📘 মাগফিরাতের পথ ও পাথেয় > 📄 ইসতিগফারের সাথে তাওবার বাক্য ‘وَأَتُوبُ إِلَيْهِ’ যুক্ত করা

📄 ইসতিগফারের সাথে তাওবার বাক্য ‘وَأَتُوبُ إِلَيْهِ’ যুক্ত করা


আসলাফ তথা পূর্ববর্তী উলামায়ে কেরাম ও দীনের সাধকগণের একটি বড় অংশ ইসতিগফার ও তাওবা একসাথে করতে পছন্দ করতেন। তারা 'أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ' 'আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি এবং তাওবা করছি' বলা পছন্দ করতেন।
বর্ণিত আছে যে, উমর এক ব্যক্তিকে أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ 'আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি এবং তাওবা করছি' দুআ করতে শুনে বললেন, 'আরে বোকা! তুমি এভাবে বলো,
تَوْبَةَ مَنْ لَا يَمْلِكُ لِنَفْسِهِ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا وَلَا مَوْتًا وَلَا حَيَاةً وَلَا nُشُورًا
'এমন ব্যক্তির তাওবা, যে নিজের মালিক নিজে নয়। তার ভালো মন্দের মালিক সে নয়। এবং জীবন, মৃত্যু ও পুনরুত্থানের মালিকও সে নয়'।
ইমাম আব্দুর রহমান আল আওযাঈ -এর নিকট প্রশ্ন করা হলো, "এই দুআ করা যাবে কি?
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الحَيَّ القَيُّومَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
'মহান আল্লাহ তাআলার নিকট আমি ক্ষমা প্রার্থনা করি, যিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, যিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং আমি তাঁর কাছে তাওবা করি।
তিনি বললেন, এ তো খুবই ভালো। তবে দুআকারী এভাবেও বলতে পারে, 'رَبِّ اغْفِرْ لِي 'হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমায় ক্ষমা করে দিন'। ইসতিগফার পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত এভাবেই দুআ করবে।”

টিকাঃ
৭৫. জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম: ২/৪১২। সূরা ফুরকানের ৩ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে এ কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। (শামেলা)
৭৬. দুআটি তিরমিযির হাদিসে রয়েছে। হাদিস নং: ৩৫৭৭। যায়িদ হতে। সনদ সহীহ। অধ্যায়: ৪৫, দুআ। অনুচ্ছেদ: ১১৮, মেহমানের দুআ。
৭৭. জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম: ২/৪১২

