📘 মাযহাব ও তাকলীদ 📄 “সাহাবামুক্ত তাক্বলীদ”

📄 “সাহাবামুক্ত তাক্বলীদ”


ভুল ধারণা- ৫৯ : অতঃপর তাক্বী সাহেব "সাহাবাযুগে মুক্ত তাক্বলীদ” অনুচ্ছেদের অধীনের কিছু বর্ণনা এনেছেন। যেমন: প্রথম নযীর: ইবনে আব্বাস থেকে উমার এর একটি খুতবার বর্ণনা। যেখানে 'উমার বলেছেন: "কুরআন সম্পর্কে তোমাদের কোন প্রশ্ন থাকলে উবাই ইবনে কা'বের কাছে এবং ফারায়েয সম্পর্কে যায়েদ বিন সাবিতের কাছে আর ফিক্বাহ সম্পর্কে মু'আয বিন জাবালের কাছে যাবে।....

সংশোধন: প্রশ্ন হল, 'উবায় ইবনে কা'ব ও অন্যান্যদের কাছে কি জিজ্ঞাসা করতে যাবে, কুরআন হাদীসের 'ইলম না তাঁদের রায়? যদি কুরআন হাদীসের 'ইলম জানতে যায়, তবে আমরা সেটাই করতে বলছি। ছাত্র যদি শিক্ষককে না জিজ্ঞাসা করে, তবে আর কার কাছে জিজ্ঞাসা করবে? এটাই তো তা'লিম দেয়া ও নেয়া। এর সাথে তাক্বলীদের কোনই সম্পর্ক নেই। আর যদি আপনি বলেন, আলেমের কাছে তার রায় সম্পর্কে প্রশ্ন করে, তবে কারো কোন রায়কে কি আল্লাহর নাযিলকৃত দ্বীন হিসাবে গণ্য করা যাবে? কক্ষনো না।

[সংযোজন: আমি (অনুবাদক) সংক্ষেপে তাক্বী সাহেব কর্তৃক দৃষ্টান্তগুলো নিচে উপস্থাপন করলাম। তাঁর বইটির বাংলা অনুবাদে দ্বিতীয় নযীর হিসাবে উল্লিখিত হয়েছে: ঋণের মেয়াদের পূর্বে আংশিক ঋণ মওকুফের শর্তে অবশিষ্ট ঋণ মওকুফ করা প্রসঙ্গে ইবনে উমার তা নাকচ করে দেন। অতঃপর তাক্বী সাহেব লিখেছেন: "এ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ নির্দেশ সম্বলিত কোন মারফু হাদীস না থাকায় নিশ্চয়ই ধরে নেয়া যায় যে, 'এটাই ইবনে 'উমারের নিজস্ব ইজতিহাদ।"

এই আসারটি সুনির্দিষ্টভাবে চারটি মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানার পক্ষে দলিল হয় না। যদি তাক্বী সাহেব এই আসারটি দ্বারা ইবনে 'উমার-এর তাক্বলীদ করার সমর্থনে পেশ করতেন- তবে সে ক্ষেত্রে এটি তার উপস্থাপনার উদ্দেশ্যের সাথে সম্পৃক্ত হত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দলিলটি দ্বারা তাক্বী সাহেব নবী ﷺ-এর এই সাহাবীর তাক্বলীদ করাকে জরুরী মনে না করে, ইমাম আবু হানিফার তাক্বলীদ করা জরুরী মনে করেন।

অতঃপর তাক্বী সাহেব তৃতীয় নযীর হিসাবে লিখেছেন, আব্দুর রহমান বলেন: "মুহাম্মাদ ইবনে সীরীনকে আমি হাম্মামখানায় গোসলের বৈধতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। উত্তরে তিনি বললেন, 'উমার এটা অপছন্দ করতেন।" দেখুন মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন প্রশ্নকারীর জবাবে হাদীস-দলিল উল্লেখ না করে 'উমার-এর অপছন্দের কথা জানিয়ে দেয়াই যথেষ্ট মনে করেছেন। যখন বিশেষজ্ঞের বক্তব্যের সমর্থনে মারফু' হাদীস তথা কুরআন বা সহীহ হাদীসের দলিল থাকবে তখন তা আর তাক্বলীদ হল না।

