📘 মাযহাব ও তাকলীদ 📄 তাক্বলীদ বিদ‘আত

📄 তাক্বলীদ বিদ‘আত


ফারান: "আপনিতো তাক্বলীদকে বিদ'আত বলেছেন। হাদীসেতো তাক্বলীদকে বিদ'আত হিসাবে গণ্য করা হয় নাই।" (ফারান, পৃঃ ৩১)

জবাব: আজকাল যেসব বিদ'আতের প্রচলন ঘটেছে- কোন হাদীসের মাধ্যমে সেগুলো ব্যাখ্যা করা সম্ভব কি? যদি সম্ভব না হয়, তবে সেগুলোকে আপনারা কিভাবে বিদ'আত বলে থাকেন?

tাক্বলীদ যদি বিদ'আত না হয়- তবে তাকে সুন্নাত হিসাবে প্রমাণ করুন, অথবা অন্ততঃপক্ষে সাহাবা ও তাবে'য়ীগণের যামানায় এর অস্তিত্ব দেখান। জবাব দেবার সময় বিশেষজ্ঞগণ তাক্বলীদের যে সঙ্গা এবং এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে হানাফী কিতাবসমূহ থেকে বর্ণনা দিয়েছেন, তার সাথে সম্পর্কীত বিষয়বস্তু হল: ১) উস্তাদ-শাগরেদের সম্পর্ক এবং ২) মুর্খব্যক্তি কোন 'আলিমকে আল্লাহর হুকুমের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছে। তাক্বলীদের সাথে এগুলো যেন জগাখিচুড়ী পাঁকিয়ে না যায়।

টিকাঃ
১৯. ঐ যামানাতে হানাফী, শাফে'য়ী, মালেকী ও হাম্বলী মাযহাব সৃষ্টি হয় নি। শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী'র মতে, এই চারটি মাযহাবের তাক্বলীদ চারশ' হিজরী থেকে চালু হয়। [হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ, আল-ইনসাফ দ্রঃ।

📘 মাযহাব ও তাকলীদ 📄 ইমাম সাহেব ও তার স্ত্রীর সৌন্দর্য্যের বিধান

📄 ইমাম সাহেব ও তার স্ত্রীর সৌন্দর্য্যের বিধান


ইমামতির শর্ত সম্পর্কীত আলোচনায় মাহারুল কাদিরী সাহেব লিখেছেন:
ফারান: "যে ব্যক্তির স্ত্রী সুন্দরী, সে চক্ষু ও লজ্জাস্থান হেফাযতের ব্যাপারে অন্য ব্যক্তির চেয়ে বেশি সাবধান। কেননা, স্ত্রী সৌন্দর্য্যের কারণে অন্য নারীর প্রতি কুচিন্তা মনে আসবে না। অসুন্দরী স্ত্রীর স্বামীর ভাল চেহারার প্রতি আকর্ষণ থেকেই যায়।" (ফারান, পৃঃ ৩১)

জবাব: প্রথমত, এই ধারণাটাই সম্পূর্ণ ভুল যে, যার স্ত্রী সুন্দরী সে সবচেয়ে বেশী মুত্তাক্বী হবে। বাস্তবতা এর বিপরীতও দেখা যায়- এ জন্যে এই শর্তও বাতিল। তাছাড়া "অসুন্দরী স্ত্রীর স্বামী ভাল চেহারার প্রতি আকৃষ্ট থাকে" -মাহারুল ক্বাদিরী সাহেবের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে তা সঠিক হতেও পারে!!

