📄 ইজতিহাদের মর্যাদা বনাম স্কিছ্বাহর মনগড়া মাসায়েল
ফারান: "ফিক্বহী ইজতিহাদের নিরাপদ সৌন্দর্য্যের মধ্যে আবদ্ধ থাকাকে নিন্দা করাটা ইলম ও বিবেকের দৈনতার পরিচয় প্রকাশ করে। আর একে শিক্ক বলাটা কেবল বাড়াবাড়িই নয় বরং সুস্পষ্ট যুলুম।" (ফারান, পৃঃ ৩১)
জবাব: কাযী (বিচারক) কুরআন ও হাদীসের আলোকে ইজতিহাদ করে মামলার যে ফায়সালা দেন, ঐ ফায়সালা শরী'আতি আইনের মর্যাদা পায় না। ঐ ফায়সালা তাৎক্ষণিক ও (ক্ষেত্রবিশেষে) জরুরী পরিস্থিতির মোকাবেলা। পক্ষান্তরে ফিক্বাহর মাসআলাকে স্থায়ী আইনের মর্যাদা দেয়া হয় এবং এভাবে সুনির্দিষ্ট করা হয় যে, এগুলো আল্লাহ'র শরী'আত।
সমস্ত মুক্বাল্লিদগণ ঐ সমস্ত মাসআলার উপর আমল করে এবং দলিল হিসাবে সেগুলো উপস্থাপন করে। ঐ মাসআলার আবিষ্কারকগণ কাযী ছিলেন না যে, তাৎক্ষণিকভাবে তাদেরকে জরুরী অবস্থা মোকাবেলার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তারা এমন লোক ছিল যে, তারা ছাড়া আর কেউই একাজ করত না। স্বয়ং নিজেকেই প্রশ্ন ও উত্তরের মধ্যে আবদ্ধ রাখতেন। অতঃপর এর জবাবগুলোকে নিজের ফিরক্বার শরী'আত (বিধান) হিসাবে গণ্য করতেন। এই জাতীয় নকল আইন ও শরী'আত শিরক নয়তো আর কি বলা যেতে পারে? শিককে শির্ক বলাই যদি যুলুম হয়, তবে আল্লাহ-ই হিফাযত করনেওয়ালা। এটা কি রকম ফিক্বহী ইজতিহাদ যে, কিছু হাদীসের মধ্যে আর কিছু ফিকাহর মধ্যে। সহীহ হাদীসের বিরোধী মাসায়েলের প্রবর্তন- যা দ্বীনকে বিকৃত করার নিকৃষ্ট উদাহরণ। এতে এমন মাসায়েলও বন্দী হয়েছে যার না মাথা আছে, আর না পা আছে। যেমন- নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী নব্বই বা একশ' বিশ বছর পর্যন্ত স্বামীর জন্য অপেক্ষা করার পর বিবাহ করবে। সতীনের ছেলে যদি নিজের সৎ মায়ের শরীরে হাত লাগায় তবে সে (সৎ মা) তার স্বামীর জন্য হারাম। মেয়ের গায়ে ভুলে হাত লাগলে বিবি হারাম হয়ে যায়। কাপড় জড়িয়ে (সহবাস) করা হলে গোসল ওয়াজিব হয় না। আঙ্গুলে নাজাসাত (নাপাকী) লেগে গেলে তিনবার চাটলে পাক হয়ে যাবে -ইত্যাদি [দ্রঃ বেহেশতী জেওর]। মাহারুল ক্বাদিরী সাহেবের বক্তব্য অনুযায়ী এগুলোই সেই গূঢ় হিকমাত- যা ফিক্বাহর কিতাবে পাওয়া যায়।