অতঃপর তাক্বী সাহেব চতুর্থ ও পঞ্চম নযীর হিসাবে যথাক্রমে 'উমার ও সা'আদ ইবনে আবূ ওয়াক্কাসের পরামর্শমূলক সিদ্ধান্তকে তাক্বলীদের পক্ষে উপস্থাপন করেছেন। অষ্টম নযীর হিসাবে তাকী সাহেব উমার কর্তৃক আম্মার বিন ইয়াসারকে শাসক ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাস'উদকে শিক্ষক হিসাবে প্রেরণের চিঠির কথা উল্লেখ করেছেন।

নবম নযীর হিসাবে 'মুয়াত্তা মুহাম্মাদ' থেকে সাহাবী ইবনে 'উমার ও তাবে'য়ী ক্বাসেম বিন মুহাম্মাদ এর ইমামের পিছনে ক্বিরাআত না পড়ার বর্ণনা উপস্থাপন করেছেন। বর্ণনাটি হল: "ইবনে 'উমার ইমামের পিছনে কখনো ক্বিরাআত পড়তেন না। ক্বাসিম বিন মুহাম্মাদকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তুমি ইচ্ছা করলে পড়তে পারো আবার না পড়ারও অবকাশ আছে।"

জবাব: ১. প্রকৃতপক্ষে সহীহ বর্ণনা অনুযায়ী ইবনে 'উমার ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়তেন। ২. অনুরূপভাবে ক্বাসেম বিন মুহাম্মাদ রহ. সম্পর্কে 'মুয়াত্তা মালেকে' বর্ণিত হয়েছে যে তিনি সালাতে ইমাম ক্বিরাআত সরবে পড়তেন না সেসব সালাতে ইমামের পিছনে ক্বিরাআত করতেন।

তাক্বী সাহেব উক্ত য'য়ীফ ও মুনকার বর্ণনাটি উল্লেখ করার পর শেষাংশে লিখেছেন: "....এতে দ্ব্যর্থহীনভাবে একথাই প্রমাণিত হয় যে, দলীলে বিভিন্নতার কারণে মুজতাহিদগণের মাঝে মতভিন্নতা দেখা দিলে বিশুদ্ধ নিয়তে যেকোন এক মুজতাহিদের ইকতিদা করা যেতে পারে।" এই উদ্ধৃতিটির দ্বারা তাক্বী সাহেব যেকোন একটি মাযহাবের তাক্বলীদ করার সীমাবদ্ধতাকে প্রকারান্তরে খণ্ডন করেছেন। যা আমাদের পক্ষকেই সমর্থন করল।

দশম নযীর হিসাবে একটি ফতোয়াতে হাসান বসরী রহ. কর্তৃক নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনে আবু বকর রা. ও উমার রা. এর আমলের উদ্ধৃতি দিয়েছেন।

টিকাঃ
১৪৩. য'য়ীফ: সনদটিতে দু'জন মাজহুল হাল বর্ণনাকারী আছেন।
১৪৪. কুরআন ও সহীহ হাদীসের ন্যায় কারো রায় স্থায়ী শরী'য়াতের মর্যাদা পাবে না।
১৪৫. মুয়াত্তা মালেক হা/২৪৭৯ বাবে মা জাআ ফির রিবা ফিদ দাইনি।
১৪৬. মাযহাব কি ও কেন? পৃঃ ৩৫।
১৪৭. কানযুল উম্মাল ৯/৫৬০/২৭৪১৮ নং।
১৪৮. মাযহাব কি ও কেন? পৃঃ ৩৫-৩৬।
১৪৯. মাযহাব কি ও কেন? পৃঃ ৩৬-৩৭।
১৫০. সম্মানিত পাঠক! তুলনামূলক পর্যালোচনা জন্য, "মাযহাব কি ও কেন?” বইটি সামনে রাখুন।
১৫১. ইরশাদুল হক আসরী, তাওযীহুল কালাম ফি উযুবিল ক্বিরাআত খলফাল ইমাম, পৃঃ ৯৯১।
১৫২. সহীহ: সহীহ ইবনে খুযায়মাহ ১/২৮৭, হা/৫৭২।
১৫৩. সহীহঃ মুয়াত্তা মালেক বাবে ফিল ক্বিরাআতি খলফাল ইমামি ফীমা লা ইউজহারু ফীহি বিল ক্বিরাআতি।
১৫৪. মাযহাব কি ও কোন? পৃঃ ৪১।
১৫৫. হাসান: ইবনে মাজাহ- বাবে ইত্তিবাউ সুন্নতি রাসূলিল্লাহ ﷺ।

