📄 ‘তাক্বলীদ’ শব্দটি নিয়ে সংশয়
ভুল ধারণা- ১ : তাক্বী উসমানী সাহেব লিখেছেন: আমাদের জন্য এটা নিশ্চিতভাবে বলা অসম্ভব যে, যে বিষয়কে আজ আমরা তাক্বলীদের নামে চিহ্নিত করছি, এটাকে সর্বপ্রথম কোন আলেম 'তাক্বলীদ' হিসাবে ব্যবহার করেছেন!? কিন্তু একথা আমরা নিশ্চিতভাবে অবশ্যই বলতে পারি, এই শব্দটির কারণে যে ভুল ধারণার উৎপত্তি হয়েছে- যদি এর 'ইলম শুরু থেকে প্রতিষ্ঠিত থাকত তবে এ সমস্ত ব্যক্তিরা কখনই এর নাম 'তাক্বলীদ' রাখতেন না। (ফারান মে'-১৯৬৫, পৃ: ১১)
সংশোধন: আলোচ্য উদ্ধৃতি থেকে দু'টি বিষয় পাওয়া যায়।
১) 'তাক্বলীদ' শব্দটি আবিষ্কারকের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।
২) 'তাক্বলীদ' শব্দটির ব্যবহারের কারণেই ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রথম অংশটির ব্যাপারে আমাদের কিছু বলার নেই। অবশ্য দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে বক্তব্য হল, 'তাক্বলীদ' শব্দটির থেকে ভুল ধারণার সৃষ্টি হয় নি, বরং এর বৈশিষ্ট্য ও পরিণতির কারণেই একে খারাপ ভাবা হয়।
ভুল ধারণা- ২: তাক্বলীদের অর্থ কোন গোলামকে গলাবন্ধ পড়ানো। যদি এর শাব্দিক অর্থের প্রতি দৃষ্টি রাখা হয়, তবে নিঃসন্দেহে মুজতাহিদ বা ফক্বীহর তাক্বলীদ সম্পর্কে একটি ভুল ধারণাই উপস্থাপিত হয়....। এটা কখনই জরুরী নয় যে, আভিধানিকভাবে কোন শব্দের যে অর্থ লেখা হয় পারিভাষিক দিক থেকেও সেই অর্থই নিতে হবে। সম্ভবতঃ এটাই সেই সূক্ষ্ম দিক যার প্রতি লক্ষ্য না থাকায় তাক্বলীদের ব্যাপারে ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ব্যক্তি এটাকে শিরকের সীমার মধ্যে প্রবেশ করিয়েছেন। আর এভাবেই মতামতের এক বিশাল পাহাড় দাড় করানো হয়েছে। (ফারান, ১১ পৃঃ)
সংশোধন: উল্লিখিত বর্ণনা থেকে তিনটি বিষয় বুঝা যায়:
১) তাক্বলীদের আভিধানিক অর্থই ভুল ধারণা সৃষ্টির কারণ।
২) এই ভুল ধারণার উপর ভিত্তি করে একে 'শিরক'-ও বলা হয়ে থাকে।
৩) 'তাক্বলীদের' পারিভাষিক অর্থ এই ভুল ধারণা থেকে মুক্ত। একারণে পারিভাষিক মর্মানুযায়ী একে শিরকের মধ্যে গণ্য করা যায় না।
পূর্বোক্ত উদ্ধৃতির ভুলটি হল, তাক্বলীদের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ এক নয়। অথচ এ দুয়ের মধ্যে কোনই ফারাক নেই। তাক্বলীদের পারিভাষিক অর্থ শুনুন:
التقليد اتباع الانسان غيره فيما يقول أو يفعل معتقدا الحقيقة فيه من غير نظر وتأمل في الدليل كأن هذا المتبع جعل قول الغير أو فعله قلادة في عنقه من غير مطالبة الدليل - [حاشية حسامی]
“তাক্বলীদ হল কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির কথা বা কাজকে যাচায়-বাছায় ছাড়া অনুসরণযোগ্য দলিল মনে করে এবং এটা আক্বীদা (বিশ্বাস) রাখে যে, সে যা কিছু বলে বা করে তাই হক্ব (সঠিক)। কেননা ঐ মুক্বাল্লিদ (অন্ধ-অনুসারী) ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির কথা ও কাজকে নিজের গলাবন্ধ (লাগাম) হিসাবে গলায় পড়ে নিয়েছে এবং এখন ঐ দলিল প্রমাণের দাবী করতে পারে না।” (হাশিয়াহ হুসাম্রী)
এই সঙ্গা প্রদানের পর এ কথা সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, তাক্বলীদের পারিভাষিক অর্থ এবং আভিধানিক অর্থ একই। সুতরাং যে ভুল ধারণা এর শাব্দিক অর্থে রয়েছে, সেই একই অর্থ এর পারিভাষিক অর্থেও প্রকাশ পায়। শেষাবধি এটাই সুস্পষ্ট হল, যদি আভিধানিক অর্থে তাক্বলীদ শিরকের মধ্যে দাখিল হয়ে থাকে তবে পারিভাষিক অর্থেও এটা শিরকের মধ্যে দাখিল হবে। এখন বলুন- আমাদের ধারণা ঠিক ছিল না ভুল ছিল?
