📘 মাগফিরাতের পথ ও পাথেয় > 📄 গুনাহের জন্য মাগফিরাতের দুআকারী বান্দার অবশ্যকর্তব্য

📄 গুনাহের জন্য মাগফিরাতের দুআকারী বান্দার অবশ্যকর্তব্য


যে ব্যক্তি নিজের গুনাহের মাগফিরাতের জন্য মহান আল্লাহ গফুরুর রহীমের দরবারে হাত তুলবে, তার জন্য অবশ্যকর্তব্য হলো বিভীষিকাময় জাহান্নাম হতে আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং চিরস্থায়ী শান্তি ও সুখের নিআমাতে পূর্ণ জান্নাত কামনা করা। সুনানে আবু দাউদে এসেছে, কোনো এক সাহাবী বলেন,
قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِرَجُلٍ: كَيْفَ تَقُولُ فِي الصَّلَاةِ، قَالَ: أَتَشَهَدُ وَأَقُولُ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ أَمَا إِنِّي لَا أُحْسِنُ دَنْدَنَتَكَ وَلَا دَنْدَنَةً مُعَاذٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «حَوْلَهَا نُدَنْدِنُ».
“নবীজি এক ব্যক্তিকে বলেন, তুমি শেষ বৈঠকে কী ধরনের দুআ পাঠ করে থাকো? লোকটি বললেন, আমি তাশাহহুদ পড়ে থাকি, অতঃপর বলি, 'اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট জান্নাত কামনা করি এবং জাহান্নাম হতে আশ্রয় প্রার্থনা করি'। কিন্তু আমি আপনার ও মুআয -এর অস্পষ্ট শব্দ বুঝতে সক্ষম হই না। নবীজি বলেন, আমিও বেহেশত ও দোযখের আশেপাশে ঘুরে থাকি, দুআয় লিপ্ত থাকি। "
আবু মুসলিম খাওলানী বলেন,
مَا عُرِضَتْ لِي دَعْوَةً فَذَكَرْتُ النَّارَ إِلَّا صَرَفْتُهَا إِلَى الاسْتِعَاذَةِ مِنْهَا
"দুআতে জাহান্নামের কথা উল্লেখ করলেই আমি তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে থাকি।”

টিকাঃ
৩১. সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং: ৭৯২। সনদ সহীহ বিশ শাওয়াহিদ। অধ্যায়: ২, নামায। অনুচ্ছেদ: ১৩৪, নামায সংক্ষিপ্ত করা。
৩২. হিদায়াতুল ওয়িলদান শরহু ওয়াসায়া লুকমান: ৯৬; আল ওয়াফী ফি শরহি আরবাঈনান নববী: ৩৭২

