📄 সমস্যা সমাধানে ন্যায়নিষ্ঠ চার খলীফার পদ্ধতি
ন্যায়নিষ্ঠ চার খলীফা কোনো নতুন সমস্যার সম্মুখীন হলে তা নিরসনের জন্য সাধারণত নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতেন: ১. প্রথমে তাঁরা কুর'আনে সমস্যাটির সুনির্দিষ্ট সামাধান খুঁজতেন। ২. কুর'আনে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান খুঁজে না পেলে, তার পর তাঁরা সুন্নাহতে অনুসন্ধান করতেন। ৩. সুন্নাহতেও সমাধান না পাওয়া গেলে তাঁরা বিশিষ্ট সহাবিদের বৈঠক ডেকে সমস্যাটির সমাধানের ব্যাপারে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করতেন। সহাবিদের এ ধরনের ঐকমত্যকে ইজমা' নামে অভিহিত করা হতো। ৪. মতৈক্যে উপনীত হওয়া সম্ভব না হলে তাঁরা অধিকাংশ সহাবির সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করতেন। ৫. তবে, ব্যাপক মতপার্থক্যের কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত নিরূপণ কঠিন হয়ে পড়ত, তখন খলীফা নিজেই ইজতিহাদ করতেন এবং তা আইনে পরিণত হতো। এখানে এ বিষয়টিও উল্লেখ্য যে, খলীফা কোনো বিশেষ সমস্যা সমাধানে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্তকে বাতিল করে দেওয়ার অধিকার রাখতেন।(২)
টিকাঃ
(২) আল-মাদখাল, পৃ. ১০৭।
📄 ব্যক্তিগত পর্যায়ে সাহাবিদের ইজতিহাদ
খলীফাদের সাথে প্রধান সহাবিদের বৈঠকের পাশাপাশি সহাবিদের প্রায় প্রতিদিনই ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিভিন্ন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত দিতে বলা হতো। এসব ক্ষেত্রে তাঁরা তিনটি বিষয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করতেন।
প্রথমত, সিদ্ধান্ত দেওয়ার পূর্বে সহাবিগণ এ বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বলে নিতেন যে, কুর'আন ও সুন্নাহর আলোকে সিদ্ধান্ত দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করলেও তাঁদের দেওয়া ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তগুলো সম্পূর্ণ সঠিক না-ও হতে পারে। দৃষ্টান্তস্বরূপ, মোহরানা নির্ধারণ করা হয়নি এমন মহিলার স্বামী মারা গেলে স্বামীর সম্পদে তার প্রাপ্য অংশ সম্পর্কে একবার ইবন মাস'উদ -কে জিজ্ঞাসা করা হয়। তখন তিনি বলেন, "এ ব্যাপারে আমি আমার সিদ্ধান্ত প্রদান করছি। সিদ্ধান্ত যদি সঠিক হয়, তাহলে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে; আর ভুল হলে তা আমার ও শয়তানের পক্ষ থেকে।” (৩)
দ্বিতীয়ত, যথাসাধ্য প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কোনো কোনো বিষয়ে সহাবিদের মধ্যে মতপার্থক্য থেকে যেত। কিন্তু পরবর্তীকালে এ ব্যাপারে যদি তাঁরা নাবি -এর সহীহ হাদীস জানতে পারতেন, তাহলে সব মতপার্থক্য ভুলে গিয়ে সাথে সাথে তা মেনে নিতেন। দৃষ্টান্তস্বরূপ, নাবি -এর ইন্তেকালের পর তাঁকে কোথায় দাফন করা হবে—এ নিয়ে সহাবিগণ বিভিন্ন মতামত দিতে লাগলেন। তখন আবু বাকর তাঁদের সামনে বর্ণনা করেন যে, নাবি বলেছেন, “নাবিগণ যেখানে মারা যান সেখানেই সমাহিত হন।” এ কথা শোনামাত্র সহাবিগণ ব্যক্তিগত মতামত প্রত্যাহার করে নাবি -এর স্ত্রী ‘আ’ইশাহ -এর গৃহে তাঁর বিছানার নিচে কবর খনন করলেন।
