📄 মুস্তাদীম সূরা ফাতিহা পাঠের বিরোধীতা
ফারান: অন্যান্য ফিক্বহী মাযহাবগুলোর মতো হানাফীদেরও জামা'আতবদ্ধ সালাতে সূরা ফাতিহার বর্ণনা রয়েছে। পার্থক্য শুধুমাত্র এতটুকু যে, হানাফীগণ ইমামের ক্বিরাআত সূরা ফাতিহার ক্ষেত্রে যথেষ্ট মনে করেন। (ফারান, পৃঃ ৩০)
জবাব: রসূলুল্লাহ ﷺ মুক্তাদীদেরকে বলেছেন: লা তাকরাউ বি শাইয়িম মিনাল কুরআনি ইযা জাহারতু ইল্লা বি উম্মিল কুরআন। (ওয়া ফি রিওয়ায়াতিন) ফা ইন্না হু লা সালাতা লিমান লাম ইয়াকরা বিহা।
"যখন আমি জেহরী ক্বিরাআত করি তখন তোমরা কুরআন থেকে কোন কিছু পাঠ করো না সূরা ফাতিহা ব্যতীত। কেননা সূরা ফাতিহা ছাড়া সালাত হয় না।”১২ বলুন, এই হাদীসের বর্ণনানুযায়ী ইমামের ক্বিরাআত মুক্তাদীর জন্য যথেষ্ট মনে করা রসূলুল্লাহ-এর হুকুমের সুস্পষ্ট বিরোধী হয় কি না? যদি বিরোধী হয়, তবে ফালা ওয়া রাব্বিকা লা ইউমিনুনা হাত্তা ইউহাক্কিমুকা।.... এ আয়াতের আলোকে বিরোধী সিদ্ধান্ত মানা কি কুফর নয়? যদি এটা কুফর না হয়- তবে কুফর কোন জিনিসের নাম? আমাদের তো ঐ আক্বীদা যা আল্লাহ আলোচ্য আয়াতে বলেছেন। যা আপনারাও জানেন।
টিকাঃ
১২. আবু দাউদ, দারা কুতনী; এর সনদ হাসান (দারা কুতনী ১/১২১পৃঃ)। তাছাড়া ইমাম বুখারী তাঁর জুঝউল কিরাআতে (পৃ:১৮) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদ হাসান।
১৩. "আপনার রবের কসম! সে ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে আপনাকে হাকিম না মানে। অতঃপর আপনার ফায়সালার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হৃষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে।" [সূরা নিসাঃ ৬৫]
📄 হানাফী মাযহাব ও রসূলুল্লাহ ﷺ-এর সালাত
ফারান: "হানাফী নিয়মের সালাত ভুল নয়।” (ফারান, ৩০ পৃঃ)
জবাব: অবশ্যই ভুল। যদি আপনারা সহীহ বলে মনে করেন তবে নিচের বিষয়গুলোর স্পষ্ট দলিল প্রমাণ দিন:
১) হানাফীরা মুখে নিয়্যাত করে- যা বিদ'আত।
২) হানাফীরা রুকুতে যাওয়ার সময় রফ'উল ইয়াদাঈন করে না।
৩) রুকু' থেকে উঠার সময়ও করে না।
৪) তৃতীয় রাক'আতের শুরুতে রফ'উল ইয়াদায়ীন করে না। অথচ রফ'উল ইয়াদাঈনের হাদীস প্রমাণিত। এর বিপরীতে এমন কোন সহীহ হাদীস নেই যেখানে এটা স্পষ্ট যে, রসূলুল্লাহ ﷺ রুকু'তে যাওয়ার সময়, রুকু' থেকে উঠার সময় এবং তৃতীয় রাক'আতের শুরুতে রফ'উল ইয়াদাঈন করতেন না। ১৪
৫) জলসায়ে ইস্তিরাহাত (আরামের বৈঠক) করে না, অথচ এটা সহীহ হাদীস থেকে প্রমাণিত এবং এর বিরোধী ক্বিয়াস আছে। তবে কোন মারফু হাদীস নেই।