আবার অনেক ক্ষেত্রে শরী'আতের অনেক হারাম করা জিনিস বিকৃতির মাধ্যমে হালাল করা হয়েছে। যেমন- ঈদের সালাতের পূর্বে কুরবানী করা হাদীসে জায়েয নাই। কিন্তু গ্রামের লোকদের জন্য সেটা জায়েয করা হয়েছে (অথচ এটা সুস্পষ্ট বিকৃতি)। শুধু এখানেই থেমে নেই, বরং শহরবাসীদের জন্য হীলার (কৌশলের) মাধ্যমে জায়েয করেছে। সেটা হল, শহরবাসী যদি নিজ কুরবানীর পশু শহরের বাইরে নিয়ে যবেহ করে এবং পুনরায় ঈদগাহে চলে আসে (হিদায়াহ)। এটা কি ধরণে ফিকহী ইজতিহাদ- যার মাধ্যমে আপনি মুক্তি পেতে পারেন? এটা কি শরী'আতের বিকৃতি নয়? এটা কি শরী'আত নিয়ে জালিয়াতি নয়? যদি শরী'আত আল্লাহরই হয় তবে, শরী'আত নিয়ে জালিয়াতি কি শিরক নয়? আল্লাহ বলেন : شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ "আল্লাহ তোমাদের জন্য দ্বীনি শরী'আত বানিয়েছেন।” [সূরা শূরাঃ ১৩ আয়াত]
📄 তাক্বলীদ এবং আল্লাহর ওলী
ফারান: এই জাতীয় মুর্খতাসুলভ আক্বীদা রেখে অভিযোগকারী নিজের দ্বীন ও ঈমানকে শ্রেষ্ঠ মনে করেন। হাজারো 'অলী-আল্লাহগণ যারা কোন না কোন ফিক্বহী মাযহাবের সাথে অবশ্যই সম্পৃক্ত ছিলেন, তাক্বলীদের কারণে কি তাদেরকে হিন্দু সাধুদের কাতারে গণ্য করা যায়? তাক্বলীদ কি মুসলমানকে (মুসলিমকে) দ্বীন থেকে বের করে দেয়, এটা কি ধরণের চিন্তা? কি ধরণের মেজাজ? কি ধরণের বিশ্লেষণ- তওবা আস্তাগফিরুল্লাহ। (ফারান, পৃঃ ৩১)
জবাব: যখন তাক্বলীদই শিক, তখন মুক্বাল্লিদ আল্লাহর ওলী হতে পারে না। তবে আপনি যা ইচ্ছা বলতে পারেন। এমন অনেকেই আছেন যাঁরা তাক্বলীদকে নিজেদের জন্য বাধ্যতামূলক করে নিয়েছেন। এতদসত্ত্বেও তারা ঐ তাক্বলীদকেই কঠোরভাবে খণ্ডন করেছেন এবং তাদের কিতাবসমূহে খণ্ডন লিপিবদ্ধ করেছেন। মুকাল্লিদগণ এটা কি কখনো চেয়েছেন যে, কোন ব্যক্তি তাক্বলীদের গন্ডি থেকে বাইরে থাকুক। যিনি মুক্বাল্লিদ ছিলেন না তাকেও তারা মুক্বাল্লিদ হিসাবে গণ্য করেন। (চিঠির বিষয়বস্তু শেষ হল)
অতপর মাহারুল কাদিরী সাহেবের আবেদনের প্রেক্ষিতে মুহাম্মাদ তাক্বী উসমানী সাহেব আলোচ্য চিঠির জবাবে "তাক্বলীদ কিয়া হে" শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন, তা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যা মাহারুল কাদিরী সাহেব নিজের মাসিক পত্রিকা "ফারান, মে, ১৯৬৫ 'ঈসায়ীতে প্রকাশ করেন। জনাব আব্দুস সামাদ খাঁ প্রবন্ধটি মাসউদ আহমাদ সাহেবের খিদমতে পেশ করেন। তিনি অনুরোধ করেন:
"মাস'উদ আহমাদ সাহেব যেন তাঁর প্রতি সপ্তাহের দারসে হাদীসে এই প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন। তাছাড়া তাক্বী উসমানী সাহেবের যে ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে সেগুলোর সমাধান দিলে খুবই উপকৃত হব।"