সবশেষে কোনো বিষয়ে নাবি থেকে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া না গেলে এবং সহাবিদের মধ্যেও ঐক্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হলে, তাঁরা একে অপরের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতেন। তাঁরা কখনোই কারও উপর বিশেষ কোনো একটি মত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেন না। তবে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে বৈধ ছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে—এমন কোনো বিষয়কে লোকেরা যদি অনুসরণ করতে চাইত, কেবল তখনই সহাবিগণ তা দমন করতে চাপ প্রয়োগ করতেন। দৃষ্টান্তস্বরূপ, মুত‘আহ বিয়ে হলো প্রাক-ইসলামি যুগের এক ধরনের সাময়িক বিয়ে। ইসলামের শুরুর দিকে এই বিয়ের প্রথা অনুমোদিত ছিল, তবে নাবি -এর ইন্তেকালের পূর্বেই তিনি তা নিষিদ্ধ করেন। নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি না-জানার কারণে কোনো কোনো সহাবি ‘উমার -এর খিলাফাতের অর্ধেক সময় পর্যন্ত মুত‘আহ বিয়ে করেছেন। ‘উমার এ ব্যাপারটি জানার পর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে এ অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারণ করেন। (৪)
টিকাঃ
(৩) সুনান আবি দাউদ, খন্ড ২, পৃ. ৫৬৭, হাদীস নং ২১১১। হাদীসটি আরও সংকলন করেছেন ইমাম তিরমিযি ও ইমাম নাসা'ই। শাইখ আলবানি এ হাদীসটিকে সহীহ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন; সহীহ্ সুনান আবি দাউদ, খন্ড ২, পৃ. ৩৯৭-৩৯৮, হাদীস নং ১৮৫৮। সা'ঈদ বর্ণনা করেছেন যে, 'উমার বলতেন যে, "স্বামীর দিয়াহ্-এর (দুর্ঘটনাজনিত হত্যাকাণ্ডের ক্ষতিপূরণ) অর্থ কেবল তার পিতৃকুলের পুরুষ আত্মীয়দের প্রদান করা হবে, কোনো মহিলা তার মৃত স্বামীর দিাহ-এর অর্থ থেকে কোনো অংশই পাবে না।" তার পর আদ-দহহাঁক ইব্ন সুফ্যান তাকে বললেন, "আশ্যাম আদ-দিবাবীর স্ত্রীকে তার স্বামীর দিয়াহ-এর অর্থ থেকে কিছু অংশ প্রদান করার জন্য আল্লাহর রসূল আমার কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন।" এ কথা শুনে 'উমার তাঁর মত প্রত্যাহার করে নিলেন।' সুনান আবি দাউদ, খণ্ড ২, পৃ. ৮২৬, হাদীস নং ২৯২১। শাইখ আলবানি এ হাদীসটিকে সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। সহীহ সুনানি আবি দাউদ, (বৈরুত, আল-মাকতাব আল-ইসলামি, ১৯৮৯), খন্ড ২, পৃ. ৫৬৫, হাদীস নং ২৫৪০।
📄 দলায়লির অনুপস্থিতি
যদিও সহাবিগণ শার‘ই আইনের কোনো কোনো বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন, তবে তাঁদের মতপার্থক্য পরবর্তী যুগের মতো ব্যাপক অনৈক্য ও দলাদলির জন্ম দেয়নি। নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর কারণে সর্বাবস্থায় তাঁদের ঐক্যের বন্ধন অটুট ছিল:
১. কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পারস্পরিক আলোচনা তথা শূরার মাধ্যমে খলীফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
২. মতৈক্যে পৌঁছানোর সহজতা। প্রথম দিকের খলীফাগণ বিশিষ্ট সহাবিদের ইসলামি রাষ্ট্রের রাজধানী মাদীনাহ থেকে বেশি দূরে বসবাসের অনুমতি দিতেন না, তাই খুব সহজেই তাঁদের নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা যেত।
৩. বিনয়ের কারণে অধিক ফাতওয়া প্রদানে সহাবিদের অনাগ্রহ। নিজেরা উত্তর না দিয়ে জটিল প্রশ্নগুলোকে তাঁরা অধিকতর জ্ঞানী সহাবিদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন।