৬) শেষ বৈঠকে 'তুওয়াররুক' (বাম পাকে ডান পায়ের নিচে ঢুকিয়ে দেয়া এবং বাম নিতম্বের উপর বসার) পদ্ধতিতে বসে না।
৭) ফরয সালাতের তৃতীয় ও চতুর্থ রাক'আতে শুধুমাত্র চুপ করে থাকাবস্থায় দাঁড়ানোকে যথেষ্ট মনে করে। অথচ এটা কোন হাদীস থেকে প্রমাণিত নয়, বরং সহীহ হাদীসের দাবীবিরোধী। আসল কথা হল, এ জাতীয় অসংখ্য বিষয় রয়েছে যা সুস্পষ্ট সুন্নাতের বিরোধী বরং বিদ'আত। সুতরাং হানাফীদের সালাত ভুল।
টিকাঃ
১৪. বিস্তারিত জানার জন্য দেখুনঃ "মাসায়েলে রফ'উল ইয়াদায়ীন" মূলঃ মাস'উদ আহমাদ, অনুবাদঃ আবু জিহাদ, সম্পাদনাঃ কামাল আহমাদ।
১৫. যে হাদীসের সনদ রসূলুল্লাহ ﷺ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে পৌঁছে তাকে মারফু' হাদীস বলে।
📄 তাক্বলীদ ও শির্ক
ফারান: “তাক্বলীদের মধ্যে শিরকের কোন গন্ধ নেই।” (ফারান, পৃঃ ৩০)
জবাব: এ বিষয়ে "তালাশে হক্কে” দলিলভিত্তিক আলোচনা করা হয়েছে। আফসোস! যদি মাহারুল সাহেব ঐ সমস্ত দলীলের জবাব দিতেন।
চার ইমামের মধ্যে কোন একজনের তাক্বলীদ বিদ'আত। আর বিদ'আত দ্বীনের মধ্যে অতিরিক্ত সংযোজন করা। দ্বীনের মধ্যে সংযোজন একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ করতে পারবে না। তাই তাক্বলীদ দ্বীনকে বৃদ্ধি করে এবং তাক্বলীদকে হকু মান্যকারী "শিরক ফিশ্ শারি'য়াত"১৬ এর দোষে অভিযুক্ত।
কোন মানুষকে হিদায়াতের আদর্শ ও 'মেয়ারে হক্ক' বানিয়ে পাঠানো আল্লাহ'র কাজ। স্বয়ং জনগণ কোন মানুষকে হিদায়াতের আদর্শ ও 'মেয়ারে হক্ক' বানানোর মাধ্যমে নিজেরা নিজেদেরকে সার্বভৌমত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিত করে। এটা শিরক নয়তো আর কি?
কোন ইমাম ভুল-ত্রুটির ব্যাপারে মা'সুম নয়। কোন ইমামের শতভাগ কথাই সহীহ হতে পারে না। এ কারণে কোন ইমামের গোলামীর 'কিলাদা' (লাগাম) নিজের গলায় লটকানোর অর্থ হলো- তাহক্বীকু (গবেষণা/পর্যালোচনা) ছাড়াই তাঁর কথা মানা। আর যা ভুল সে ব্যাপারে কী হবে, সেগুলো (মুক্বাল্লিদ) মানবে এবং সে ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের (সুন্নাহর) দিকে (সমাধানের জন্য) ফিরে যাবে না। বরং (কুরআন ও সুন্নাহতে) ফিরে যাওয়াকে জায়েয মানে না। যদি এটা শির্ক-কুফর না হয় তবে কুরআনের বাণীঃ اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللهِ “তারা (ইয়াহুদী ও নাসারাগণ) তাদের আহবার (আলেম) ও 'রুহবানদের (পীরদের) রব বানিয়েছে” (সূরা তাওবা: ৩১) -এই আয়াতে কোন শিরকের অর্থ নেয়া হয়েছে?