📘 মাগফিরাতের পথ ও পাথেয় > 📄 ইসতিগফারের উত্তম পদ্ধতি

📄 ইসতিগফারের উত্তম পদ্ধতি


ইসতিগফার করার উত্তম পদ্ধতি হলো :
১. আল্লাহ -এর যাত ও সিফাতের শানে হামদ ও ছানা পাঠ করা।
২. নিজের গুনাহের কথা উল্লেখ করা।
৩. আল্লাহ -এর দরবারে মাগফিরাত কামনা করা।
ওপরের তিনটি মূলনীতি শাদ্দাদ বিন আউস বর্ণিত 'সাইয়্যিদুল ইসতিগফার' বিষয়ক হাদিসে রয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
سَيِّدُ الإِسْتِغْفَارِ أَنْ تَقُولَ: اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ وَمَنْ قَالَهَا مِنَ النَّهَارِ مُوقِنًا بِهَا ، فَمَاتَ مِنْ يَوْمِهِ» : الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ « قَالَ قَبْلَ أَنْ يُمْسِي، فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الجَنَّةِ، وَمَنْ قَالَهَا مِنَ اللَّيْلِ وَهُوَ مُوقِنُ بِهَا، فَمَاتَ قَبْلَ أَنْ يُصْبِحَ، فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ
"সাইয়্যিদুল ইসতিগফার হলো এ দুআ পড়া, 'হে আল্লাহ, আপনি আমার প্রতিপালক। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ (উপাস্য) নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি আপনারই বান্দা। আমি যথাসাধ্য আপনার সঙ্গে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের ওপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। আপনি আমার প্রতি যে নিআমাত দিয়েছেন তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। আপনি আমাকে মাফ করে দিন। কারণ, আপনি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।' যে ব্যক্তি দিনের (সকাল) বেলায় দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এ ইসতিগফার পাঠ করবে আর সন্ধ্যা হওয়ার আগেই সে মারা যাবে, সে জান্নাতী হবে। আর যে ব্যক্তি রাতের (প্রথম) বেলায় দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এ দুআ পাঠ করবে আর ভোর হওয়ার আগেই মারা যাবে, সে জান্নাতী হবে।""
বুখারী ও মুসলিমসহ হাদিসের বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, আব্দুল্লাহ ইবনু উমার বলেন, আবু বকর বলেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনি আমাকে একটি দুআ শিখিয়ে দিন, যা দ্বারা আমি নামাযে দুআ করব।'
রাসূল বলেন, আপনি এই দুআ পড়ুন,
اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا، وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مِنْ عِنْدِكَ مَغْفِرَةً إِنَّكَ أَنْتَ الغَفُورُ الرَّحِيمُ
“হে আল্লাহ, আমি আমার নফসের ওপর অত্যধিক যুলুম করেছি। অথচ আপনি ছাড়া আমার গুনাহসমূহ মাফ করার কেউই নেই। সুতরাং আপনার পক্ষ থেকে আমাকে সম্পূর্ণরূপে মাফ করে দিন। নিশ্চয়ই আপনি অধিক ক্ষমাপরায়ণ ও দয়াবান।"
হাদিসে বর্ণিত বিভিন্ন দুআয় ইসতিগফার করার জন্য আরও বিভিন্ন পদ্ধতি উঠে এসেছে। তিরমিযি ও আবু দাউদের এক হাদিসে রাসূল বলেছেন,
مَنْ قَالَ أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الحَيَّ القَيُّومَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ، غُفِرَ لَهُ وَإِنْ كَانَ فَرَّ مِنْ الزَّحْفِ
أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الحَيَّ القَيُّومَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ ' 'মহান আল্লাহ তাআলার নিকট আমি ক্ষমা প্রার্থনা করি, যিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। যিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং আমি তার কাছে তাওবা করি।' তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়, যদিও সে রণক্ষেত্র হতে পলায়ন করে থাকে।”
ইমাম নাসায়ী তার আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইল গ্রন্থে খাব্বাব ইবনুল আরাত-এর হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন,
قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، كَيْفَ نَسْتَغْفِرُ؟ قَالَ: قُلْ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَتُبْ عَلَيْنَا، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমরা ইসতিগফার কীভাবে করব? তিনি বললেন, এভাবে বলো, اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَتُبْ عَلَيْنَا، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ 'হে আল্লাহ, আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিন। আমাদের প্রতি দয়া করুন। এবং আমাদের তাওবা কবুল করুন। আপনিই একমাত্র দয়াময় তাওবা কবুলকারী।'
আবু হুরাইরা বলেন, আমি রাসূল -এর চেয়ে বেশি আর কাউকে 'أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ 'আমি আল্লাহ তাআলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আমি তার কাছে তাওবা করি' পাঠ করতে দেখিনি।
সুনানে আরবাআর এক বর্ণনায় আব্দুল্লাহ ইবনু উমর বলেন, আমরা এক মজলিসে রাসূল -এর জবানে একশ বার এই দুআ গণনা করেছি,
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ 'হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমায় ক্ষমা করুন। এবং আমার তাওবা কবুল করুন। আপনিই একমাত্র দয়াময় তাওবা কবুলকারী।'