📘 মাযহাব ও তাকলীদ 📄 ব্যক্তিগত চিন্তা থেকে অনেক ফিক্বহী মাসায়েলের উদ্ভব হয়েছে

📄 ব্যক্তিগত চিন্তা থেকে অনেক ফিক্বহী মাসায়েলের উদ্ভব হয়েছে


যদি এই মাসআলাকে ফরয ভাবা হয়, যার ভিত্তি বিবেক তখন সুস্পষ্ট হয় যে, এই মাসআলা কোন ফক্বীহর চিন্তা থেকে সৃষ্টি হয়েছে। এটাকেই আমরা বলছি- এ জাতীয় অনেক মাসায়েল আছে; যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হয় নি, বরং লোকেরা নিজেদের বিবেক থেকে গ্রহণ করেছে। বলুন, আমি কোনটিকে ভুল বলব? আপনার বক্তব্য অনুযায়ী “এতে সূক্ষ্ম হিকমাত রয়েছে” (ফারান, পৃঃ ৩১)। তাইলে কি আল্লাহ এই সূক্ষ্ম হিকমাত সম্পর্কে অবগত ছিলেন না (না'উযুবিল্লাহ) যে, এই হিকমাত নিজের রসূলের নিকট প্রকাশ করলেন না!? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হিকমাত নাযিলের ব্যাপারে বারবার বলেছেন এবং নিজের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গতা দানের ঘোষণাও করেছেন।

কিন্তু আফসোস!, (মুক্বাল্লিদদের কাছে) না হিকমাত পূর্ণাঙ্গ হয়েছে, না দ্বীন। তারা যেন এই দু'টি বিষয়কেই 'ফুক্বাহে মুক্বাল্লিদীন' (মাযহাবী ফক্বীহগণ) দ্বারা পূর্ণাঙ্গ করে আল্লাহর হাতে সমর্পিত করেছে!

যদি বিবেকের মাধ্যমে মাসআলা তৈরী হতে থাকে তাহলে ঐ সমস্ত জ্ঞান যা নিজেদের বিবেক মোতাবেক এবং ইসলামের অনুকূল সেগুলোকেও ফিক্বাহতে সংযোজন করতে হবে। এভাবে এ জাতীয় বিষয় যা বিভিন্ন লোকদের রায় ও কিয়াসের মাধ্যমে সঙ্কলিত হয়েছে তাকে আল্লাহর দ্বীন বলা যেতে পারে কি? নাকি এগুলোকে মানুষের সাথে সম্পর্কীত করতে হবে? আপনারা কি সাধারণের সামনে কলম ও যবানের সর্বশক্তি ব্যবহার করে এ ধরণের অদ্ভুত ও বিরল হিকমাত বয়ান করেন, যা শ্রোতারা যথাযথ বিবেকসম্মত মনে করে। অতঃপর বলে উঠে এই মাসআলাতে খুব নিগূঢ় হিকমাত আছে। অথচ আল্লাহ বলেন:

وَإِنَّ مِنْهُمْ لَفَرِيقًا يَلْوُونَ أَلْسِنَتَهُمْ بِالْكِتَابِ لِتَحْسَبُوهُ مِنَ الْكِتَابِ وَمَا هُوَ مِنَ الْكِতَابِ وَيَقُولُونَ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَمَا هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَيَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُونَ
"আর তাদের মধ্যে একদল রয়েছে, যারা বিকৃত উচ্চারণে মুখ বাঁকিয়ে কিতাব পাঠ করে, যাতে তোমরা মনে কর যে, তারা কিতাব পাঠ করছে। অথচ তারা যা আবৃত্তি করছে তা আদৌ কিতাব নয়। আর তারা বলে যে, এসব কথা আল্লাহর তরফ থেকে আগত। অথচ এসব আল্লাহর তরফ থেকে প্রেরিত নয়। আর তারা জেনেশুনে আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে।”২০

টিকাঃ
২০. সূরা আলে-ইমরান: ৭৮ আয়াত।

📘 মাযহাব ও তাকলীদ 📄 ইজতিহাদের মর্যাদা বনাম স্কিছ্বাহর মনগড়া মাসায়েল

📄 ইজতিহাদের মর্যাদা বনাম স্কিছ্বাহর মনগড়া মাসায়েল


ফারান: "ফিক্বহী ইজতিহাদের নিরাপদ সৌন্দর্য্যের মধ্যে আবদ্ধ থাকাকে নিন্দা করাটা ইলম ও বিবেকের দৈনতার পরিচয় প্রকাশ করে। আর একে শিক্ক বলাটা কেবল বাড়াবাড়িই নয় বরং সুস্পষ্ট যুলুম।" (ফারান, পৃঃ ৩১)