৪. হাদীসের যথেচ্ছ উদ্ধৃতি থেকে বিরত থাকা। তাঁরা সুনির্দিষ্ট ও বাস্তব সমস্যার মধ্যেই হাদীসের উদ্ধৃতিকে সীমিত রাখতেন। এর কারণ ছিল-
৪. ক. নাবি -এর হাদীসের সঠিক প্রয়োগ কিংবা বর্ণনায় ভুল হওয়ার আশঙ্কা। কারণ, তিনি বলেছেন,
"যে ব্যক্তি আমার নামে কোনো মিথ্যা কথা বলে, সে যেন নিজেই জাহান্নামকে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নিল।" (৫)
৪.খ. খলীফা 'উমার হাদীসের মাত্রাতিরিক্ত উদ্ধৃতি প্রদানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সহাবিগণকে কুর'আন বর্ণনা ও অধ্যয়নে মনোনিবেশ করার নির্দেশ দেন।
টিকাঃ
(৪) ‘আবদুল-হামিদ সিদ্দীক,ি সহীহ মুসলিম, (লাহোর: এস এইচ, মুহাম্মাদ আশরাফ, ১৯৭৬), খন্ড ২, পৃ. ৬১০-৬১১।
(৫) সহীহ বুখারি, খণ্ড ৪, পৃ. ৪৪২, হাদীস নং ৬৬৭ এবং সুনান আবি দাউদ, খন্ড ৩, পৃ. ১০৩৬, হাদীস নং ৩৬৪৩।
📄 এ যুগের ফিক্হের বৈশিষ্ট্য
ফিশাস্ত্রের ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশ ও মাযহাবগুলোর বিবর্তনের ধারাবাহিকতা পর্যবেক্ষণ করলে আমরা দেখতে পাই যে, রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন ধাপে ফিক্হশাস্ত্র বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য লাভ করেছে।
প্রথমত, ন্যায়নিষ্ঠ চার খলীফার যুগে ফিক্হশাস্ত্রের বিশেষত্ব ছিল এর অসাধারণ বাস্তববাদী রূপ (realism)। অর্থাৎ, অনুমান বা কল্পনার পরিবর্তে এ যুগের ফিক্হশাস্ত্র গড়ে উঠেছিল মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সংঘটিত বাস্তব সমস্যাকে কেন্দ্র করে। উমাইয়া শাসনামলে ইরাকের কুফায় আহলুর-রা’ই হিসেবে পরিচিত বিশিষ্ট ফাকীহগণ সম্ভাব্য সমস্যার সমাধানকেন্দ্রিক যে-ফিকহশাস্ত্র গড়ে তুলেছিলেন, তা থেকে আলাদা করতে পরবর্তীকালে বাস্তব সমস্যাকেন্দ্রিক ফিক্হশাস্ত্রকে আল-ফিক্হ আল-ওয়াক্‘ইই বা বাস্তববাদী ফিক্হ বলে অভিহিত করা হতো।
দ্বিতীয়ত, ন্যায়নিষ্ঠ চার খলীফা আইনগত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করলেও তাঁদের কেউই গোটা মুসলিম উম্মাহর জন্য সর্বাবস্থায় অনুসরণীয় সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নির্ধারণ করে দেননি। তাছাড়া, কুর’আন-সুন্নাহ থেকে বের করে আনা বিধিবিধানের কোনো সংকলনও তাঁরা প্রস্তুত করেননি। তাঁদের এই কর্মপন্থা থেকে দুটি বিষয় সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।
১. শারী‘আতে যেসব বিষয় সুনির্দিষ্ট নয় সেসব ক্ষেত্রে সহাবিগণ উদার মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ফলে কুর’আন-সুন্নাহর আলোকে গৃহীত ভিন্ন মতের প্রতিও তাঁদের সম্মানবোধ ফুটে উঠেছে। উল্লেখ্য যে, তাঁদের এ মানসিকতা পরবর্তী পর্যায়ের ‘আলিমদের কারও কারও মধ্যে দৃশ্যমান কঠোরতা থেকে ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম।
২. কুর’আনে যেসব বিধান আলোচিত হয়নি সেসব বিধানের বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের পেছনে না-লেগে তাঁরা কুর’আন অধ্যয়নে জনগণকে উৎসাহিত করেছেন। সহাবিগণের এ দৃষ্টিভঙ্গিও নিঃসন্দেহে উপরোক্ত মানসিকতার সাথে ছিল সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।