معرفة النفس مالها وما عليها : আবার ফিক্বাহর সঙ্গা শুনুন “মানুষের আবশ্যকীয় কর্তব্যের মা'রিফাতকেই ফিক্বাহ বলে।” (তাওযীহ তালবীহ পৃ:১) فالمعرفة ادراك الجزئيات عن دليل فخرج التقليد
"দলীলের সাথে খুঁটিনাটি ও ব্যাপক জ্ঞানই মা'রিফাত - সুতরাং এর দ্বারা তাক্বলীদ খারিজ হয়।” (তাওযীহ তালবীহ পৃ:১১)
উসূলে ফিকাহর আলোচ্য বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হয়, মুক্বাল্লিদ ফক্বীহ হতে পারে না। তার দলিল তথা কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে 'ইলম থাকে না। আরো সুস্পষ্ট হবার জন্য উসূলে ফিক্বাহ থেকে নিচে উদ্ধৃতি দিলাম :
لا يقال على المقلد لتقصيره عن الطاقة
“মুক্বাল্লিদকে ফক্বীহ বলা যেতে পারে না। কেননা, তার দলিল-প্রমাণ চেনার ক্ষমতা নেই।” (তাওযীহ তালবীহ পৃঃ৩)
এ সম্পর্কে হাদীস শুনুন। রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
مَنْ يُرِدْ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقَهُ فِي الدِّينِ
"আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে তিনি দ্বীনের ফক্বীহ বানিয়ে দেন।২২
এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হল, 'ফিকুহ' একটি উত্তম জিনিস। মুক্বাল্লিদ ফক্বীহ নন। এ কারণে সে উত্তম বিষয় হতে বঞ্চিত।
শিক্ষণীয় দিক: উপরোক্ত আলোচনা থেকে তাক্বলীদ সম্পর্কে নিম্নোক্ত ধারণাগুলো পাওয়া যায়:
১. (তাক্বলীদ হল) কোন মানুষের পূর্ণাঙ্গ গোলামী ও আনুগত্য (অথচ তা কেবল আল্লাহ'র হক)।
২. আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রদত্ত জ্ঞান অর্থাৎ, কুরআন ও হাদীসের জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হওয়া। (অথচ এর অর্থ হল, উত্তম বিষয় থেকে বঞ্চিত হওয়া।)
৩. জাহেলিয়াত ও শিরক।
এখন তাক্বলীদের নাম আপনারা যাকিছুই রাখেন না কেন- যদি এর দাবী একই হয়, তবে আমাদের অভিযোগ একই ভাবে অব্যাহত থাকবে। তাক্বী সাহেবের নিম্নোক্ত আলোচনা আমাদের পক্ষ সমর্থন করে:
"একথা কোন মুসলিমই অস্বীকার করতে পারে না যে, দ্বীনের প্রকৃত দাবী হল- শুধুমাত্র আল্লাহর আনুগত্য করা যাবে। এছাড়া রসূলুল্লাহ ﷺ এর আনুগত্য এই জন্য করা ওয়াজিব যে, নবী নিজের কথা ও কাজের মাধ্যমে আল্লাহর হুকুমের ব্যাখ্যা করেছেন। কোন জিনিস হালাল আর কোন জিনিস হারাম? কি জায়েয এবং কি নাজায়েয? এ সমস্ত বিষয়ের আনুগত্য শুধুমাত্র আল্লাহ ও রসূলের জন্য সুনির্দিষ্ট। আর যে রসূল ছাড়া অন্য কারো ইতা'আত (আনুগত্য) করার কথা বলে এবং তাকে সুনির্দিষ্টভাবে অনুসরণীয় হিসাবে গণ্য করে সে নির্ঘাত ইসলামের গন্ডী থেকে বের হয়ে যায়। সুতরাং সমস্ত মুসলমানের জন্য এটা জরুরী যে, তারা কুরআন ও সুন্নাতের আহকামের অনুসরণ করবে।" (ফারান, পৃঃ ১১)২৩
তাক্বী সাহেবের আলোচ্য বর্ণনার সাথে সাথে তাক্বলীদের পারিভাষিক ব্যাখ্যাও পাঠ করুন। এই পরিভাষা থেকে কি এটা প্রমাণিত হয় না যে, মুক্বাল্লিদ নিজের ইমামকে সুনির্দিষ্টভাবে অনুসরণীয় হিসাবে গণ্য করে, আর এটাই শিরক।
