📘 মাযহাব ও তাকলীদ 📄 অনুসরণের সঠিক দাবী

📄 অনুসরণের সঠিক দাবী


ফারান: এভাবে ফিক্বাহর ঐ সমস্ত মাসায়েল যা কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক অথবা তার সাথে সাংঘর্ষিক ও বিরোধী নয়- সেগুলোর ইত্তিবা' ও তাক্বলীদ জায়েয, সেগুলো কেন হারাম হবে? (ফারান, পৃঃ ৩০)

জবাব: এক্ষেত্রে প্রথম প্রশ্ন হলো, কুরআন ও সুন্নাত মোতাবেক হলে সেগুলোর ইত্তিবা' শুধুমাত্র জায়েয হবে কেন, আর তা আবশ্যকীয় (ফরয) নয় কেন? দ্বিতীয় প্রশ্ন হল- যে মাসায়েল কুরআন ও সুন্নাত মোতাবেক সেগুলোর ইত্তিবা'তো কুরআন ও সুন্নাতেরই ইত্তিবা'। কুরআন ও সুন্নাত অনুযায়ী সব কথাইতো (যার যার মান অনুযায়ী) আমল করা ওয়াজিব (ফরয)। এরমধ্যে আয়িম্মা ও ফুক্বাহাগণের প্রয়োজনটা কোথায়? বাকী থাকল ঐ মাসায়েল যা কিতাব ও সুন্নাতের বিরোধী সেগুলোর ইত্তিবা' আপনাদের মতেও হারাম। কিন্তু মুক্বাল্লিদগণ তো সবগুলোর উপর আমল করা জরুরী মনে করে। এখন বলুন, কিতাব ও সুন্নাতের বিরোধী মাসায়েলের উপর 'আমল করা কি জায়েয? এই আমল করাকে জরুরী মনে করার কারণে সে কুফরীর দোষে দোষী হয়, না হয় না?

যদি কুরআন ও সুন্নাতের বিরোধী মাসায়েলের উপর আমল করা হারাম হয়, তবে মুক্বাল্লিদ এটা কিভাবে বুঝবে যে অমুক অমুক মাসায়েল (কুরআন-সুন্নাহর) বিরোধী? এ ব্যাপারে তাদের পর্যালোচনার অনুমতি আছে কি? যদি অনুমতি থাকে তবে তারা মুজতাহিদ (গবেষক) হল, নাকি মুক্বাল্লিদ (অন্ধ অনুসারী) হল? আর যদি অনুমতি না থাকে, তবে তো তারা কিতাব ও সুন্নাতের বিরোধী আমল করতে বাধ্য হবে। কেননা ঐ হারাম কাজটি করা শুধুমাত্র তাক্বলীদের কারণেই হয়। সুতরাং তাক্বলীদ হারাম, আর হারামকে হালাল বা ওয়াজিব বলা কুফরী।

মাহারুল কাদিরী সাহেবের কথা হল, "আয়িম্মায়ে উসূলে ফিক্বাহ হানাফীদের নিকট গ্রহণযোগ্য।" আপনি হানাফী মাযহাবের পক্ষে যে কথা বলেছেন তা হানাফীগণ গ্রহণ করে নাই। আপনি তাক্বলীদের যে অর্থ নিয়েছেন- সে অর্থে হানাফী ফিকাহবিদগণ কি এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন?

📘 মাযহাব ও তাকলীদ 📄 ফিক্বহী মাসায়েলে মানবরচিত সিদ্ধান্ত

📄 ফিক্বহী মাসায়েলে মানবরচিত সিদ্ধান্ত


ফারান: ফিক্বাহতো- আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার তরফ থেকে যা নাযিল হয়েছে তার ব্যাখ্যা বা বিস্তারিত বর্ণনা।