জবাব: কাযী (বিচারক) কুরআন ও হাদীসের আলোকে ইজতিহাদ করে মামলার যে ফায়সালা দেন, ঐ ফায়সালা শরী'আতি আইনের মর্যাদা পায় না। ঐ ফায়সালা তাৎক্ষণিক ও (ক্ষেত্রবিশেষে) জরুরী পরিস্থিতির মোকাবেলা। পক্ষান্তরে ফিক্বাহর মাসআলাকে স্থায়ী আইনের মর্যাদা দেয়া হয় এবং এভাবে সুনির্দিষ্ট করা হয় যে, এগুলো আল্লাহ'র শরী'আত।

সমস্ত মুক্বাল্লিদগণ ঐ সমস্ত মাসআলার উপর আমল করে এবং দলিল হিসাবে সেগুলো উপস্থাপন করে। ঐ মাসআলার আবিষ্কারকগণ কাযী ছিলেন না যে, তাৎক্ষণিকভাবে তাদেরকে জরুরী অবস্থা মোকাবেলার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তারা এমন লোক ছিল যে, তারা ছাড়া আর কেউই একাজ করত না। স্বয়ং নিজেকেই প্রশ্ন ও উত্তরের মধ্যে আবদ্ধ রাখতেন। অতঃপর এর জবাবগুলোকে নিজের ফিরক্বার শরী'আত (বিধান) হিসাবে গণ্য করতেন। এই জাতীয় নকল আইন ও শরী'আত শিরক নয়তো আর কি বলা যেতে পারে? শিককে শির্ক বলাই যদি যুলুম হয়, তবে আল্লাহ-ই হিফাযত করনেওয়ালা। এটা কি রকম ফিক্বহী ইজতিহাদ যে, কিছু হাদীসের মধ্যে আর কিছু ফিকাহর মধ্যে। সহীহ হাদীসের বিরোধী মাসায়েলের প্রবর্তন- যা দ্বীনকে বিকৃত করার নিকৃষ্ট উদাহরণ। এতে এমন মাসায়েলও বন্দী হয়েছে যার না মাথা আছে, আর না পা আছে। যেমন- নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী নব্বই বা একশ' বিশ বছর পর্যন্ত স্বামীর জন্য অপেক্ষা করার পর বিবাহ করবে। সতীনের ছেলে যদি নিজের সৎ মায়ের শরীরে হাত লাগায় তবে সে (সৎ মা) তার স্বামীর জন্য হারাম। মেয়ের গায়ে ভুলে হাত লাগলে বিবি হারাম হয়ে যায়। কাপড় জড়িয়ে (সহবাস) করা হলে গোসল ওয়াজিব হয় না। আঙ্গুলে নাজাসাত (নাপাকী) লেগে গেলে তিনবার চাটলে পাক হয়ে যাবে -ইত্যাদি [দ্রঃ বেহেশতী জেওর]। মাহারুল ক্বাদিরী সাহেবের বক্তব্য অনুযায়ী এগুলোই সেই গূঢ় হিকমাত- যা ফিক্বাহর কিতাবে পাওয়া যায়।

আবার অনেক ক্ষেত্রে শরী'আতের অনেক হারাম করা জিনিস বিকৃতির মাধ্যমে হালাল করা হয়েছে। যেমন- ঈদের সালাতের পূর্বে কুরবানী করা হাদীসে জায়েয নাই। কিন্তু গ্রামের লোকদের জন্য সেটা জায়েয করা হয়েছে (অথচ এটা সুস্পষ্ট বিকৃতি)। শুধু এখানেই থেমে নেই, বরং শহরবাসীদের জন্য হীলার (কৌশলের) মাধ্যমে জায়েয করেছে। সেটা হল, শহরবাসী যদি নিজ কুরবানীর পশু শহরের বাইরে নিয়ে যবেহ করে এবং পুনরায় ঈদগাহে চলে আসে (হিদায়াহ)। এটা কি ধরণে ফিকহী ইজতিহাদ- যার মাধ্যমে আপনি মুক্তি পেতে পারেন? এটা কি শরী'আতের বিকৃতি নয়? এটা কি শরী'আত নিয়ে জালিয়াতি নয়? যদি শরী'আত আল্লাহরই হয় তবে, শরী'আত নিয়ে জালিয়াতি কি শিরক নয়? আল্লাহ বলেন : شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ "আল্লাহ তোমাদের জন্য দ্বীনি শরী'আত বানিয়েছেন।” [সূরা শূরাঃ ১৩ আয়াত]

ফন্ট সাইজ
15px
17px