📄 অনুবাদকের কথা
نحمده ونصلى على رسوله الكريم اما بعد -
মহান রব্বুল 'আলামীনের দরবারে লাখো-কোটি শুকরিয়া যে, 'মাযহাব ও তাক্বলীদ' সম্পর্কীত একটি ব্যাপক তথ্যমূলক বই, পাঠকের হাতে তুলে দিতে পেরেছি। যা হানাফী আলেম তাক্বী 'উসমানী এবং মাস'উদ আহমাদের মধ্যকার একটি লিখিত ডিবেট/বিতর্ক। মাস'উদ আহমাদের মূল বইটির নাম "আত-তাহক্বীকু ফী জওয়াবে আত-তাক্বলীদ"। আশা করি এই বইটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে 'মাযহাব ও তাক্বলীদ' সম্পর্কে ভুল ধারণার নিরসণ হবে, ইনশাআল্লাহ।
বইটির প্রথমাংশে 'মাসিক ফারানের' সম্পাদক মাহারুল কাদিরী সাহেব ও মুফতী তাক্বী 'উসমানীর মাযহাব মানার স্বপক্ষের দলিল ও যুক্তির জবাব দেয়া হয়েছে। মুফতী তাক্বী 'উসমানী'র বইটি পরবর্তীতে 'তাক্বলীদ কী শর'য়ী হাইসিয়াত" কিছুটা বর্ধিত ও সংস্কারসহ বই আকারে প্রকাশিত হয়। পরিশিষ্টাংশ-১ সেটার ধারাবাহিক জবাব। তবে অবশ্যই প্রথমাংশকে সামনে রেখে পাঠককে এই অংশটিও পড়তে হবে। যেসব বিষয় শরী'য়াতী দলীলের মানে উত্তীর্ণ হয় না এমন কোন কিছুর জবাব দান করা থেকে লেখক ক্ষেত্রবিশেষে বিরত থেকেছেন। এরপরেও আমরা তার বাদ দেয়া অংশগুলোরও সাধ্যমত জবাব সংযুক্ত করার চেষ্টা করেছি।
সবশেষে বাংলা ভাষায় মুফতী তাক্বী 'উসমানী সাহেবের বইটির শেষাংশে সংযোজিত "ফিকাহ শাস্ত্রে মতানৈক্যের স্বরূপ- লেখকঃ মাওলানা সাঈদ আল-মিসবাহ" এর জবাব সংক্ষেপে কেবল ইসলামের মৌলিক নীতিমালার আলোকে দেয়া হয়েছে।
পাঠক পর্যালোচনার খাতিরে উভয় বইকে সামনে রাখবেন এবং নিজের থেকেই আমাদের সফলতা ও ব্যর্থতা যাচায় করবেন। প্রকাশকের অনুরোধে তাড়াহুড়া করে ছাপানোর কারণে কিছু ভুল চোখে পড়তে পারে। আশাকরি সেটা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
আল্লাহর কাছে এই দু'আই করছি, তিনি যেন কুরআন ও সুন্নাহর প্রকৃত ইলম অর্জন ও তার প্রচার-প্রসারের ব্যাপারে সিরাতে মুস্তাকীমের উপর রাখেন, সাথে সাথে সত্য গ্রহণে সব ধরনের মানসিক সংকীর্ণতা দূর করে দেন। আমিন!!
নিবেদক
কামাল আহমাদ
পুরাতন কসবা, কাজীপাড়া, যশোর- ৭৪০০।
ই-মেইল: kahmed_islam05@yahoo.com
টিকাঃ
১. বইটির বাংলা অনুবাদ: 'মাযহাব কি ও কেন' অনুবাদক- আবু তাহের মিসবাহ।
📄 ভূমিকা
بسم الله الرحمن الرحيم
কিছুকাল পূর্বে "তালাশে হক্ক" নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল। গ্রন্থটির আলোচনা প্রসঙ্গে "মাসিক ফারান" পত্রিকায় সম্পাদক মাহারুল ক্বাদিরী সাহেব জুন' ১৯৬৪ ঈসায়ী সংখ্যায় লিখেছেন:
"এটি (তালাশে হক্ক) মাস'উদ আহমাদ সাহেব (বি,এস,সি,) ও নওয়াব মুহীউদ্দীন সাহেবের মধ্যে "তাক্বলীদে শাখসী" (ব্যক্তির অন্ধ- অনুসরণ) ও অন্যান্য মতবিরোধপূর্ণ মাসায়েলের উপর একটি লিখিত মুনাযারা- যা গ্রন্থাবদ্ধ হয়েছে।"
মাহারুল কাদিরী সাহেব "তালাশে হজ্বের” ব্যাপারে যে খেদ (বিদ্বেষ) প্রকাশ করেছেন সে সম্পর্কে ধারণা পাবার জন্য নিচের উদ্ধৃতি লক্ষণীয়:
"এই গ্রন্থে (তালাশে হক্ক) এতটাই অশ্লীল কথা ও অনর্থক বিষোধগারের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে যে তা পাঠ করে বুঝা যায়, এই যামানাতে..... "তালাশে হজ্বের" লেখক (মাস'উদ আহমাদ সাহেব) যে দ্বীনি মেজাজ রাখেন তা সুস্পষ্টভাবে অজ্ঞতার নামান্তর।" (মাসিক ফারান, পৃঃ ৩২)
মাহারুল কাদিরী সাহেব তাঁর পর্যালোচনার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণের জন্য একটি চিঠি প্রেরণ করেন। বর্ণিত চিঠিটি প্রকাশের মাধ্যমে তিনি তা একজন দেওবন্দি 'আলেমের খিদমতে পাঠিয়ে দেন- যেন তিনি এর জবাব দেন। মাহারুল কাদিরী সাহেব এ ব্যাপারে নিজের পত্রিকা "ফারান" মে, ১৯৬৫' সংখ্যায় লিখেছেন:
"এই (মাস'উদ আহমাদের) চিঠি আমি শায়েখ তাক্বী উসমানী (উস্তাদ, দারুল 'উলুম করাচী)-এর খিদমতে পাঠিয়ে ছিলাম। (তিনি) প্রেরিত আবেদনের প্রেক্ষিতে গবেষণা, জ্ঞানান্বেষণ ও পাঠদানে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও একটি বিস্তারিত আলোচনা লিখে পাঠিয়েছিলেন। এই আলোচনার মাধ্যমে বর্ণিত চিঠির জটিল প্রশ্নের জবাব দেয়া হয়েছে।"
মাহারুল কাদিরী সাহেবকে বর্ণিত (আমার) যে চিঠিটির কারণে পিছু হটতে হয়েছিল- তা পাঠকের নিকট সুস্পষ্ট হওয়ার জন্য নিচে পেশ করা হল।