জবাব: খুব ভাল কথা-
১. নারীদের বুকের উপর হাত বাঁধা আর পুরুষদের নাভীর নিচে' -এটা আল্লাহর নাযিলকৃত কোন হুকুমের ব্যাখ্যা?
২. সালাতে মুখে নিয়্যাত উচ্চারণ করে পড়া' -এটা কোন আয়াত?
৩. বিত্র এক বা পাঁচ রাক'আত আদায় না করা' -এটা কোন অহী?
৪. পশু, মৃতনারী এবং নাবালিগ কন্যার লজ্জাস্থানকে বিছানার ছিদ্র ভাবা' -এটা কোন হাদীস বা আয়াতের ব্যাখ্যা? একে জ্ঞানশূন্যতা বা ঈমানহীনতা বলে।
৫. যদি কোন ব্যক্তি পশু, মৃতনারী বা নাবালিগ কন্যার সাথে সহবাস করে আর বীর্য বের না হয়, তবে গোসল ওয়াজিব হবে না' -এটা কোন হাদীসে আছে?

এ ধরণের অসংখ্য মাসায়েল রয়েছে যার সাথে আল্লাহর নাযিলকৃত শরী'আতের দূরতম সম্পর্কও নেই। এ জাতীয় মাসায়েলকে কি আল্লাহর নাযিলকৃত বিষয়ের ব্যাখ্যা বলা যেতে পারে?

[সংযোজন: মাযহাবী ফিক্বাহতে এমন অনেক মাসআলা রয়েছে- যা আল্লাহর কিতাব ও রসূলের সুন্নাতে নেই। অথচ তারা সেটাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত তথা আল্লাহর হুকুম ও রসূলের সুন্নাত মনে করে আমল করে। এ পর্যায়ে এ ধরণের ইয়াহুদী আমল সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:

ফাওয়াইলুল লিল্লাযীনা ইয়াকতুবুনাল কিতাবা বিআইদীহিম ছুম্মা ইয়াকুলুনা হাযা মিন ইন্দিল্লাহি লিয়াশতারু বিহী ছামানান কালীলা। ফাওয়াইলুল লাহুম মিম্মা কাতাবাত আইদীহিম ওয়া ওয়াইলুল লাহুম মিম্মা ইয়াকসিবুন।
"অতএব, তাদের জন্য আফসোস! যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে এবং বলে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত, যেন এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ উপার্জন করতে পারে। অতএব তাদের জন্য ওয়েল (জাহান্নাম), তাদের কিতাব লেখার জন্য এবং তাদের জন্য ওয়েল (জাহান্নাম), তাদের উপার্জনের জন্য।" [সূরা বাক্বারাহঃ ৭৯ আয়াত]

প্রায় একই মর্মে আল্লাহ বলেন:

ওয়া লা তাশতারু বিআয়াতি ছামানান কালীলাঁও ওয়ামালাম ইয়াহকুম বিমা আনঝালাল্লাহু ফাউলাইকা হুমুল কাফিরুন।
"তোমরা আমার আয়াতকে সামান্য ও নগণ্য বিনিময়ে বিক্রি করো না। যারা আল্লাহ'র নাযিলকৃত আইন দ্বারা বিচার করে না, তারাই কাফির।" (সূরা মা'য়িদা: ৪৪-৪৭ আয়াত)

সুতরাং আলেম, হাকিম বা শাসক যে কেউ-ই আল্লাহ যা নাযিল করেন নি, এমন কিছুকে আল্লাহ হুকুম বলে গণ্য করলে সে সুস্পষ্ট কাফির। পক্ষান্তরে আল্লাহর সাথে এ ধরণের মিথ্যারোপ ও অস্বীকার না করে কেবল ভিন্ন বিধি-বিধান হুকুমদাতা ও পালনকারী কেবলই ফাসিকু। অথচ এই পার্থক্য না বুঝার কারণে অনেকে মানব রচিত মাযহাবী ফিক্বাহর মাধ্যমে ইসলামী শরী'আতের বিকৃতিকে মেনে নিচ্ছেন। পক্ষান্তরে শাসক- যারা নিজের বিধানকে আল্লাহ নাযিলকৃত বলেন না- তাদেরকে কাফির বলছেন। অথচ তারা কখনই ইবরাহীম ও মূসা আলাইহিমাস সালাম-এর ন্যায় নিজ নিজ শাসকের ভুল ধারণাগুলো সংশোধনের চেষ্টাটুকুও করেন নি। বিস্তারিত জানার জন্য পড়ুন: “তাফসীর হুকুম বি-গয়রি মা-আনঝালাল্লাহ” -কামাল আহমাদ। - অনুবাদক]