টিকাঃ
৭৮. সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ৬৩০৬। অধ্যায়: ৮০, দুআ। অনুচ্ছেদ: ২, উত্তম ইসতিগফার。
৭৯. সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ৭৩৮৭। অধ্যায় ৯৭, দুআ। অনুচ্ছেদ: ৯, 'আল্লাহ তাআলা শোনেন এবং দেখেন' সূরা নিসার ১৩৪ নং আয়াতের আলোচনায়। এ ছাড়াও হাদিসটি সহীহ বুখারীর ৮৩৪ ও ৬৩২৬ নং এ রয়েছে। সহীহ মুসলিম, হাদিস নং: ২৭০৫
৮০. দুআটি তিরমিযির হাদিসে রয়েছে। হাদিস নং ৩৫৭৭। যায়িদ হতে। সনদ সহীহ। অধ্যায়: ৪৫, দুআ। অনুচ্ছেদ: ১১৮, মেহমানের দুআ; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং: ১৫১৭। সনদ সহীহ。
৮১. আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইল, হাদিস নং: ১/৩২২। হাদিস নং: ৪৬১; সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী- ৯/১৭৩। হাদিস নং: ১০২২২। হাদিসটির সনদ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা রয়েছে। সঠিক কথা হলো হাদিসটি মুরসাল। তুহফাতুল আশরাফ বিমারিফাতিল আতরাফ: ৩/১১৮। হাদিস নং: ৩৫২১
৮২. আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইল, হাদিস নং: ১/৩৩০। হাদিস নং: ৪৫৪; সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী : ৯/১৭১। হাদিস নং ১০২১৫। সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং: ১২৮। বর্ণনাকারী 'ওয়ালিদ বিন মুসলিমের' ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের কারও কারও অভিযোগ রয়েছে。
৮৩. সুনানে তিরমিযি, হাদিস নং ৩৪৩৪। সনদ হাসান সহীহ। অধ্যায় ৪৫, দুআ। অনুচ্ছেদ: ৩১. মজলিস হতে উঠার দুআ; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং: ১৫১৬; ইবনু মাজাহ, হাদিস নং ২৮১৪; নাসাঈ, সুনানুল কুবরা, হাদিস নং: ১০২১৯; আমালুল ইয়াওমি ওয়াল সাইল, হাদিস নং: ৪০৮

📘 মাগফিরাতের পথ ও পাথেয় > 📄 দিনে ক’বার ইসতিগফার করবে?

📄 দিনে ক’বার ইসতিগফার করবে?