📘 মাযহাব ও তাকলীদ 📄 তাক্বলীদ ও অন্যান্য বিষয় অবস্থা

📄 তাক্বলীদ ও অন্যান্য বিষয় অবস্থা


ভুল ধারণা- ৭৭: তাক্বী সাহেব লিখেছেন: "যদি কোন সাধারণ ব্যক্তি হাদীস পড়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেয় এবং তার উপর আমল করে তবে সে মা'যুর নয়।"

সংশোধন: সাধারণ ব্যক্তিকে কেবল আপনি এই জন্য মা'যুর ভাবতে পারেন না যে, তার জন্য তাক্বলীদ করা জরুরী। যদি আপনি তার জন্য তাক্বলীদ মা'যুরের বিধান হিসাবে স্বীকৃতি দেন, তবে তো তাক্বলীদ খতম হয়ে যায়।

আচ্ছা বলুন তো, ঐ সাহাবী কি মা'যুর ছিলেন, নাকি ছিলেন না- যিনি সুবহে সাদিকের ফায়সালা সাদা ও কালো সুতা দ্বারা করেছিলেন এবং আয়াতের ভুল অর্থ করে আমল করেছিলেন? তিনি যদি মা'যুর হন, তবে অন্যান্য লোকদেরকে এমন পরিস্থিতিতে কেন মা'যুর গণ্য করবেন না? জঙ্গে বনু কুরায়যার ঘটনাতে কিছু সাহাবী 'আসরের সালাত রাস্তাতেই আদায় করলেন এবং কেউ কেউ বনী কুরায়যাতে পৌছার পর আদায় করলেন। এ ঘটনাটিতে কোন একটি পক্ষ অবশ্যই নবী ﷺ-এর নির্দেশটি বুঝতে ভুল করেছিল। এতদসত্ত্বেও তাদের কাউকেই রসূলুল্লাহ ﷺ গুনাহগার সাব্যস্ত করেন নি।

প্রকৃতপক্ষে যদি কোন ব্যক্তি কুরআন বা হাদীস পড়ে তার দাবী বুঝতে ভুল করে এবং সে মোতাবেক আমল করে- তবে সে মা'যুর। অবশ্য যখন সে জানতে পারবে তার ভুল হয়েছিল- তবে নিজের ভুল থেকে অবশ্যই তাকে ফিরে আসতে হবে।

[সংযোজন: অতঃপর তাক্বী সাহেব তাক্বলীদের প্রথম স্তর হিসাবে যা আলোচনা করেছেন তার জবাবের জন্য পূর্বোক্ত পর্যালোচনাগুলোই যথেষ্ট। অতঃপর তাক্বী সাহেব 'তাক্বলীদের চতুর্থ স্তর' হিসাবে যা কিছু বলেছেন তার কিছু জবাব লেখক দিয়েছেন। যা নিম্নরূপ:]

ভুল ধারণা- ৭৮: অতঃপর তাক্বী সাহেব লিখেছেন 'উমার-এর একটি চিঠির বর্ণনা দিয়েছেন। যেখানে তিনি কাযী শুরায়হকে কিছু উপদেশ দিয়েছিলেন। তাক্বী সাহেব ঐ উপদেশগুলোকে তাক্বলীদের পক্ষে উপস্থাপন করেছেন।