এ যুগে বিকশিত ফিক্হশাস্ত্রের তৃতীয় বিশেষত্বটি ছিল আইনগত সিদ্ধান্ত প্রদানে ব্যক্তিগত মতামত ব্যবহারের বৈচিত্র্য। অধিকাংশ সহাবি কুর’আন ও সুন্নাহ্ আক্ষরিক অর্থগুলো আঁকড়ে ধরাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। সাধারণত তাঁরা ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা প্রদানকে এড়িয়ে চলতেন। ইবন 'উমার ছিলেন একজন প্রথম সারির আইনবিদ। তিনি সারা জীবন মাদীনায় বসবাস করেছেন এবং এ নীতির অনুসরণ করেছেন। অন্যদিকে, সহাবিদের অনেকেই কুর'আন-সুন্নাহয় আলোচিত হয়নি এমন সব বিষয়ে ব্যাপক হারে ব্যক্তিগত মত ব্যবহার করতেন। তবে, এক্ষেত্রে সম্ভাব্য ভুলকে তাঁরা সম্পূর্ণরূপে নিজেদের প্রতি আরোপ করতেন, যেন তাঁদের ভুলের কারণে ইসলামি আইনের কোনো দুর্নাম না ঘটে। এমন চিন্তাধারার সহাবিদের মধ্যে 'আবদুল্লাহ ইবন মাস'ঊদ ছিলেন অন্যতম। তিনি পরবর্তীকালে স্থায়ীভাবে ইরাকে বসবাস শুরু করেন।
ন্যায়নিষ্ঠ চার খলীফার যুগে ফিরে চতুর্থ বিশেষত্বটি ছিল শারী'আহ আইনের কিছু সংস্কারের সাথে সংশ্লিষ্ট। মূলত দুটি কারণে এ সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। এগুলো হলো:
১. আইনের নেপথ্য কারণের অনুপস্থিতি। খলীফা 'উমার বাইতুল-মাল বা কেন্দ্রীয় কোষাগার থেকে নওমুসলিম ও ইসলাম গ্রহণেচ্ছু ব্যক্তিদের নগদ উপহার প্রদানের ধারাকে স্থগিত করে দেন। তাঁর যুক্তি ছিল, নাবি ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে এমনটি করেছেন। কারণ, তখন ইসলামের সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন ছিল; কিন্তু, এখন আর দান-সাদাকাহ করে সমর্থক সংগ্রহের প্রয়োজন নেই।
২. সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন। বিবাহ-বিচ্ছেদ আইনের পরিবর্তন এর একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। নতুন বিজিত অঞ্চলগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে সম্পদ আগমনের ফলে এক ও একাধিক বিবাহ সম্পাদন তুলনামূলকভাবে সহজ হয়ে যায়। অন্যদিকে বিবাহ-বিচ্ছেদের হারও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। বিবাহ-বিচ্ছেদের বৈধতার অপব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে খলীফা 'উমার এ সংক্রান্ত আইনের কিছুটা সংস্কার সাধন করেন। নাবি-এর যুগে একই সময়ে তিন তলাকের উচ্চারণকে কেবল এক তলাক হিসেবে গণ্য করা হতো এবং তা ছিল প্রত্যাহারযোগ্য। খলীফা 'উমার একই সময়ে একাধিক তলাক প্রদান করলে তাকে কার্যকর ও অপ্রত্যাহারযোগ্য ঘোষণা করেন।
পঞ্চমত, ন্যায়নিষ্ঠ চার খলীফার যুগে একটিই মাযহাব ছিল এবং নাবি -এর যুগের ন্যায় তা রাষ্ট্রের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল। প্রত্যেক খলীফার যুগে খলীফার মাযহাবই ছিল একমাত্র মাযহাব। কারণ, ইজতিহাদ ও ইজমা' সংক্রান্ত প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে খলীফার মতামতই ছিল চূড়ান্ত। খলীফার জীবদ্দশায় কেউই কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে তাঁর গৃহীত কোনো সিদ্ধান্তের প্রকাশ্য বিরোধিতা করতেন না। তবে, অন্য কোনো খলীফা ক্ষমতায় আসার পর তাঁর মতকে পূর্ববর্তী খলীফার মতামতের উপর প্রাধান্য দেওয়া হতো। অনেক সময় পূর্ববর্তী খলীফার সিদ্ধান্তগুলোকে পরিবর্তন করে নতুন খলীফার মতকে প্রাধান্য দিয়ে সিদ্ধান্ত প্রণয়ন করা হতো।