📄 হাদীস যাচায়-বাছায় বনাম তাক্বলীদ
ভুল ধারণা- ৮৫ঃ কোন হাদীস সহীহ বা য'য়ীফ বিশ্লেষণে জারাহ ও তা'দীলের বিশেষজ্ঞগণের সহযোগীতা ছাড়া তা নির্ণয় করা সম্ভব নয়। সুতরাং এক্ষেত্রে সর্বদা তাদের বক্তব্যের তাক্বলীদের সম্মুখীন হতে হবে। ..... প্রকৃতপক্ষে জীবনের কোন শাখাই সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণের তাক্বলীদ মুক্ত নয়।”
সংশোধন: যখন কোন মুহাদ্দিস কোন হাদীসকে সহীহ বা য'য়ীফ হিসাবে গণ্য করেন, তখন এর মধ্যে কোন ধারণামূলক রায় থাকে না। তিনি কোন শরী'আতের আইন নতুন ভাবে সৃষ্টি করেন না যে, কোন ব্যক্তি ঐ কৃত্রিম শরী'আত মেনে মুক্বাল্লিদে পরিণত হবে। বরং তিনি তো কেবল এই সাক্ষ্য দেন যে, অমুক রাবী য'য়ীফ, তিনি এমন এমন ছিলেন প্রভৃতি। আমরা তো তাদের উক্তিগুলোকে সত্য হিসাবে গ্রহণ করি। যেভাবে একজন বিচারক কোন সাক্ষীর সাক্ষ্য কুবুল করেন। এ পর্যায়ে আমরা বিচারককে কি সাক্ষীর মুক্বাল্লিদ বলব? কক্ষনো না। তাক্বী সাহেবের ভুল ধারণার কারণে সমস্ত বিচারক, কাযীকে মুক্বাল্লিদ বলতে হবে।
এভাবে একজন বিশেষজ্ঞ যাকিছু গবেষণা-পর্যালোচনা করেন, সে মোতাবেক সাক্ষ্য দেন। তিনি যাকিছু অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করেছেন, তিনি তারই সাক্ষ্য দেন। এমতাবস্থায় আমরা কেবলই তাঁর সাক্ষ্য কুবুল করি। আমরা তাঁর ব্যক্তিগত রায় মানি না। রোগী ও অজ্ঞ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ ব্যাপারে কোন সীমাবদ্ধতা নেই।
[সংযোজন: অতঃপর তাক্বী সাহেব আদী বিন হাতিমের হাদীসের বিশ্লেষণ করেছেন। তাক্বী সাহেব বলতে চেয়েছেন, মাযহাবের তাক্বলীদ পোপ-পুরোহিতদের তাক্বলীদের মত নয়, তারাতো নিরঙ্কুশ হালাল-হারামের অধিকারী ছিল। আমরা মাযহাবের নামে রচিত ফিক্বাহতে একই বিষয়ের অবতারণা দেখি।]
ভুল ধারণা- ৮৬ঃ কোন মুজতাহিদের উক্তি শরী'আতের হুজ্জাত না হওয়াটা তাক্বলীদের সঙ্গার মধ্যে গণ্য।
সংশোধন: তাক্বী সাহেবের এই বক্তব্য সঠিক নয়। ক্বিয়াসকে হুজ্জাত গণ্য করা হয়। সুতরাং মুজতাহিদের উক্তি শরী'আত নয় তো আর কি? মুক্বাল্লিদের নিকট মুজতাহিদের উক্তি শরী'আতের হুজ্জাত বলে গণ্য হয়। রসূলুল্লাহ জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পড়তেন। ১৮৫ কিন্তু তাক্বী সাহেবের হানাফী মাযহাবে সূরা ফাতিহা পড়াটা সুন্নাত নয়। বলুন, এক্ষেত্রে মুজতাহিদের উক্তিটি কি শরী'আতের হুজ্জাত হিসাবে মানা হয় নি? বরং হানাফী মুজতাহিদগণের দ্বারা হুজ্জাতে শরী'আতকে খণ্ডনও করা হয়েছে। এটা কুফর না ঈমান?
টিকাঃ
১৮৫. তালহা বলেন: আমি ইবনে 'আব্বাসের পিছনে জানাযার সালাত পড়েছি। তিনি সূরা ফাতিহা পড়লেন। অতঃপর বললেন, (আমি উচ্চৈঃস্বরে এ জন্যে পড়েছি) লোকেরা যেন বুঝতে পারে এটা সুন্নাত।” [সহীহ বুখারী- কিতাবুল জানায়িয]
📄 উপসংহার
তাক্বী সাহেবের বইটির জবাব শেষ হল। আমরা তাঁর ভুলগুলো দূর করার জন্য সাধ্যমত সংক্ষেপে জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছি। আমরা বিরোধগুলো নিরসণ ও তার বিস্তৃতি রোধেরই উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা আমাদের চিরাচরিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিষয়গুলো কথার চাইতে তাবলীগি কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করার বেশী পক্ষপাতী।
তাক্বী সাহেব আমাদের প্রথম প্রকাশিত বইটি দেখলেও তা থেকে একটিমাত্র প্রশ্নের জবাব ছাড়া আর কোন উত্তর দেয়ার চেষ্টাটুকুও করেন নি। তাঁর দেয়া জবাবটিরও প্রকৃত জবাব আমরা উল্লেখ করেছি। এরপূর্বেও আমরা যেসব প্রশ্ন করেছিলাম তার জবাবও 'মাসিক ফারানের' মাধ্যমে তাক্বী সাহেব নিজের লেখা 'তাক্বলীদ কিয়া হে' প্রবন্ধটিতে দেন নি। বরং আমাদের প্রশ্নটি পরিবর্তন করে জবাব দিয়েছেন।
তাক্বী সাহেব! আপনি নিজেই অনেক মাসায়েল সুস্পষ্ট হাদীসের বিরোধী থাকায় প্রচলিত তাক্বলীদকে খারাপ জানার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ পর্যায়ে নিচের মাসআলাগুলোকেও মেনে নিন:
১) পুরুষ ও নারীর সালাত আদায়ের পদ্ধতিগত পার্থক্য সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। সুতরাং এখন থেকে উভয়ের সালাতে পদ্ধতি একই হিসাবে ঘোষণা করুন。
২) অযুতে হাতের পাতার পিঠ দ্বারা গর্দান মাসেহ করা ছেড়ে দিন। কেননা মাসেহ করার এ পদ্ধতিটি কোন সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়।
৩) জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা শুরু করে দিন।
৪) রুকু'তে যেতে ও রুকু' থেকে উঠতে রফ'উল ইয়াদাঈন করুন। কেননা, এটা সহীহ মুতওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
৫) ফরয সালাতের চার রাক'আতেই ক্বিরাআত পড়া ফরয গণ্য করুন।
৬) ইমামকে সাক্তা করার হুকুম দিন।
৭) সাক্তার মধ্যে মুক্তাদীকে সূরা ফাতিহা পাঠ করার হুকুম দিন।
৮) হালালাহ (হিল্লা) প্রথা বন্ধ করুন। এটা খুবই নিকৃষ্ট কাজ।