সংশোধন: কাযীর ফায়সালার সাথে শরী'আত বিকৃতির কোন সম্পর্ক নেই। কাযীর ফায়সালা সহীহ বা ভুল উভয়ই হতে পারে। তার ফায়সালা পারস্পরিক মামলা-মোকাদ্দমার সাথে জড়িত ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তমূলক। সেটা স্থায়ী শরী'আতের মর্যাদা পায় না। পক্ষান্তরে তাক্বী সাহেবদের ফক্বীহগণ শরী'আত বিকৃতকারী।

[সংযোজন: উমার এর আলোচ্য চিঠিটি তাক্বলীদের বিরোধীতা করে। শুরায়হ হতে বর্ণিত আছে, 'উমার একবার তাঁকে পত্র লিখলেন: যখন তোমার কোন সমস্যার সমাধান কিতাবুল্লাহতে পাও তখন তা দ্বারা ফায়সালা করবে, লোকদের জন্য তা ছেড় না। যখন এমন কোন সমস্যা আসে যার সমাধান কিতাবুল্লাহতে নেই, তবে রসূলের সুন্নাহ মোতাবেক ফায়সালা কর। যদি কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাহতে সামধান না পাও তবে লোকদের (সাহাবীদের) ইজমা' (ঐকমত্য)-কে আঁকড়ে থাকে। যদি কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহতে রসূলুল্লাহ ও পূর্ববর্তীদের (ইজমা'র) সিদ্ধান্তে না পাও, তবে তুমি যে কোন একটি পন্থা আঁকড়ে থাক। ১) যদি ইচ্ছা কর তুমি ইজতিহাদ দ্বারা তোমার রায় প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত নাও, আর ২) যদি ইচ্ছা কর সরে দাঁড়াতে পার। আমি অবশ্য সরে দাঁড়ানোটাই তোমার জন্য উত্তম মনে করি।"

সুনির্দিষ্ট মৃত ইমামের মাযহাব ঐকমত্যের বিরোধীতা করে নানারকম ফিরক্বার জন্ম দেয়। সুতরাং, পূর্বোক্ত রেখাঙ্কিত বাক্যগুলো সুনির্দিষ্ট ইমামের মাযহাব মানার বিরোধীতা করে। উক্ত চিঠির শেষাংশ ব্যক্তিগত রায় থেকে দূরে থাকাকেই উমার থেকে উত্তম হিসাবে স্বীকৃতি দান করা হয়েছে।

ভুল ধারণা- ৭৯ : অতঃপর তাক্বী সাহেব সাহাবী 'আব্দুল্লাহ ইবনে 'আব্বাস সম্পর্কে লিখেছেন: “ইবনে আব্বাস -কে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি কিতাবুল্লাহ থেকে ফায়সালা দিতেন। সেখানে কোন সমাধান খুঁজে না পেলে সুন্নাহ থেকে ফায়সালা দিতেন। সেখানেও সমাধান খুঁজে না পেলে আবু বকর কিংবা 'উমার-এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক ফায়সালা দিতেন। সর্বশেষে ইজতিহাদ প্রয়োগ করতেন।”

সংশোধন: তাক্বী সাহেব উক্ত উদ্ধৃতিটি তাক্বলীদের পক্ষে প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন করেছেন। অথচ তাক্বলীদের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। প্রথমত, এই 'আমলটি রসূলুল্লাহ ﷺ-এর হুকুম মোতাবেক: “তোমরা আমার সুন্নাত ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খলীফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতের উপর থাক।" সুতরাং উক্ত উদ্ধৃতির সাথে তাক্বলীদের কোনই সম্পর্ক নেই। দ্বিতীয়ত, যদি উদ্ধৃতিটির দ্বারা তাক্বলীদ প্রমাণ হয়- তবে এখানে তো 'দু'জন ব্যক্তির তাক্বলীদ প্রমাণিত হয়। যা তাক্বলীদে শাখসীর বিরোধী।