আরো বিস্তারিত শুনুন: امَا الْمُقَلِدْ فَالْدِيلُ عِنْدَهُ قَوْلُ مُحْتَهِদْ فَالْمُقَلِدْ يَقُولُ هَذَا الْحُكْمُ عِنْدِى لِاَنَّهُ اَدَّى اِلَيْهِ رَاْىُ اَبِى حَنِيْفَةَ وَكُلُّ مَا أَدَّى إِلَيْهِ رأَيُهُ فَهُوَ دَافِعُ عِنْدِى
"মুক্বাল্লিদদের জন্য মুজতাহিদের কথাই দলিল। এজন্যে মুক্বাল্লিদ বলে যে, আমার কাছে এটাই হুকুম। কেননা আবু হানিফার রায় আমার পর্যন্ত পৌঁছেছে। আর তাঁর রায়ের যে হুকুম আমার পর্যন্ত পৌঁছেছে সেটাই আমার কাছে মৌলিক।” (তাওযীহুত তালবীহ)
শর'য়ী হুকুম সেটাই- যা আল্লাহ হুকুম করেছেন। কোন মুজতাহিদের রায় আল্লাহর হুকুম হতে পারে না। সেজন্য তার রায়কে শর'য়ী হুকুম মনে করা ও তার উপর আমল করা "শির্ক ফিল হুকুম"-এর মধ্যে গণ্য নয় তো আর কি? বর্ণিত উদ্ধৃতি থেকে এটা পরিষ্কার যে, মুক্বাল্লিদ নিজের ইমামকে নির্দিষ্টভাবে অনুসরণীয় গণ্য করে। যদিও ঐ সমস্ত হুকুম নীতিগত দিক থেকে আল্লাহর হুকুমের অনুকূল বা প্রতিকূল কিংবা অতিরঞ্জিত, হয়- মুক্বাল্লিদ সবগুলোকেই সহীহ মনে করে। সুতরাং তাক্বী সাহেবের কথানুযায়ী "সে সুস্পষ্টভাবে ইসলামের গন্ডি থেকে বের হয়ে গেল।” (ফারান, পৃঃ ১১)
ভুল ধারণা- ৩: আমি আমার বক্তব্য সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করে থাকলে একথা আপনার কাছে পরিষ্কার হয়েছে যে, কোন ইমাম বা মুজতাহিদের তাক্বলীদ শুধুমাত্র সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে- যখন কুরআন ও সুন্নাতের কোন হুকুম বুঝার ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ততা, দ্ব্যর্তবোধকতা অথবা বৈপরিত্যের কারণে কোন সমস্যা ও জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। আর কুরআন ও সুন্নাতের যে সমস্ত আহকামের মধ্যে কোন সংক্ষিপ্ততা, দ্ব্যর্থবোধকতা অথবা কোন রকম জটিলতার সম্মুখীন হতে হয় না, সেক্ষেত্রে মুজতাহিদের তাক্বলীদের প্রয়োজন নেই। (ফারান, পৃ: ১৩)২৪
সংশোধন: যদি সুস্পষ্ট আহকামে তাক্বলীদের প্রয়োজন না থাকে তবে এটা বলুন- একজন সাধারণ মানুষ ঐ আহকাম কিভাবে বুঝবে? এখন যদি সে কোন আলেমকে জিজ্ঞাসা করে, আর যদি এই জিজ্ঞাসা করাটা তাক্বলীদ না হয়ে থাকে- তবে কোন অস্পষ্ট হুকুমেরও জিজ্ঞাসা করাটাও তাক্বলীদ হবে না। যদি এটা তাক্বলীদ হয়, তবে তার এই জিজ্ঞাসাটা কোন (জীবিত) আলেমের প্রতি ছিল, না কোন মৃত ব্যক্তির প্রতি ছিল? তাছাড়া এটা তো তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানো, কখনই স্থায়ী দাবী পূরণের জন্য এমনটি করা হয় না। অথচ আপনাদের তাক্বলীদ স্থায়ীভাবেই প্রতিষ্ঠিত।২৫
যদি অস্পষ্ট আহকামে তাক্বলীদ জরুরী হয় তবে এর অর্থ হল মুক্বাল্লিদ কোন মুজতাহিদের রায়কে গ্রহণ করতে পারবে। যার ফলে আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে গায়রুল্লাহর রায়ও শামিল হয়ে যাবে। আর এটাই 'শিরক ফিল হুকুম'। আল্লাহ বলেন:
ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ "অতঃপর এর ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই।”২৬ অথচ তাক্বী সাহেব বলেছেন, কোন আহকাম অস্পষ্ট যার ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। যার অর্থ হল, আল্লাহ যে দায়িত্ব নিয়েছেন তা পূরণ করেন নি। এটা কি সঠিক?