টিকাঃ
৭. হিদায়াহ (করাচী: কুরআন মহল) ১/১০২ পৃ; ইলমুল ফিক্বাহ ২/৭১ পৃঃ। (লেখক)
৮. আল কাসদু মাআ লাফজিহি আফদালু ও ইউহাসসানু যালিকা লিজতিমায়ি আজীমাতিহি (হিদায়াহ ১/৯৬ পৃঃ)। (শরহে বেকায়াহ ১/১৫৯)। (লেখক)
৯. আল বিতরু ছালাছু রাকাআতিন ওয়াজাবাত (শরহে বেকায়াহ ১/১৯৯ - প্রকাশক: আনওয়ার মাহমুদী প্রকাশানালয়)। (লেখক)
১০. মাহারুল কাদিরী সাহেব নিজেই লিখেছেনঃ "পশুর মলদারে কাপড় প্রভৃতি দ্বারা বানানো খোলকে চার পাবিশিষ্ট আসনের ছিদ্রের সাথে কিয়াস করা হবে। যেখানে কেবল (লিঙ্গ) প্রবেশের কারণে গোসল ফরয হয় না। (ফারান- জুন' ১৯৬৪ পৃঃ ৩০) (লেখক)
১১. লা ওয়াত ই বাহীমাতিন বিলা ইনঝালিন (হিদায়াহ: ২/৫১) বিলাফীল বাহীমাতি (লা ইউরমা) (শারহে বিকায়া) (ওয়ালা ইনদা ওয়াত ই বাহীমাতিন আও মাইয়িতাতিন আও সাগীরাতিন গাইরা মুশতাহাত (২/৫০ মুখতার ১/১২২ পৃষ্ঠা -কোয়েটা, মাতবু'আতে মাকতাবাহ মাজেদীয়াহ, প্রথম প্রকাশ, ১৩৯৯ হিঃ) (লেখক)

📘 মাযহাব ও তাকলীদ 📄 মুস্তাদীম সূরা ফাতিহা পাঠের বিরোধীতা

📄 মুস্তাদীম সূরা ফাতিহা পাঠের বিরোধীতা


ফারান: অন্যান্য ফিক্বহী মাযহাবগুলোর মতো হানাফীদেরও জামা'আতবদ্ধ সালাতে সূরা ফাতিহার বর্ণনা রয়েছে। পার্থক্য শুধুমাত্র এতটুকু যে, হানাফীগণ ইমামের ক্বিরাআত সূরা ফাতিহার ক্ষেত্রে যথেষ্ট মনে করেন। (ফারান, পৃঃ ৩০)
জবাব: রসূলুল্লাহ ﷺ মুক্তাদীদেরকে বলেছেন: লা তাকরাউ বি শাইয়িম মিনাল কুরআনি ইযা জাহারতু ইল্লা বি উম্মিল কুরআন। (ওয়া ফি রিওয়ায়াতিন) ফা ইন্না হু লা সালাতা লিমান লাম ইয়াকরা বিহা।
"যখন আমি জেহরী ক্বিরাআত করি তখন তোমরা কুরআন থেকে কোন কিছু পাঠ করো না সূরা ফাতিহা ব্যতীত। কেননা সূরা ফাতিহা ছাড়া সালাত হয় না।”১২ বলুন, এই হাদীসের বর্ণনানুযায়ী ইমামের ক্বিরাআত মুক্তাদীর জন্য যথেষ্ট মনে করা রসূলুল্লাহ-এর হুকুমের সুস্পষ্ট বিরোধী হয় কি না? যদি বিরোধী হয়, তবে ফালা ওয়া রাব্বিকা লা ইউমিনুনা হাত্তা ইউহাক্কিমুকা।.... এ আয়াতের আলোকে বিরোধী সিদ্ধান্ত মানা কি কুফর নয়? যদি এটা কুফর না হয়- তবে কুফর কোন জিনিসের নাম? আমাদের তো ঐ আক্বীদা যা আল্লাহ আলোচ্য আয়াতে বলেছেন। যা আপনারাও জানেন।