টিকাঃ
১৭১. কেননা মা'যুর বা উপায়হীন অবস্থাতে সাধারণ অবস্থার বিধান প্রযোজ্য নয়।
১৭২. আল্লাহ শু'র বাণী: (সূরা বাক্বারাহ : ১৮৭ আয়াত) "খাও ও পান কর যতক্ষণ না কালো রেখা থেকে শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়।"
১৭৩. সহীহ: সহীহ বুখারী- কিতাবুস সিয়াম।
১৭৪. সহীহ: সহীহ বুখারী- কিতাবুল মাগাযী।
১৭৫. মাযহাব কি ও কেন? পৃঃ ৮৫।
১৭৬. মাযহাব কি ও কেন? পৃঃ ৯৭।
১৭৭. মাযহাব কি ও কেন? পৃঃ ৯৮।
১৭৮. মাযহাব কি ও কোন? পৃ: ৯৮-৯৯।
১৭৯. জাইয়েদ: দারেমী- কিতাবুল মুক্বাদ্দামহ বাবে ফুতিয়া ওয়ামা ফীহি মিনা শিদদাহ।

📘 মাযহাব ও তাকলীদ 📄 হাদীস যাচায়-বাছায় বনাম তাক্বলীদ

📄 হাদীস যাচায়-বাছায় বনাম তাক্বলীদ


ভুল ধারণা- ৮৫ঃ কোন হাদীস সহীহ বা য'য়ীফ বিশ্লেষণে জারাহ ও তা'দীলের বিশেষজ্ঞগণের সহযোগীতা ছাড়া তা নির্ণয় করা সম্ভব নয়। সুতরাং এক্ষেত্রে সর্বদা তাদের বক্তব্যের তাক্বলীদের সম্মুখীন হতে হবে। ..... প্রকৃতপক্ষে জীবনের কোন শাখাই সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণের তাক্বলীদ মুক্ত নয়।”

সংশোধন: যখন কোন মুহাদ্দিস কোন হাদীসকে সহীহ বা য'য়ীফ হিসাবে গণ্য করেন, তখন এর মধ্যে কোন ধারণামূলক রায় থাকে না। তিনি কোন শরী'আতের আইন নতুন ভাবে সৃষ্টি করেন না যে, কোন ব্যক্তি ঐ কৃত্রিম শরী'আত মেনে মুক্বাল্লিদে পরিণত হবে। বরং তিনি তো কেবল এই সাক্ষ্য দেন যে, অমুক রাবী য'য়ীফ, তিনি এমন এমন ছিলেন প্রভৃতি। আমরা তো তাদের উক্তিগুলোকে সত্য হিসাবে গ্রহণ করি। যেভাবে একজন বিচারক কোন সাক্ষীর সাক্ষ্য কুবুল করেন। এ পর্যায়ে আমরা বিচারককে কি সাক্ষীর মুক্বাল্লিদ বলব? কক্ষনো না। তাক্বী সাহেবের ভুল ধারণার কারণে সমস্ত বিচারক, কাযীকে মুক্বাল্লিদ বলতে হবে।

এভাবে একজন বিশেষজ্ঞ যাকিছু গবেষণা-পর্যালোচনা করেন, সে মোতাবেক সাক্ষ্য দেন। তিনি যাকিছু অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করেছেন, তিনি তারই সাক্ষ্য দেন। এমতাবস্থায় আমরা কেবলই তাঁর সাক্ষ্য কুবুল করি। আমরা তাঁর ব্যক্তিগত রায় মানি না। রোগী ও অজ্ঞ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ ব্যাপারে কোন সীমাবদ্ধতা নেই।

[সংযোজন: অতঃপর তাক্বী সাহেব আদী বিন হাতিমের হাদীসের বিশ্লেষণ করেছেন। তাক্বী সাহেব বলতে চেয়েছেন, মাযহাবের তাক্বলীদ পোপ-পুরোহিতদের তাক্বলীদের মত নয়, তারাতো নিরঙ্কুশ হালাল-হারামের অধিকারী ছিল। আমরা মাযহাবের নামে রচিত ফিক্বাহতে একই বিষয়ের অবতারণা দেখি।]

ভুল ধারণা- ৮৬ঃ কোন মুজতাহিদের উক্তি শরী'আতের হুজ্জাত না হওয়াটা তাক্বলীদের সঙ্গার মধ্যে গণ্য।