বুখারীর এক বর্ণনায় আবু হুরাইরা রাসূল হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
وَاللَّهِ إِنِّي لَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ مَرَّةً
'আল্লাহর শপথ! আমি দিনে সত্তরবারেরও বেশি আল্লাহ -এর দরবারে ইসতিগফার ও তাওবা করে থাকি।'
সহীহ মুসলিমের এক বর্ণনায় আগার বিন ইয়াসার আল মুযানী বলেন, রাসূল বলেছেন,
إِنَّهُ لَيُغَانُ عَلَى قَلْبِي، وَإِنِّي لَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ فِي الْيَوْمِ مِائَةَ مَرَّةٍ
'নিশ্চয়ই আমার অন্তরেও ঢাকনা পড়ে যায়। আর আমি দিনে একশ বার ইসতিগফার পাঠ করি।'
মুসনাদে আহমাদের এক বর্ণনায় হুযাইফা রাসূল -এর নিকট এসে বলেন,
يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي ذَرِبُ اللَّسَانِ، وَإِنَّ عَامَّةَ ذَلِكَ عَلَى أَهْلِي، فَقَالَ: « أَيْنَ أَنْتَ مِنَ الاسْتِغْفَارِ؟ » ، فَقَالَ: « إِنِّي لَأَسْتَغْفِرُ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ أَوْ فِي الْيَوْمِ مِائَةَ مَرَّةٍ
“ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি খুব কঠোর ভাষী মানুষ। আর সাধারণত আমার পরিবারের লোকজনের সাথেই এর প্রয়োগ হয়ে থাকে। তিনি বললেন, 'তোমার ইসতিগফার কোথায় গেল?' এ কথা বলে তিনি আরও বলেন, 'আমি দিনে রাতে বা শুধু দিনে একশ বার ইসতিগফার করি'।”
আরেক বর্ণনায় এসেছে, রাসূল বলেছেন,
مَنِ أَكْثَرَ مِنَ الاسْتِغْفَارِ ، جَعَلَ اللهُ لَهُ مِنْ كُلِّ هَمَّ فَرَجًا، وَمِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا، وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ
"যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণে ইসতিগফার পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তাকে সর্বপ্রকার বিপদাপদ হতে মুক্ত করবেন ও সব রকম দুশ্চিন্তা হতে রক্ষা করবেন এবং তার জন্য এমন স্থান হতে রিজিকের ব্যবস্থা করবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।"
আবু হুরাইরা বলেন,
إِنِّي لَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ كُلَّ يَوْمٍ أَلْفَ مَرَّةٍ، وَذَلِكَ عَلَى قَدْرِ دِيَتِي 'আমি দিনে হাজারবার ইসতিগফার পাঠ করি। এ যেন আমার রক্তমূল্যের বরাবর।”
আম্মাজান আয়িশা বলেন,
طُوبَى لِمَنْ وَجَدَ فِي صَحِيفَتِهِ اسْتِغْفَارًا كَثِيرًا 'যে ব্যক্তি তার আমলনামায় অধিক পরিমাণে 'ইসতিগফার' যোগ করতে পেরেছে, তার জন্য সুসংবাদ।"
আবুল মিনহাল আব্দুর রহমান বিন মুতইম বলেন,
مَا جَاوَرَ عَبْدُ فِي قَبْرِهِ مِنْ جَارٍ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنِ اسْتِغْفَارٍ كَثِيرٍ 'অধিক পরিমাণে ইসতিগফারের চেয়ে কবরে মানুষের সর্বোত্তম সঙ্গী আর কিছু হতে পারে না।'

টিকাঃ
৮৪. সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ৬৩০৭। অধ্যায়: ৮০, দুআ। অনুচ্ছেদ: ৩, দিনে ও রাতে রাসূল -এর ইসতিগফার。
৮৫. সহীহ মুসলিম, হাদিস নং: ২৭০২। অধ্যায়: ৪৮, জিকির, দুআ, তাওবা ও ইসতিগফার। অনুচ্ছেদ: ১২, ইসতিগফার করতে পছন্দ করা এবং বেশি বেশি করা。
৮৬. মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ২৩৩৬২। হুযাইফা -এর কঠোর ভাষী হওয়ার বক্তব্যসহ সনদটি দুর্বল। তবে ২৩৩৪০ নং হাদিসে সহীহ সনদে একই ধরনের বক্তব্য থাকায় হাদিসটি সহীহ লিগাইরিহি。
৮৭. মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং: ২২৩৪। আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস হতে। সনদ যঈফ। আবু দাউদ, হাদিস নং: ১৫১৮। অধিক পরিমাণে পড়ার পরিবর্তে নিয়মিত পড়ার উল্লেখ রয়েছে。
৮৮. মারিফাতুস সাহাবা: ১৮৯১ (আবু নুআইম রচিত ও দারুল ওয়াতান প্রকাশিত)। তবে সেখানে ১২ হাজারের উল্লেখ রয়েছে。
৮৯. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী ৬৩৭। হাদিসটি ইবনে মাজাহতে রাসূল হতে বর্ণিত আছে। হাদিস নং: ৩৮১৮। আব্দুল্লাহ বিন বুসর হতে। সনদ সহীহ。
৯০. আল ফাউজুল আজীম ফি লিকাইল কারীম: ১১৯; শরহু ছুলাছিয়াতি মুসনাদি আহমাদ: ২/৫৯৯

