📄 ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পাঠ
ভুল ধারণা- ৬: একটি হাদীসে নবী ﷺ বলেছেন: مَنْ كَانَ لَهُ إِمَامٍ فَقِرَاءَةَ الْإِمَامِ لَهُ قِرَاءَة "যার কোন ইমাম আছে, ইমামের ক্বিরাআত তারই ক্বিরাআত।” [ইবনে মাজাহ]
এ থেকে বুঝা যায় যে, সালাতের মধ্যে যখন ইমাম ক্বিরাআত করেন তখন মুক্তাদী চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকবে।
অপর একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: لا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأُ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ "যে সূরা ফাতিহা পাঠ করে না তার সালাত নেই।" [সহীহ বুখারী]
এই হাদীসটি থেকে বুঝা যায় যে, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করা জরুরী। এ দু'টি হাদীসকে সামনে রাখলে এ জটিলতার সৃষ্টি হয়। প্রথম হাদীসটিকে মৌলিক হিসাবে গণ্য করলে বলা যায়, দ্বিতীয় হাদীসটি ইমাম ও মুনফারিদ৪১ সম্পর্কীত এবং মুক্তাদী থেকে আলাদা। আবার দ্বিতীয় হাদীসটিকে মৌলিক হিসাবে গণ্য করলে বলা যায় যে, প্রথম হাদীসটির অর্থ হল, সূরা ফাতিহা ছাড়া অন্য সূরা (ইমামের পাঠ করাই মুক্তাদীর জন্য যথেষ্ট) এবং সূরা ফাতিহা তা থেকে ভিন্ন (অর্থাৎ মুক্তাদীকে ফাতিহা পাঠ করতে হবে)। (ফারান, পৃঃ ১২-১৩)
সংশোধন: এর প্রথম জবাব হল, দ্বিতীয় হাদীসটি সহীহ মুত্তাসিল সনদযুক্ত। পক্ষান্তরে প্রথমটি মুরসাল হওয়ার কারণে য'য়ীফ। একারণে প্রথমটি দ্বিতীয়টির মোকাবেলায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সহীহ হাদীসটির উপরই আমল করতে হবে।৪২
দ্বিতীয় জবাব হল, যে দু'টি পদ্ধতি আপনি প্রস্তাব করেছেন তারও সমাধান নিম্নোক্ত হাদীসে রয়েছে।
রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: وَلَا تَقْرَءُوا بِশَيْءٍ مِنَ الْقُرْآنِ إِذَا جَهَرْتُ إِلَّا بِأَمِّ الْقُرْآنِ
"যখন আমি যেহরী ক্বিরাআত করি তখন কুরআন থেকে কিছুই পাঠ করো না- তবে সূরা ফাতিহা ছাড়া। (আবূ দাউদ ১/১২৬ পৃঃ, নাসায়ী, দারা কুতনী পৃ: ১২১- তিনি বলেছেন: বর্ণনাকারী সবাই সিক্বাহ) অন্য বর্ণনায় আছে: لا صلوة لمن لم يقرأبها
"কেননা সূরা ফাতিহা ছাড়া সালাতই হয় না।” (আবূ দাউদ, তিরমিযী)
এই হাদীস বিভিন্ন সাহাবীদের থেকে অনেকগুলো সনদে বর্ণিত হয়েছে এবং এর শুদ্ধতার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। এ সমস্ত হাদীস উপস্থাপনার মাধ্যমে তাক্বী সাহেবের এ সম্পর্কে পূর্বোক্ত সংশয় খণ্ডিত হল। অর্থাৎ মুক্তাদীকে যেহরী ক্বিরাআতে সূরা ফাতিহা পাঠ করতে হবে। দ্বিতীয় সূরাটি পাঠ করতে হবে না। যদি এর ব্যাখ্যা হাদীসে না থাকে, তবুও কি কারো জন্য এটা বৈধ হবে যে, সে নিজের তরফ থেকে কোন নিয়ম নির্দিষ্ট করবে। যদি এটা করা যায় তবে তো- এ শরী'আত মনগড়া হয়ে যাবে। আর এটা তো শিরক। তাছাড়া হাদীসে বিদ্যমান ব্যাখ্যা ছাড়া যদি অন্য কোন ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হয় তবে তা দ্বীনের বিকৃতি হয়, যা সুস্পষ্ট কুফরী। এ কারণে এর মাসআলায় হানাফীগণ শিরক ফিত-তাশরি'য়ী ও দ্বীনের বিকৃতি তথা কুফর- এই দু'টি দোষেই দোষী হয়।
টিকাঃ
৪১. মুনফারেদঃ একাকী সালাত আদায়কারী।
৪২. বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: "ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পাঠ ও মাসায়েলে সাকতা" [-সঙ্কলক: কামাল আহমাদ, আতিফা পাবলিকেশন্স, ঢাকা]।