সংশোধন: তাক্বী সাহেবের এই বক্তব্য সঠিক নয়। ক্বিয়াসকে হুজ্জাত গণ্য করা হয়। সুতরাং মুজতাহিদের উক্তি শরী'আত নয় তো আর কি? মুক্বাল্লিদের নিকট মুজতাহিদের উক্তি শরী'আতের হুজ্জাত বলে গণ্য হয়। রসূলুল্লাহ জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পড়তেন। ১৮৫ কিন্তু তাক্বী সাহেবের হানাফী মাযহাবে সূরা ফাতিহা পড়াটা সুন্নাত নয়। বলুন, এক্ষেত্রে মুজতাহিদের উক্তিটি কি শরী'আতের হুজ্জাত হিসাবে মানা হয় নি? বরং হানাফী মুজতাহিদগণের দ্বারা হুজ্জাতে শরী'আতকে খণ্ডনও করা হয়েছে। এটা কুফর না ঈমান?

টিকাঃ
১৮৫. তালহা বলেন: আমি ইবনে 'আব্বাসের পিছনে জানাযার সালাত পড়েছি। তিনি সূরা ফাতিহা পড়লেন। অতঃপর বললেন, (আমি উচ্চৈঃস্বরে এ জন্যে পড়েছি) লোকেরা যেন বুঝতে পারে এটা সুন্নাত।” [সহীহ বুখারী- কিতাবুল জানায়িয]

📘 মাযহাব ও তাকলীদ 📄 উপসংহার

📄 উপসংহার


তাক্বী সাহেবের বইটির জবাব শেষ হল। আমরা তাঁর ভুলগুলো দূর করার জন্য সাধ্যমত সংক্ষেপে জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছি। আমরা বিরোধগুলো নিরসণ ও তার বিস্তৃতি রোধেরই উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা আমাদের চিরাচরিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিষয়গুলো কথার চাইতে তাবলীগি কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করার বেশী পক্ষপাতী।

তাক্বী সাহেব আমাদের প্রথম প্রকাশিত বইটি দেখলেও তা থেকে একটিমাত্র প্রশ্নের জবাব ছাড়া আর কোন উত্তর দেয়ার চেষ্টাটুকুও করেন নি। তাঁর দেয়া জবাবটিরও প্রকৃত জবাব আমরা উল্লেখ করেছি। এরপূর্বেও আমরা যেসব প্রশ্ন করেছিলাম তার জবাবও 'মাসিক ফারানের' মাধ্যমে তাক্বী সাহেব নিজের লেখা 'তাক্বলীদ কিয়া হে' প্রবন্ধটিতে দেন নি। বরং আমাদের প্রশ্নটি পরিবর্তন করে জবাব দিয়েছেন।

তাক্বী সাহেব! আপনি নিজেই অনেক মাসায়েল সুস্পষ্ট হাদীসের বিরোধী থাকায় প্রচলিত তাক্বলীদকে খারাপ জানার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ পর্যায়ে নিচের মাসআলাগুলোকেও মেনে নিন:

১) পুরুষ ও নারীর সালাত আদায়ের পদ্ধতিগত পার্থক্য সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। সুতরাং এখন থেকে উভয়ের সালাতে পদ্ধতি একই হিসাবে ঘোষণা করুন。
২) অযুতে হাতের পাতার পিঠ দ্বারা গর্দান মাসেহ করা ছেড়ে দিন। কেননা মাসেহ করার এ পদ্ধতিটি কোন সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়।
৩) জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা শুরু করে দিন।
৪) রুকু'তে যেতে ও রুকু' থেকে উঠতে রফ'উল ইয়াদাঈন করুন। কেননা, এটা সহীহ মুতওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
৫) ফরয সালাতের চার রাক'আতেই ক্বিরাআত পড়া ফরয গণ্য করুন।
৬) ইমামকে সাক্তা করার হুকুম দিন।
৭) সাক্তার মধ্যে মুক্তাদীকে সূরা ফাতিহা পাঠ করার হুকুম দিন।
৮) হালালাহ (হিল্লা) প্রথা বন্ধ করুন। এটা খুবই নিকৃষ্ট কাজ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px