📘 মাগফিরাতের পথ ও পাথেয় > 📄 কখনো কখনো দুআ কবুল না হওয়ার কারণ

📄 কখনো কখনো দুআ কবুল না হওয়ার কারণ


কখনো এমন হয় যে বান্দা আল্লাহ রব্বুল আলামীনের দরবারে পার্থিব কোনো বিষয়ে দুআ করে কিন্তু তা কবুল হয় না। এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সামান্য ইহকালীন চাহিদা পূরণ না করে এর চেয়ে ভালো ও কল্যাণকর কিছু যদি আল্লাহ তাআলা দান করেন। তবে তা সেই পাক জাতের বিশেষ রহমতই বলতে হবে। আল্লাহ বাহ্যিকভাবে দুআ কবুল না করলেও বিনিময়ে কিছু দান করেন। যেমন:
১. দুআকারীর ওপর হতে অকল্যাণ বা বিপদাপদ দূর করে দেন।
২. দুআর বিনিময়ে আখিরাতে তাকে রক্ষা করেন।
৩. দুআকারীর গুনাহ মাফ করে দেন।
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ইরশাদ নকল করেন, তিনি বলেন,
مَا مِنْ أَحَدٍ يَدْعُو بِدُعَاءِ إِلَّا آتَاهُ اللهُ مَا سَأَلَ أَوْ كَفَّ عَنْهُ مِنَ السُّوءِ مِثْلَهُ، مَا لَمْ يَدْعُ بِإِثْمٍ أَوْ قَطِيعَةِ رَحِمٍ
“কোনো ব্যক্তি যখন দুআ করে আল্লাহ তাআলা তাকে তা দান করেন কিংবা তার বিনিময়ে তার ওপর হতে কোনো অকল্যাণ প্রতিহত করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সে কোনো গুনাহের কাজে লিপ্ত হওয়ার বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার জন্য দুআ না করে।”
মুসনাদে আহমাদ ও আল মুসতাদরাকু আলাস সহীহাইন গ্রন্থদ্বয়ে আবু সাঈদ খুদরী রাসূলুল্লাহ-এর ইরশাদ নকল করেন, তিনি বলেন,
مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَدْعُو بِدَعْوَةٍ لَيْسَ فِيهَا إِثْمٌ، وَلَا قَطِيعَةُ رَحِمٍ، إِلَّا أَعْطَاهُ اللهُ بِهَا إِحْدَى ثَلَاثٍ: إِمَّا أَنْ يُعَجِّلَ لَهُ دَعْوَتَهُ، وَإِمَّا يَدَّخِرَهَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ، وَإِمَّا أَنْ يَكْشِفَ عَنْهُ السُّوءَ بِمِثْلِهَا ، قَالُوا: إِذًا نُكْثِرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: اللهُ أَكْثَرُ.
“কোনো বান্দা যখন গুনাহ ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে দুআ করে, আল্লাহ তাআলা তাকে (দুআর বিনিময়ে) তিনটি বিষয়ের যেকোনো একটি দান করেন।
১. দ্রুত তার দুআ কবুল করবেন।
২. আখিরাতে এর বিনিময় দান করবেন। অথবা
৩. দুআর সমপরিমাণ অকল্যাণ হতে তাকে নিরাপদ রাখবেন।
সাহাবায়ে কেরام ﷇ আরজ করলেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমরা যদি বেশি বেশি দুআ করি?’ রাসূল ﷺ বললেন, ‘আল্লাহ সবচেয়ে বেশি দিতে পারেন।”
ইমাম তাবরানী তার মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী গ্রন্থে যে বর্ণনা এনেছেন তাতে বিপদমুক্তির পরিবর্তে গুনাহ মাফের কথা রয়েছে। বলা হয়েছে, 'إِمَّا أَنْ يَغْفِرَ لَهُ بِهَا ذِنْبًا قَدْ سَلَفَ' অথবা তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেবেন।
ইমাম তিরমিযি � তার সুনানে তিরমিযিতে উবাদাহ ইবনু সামিত � এর একই অর্থবিশিষ্ট হাদিস বর্ণনা করেছেন।

টিকাঃ
৩০. সুনানে তিরমিযি, হাদিস নং: ৩৩৮১। সনদ হাসান। অধ্যায় ৪৫, দুআ। অনুচ্ছেদ: ৯, মুসলমানের দুআ কবুল হয়। মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং: ১৪৮৭৯
৩৪. মুসান্নাফু ইবনি আবী শাইবা: ২৯১৭০। গ্রন্থকার মূল গ্রন্থে উল্লেখিত মুসনাদে আহমাদ ও মুসতাদরাকু হাকিমের নাম উল্লেখ করে যে মতন তুলে ধরেছেন তা উভয় কিতাবের কোনোটিতেই নেই। এই মতন রয়েছে মুসান্নাফু ইবনে আবী শাইবাতে। উল্লেখিত গ্রন্থদ্বয়ের বর্ণনাটি নিম্নরূপ:
مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَدْعُو اللَّهَ بِدَعْوَةٍ لَيْسَ فِيهَا مَأْتَمُ، وَلَا قَطِيعَةُ رَحِمٍ إِلَّا أَعْطَاهُ إِحْدَى ثَلَاثٍ: إِمَّا أَنْ يَسْتَجِيبَ لَهُ دَعْوَتَهُ أَوْ يَصْرِفَ عَنْهُ مِنَ السُّوءِ مِثْلَهَا، أَوْ يَدَّخِرَ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلَهَا ». قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ، إِذَا نُكْثِرُ. قَالَ: «اللَّهُ أَكْثَرُ هَذَا حَدِيثُ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ إِلَّا أَنَّ الشَّيْخَيْنِ لَمْ يُخَرِّجَاهُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَلِيَّ الرِّفَاعِيَّ
মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং: ১১১৩৩; আল মুসতাদরাকু আলাস সহীহাইন: ১৮১৬, সনদ সহীহ。
৩৫. মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী: ৪/৩৩৭। হাদিস নং: ৪৩৬৮。
৩৬. সুনানে তিরমিযি, হাদিস নং: ৩৩৭৫। সনদ হাসান সহীহ। অধ্যায়: ৪৫, দুআ। অনুচ্ছেদ: ১১৬, সুদিনের অপেক্ষা।