এ পর্যায়ে তাক্বী সাহেব কিছু অস্পষ্ট আহকামের উদাহরণ দিয়েছেন। এ আহকাম উপস্থাপনের উদ্দেশ্য ছিল- এগুলো অস্পষ্ট আহকাম তাই এর ব্যাখ্যার জন্য তাক্বলীদ জরুরী।
টিকাঃ
২২. সহীহ: সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, মিশকাত (এমদাদিয়া) ২/১৯০ নং।
২৩ আমরা তাক্বী উসমানী সাহেবের বক্তব্যের শাব্দিক তরজমা করেছি। বইটির বাংলা অনুবাদক মূলভাবে অনুবাদ করেছেন।
২৪ [মাযহাব কি ও কেন? অনুবাদঃ আবু তাহের মেসবাহ (ঢাকা: মুহাম্মাদী লাইব্রেরী, তারিখ বিহীন, পৃ: ১১]
২৫ দলীলের দুর্বলতা ও ভুল সুস্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও তাক্বলীদের কারণে মাযহাবী আলেমগণও ফিরে আসেন না। পক্ষান্তরে সাধারণ মানুষ কর্তৃক জীবিত আলেমদেরকে জিজ্ঞাসা করার বিষয়টি - এককভাবে সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি বিশেষ আলেমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এ কারণে আলেমকে জিজ্ঞাসা করা ও মৃত ইমামের তাক্বলীদের উপর দৃঢ় থাকা দু'টি বিষয় এক নয়। (অনুবাদক)
২৬. সূরা ক্বিয়ামাহ : ১৯ আয়াত।
📄 ইসলাম সুস্পষ্ট ও সংশয়মুক্ত
শিক্ষণীয় দিক: তাক্বী সাহেবের উপস্থাপিত তিনটি অস্পষ্ট 'ও জটিল বিষয় হাদীস দ্বারাই সমাধান হল। সুতরাং তাক্বলীদের আর কোন প্রয়োজন থাকল না। ইসলামী শরী'আতকে অস্পষ্ট ও দূর্বোধ্য গণ্য করাটা নিচের হাদীসগুলোর বিরোধী।
১. আবু দারদা বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: وَايْمُ اللَّهِ لقد ترکتکم علی مثل البيضاء ليلها ونهارها سواء
"আল্লাহর কসম! আমি তোমাদেরকে সুস্পষ্ট শরী'আতের উপর ছেড়ে দিয়েছি। এর রাত ও দিন দু'টিতেই সমান আলো বিদ্যমান।"৪৩
২. জাবির বিন 'আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: أَمْتَهَوِّكُونَ أَنْتُمْ كَمَا تَهَوَّكَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى ، لَقَدْ جِئْتُكُمْ بِهَا بَيْضَاءَ نَقِيَّةٌ
"তোমরা কি এরকম অস্পষ্টতার মধ্যে আছ যেভাবে ইয়াহুদী ও নাসারাগণ আছে? নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য সম্পূর্ণ উজ্জ্বল ও সুস্পষ্ট দ্বীন এনেছি।"৪৪
তাক্বী সাহেব! এই দ্বীন তো সুস্পষ্ট, এর মধ্যে অস্পষ্টতা কোথায়? আল্লাহ বলেন: وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ
"আল্লাহ নিজের নূরকে প্রতিষ্ঠিত করবেন, যদিও কাফিরদের কাছে তা কতইনা অপছন্দনীয়।" [সূরা সফ: ৮ আয়াত]
নূরে হিদায়াতও তো পূর্ণাঙ্গ হয়ে গেছে। এখন অন্ধকার কোথায় এবং সংশয়ের অবকাশ কোথায়?
