বিভিন্ন জাতির বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসে। এর ফলে জন্ম নেয় বেশ কিছু নতুন সমস্যা যেগুলো শারী'আহ আইনে সুনির্দিষ্টভাবে আলোচিত হয়নি।
শারী'আতে সুস্পষ্ট বিধান নেই এমন অনেক বিষয়ে আইন প্রণয়ন অপরিহার্য হয়ে উঠে। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে মতপার্থক্যকে যেন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা যায় সে লক্ষ্যে ন্যায়নিষ্ঠ চার খলীফা পর্যায়ক্রমে ইজতিহাদের কিছু পদ্ধতি প্রণয়ন করেন।
সহাবিগণও সাধারণত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতেন। এগুলো কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া থেকে এড়িয়ে চলতে তাঁদেরকে সাহায্য করত।
সহাবিগণ ও ন্যায়নিষ্ঠ চার খলীফার সমন্বিত অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আইনগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হতো। ফলে তাঁদের মধ্যে ঐক্য বৃদ্ধি পেত এবং এ কারণেই সে যুগের মুসলিম উম্মাহ্র মধ্যে কোনো দলাদলির সৃষ্টি হয়নি।
৬ ন্যায়নিষ্ঠ চার খলীফার যুগে কেবল একটি মাযহাবই ছিল। আইন প্রণয়নে একতাবদ্ধ পন্থা অনুসরণের ফলে এ যুগের শেষ অবধি রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো মাযহাব গড়ে ওঠেনি।
৭ জনগণ কুর'আন অধ্যয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিত। অন্যদিকে বিভিন্ন কারণে হাদীসের মাত্রাতিরিক্ত উদ্ধৃতি প্রদানকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল।
৮ যদিও ব্যক্তিগত মত প্রয়োগের ক্ষেত্রে সহাবিগণের পরস্পরের মধ্যে পদ্ধতিগত কিছু পার্থক্য ছিল, তবে সে পার্থক্য ঐ যুগে কোনো রূপ দলাদলিতে পর্যবসিত হয়নি।
৯ ন্যায়নিষ্ঠ চার খলীফার যুগে ফিক্হশাস্ত্রের ক্ষেত্রে একটি সার্বজনীন পদ্ধতিকে অনুসরণ করা হয়েছে; অর্থাৎ তখন একটি মাযহাবই চালু ছিল। তবে, ব্যক্তিগত মত প্রদান প্রসঙ্গে মাদীনায় ইবন 'উমার ও ইরাকের কুফায় 'আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ এর মতো বিশিষ্ট সহাবিদের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য ছিল। উল্লেখ্য যে, তাঁদের এই মতপার্থক্যকে পরবর্তী যুগের 'আঁলিমদের বিভিন্ন মাযহাবে বিভক্ত হওয়ার সূচনাবিন্দু কিংবা প্রচ্ছন্ন পূর্বাভাষ হিসেবে দেখা যেতে পারে।