📘 মাগফিরাতের পথ ও পাথেয় > 📄 আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কারও নিকট মাগফিরাতের আশা না করা

📄 আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কারও নিকট মাগফিরাতের আশা না করা


গুনাহগার বান্দা সর্বাবস্থায় আল্লাহ -এর রহমতের প্রতি আশাবাদী হয়ে কাকুতি-মিনতিসহকারে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। এটা খুবই জরুরি।
এক হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ বলেন : أَنَا عِنْدَ ظَنَّ عَبْدِي بِي “বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা রাখে, আমি আমার বান্দার সাথে তেমন আচরণ করি।”
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, ‘فَلَا تَظُنُّوا بِاللَّهِ إِلَّا خَيْرًا 'অতএব তোমরা আল্লাহ -এর প্রতি ভালো ধারণা রেখো। অন্য কোনোরূপ ধারণা রেখো না।'
সাঈদ বিন জুবাইর-এর অনুরোধে আব্দুল্লাহ বিন উমর রাসূল-এর পবিত্র জবানে শোনা হাদিস বর্ণনা করেন, يَأْتِي اللَّهُ تَعَالَى بِالْمُؤْمِنِ يَوْمَ الْقِيَامَةَ، فَيُقَرِّبُهُ حَتَّى يَجْعَلَهُ فِي حِجَابِهِ مِنْ جمِيعِ الْخَلْقِ، فَيَقُولُ لَهُ: اقْرَأْ [صَحِيفَتَكَ ، فَيُعَرِّفُهُ ذَنْبًا ذَنْبًا: أَتَعْرِفُ أَتَعْرِفُ؟ فَيَقُولُ: نَعَمْ نَعَمْ، ثُمَّ يَلْتَفِتُ الْعَبْدُ يَمْنَةً وَيَسْرَةً، فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: لَا بَأْسَ عَلَيْكَ، يَا عَبْدِي أَنْتَ فِي سِتْرِي مِنْ جَمِيعِ خَلْقِي، لَيْسَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ الْيَوْمَ أَحَدٌ يَطَّلِعُ عَلَى ذُنُوبِكَ غَيْرِي اذْهَبْ فَقَدْ غَفَرْتُهَا لَكَ بِحَرْفٍ وَاحِدٍ مِنْ جَمِيعِ مَا أَتَيْتَنِي بِهِ ، قَالَ: مَا هُوَ يَا رَبِّ؟ قَالَ: كُنْتَ لَا تَرْجُو الْعَفْوَ مِنْ أَحَدٍ غَيْرِي
"কিয়ামতের দিন এক বান্দাকে আল্লাহ -এর সামনে হাজির করা হবে। আল্লাহ তাকে সকল সৃষ্টি হতে নিজের আড়ালে নিয়ে বলবেন, 'তোমার আমলনামা পড়ো'। সে পড়তে শুরু করবে। তিনি তার গুনাহসমূহ একে একে ধরিয়ে দেবেন। অতঃপর আল্লাহ বলবেন, 'চিনতে পেরেছ?' সে বলবে, 'জি, হ্যাঁ, ইয়া রব, চিনতে পেরেছি।' এ কথা বলে সে ডানে-বামে তাকাতে থাকবে। তখন আল্লাহ বলবেন, 'বান্দা, ভয়ের কিছু নেই, তুমি আমার গোপন ছায়ায় রয়েছো। আমার আর তোমার মাঝে গুনাহভর্তি এই আমলনামা দেখার মতো আর কেউ নেই। যাও, তোমার সবকিছু আমি একটি বিশেষ কারণে ক্ষমা করে দিলাম।' সে বলবে, 'হে আমার রব, তা কী?' আল্লাহ তাআলা বলবেন, 'তুমি আমাকে ছাড়া অন্য কারও নিকট ক্ষমার আশা করোনি, তাই'।”
অতএব আল্লাহ রব্বুল ইজ্জতের দরবারে মাগফিরাতের আশায় হাত তোলার আগে তাঁর দয়া, মেহেরবানি ও ক্ষমার প্রতি সুধারণা পোষণ ও আশাবাদী হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আবু যর গিফারী হতে বর্ণিত বিখ্যাত হাদিসে কুদসীতে রয়েছে, আল্লাহ বলেন :
يَا عِبَادِي إِنِّي حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَى نَفْسِي، وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا، فَلَا تَظَالَمُوا، يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ ضَالُّ إِلَّا مَنْ هَدَيْتُهُ، فَاسْتَهْدُونِي أَهْدِكُمْ، يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ جَائِعٌ، إِلَّا مَنْ أَطْعَمْتُهُ، فَاسْتَطْعِمُونِي أُطْعِمْكُمْ، يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ عَارِ، إِلَّا مَنْ كَسَوْتُهُ، فَاسْتَكْسُونِي أَكْسُكُمْ، يَا عِبَادِي إِنَّكُمْ تُخْطِئُونَ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ، وَأَنَا أَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا، فَاسْتَغْفِرُونِي أَغْفِرْ لَكُمْ،
“হে আমার বান্দাগণ, আমি জুলুমকে নিজের জন্য হারাম করেছি, আর তা তোমাদের মধ্যেও হারাম করে দিয়েছি; অতএব তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম কোরো না।
হে আমার বান্দাগণ, আমি যাকে হিদায়াত দিয়েছি সে ছাড়া তোমরা সকলেই পথভ্রষ্ট। সুতরাং আমার কাছে হিদায়াত চাও, আমি তোমাদের হিদায়াত দান করব।
হে আমার বান্দাগণ, আমি যাকে অন্ন দান করেছি, সে ছাড়া তোমরা সকলেই ক্ষুধার্ত। সুতরাং তোমরা আমার নিকট খাদ্য চাও, আমি তোমাদের খাদ্য দান করব।
হে আমার বান্দাগণ, তোমরা সবাই বিবস্ত্র, সে ব্যতীত যাকে আমি কাপড় পরিয়েছি। সুতরাং আমার কাছে বস্ত্র চাও, আমি তোমাদেরকে বস্ত্র দান করব।
হে আমার বান্দাগণ, তোমরা রাতদিন গুনাহ করছো, আর আমি তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দিই। সুতরাং আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দেবো।"