📘 মাগফিরাতের পথ ও পাথেয় > 📄 গুনাহের প্রতিষেধক হলো ইসতিগফার

📄 গুনাহের প্রতিষেধক হলো ইসতিগফার


এ ব্যাপারে কারও কোনো দ্বিমত নেই যে গুনাহের অন্যতম ওষুধ বা প্রতিষেধক হলো ইসতিগফার। বেশি বেশি আল্লাহ -এর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা। এক মারফু বর্ণনায় আলী বলেন,
إِنَّ لِكُلِّ دَاءٍ دَوَاءٌ، وَإِنَّ دَوَاءَ الذُّنُوبِ الإِسْتِغْفَارُ
"প্রত্যেক রোগের প্রতিষেধক রয়েছে। গুনাহের প্রতিষেধক হলো 'ইসতিগফার'। "
কাতাদা বলেন,
إِنَّ الْقُرْآنَ يَدُلُّكُمْ عَلَى دَائِكُمْ وَدَوَائِكُمْ، أَمَّا دَاؤُكُمْ فَذُنُوبُكُمْ، وَأَمَّا دَوَاؤُكُمْ فَالِاسْتِغْفَارُ
'নিশ্চয় কুরআন তোমাদের রোগ এবং তার প্রতিষেধক বাতলে দিয়েছে। তোমাদের রোগ হলো 'গুনাহ', আর তার প্রতিষেধক হলো 'ইসতিগফার'। '
সালাফগণের কেউ কেউ বলেন,
إِنَّمَا مِعْوَلُ الْمُذْنِبِينَ الْبُكَاءُ وَالاسْتِغْفَارُ، فَمَنْ أَهَمَّتْهُ ذُنُوبُهُ، أَكْثَرَ لَهَا مِنَ الاسْتِغْفَارِ
“কান্নাকাটি এবং ইসতিগফার হলো গুনাহগারদের জন্য কুঠারের মতো। যে ব্যক্তি নিজের গুনাহকে গুরুত্ব দেয়, তার বেশি বেশি ইসতিগফার করা উচিত।”
রিয়াহ আল-কাইসী বলেন, 'আমার চল্লিশটিরও বেশি গুনাহ ছিল। প্রতিটি গুনাহের জন্য আল্লাহ-এর দরবারে এক হাজার বার করে ইসতিগফার করেছি।'
জনৈক বুযুর্গের ঘটনা জানা যায় যে, একদিন তিনি সাবালক হওয়ার পর থেকে যত ভুলভ্রান্তি হয়েছে তা গণনা করলেন। সারা জীবনে মাত্র ৩৬টি ভুলভ্রান্তি পাওয়া গেল। প্রতিটি ভুলের জন্য তিনি এক হাজার বার করে ইসতিগফার পাঠ করলেন। প্রতিটি ভুলের জন্য এক হাজার রাকাআত করে নামায আদায় করলেন। প্রতি রাকাতের শেষে তিনি বলতেন,
فَإِنِّي غَيْرُ آمِنٍ سَطْوَةَ رَبِّي أَنْ يَأْخُذَنِي بِهَا، وَأَنَا عَلَى خَطَرٍ مِنْ قَبُولِ التَّوْبَةِ
'এতকিছুর পরও আমি আল্লাহ তাআলার পাকড়াও হতে নিরাপদ নই। আমি নিজের তাওবা কবুল হওয়ার ব্যাপারে শঙ্কায় ভুগছি।'

টিকাঃ
১১. জামিউস সগীর, হাদিস নং: ৭৩০৭। যঈফুল জামি, হাদিস নং: ৪৭১৭। গ্রন্থকার আবু যর গিফারী ২৩-এর নাম উল্লেখ করলেও আসল বর্ণনাকারী আলী। সনদ দুর্বল。
১২. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী ১/৩৪৭। বর্ণনা নং: ৬৭৪৫। সনদ দুর্বল। তাফসীরে ইবনে হাতিম: ২৩১৯, সূরা বনী-ইসরাঈলের ৯ নং আয়াতের ব্যাখ্যায়。
৯৩. হিলয়াতুল আওলিয়া: ৬/১৯৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00