লক্ষণীয় দিক: ধরা যাক, শরী'আতে যদি সংশয় থাকে, কিংবা অস্পষ্টতা থাকে তবে এটা দূর করার একমাত্র পথই কি তাক্বলীদ করা? কক্ষণই না। শিষ্য উস্তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করবে, অজ্ঞ আলেমের কাছে জিজ্ঞাসা করবে এবং এক আলেম অন্য আলেমের সাথে আলাপ-আলোচনা করে ঐ অস্পষ্টতা দূর করতে পারে।
টিকাঃ
৪৩ হাসান: ইবনে মাজাহ- কিতাবুল ঈমান ওয়া ফাযায়েলে সাহাবাহ বাবে ইত্তিবাউ সুন্নাহ ; আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (তাহ: ইবনে মাজাহ হা/৫) অনুরূপ মুসনাদে আহমাদে 'ইরবাষ থেকে বর্ণিত হয়েছে। (বুলুগুল আমানী ১/১৮৯ পৃঃ, এর সনদ সহীহ)
৪৪. হাসান: আহমাদ, বায়হাক্বী 'শু'আবুল ঈমান, তাহক্বীক মিশকাত হা/১৭৭।
📄 সালাফদের অনুসরণ বনাম মাযহাবের অনুসরণ
ভুল ধারণা- ৭: আপনারা লক্ষ্য করেছেন, কুরআন ও হাদীস থেকে আহকাম নির্ণয়ে এ জাতীয় অনেক জটিলতা পরিলক্ষিত হয়। এক্ষেত্রে একটি পথ হল, নিজের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার উপর নির্ভর করে এ জাতীয় বিষয়ে স্বয়ং নিজেরাই ফায়সালা গ্রহণ করা। দ্বিতীয় পন্থা হল, আমরা এটা দেখব যে, এ সমস্ত বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাতের নির্দেশকে আমাদের সম্মানিত সালাফগণ (পূর্ববর্তী নেককারগণ) কিভাবে বুঝেছিলেন। (ফারান, ১৩ পৃঃ)
সংশোধন: যে জটিলতা আপনি উপস্থাপন করেছেন সেগুলোর সবইতো সমাধান করে দিয়েছি। সুতরাং কুরআন ও হাদীস বুঝার ক্ষেত্রে কোনই জটিলতা থাকল না, শর্ত হল 'ইলম থাকা। এখন যদি কেউ আলেম হওয়া সত্ত্বেও জাহেলে পরিণত হয় তবে তো সেটা তাঁর নিতান্তই মন্দ ভাগ্য।
এটা তো ঠিকই যে, কুরআন ও হাদীস সালাফগণ (সাহাবীগণ) যেভাবে বুঝেছিলেন সেভাবেই আমাদেরকে বুঝতে হবে। সেটার কোন নতুন ব্যাখ্যা করা যাবে না। কিন্তু এর অর্থ এটা নয় যে, সালাফদের কোন এক ব্যক্তির ফায়সালাকে গ্রহণ করতে হবে এবং তার বিপরীতে অধিকাংশ পূর্বসূরীদের ফায়সালার ব্যাপারে অন্ধ থাকতে হবে। এখন যদি আমরা এটাকে ফরয হিসাবে গ্রহণ করি যে, এই ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ-ই নেই তবে তো এটা অনেক বড় বোকামী হবে। কেননা, হতে পারে ঐ ব্যক্তির কাছে সুনির্দিষ্ট বিষয়ের হাদীসটি পৌছে নি। এ কারণে হাদীস থাকা সত্ত্বেও ঐ ব্যক্তির কথাকে কিভাবে দলিল হিসাবে গ্রহণ করা যেতে পারে? ৪৫
ভুল ধারণা- ৮ : ইসলামের প্রথম যুগের বুযূর্গদের মধ্যে যাকে কুরআন ও সুন্নাতের ব্যাপারে জ্ঞানের দিক থেকে বেশী দক্ষ দেখব, তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার উপর আস্থা রাখব এবং তিনি যা কিছু বুঝবেন- সেই মোতাবেক আমল করব। (ফারান, পৃ:১৩)
সংশোধন: যদি মুক্বাল্লিদ এটা বুঝতেই পারত যে, কোন বুযূর্গ কুরআন ও সুন্নাতের দিকে দিয়ে বেশী অভিজ্ঞ- তবে তো সে ঐ বুযুর্গের চেয়ে বেশী বেশী জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে সমস্ত বুযূর্গদের ফেক্বাহ অবগত হয়ে জ্ঞানের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদি এখনও সে তাক্বলীদ করে তবে এর অর্থ দাঁড়ায়, সে নিজের চেয়ে অল্প জ্ঞানী ব্যক্তির তাক্বলীদ করে- যা সম্পূর্ণরূপে হাস্যস্পদ বিষয়ে পরিণত হয়।