টিকাঃ
৩৭. সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ৭৪০৫। আবু হুরাইরা হতে। অধ্যায় ৯৭, তাওহীদ। অনুচ্ছেদ: ১৫, সূরা আলে ইমরান, ৩: ২৮ সম্পর্কিত。
৩৮. ইবনু আবিদ দুনিয়া প্রণীত হুসনুষ যন্নি বিল্লাহ ৯৬। হাদিস নং: ৮৪। আবু হুরাইরা হতে। তবে অন্য কোনো বর্ণনায় তা পাওয়া যায় না। এর সমর্থনে কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়, যেমন: মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং: ১৬০১৬; সহীহ ইবনু হিব্বান, হাদিস নং: ৬৩৩। ওয়াসিলা বিন আসকা হতে। সনদ সহীহ。
৩৯. জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম : ১১৬২; দুররুল মানসূর: ৪/৪১৩, সূরা হুদের ১৮ নং আয়াতের ব্যাখ্যায়। ইবনু রজব হাম্বলি ও জালালুদ্দীন সুয়ূতী তাবরানী ও মজমাউজ জাওয়াইদের উদ্ধৃতি দিয়ে হাদিসটি বর্ণনা করলেও গ্রন্থদ্বয়ে হুবহু এই বর্ণনাটি নেই। বিশেষ করে শেষের 'আশাবাদ' বিষয়ক বাক্যের সমার্থক কিছুও নেই। দেখুন, মজমাউজ জাওয়াইদ : ১১০৭৭। কাসিম বিন বাহরাম নামক বর্ণনাকারীর প্রতি মুহাদ্দিসগণের আপত্তি থাকার দরুন হাদিসটি দুর্বল। তাবরানী আওসাত : ৩৯১৫ ও ৬৯৭৫

