📄 বান্দার গুনাহের তুলনায় আল্লাহ ﷻ-এর ক্ষমা সীমাহীন
গ্রন্থের শুরুতেই আমরা যে হাদিসে কুদসী তুলে ধরেছি পাঠক তা ভুলে যাওয়ার কথা নয়। আল্লাহ সেখানে বলেছেন: يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ مَا دَعَوْتَنِي وَرَجَوْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ عَلَى مَا كَانَ مِنْكَ وَلَا أُبَالِي،
“হে আদমসন্তান, তুমি যতদিন আমাকে ডাকতে থাকবে এবং আমার কাছে আশা করতে থাকবে তোমার দ্বারা যা কিছু (গুনাহ) হয়েছে আমি তা ক্ষমা করে দেবো।"
অর্থাৎ বান্দার গুনাহের আধিক্য আর মারাত্মক ভুলের পাহাড়ও আল্লাহ-এর কাছে খুব বেশি বা ভারী কিছু নয়। তিনি চাইলে সবই মাফ করে দিতে পারেন। সহীহ ইবনে হিব্বানের এক বর্ণনায় আবু হুরাইরা রাসূল-এর ইরশাদ নকল করেন, তিনি বলেন,
إِذَا دَعَا أَحَدُكُمْ فَلْيُعْظِمِ الرَّغْبَةَ، فَإِنَّهُ لَا يَتَعَاظَمُ عَلَى اللَّهِ شَيْءٌ
তোমাদের কেউ যখন দুআ করে তখন সে যেন দৃঢ় বিশ্বাস ও আশার সাথে দুআ করে। কেননা, আল্লাহ-এর নিকট কোনোকিছুই কঠিন নয়।
বান্দার গুনাহ যত বেশি হোক না কেন, আল্লাহ-এর দয়া ও ক্ষমা তার চেয়ে বেশি এবং মহান। আল্লাহ-এর মাগফিরাত ও রহমতের সাগরের সামনে বান্দার গুনাহ নগণ্য এক বিন্দু মাত্র।
মুসতাদরাকু হাকিমের এক বর্ণনায় জাবির বিন আব্দুল্লাহ বলেন,
جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: وَاذْنُوبَاهُ وَاذْنُوبَاهُ، فَقَالَ هَذَا الْقَوْلَ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: « قُلِ اللَّهُمَّ مَغْفِرَتِكَ أَوْسَعُ مِنْ ذُنُوبِي وَرَحْمَتَكَ أَرْجَى عِنْدِي مِنْ عَمَلِي». فَقَالَهَا ثُمَّ قَالَ: «عُدْ» فَعَادَ ثُمَّ، قَالَ: «عُدْ» فَعَادَ، فَقَالَ: قُمْ فَقَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ»
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ-এর দরবারে এসে বলতে লাগল, 'হায় আমার গুনাহ আমাকে ধ্বংস করে দিয়েছে!' এই কথা সে দুবার বা তিনবার বলল। রাসূল তাকে বললেন, 'তুমি বলো, হে আল্লাহ, আপনার মাগফিরাত আমার গুনাহের চেয়ে বিস্তৃত। আপনার রহমত আমার কৃতকর্মের চেয়ে বেশি আশা জাগানিয়া।' লোকটি তা-ই বলল। রাসূল বললেন, 'আবার বলো।' সে আবার বলল। রাসূল বললেন, 'আবার বলো।' সে আবার বলল। এবার রাসূল বললেন, 'এবার উঠে দাঁড়াও, আল্লাহ তোমাকে মাফ করে দিয়েছেন।'
কবি আবু নাওয়াস (১৪৫-১৯৯ হি.) বলেন,
يَا كَبِيرَ الذَّنْبِ عَفْوُ اللَّهِ مِنْ ذَنْبِكَ أَكْبَرُ
শোনো গুনাহের সাগরে নিমজ্জিত হে পাপের ভারবাহী, গুনাহের চেয়ে আল্লাহ পাকের দয়ার পাল্লা ভারী।
কবি আবু নাওয়াসের ইন্তিকালের পর তার কবরফলকে পঙ্ক্তিটি খোদাই করে দেয়া হয়। তা পাঠ করে আবু মুসলিম আল কাতিব (মৃত্যু: ৩৯৩ হি.) বলেন,
أَعْظَمُ الْأَشْيَاءِ فِي جَنْبِ عَفْوِ اللَّهِ يَصْغُرُ
আল্লাহ পাকের দয়ার সাগরকোলে, পাপের পাহাড় বিন্দু হয়ে দোলে।
কবি আবু নাওয়াস আরও বলেন,
يَا رَبِّ إِنْ عَظُمَتْ ذُنُونِي كَثْرَةً ... فَلَقَدْ عَلِمْتُ بِأَنَّ عَفْوَكَ أَعْظَمُ
إِنْ كَانَ لَا يَرْجُوكَ إِلَّا مُحْسِنٌ ... فَمَنِ الَّذِي يَرْجُو وَيَدْعُو الْمُجْرِمُ
مَا لِي إِلَيْكَ وَسِيلَةٌ إِلَّا الرَّجَا ... وَجَمِيلُ عَفْوِكَ ثُمَّ إِنِّي مُسْلِمُ
ইয়া রব, মাথার পরে গুনাহের বোঝা নিয়ে আমি হাজির
আপনার সুমহান দয়া ও ক্ষমার বয়ান শুনে আমি আশাবাদী।
এ দুয়ার কি শুধুই পুণ্যের রাজপথে পথ চলা সওয়ারির?
তবে মিলবে কোথা দীনহীন এ অপরাধীর আশ্রয়খানি?
দিন শেষে রিক্ত হস্তে হাজির হয়েছে তোমার বান্দা অবনত শিরে
হয়েছি আপনার মহান দয়ার ভিখারি।
টিকাঃ
৪০. সহীহ মুসলিম, হাদিস নং: ২৫৭৭। অধ্যায় ৪৫, সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তা রক্ষা ও শিষ্টাচার। অনুচ্ছেদ: ১৫, জুলুম হারাম。
৪১. সহীহ ইবনু হিব্বান: ৮৯৬। সনদ সহীহ। মুসলিম শরীফে সমার্থক হাদিস রয়েছে। হাদিস নং: ২৬৭৯
৪২. আল মুসতাদরাকু আলাস সহীহাইন লিল হাকিম: ১/৭২৮। হাদিস নং: ১৯৯৪। বর্ণনাকারীদের মধ্যে 'ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ বিন ফজল'-কে নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।
৪৩. আব্বাস মাহমূদ আক্কাদ সম্পাদিত ও হিন্দাওয়া প্রকাশনী হতে প্রকাশিত আবু নাওয়াস: ১৩৮
৪৪. তারীখে বাগদাদ: ৭/৪৫৮; আল জালিসুস সালিহুল কাফী ওয়াল আনীসুন নাসিহুশ শাফী: ১/৯৯
৪৫. আব্বাস মাহমূদ আক্কাদ সম্পাদিত ও হিন্দাওয়া প্রকাশনী হতে প্রকাশিত আবু নাওয়াস: ১৪৩। তবে এখানে পুরো ৩ লাইন নেই। পুরোটা রয়েছে কাশফুল খাফা: ২/৭২ তে। সিলসিলাতু আলামিল উদাবা ওয়াশ শুআরা: ১৮, আবু নাওয়াস পর্ব, পৃষ্ঠা: ৮৩