তাক্বী সাহেব এটা বলুন তো, এ মুহূর্তে দুনিয়ার যে কোটি কোটি মুক্বাল্লিদ আছে, তাদের মধ্যে কে কে এটা অবগত যে কোন বুযুর্গ কুরআন ও হাদীসের ব্যাপারে বেশী অভিজ্ঞ। যদি কেউই না জানে তবে (মূর্খ) মুক্বাল্লিদ কিভাবে এটা বুঝবে? তাহলে কেন এটা বলা যাবে না যে, তাদের ভেতরে বাপ-দাদার তাক্বলীদ সংক্রমিত হয়েছে। অর্থাৎ বাপের মাযহাব হয়েছে ছেলের মাযহাব। যদি সে হানাফী পরিবারে জন্মে তবে তারা ইমাম আবু হানিফাকে সবচেয়ে বড় ইমাম জানবে। যদি সে শাফে'য়ী পরিবারে জন্মে তবে সে ইমাম শাফে'য়ীকে বেশী জ্ঞানী জানবে। যদিও কোন বুযুর্গের ছেলে আলেম হোক না কেন মুক্বাল্লিদ পরিচয়েই তার জন্ম হয়। এভাবে মুক্বাল্লিদ সব-সময়ই মুজতাহিদ ও নিজের বাপ-দাদার মুক্বাল্লিদ হয়। এ দু'টো তাক্বলীদের তিরষ্কারই কুরআনের আয়াতে আছে। আফসোস! এ জাতীয় তাক্বলীদের ব্যাপারে। আচ্ছা, তাক্বী সাহেব! এটা বলুন তো- আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু অনেক বড় ইমাম ছিলেন, না ইমাম আবূ হানিফা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি? আপনি তো যাকে বড় আলেম মনে করেন তাঁর তাক্বলীদ করেন। এ পর্যায়ে আপনার কাছে কি আবূ হানিফা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বড় ইমাম?
ভুল ধারণা- ৯ : পূর্ববর্তী আলোচনার দিকে লক্ষ্য রেখে যদি আমরা নিজেদের বুদ্ধি-বিবেচনার উপর আস্থা স্থাপনের পরিবর্তে বিভিন্ন জটিল বিষয় ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সালাফদের মধ্যে কোন আলেম যেটা বুঝেছেন সেটাকে গ্রহণ করি- তখন এ প্রক্রিয়াকেই বলা হয়, আমরা অমুক আলেমের তাক্বলীদ করি। (ফারান, পৃঃ ১৩)
সংশোধন: মুক্বাল্লিদের এতটা জ্ঞান কোথা থেকে আসবে যার ফলে সে বুঝবে- সালাফদের মধ্যে থেকে অমুক আলেমের উদ্দেশ্যটি সঠিক। এর সমাধান তো কেবল আলেমই করতে পারে, জাহেল পারবে না। এটা সত্যিই বিস্ময়কর যে, কখনো আপনারা আলেমকে জাহেল বানাচ্ছেন- যেন সে তাক্বলীদকে বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ করে। আবার কখনো মুক্বাল্লিদকে এত বড় আলেম বানাচ্ছেন যে, সে কোন ইমামের উক্তি সম্পর্কীত ফায়সালাটির সঠিক বা বেঠিক নির্ণয় করতে পারে।
[অর্থাৎ তাক্বলীদ ছেড়ে দেয়া আলেমদের দায়িত্ব। অজ্ঞ ব্যক্তি সহীহ বুখারী এবং হিদায়াহ বা ফাতাওয়ায়ে আলমগীরের কোনটি অনুসরণ করতে হবে- এক্ষেত্রে তার সিদ্ধান্ত দানের ক্ষমতা নেই। -অনুবাদক]
টিকাঃ
৪৫ এ অবস্থাগুলোকে তাক্বলীদ গণ্য করে মাযহাবী ও কোন কোন সালাফী আলেমরা ভুল করছেন। (অনুবাদক)
📄 শরী‘আত প্রণেতা বনাম শরী‘আতের ব্যাখ্যাদাতা
ভুল ধারণা- ১০ : উপরের আলোচনা থেকে এটা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে, কোন ইমাম ও মুজতাহিদের তাক্বলীদের উদ্দেশ্য কখনই এটা নয় যে তাকে শরী'আত প্রণেতার মর্যাদা দিতে হবে। বরং এর উদ্দেশ্য হল, কুরআন ও সুন্নাতের অনুসরণ করা। শুধুমাত্র কুরআন ও সুন্নাতের উদ্দেশ্য বুঝার জন্য এবং শরী'আতী আইনের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রেই তার উপর নির্ভর করা হয়ে থাকে। (ফারান, পৃঃ ১৩)
সংশোধন: তাক্বলীদের যে ব্যাখ্যা এবং মুক্বাল্লিদের যে আক্বীদা পূর্বে উসূলে ফিক্বাহর কিতাবগুলো থেকে উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে, তা থেকে এটা বুঝা যায় - যেহেতু সে শরী'য়াত প্রণেতা এ কারণে মুক্বাল্লিদের জন্যে সেগুলো পালন করা ওয়াজিব।
সব রায়ই যা তাঁর পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়, তা আমার জন্য ধ্রুব সত্য হিসেবে গৃহীত। [তৌযীহ তালবীহ]
"যা ইমাম আবূ হানিফার রায়, সেটাই আমার জন্য পালন করা ওয়াজিব।"