টিকাঃ
১২. আবু দাউদ, দারা কুতনী; এর সনদ হাসান (দারা কুতনী ১/১২১পৃঃ)। তাছাড়া ইমাম বুখারী তাঁর জুঝউল কিরাআতে (পৃ:১৮) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদ হাসান।
১৩. "আপনার রবের কসম! সে ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে আপনাকে হাকিম না মানে। অতঃপর আপনার ফায়সালার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হৃষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে।" [সূরা নিসাঃ ৬৫]

📘 মাযহাব ও তাকলীদ 📄 হানাফী মাযহাব ও রসূলুল্লাহ ﷺ-এর সালাত

📄 হানাফী মাযহাব ও রসূলুল্লাহ ﷺ-এর সালাত


ফারান: "হানাফী নিয়মের সালাত ভুল নয়।” (ফারান, ৩০ পৃঃ)

জবাব: অবশ্যই ভুল। যদি আপনারা সহীহ বলে মনে করেন তবে নিচের বিষয়গুলোর স্পষ্ট দলিল প্রমাণ দিন:

১) হানাফীরা মুখে নিয়‍্যাত করে- যা বিদ'আত।
২) হানাফীরা রুকুতে যাওয়ার সময় রফ'উল ইয়াদাঈন করে না।
৩) রুকু' থেকে উঠার সময়ও করে না।
৪) তৃতীয় রাক'আতের শুরুতে রফ'উল ইয়াদায়ীন করে না। অথচ রফ'উল ইয়াদাঈনের হাদীস প্রমাণিত। এর বিপরীতে এমন কোন সহীহ হাদীস নেই যেখানে এটা স্পষ্ট যে, রসূলুল্লাহ ﷺ রুকু'তে যাওয়ার সময়, রুকু' থেকে উঠার সময় এবং তৃতীয় রাক'আতের শুরুতে রফ'উল ইয়াদাঈন করতেন না। ১৪
৫) জলসায়ে ইস্তিরাহাত (আরামের বৈঠক) করে না, অথচ এটা সহীহ হাদীস থেকে প্রমাণিত এবং এর বিরোধী ক্বিয়াস আছে। তবে কোন মারফু হাদীস নেই।
৬) শেষ বৈঠকে 'তুওয়াররুক' (বাম পাকে ডান পায়ের নিচে ঢুকিয়ে দেয়া এবং বাম নিতম্বের উপর বসার) পদ্ধতিতে বসে না।
৭) ফরয সালাতের তৃতীয় ও চতুর্থ রাক'আতে শুধুমাত্র চুপ করে থাকাবস্থায় দাঁড়ানোকে যথেষ্ট মনে করে। অথচ এটা কোন হাদীস থেকে প্রমাণিত নয়, বরং সহীহ হাদীসের দাবীবিরোধী। আসল কথা হল, এ জাতীয় অসংখ্য বিষয় রয়েছে যা সুস্পষ্ট সুন্নাতের বিরোধী বরং বিদ'আত। সুতরাং হানাফীদের সালাত ভুল।

টিকাঃ
১৪. বিস্তারিত জানার জন্য দেখুনঃ "মাসায়েলে রফ'উল ইয়াদায়ীন" মূলঃ মাস'উদ আহমাদ, অনুবাদঃ আবু জিহাদ, সম্পাদনাঃ কামাল আহমাদ।
১৫. যে হাদীসের সনদ রসূলুল্লাহ ﷺ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে পৌঁছে তাকে মারফু' হাদীস বলে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px