📘 মাগফিরাতের পথ ও পাথেয় > 📄 বান্দার গুনাহের তুলনায় আল্লাহ ﷻ-এর ক্ষমা সীমাহীন

📄 বান্দার গুনাহের তুলনায় আল্লাহ ﷻ-এর ক্ষমা সীমাহীন


গ্রন্থের শুরুতেই আমরা যে হাদিসে কুদসী তুলে ধরেছি পাঠক তা ভুলে যাওয়ার কথা নয়। আল্লাহ সেখানে বলেছেন: يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ مَا دَعَوْتَنِي وَرَجَوْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ عَلَى مَا كَانَ مِنْكَ وَلَا أُبَالِي،
“হে আদমসন্তান, তুমি যতদিন আমাকে ডাকতে থাকবে এবং আমার কাছে আশা করতে থাকবে তোমার দ্বারা যা কিছু (গুনাহ) হয়েছে আমি তা ক্ষমা করে দেবো।"
অর্থাৎ বান্দার গুনাহের আধিক্য আর মারাত্মক ভুলের পাহাড়ও আল্লাহ-এর কাছে খুব বেশি বা ভারী কিছু নয়। তিনি চাইলে সবই মাফ করে দিতে পারেন। সহীহ ইবনে হিব্বানের এক বর্ণনায় আবু হুরাইরা রাসূল-এর ইরশাদ নকল করেন, তিনি বলেন,
إِذَا دَعَا أَحَدُكُمْ فَلْيُعْظِمِ الرَّغْبَةَ، فَإِنَّهُ لَا يَتَعَاظَمُ عَلَى اللَّهِ شَيْءٌ
তোমাদের কেউ যখন দুআ করে তখন সে যেন দৃঢ় বিশ্বাস ও আশার সাথে দুআ করে। কেননা, আল্লাহ-এর নিকট কোনোকিছুই কঠিন নয়।
বান্দার গুনাহ যত বেশি হোক না কেন, আল্লাহ-এর দয়া ও ক্ষমা তার চেয়ে বেশি এবং মহান। আল্লাহ-এর মাগফিরাত ও রহমতের সাগরের সামনে বান্দার গুনাহ নগণ্য এক বিন্দু মাত্র।
মুসতাদরাকু হাকিমের এক বর্ণনায় জাবির বিন আব্দুল্লাহ বলেন,
جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: وَاذْنُوبَاهُ وَاذْنُوبَاهُ، فَقَالَ هَذَا الْقَوْلَ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: « قُلِ اللَّهُمَّ مَغْفِرَتِكَ أَوْسَعُ مِنْ ذُنُوبِي وَرَحْمَتَكَ أَرْجَى عِنْدِي مِنْ عَمَلِي». فَقَالَهَا ثُمَّ قَالَ: «عُدْ» فَعَادَ ثُمَّ، قَالَ: «عُدْ» فَعَادَ، فَقَالَ: قُمْ فَقَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ»