এখানে ইমামের রায়কেই প্রকৃত উদ্দেশ্য বানানো হয়েছে। এ সুযোগ রাখা হয় নি যে, যদি তার রায় ভুল হয় তবে ছেড়ে দেব। কেননা, ইমামের প্রতিটি রায়কে সে নিজের জন্য ওয়াজিব গণ্য করে নিয়েছে। এভাবে সে নিজের ইমামকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার মর্যাদা দিয়ে দিয়েছে-আর এটাইতো শিরক।
এভাবে যদি আপনি তাক্বলীদের দুনিয়ার প্রতি দৃষ্টি দেন তবে দেখতে পাবেন, সুস্পষ্ট সহীহ হাদীসের মোকাবেলায় তারা ইমামের রায়কে গ্রহণ করছে। যদি এটা শরী'আতদাতা নির্ধারণ না হয়, তবে এটাকে আর কি বলা যাবে? এজন্য শাহ্ 'আব্দুল 'আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী লিখেছেন:
علماء را به پیغمبری رسانیده شود بلکه بخدائے
"মুকাল্লিদগণ আলেমদের রসূলের মর্যাদা দিয়েছে। এমনকি আল্লাহর মর্যাদায়ও অধিষ্ঠিত করেছে।" [ফাতাওয়ায়ে 'আযীযিয়াহ ১/১৭৬ পৃঃ]
হানাফী ফিক্বাহতে এমনও অনেক মাসায়েলের স্তুপ আছে- যা কুরআন ও হাদীসের কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। বরং কিছু কিছু তো সুস্পষ্টভাবে কুরআন ও হাদীসের বিরোধী। এটা কি শরী'আতকে বিকৃত করা নয়? যদি সেটা না-ই হয়, তবে এ জাতীয় মাসায়েলের পক্ষে কুরআন ও হাদীস থেকে প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবেন? যদি না পারেন, তাহলে কি শরী'আতদাতা বানানো হলো না? এটা কি শিরক নয়? (এ জাতীয় কিছু মাসায়েলের উদাহরণ এই বইয়ের শুরুতে দেয়া হয়েছে)
আপনারা বলছেন যে, আমরা তাকে (ইমামকে) শরী'আতদাতা মনে করি না, বরং ব্যাখ্যাকারী মনে করি। কিন্তু এটাও তো সহীহ নয়। কেননা স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই শরী'আতের ব্যাখ্যাদাতা।
আল্লাহ নিজেই বলেন: ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ "অতঃপর এর ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই।"৪৬
কুরআনের ব্যাখ্যার দায়িত্ব যখন আল্লাহ রসূলের নিকট অহীর মাধ্যমে প্রেরণ করে পূর্ণাঙ্গ করে দিয়েছেন এবং ঐ অহীর অধীন রসূলকে এর ব্যাখ্যা পৌছে দেবার পদমর্যাদা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ দলিল হিসাবে নির্ধারণ করেছেন।
আল্লাহ বলেন: وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ “(হে রসূল!) আমি এ শরী'আত আপনার উপর নাযিল করেছি, যেন আপনি লোকদের জন্যে তাদের প্রতি নাযিলকৃত শরী'আতের ব্যাখ্যা করেন।"৪৭
আসল কথা হল, ব্যাখ্যার প্রমাণও সেটাই যা রসূলের মাধ্যমে পাওয়া যায়। আর যে ব্যাখ্যা রসূলের ব্যাখ্যা ছাড়া পৌঁছে নি, বরং কৃত্রিমভাবে রচিত তবে এটা আল্লাহর দেয়া ব্যাখ্যার মোকাবেলায় উপস্থাপিত হলে - সেটাই শিরক। শরী'আতদাতা ও ব্যাখ্যাকারী উভয়ই আল্লাহ। যদি ইমামকেও আপনারা ব্যাখ্যাদাতা মনে করেন তবে এটাও শিরক। [যেখানে কুরআন ও রসূলের সুন্নাতে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকার পরও উলামাদের অনুসরণের নামে ভিন্ন ব্যাখ্যার অনুসরণ করা হয় - তখনই সেটা বিধানগত শিরক হয়। (অনুবাদক)]
প্রশ্নঃ রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: مَنْ أَدْرَكَ مِنْ الصُّبْحِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الصُّبْحَ
“যে সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের এক রাক'আত পেয়েছে- সে ফজরের সালাত পেয়েছে।”৪৮
বলুন, এই হুকুমের মধ্যে জটিলতা কোথায়?