আল্লাহ তো পরিষ্কারভাবে বলেছেন: أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ “তাদের কি এমন কোন শরীক (দেবতা) আছে, যারা তাদের দ্বীনের মধ্যে শরী'আত (বিধান) দেয় যার অনুমতি আল্লাহ দেন নি?”১৭ কেননা, ফিক্বাহর কিতাবের বিকৃত মাসায়েল কখনই আল্লাহ'র পক্ষ থেকে অনুমোদিত নয়। সুতরাং সেগুলো মানা শিরক এবং সে সবকিছুই তাক্বলীদের কারিশমা। এ কারণেই তাক্বলীদ শিরকের ভিত্তিও বটে।
【সংযোজন: নিম্নোক্ত কারণে শরী'আতি বিধান বিকৃত করলে বড় শিরক ও কুফর সংঘটিত হয়।
১) মনগড়া বা মানবরচিত বিধানকে আল্লাহ কর্তৃক নাযিলকৃত বিধান বিবেচনার কারণেঃ
আল্লাহ বলেন: وَلَا تَشْتَرُوا بِآইَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ
"তোমরা আমার আয়াতকে সামান্য ও নগণ্য বিনিময়ে বিক্রি করো না। যারা আল্লাহ'র নাযিলকৃত আইন দ্বারা বিচার করে না, তারাই কাফির।” (সূরা মা'য়িদা : ৪৪-৪৭ আয়াত)
আয়াতটির শানে নুযূলে প্রমাণিত হয়, ইয়াহুদীরা রজমের বিধানকে পরিবর্তন করে ভিন্ন বিধান আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত বলেছিল।
এমর্মে অন্যত্র আল্লাহ বলেন:
فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِতَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا يَكْسিবُونَ
"অতএব, তাদের জন্য আফসোস! যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে এবং বলে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত, যেন এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ উপার্জন করতে পারে। অতএব তাদের জন্য ওয়েল (জাহান্নাম), তাদের কিতাব লেখার জন্য, এবং তাদের জন্য ওয়েল (জাহান্নাম), তাদের উপার্জনের জন্য।" [সূরা বাক্বারাহঃ ৭৯ আয়াত]
সুতরাং প্রমাণিত হল, যখন কোন আলেম বা হাকিম বা অন্য যে কেউ এমন কোন বিধান বা ফতোয়া দেয় যা আল্লাহ নাযিল করেন নি। অথচ জনগণের মাঝে তা আল্লাহর বিধান হিসাবে প্রচার করে। তখনই কেবল উক্ত আয়াতগুলোর হুকুম প্রযোজ্য। যা বিভিন্ন মাযহাবী ফিক্বাহ, ফতোয়া ও সূফীদের তরীক্বাতে দেখা যায়। অথচ সেগুলোর পক্ষে আল্লাহ কিছুই নাযিল করেন নি।
২) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রতি মিথ্যারোপ এবং অস্বীকার করার কারণে : পূর্বোক্ত পন্থায় আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করা হয়। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ كَذَبَ عَلَى اللهِ وَكَذَّبَ بِالصِّدْقِ إِذْ جَاءَهُ أَلَيْسَ فِي جَهَنَّمَ مَثْوًى لِلْكَافِرِينَ
"তার চেয়ে অধিক যালেম কে আছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা বলবে এবং তার কাছে সত্য আগমনের পর তাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে। কাফিরদের বাসস্থান কি জাহান্নাম নয়? (সূরা যুমার : ২৪ আয়াত)
৩) হারামকৃত বস্তুকে হালাল এবং হালালকৃত বস্তুকে হারাম ঘোষণা করার কারণে :
وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلَالٌ وَهَذَا حَرَামٌ لِتَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ
"তোমাদের মুখ থেকে সাধারণভাবে যেসব মিথ্যা বের হয়ে আসে, তেমনি করে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা আরোপ করে বলো না যে, এটা হালাল এবং ওটা হারাম। নিশ্চয় যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যারোপ করে তারা সফল হবে না।" (সূরা নাহালঃ ১১৬ আয়াত)
বিভিন্ন মাযহাবের মধ্যে হালাল ও হারামের ব্যাপক তারতম্য রয়েছে। যা তাক্বলীদ জায়েযকারী আলেমদের থেকে সৃষ্ট হয়েছে।