আপনারা কেন এই হাদীসকে গ্রহণ করেন না?
এ ব্যাপারে কোন দলিল আছে কি?
আপনারা কি কেবল কিয়াসের সাহায্যে এটা খণ্ডন করেন না?
যদি আপনারা একথা বলেন, সূর্য উঠার সময় সালাত আদায় করা নিষিদ্ধ, সেজন্য আমরা এ হাদীস গ্রহণ করি না। তাহলে জবাব দিন, ঐ সময় ফরয সালাত শুরু করা নিষিদ্ধ, নাকি শুরু করা ফরয সালাত পূর্ণ করাটাও নিষিদ্ধ? দু'টি হাদীসের উদ্দেশ্যতো পরিষ্কার। অর্থাৎ এমন সময় সালাত আদায় নিষিদ্ধ - তবে ঐ ফরয সালাত এর ব্যতিক্রম যার এক রাক'আত ওয়াক্তের ভিতর আদায় করা হয়েছে।
যদি আপনারা এ বিষয়ে জেদ করে বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা 'আম (ব্যাপকার্থক) -এ জন্যে আমরা একে স্বতন্ত্র হিসাবে গ্রহণ করি নাই।
তাহলে প্রশ্ন হলো- যখন হাদীস খাস (সুনির্দিষ্ট অর্থবোধক) হয় তখন কার দুঃসাহস আছে সেটা গ্রহণ করবে না? আর যদি আপনারা খাসকে গ্রহণ না করেন, তাহলে 'আসরের সালাতের ক্ষেত্রে খাসকে কেন গ্রহণ করেছেন? আপনারা আসরের এক রাক'আত সূর্যাস্তের সময় পড়ার অনুমতি দেন। অথচ সূর্যাস্তের সময়ও সালাত পড়ার নিষেধাজ্ঞা আছে। এখানে 'আম হুকুমকে কিভাবে খাস হিসাবে গণ্য করলেন, আবার ফজরের সালাতের ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করলেন না? প্রকৃতপক্ষে আপনারা না 'আম হাদীস মানেন, আর না খাস হাদীস। বরং দু'টিকেই সাংঘর্ষিক মনে করে দু'টিকেই বাতিল করে দিয়েছেন। অতঃপর কেবল কিয়াসের মাধ্যমে সূর্যাস্তের পূর্বে এক রাক'আত আদায়ের অনুমতি দেন, আবার সেই ক্বিয়াসের দ্বারাই সূর্যোদয়ের সময় এক রাক'আত আদায়ের অনুমতি দেন না। বিস্তারিত দেখুন -শরহে বেকায়াহ ও অন্যান্য ফিক্বাহর কিতাব।
বলুন, এটা শরী'আত না ব্যাখ্যা? এরপরও যদি বলেন, আপনারা মুজতাহিদকে শরী'আতদাতা মানেন না- তবে আমরা কেবল 'ইন্না লিল্লাহ' ছাড়া আর কি বলতে পারি? এর স্বপক্ষে আপনার উদ্ধৃতিই পেশ করছি:
"যদি কোন ব্যক্তি কোন ইমামকে শরী'আতদাতার মর্যাদা দিয়ে তাঁর অনুসরণকে ওয়াজিব বলে মনে করে। তবে নিঃসন্দেহে একে শিরক বলা যাবে।” (মাসিক ফারান, পৃ:১৩)
টিকাঃ
৪৬ সূরা ক্বিয়ামাহ: ১৯ আয়াত।
৪৭ সূরা নহল : ৪৪ আয়াত।
৪৮. সহীহ: সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, মিশকাত (এমদা) ২/৫৫৩ নং।