৪) বিচারক, আলেম-উলামা, পীর-দরবেশদেরকে হালাল ও হারাম করার হকুদার গণ্য করার কারণে: আল্লাহ বলেন: اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ “তারা তাদের আহবার (আলেম) ও রুহবান (সূফীদের)-দের আল্লাহর পরিবর্তে রব হিসাবে গ্রহণ করেছে।” (সূরা তাওবা: ৩১ আয়াত)
নবী আয়াতটির ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন: أَمَا إِنَّهُمْ لَمْ يَكُونُوا يَعْبُدُونَهُمْ وَلَكِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا أَحَلُّوا لَهُمْ শَيْئًا اسْتَحَلُّوهُ وَإِذَا حَرَّمُوا عَلَيْهِمْ شَيْئًا حَرَّمُوهُ
"এমন নয় যে, তারা এদের ইবাদত করত। বরং এরা যদি তাদের জন্য কিছু হালাল করে দিত তখন তারা তা হালাল বলে গ্রহণ করত; এরা যখন কোন কিছু হারাম বলে স্থির করত তখন তারাও তা হারাম বলে গ্রহণ করতে।”১৮
এখানে হালাল বা হারাম নির্ধারণ করে আল্লাহর পক্ষ থেকে তা নাযিলকৃত বা ইলাহী হুকুম গণ্য করাকে চূড়ান্ত কুফর হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। কাফির হওয়ার বিভিন্ন কারণ ও শর্ত রয়েছে। (বিস্তারিত দেখুন: “তাফসীর। হুকুম বি-গয়রি মা-আনঝালাল্লাহ” অনুবাদ ও সঙ্কলনঃ কামাল আহমাদ) -অনুবাদক]
টিকাঃ
১৬. এর বিভিন্ন স্তর ও প্রকারভেদ আছে। কখনো ইসলাম থেকে বহিষ্কার করে আবার কখনো কবীরা গোনাহর অধিকারী হয়। (অনুবাদক)
১৭. সূরা শুরা- ২১ আয়াত। এই আয়াতের দাবী হল, আল্লাহর বিধানের বিপরীতে অন্য বিধানকে আল্লাহর বিধান বলে চালানো। যা বিকৃত উলামারা করে থাকে। অর্থাৎ যা ইসলামী আইন নয় তাকে ইসলামী আইন বলে চালানো। পক্ষান্তরে ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের অবস্থা ভিন্ন। তারা আইনকে আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করে না। বরং নিজেদের সংসদের তৈরী আইন বলে। এ কারণে শিরক নেই- তবে এটা সুস্পষ্ট কুফর। আর এই কুফর দুই ভাগে বিভক্ত। কখনো তা আমলগত কুফর আবার কখনো তা আক্বীদাগত কুফর। আর শাসকদের আমলগত কুফরের সীমা যখন আক্বীদাগত কুফরে পরিণত হয় -তখন তারাও উলামাদের মত উক্ত আয়াতের দাবীর অন্তর্ভুক্ত হয়। বিস্তারিত দেখুন- "তাফসীর হুকুম বি-গয়রি মা-আনঝালাল্লাহ।"
১৮. হাসান: তিরমিযী- তাফসীরুল কুরআন, সূরা তাওবা। আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। [তাহক্বীকুকৃত তিরমিযী হা/৩০৯৫]
📄 তাক্বলীদ বিদ‘আত
ফারান: "আপনিতো তাক্বলীদকে বিদ'আত বলেছেন। হাদীসেতো তাক্বলীদকে বিদ'আত হিসাবে গণ্য করা হয় নাই।" (ফারান, পৃঃ ৩১)
জবাব: আজকাল যেসব বিদ'আতের প্রচলন ঘটেছে- কোন হাদীসের মাধ্যমে সেগুলো ব্যাখ্যা করা সম্ভব কি? যদি সম্ভব না হয়, তবে সেগুলোকে আপনারা কিভাবে বিদ'আত বলে থাকেন?
tাক্বলীদ যদি বিদ'আত না হয়- তবে তাকে সুন্নাত হিসাবে প্রমাণ করুন, অথবা অন্ততঃপক্ষে সাহাবা ও তাবে'য়ীগণের যামানায় এর অস্তিত্ব দেখান। জবাব দেবার সময় বিশেষজ্ঞগণ তাক্বলীদের যে সঙ্গা এবং এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে হানাফী কিতাবসমূহ থেকে বর্ণনা দিয়েছেন, তার সাথে সম্পর্কীত বিষয়বস্তু হল: ১) উস্তাদ-শাগরেদের সম্পর্ক এবং ২) মুর্খব্যক্তি কোন 'আলিমকে আল্লাহর হুকুমের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছে। তাক্বলীদের সাথে এগুলো যেন জগাখিচুড়ী পাঁকিয়ে না যায়।
টিকাঃ
১৯. ঐ যামানাতে হানাফী, শাফে'য়ী, মালেকী ও হাম্বলী মাযহাব সৃষ্টি হয় নি। শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী'র মতে, এই চারটি মাযহাবের তাক্বলীদ চারশ' হিজরী থেকে চালু হয়। [হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ, আল-ইনসাফ দ্রঃ।