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ-এর দরবারে এসে বলতে লাগল, 'হায় আমার গুনাহ আমাকে ধ্বংস করে দিয়েছে!' এই কথা সে দুবার বা তিনবার বলল। রাসূল তাকে বললেন, 'তুমি বলো, হে আল্লাহ, আপনার মাগফিরাত আমার গুনাহের চেয়ে বিস্তৃত। আপনার রহমত আমার কৃতকর্মের চেয়ে বেশি আশা জাগানিয়া।' লোকটি তা-ই বলল। রাসূল বললেন, 'আবার বলো।' সে আবার বলল। রাসূল বললেন, 'আবার বলো।' সে আবার বলল। এবার রাসূল বললেন, 'এবার উঠে দাঁড়াও, আল্লাহ তোমাকে মাফ করে দিয়েছেন।'
কবি আবু নাওয়াস (১৪৫-১৯৯ হি.) বলেন,
يَا كَبِيرَ الذَّنْبِ عَفْوُ اللَّهِ مِنْ ذَنْبِكَ أَكْبَرُ
শোনো গুনাহের সাগরে নিমজ্জিত হে পাপের ভারবাহী, গুনাহের চেয়ে আল্লাহ পাকের দয়ার পাল্লা ভারী।
কবি আবু নাওয়াসের ইন্তিকালের পর তার কবরফলকে পঙ্ক্তিটি খোদাই করে দেয়া হয়। তা পাঠ করে আবু মুসলিম আল কাতিব (মৃত্যু: ৩৯৩ হি.) বলেন,
أَعْظَمُ الْأَشْيَاءِ فِي جَنْبِ عَفْوِ اللَّهِ يَصْغُرُ
আল্লাহ পাকের দয়ার সাগরকোলে, পাপের পাহাড় বিন্দু হয়ে দোলে।
কবি আবু নাওয়াস আরও বলেন,
يَا رَبِّ إِنْ عَظُمَتْ ذُنُونِي كَثْرَةً ... فَلَقَدْ عَلِمْتُ بِأَنَّ عَفْوَكَ أَعْظَمُ
إِنْ كَانَ لَا يَرْجُوكَ إِلَّا مُحْسِنٌ ... فَمَنِ الَّذِي يَرْجُو وَيَدْعُو الْمُجْرِمُ
مَا لِي إِلَيْكَ وَسِيلَةٌ إِلَّا الرَّجَا ... وَجَمِيلُ عَفْوِكَ ثُمَّ إِنِّي مُسْلِمُ
ইয়া রব, মাথার পরে গুনাহের বোঝা নিয়ে আমি হাজির
আপনার সুমহান দয়া ও ক্ষমার বয়ান শুনে আমি আশাবাদী।
এ দুয়ার কি শুধুই পুণ্যের রাজপথে পথ চলা সওয়ারির?
তবে মিলবে কোথা দীনহীন এ অপরাধীর আশ্রয়খানি?
দিন শেষে রিক্ত হস্তে হাজির হয়েছে তোমার বান্দা অবনত শিরে
হয়েছি আপনার মহান দয়ার ভিখারি।

টিকাঃ
৪০. সহীহ মুসলিম, হাদিস নং: ২৫৭৭। অধ্যায় ৪৫, সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তা রক্ষা ও শিষ্টাচার। অনুচ্ছেদ: ১৫, জুলুম হারাম。
৪১. সহীহ ইবনু হিব্বান: ৮৯৬। সনদ সহীহ। মুসলিম শরীফে সমার্থক হাদিস রয়েছে। হাদিস নং: ২৬৭৯
৪২. আল মুসতাদরাকু আলাস সহীহাইন লিল হাকিম: ১/৭২৮। হাদিস নং: ১৯৯৪। বর্ণনাকারীদের মধ্যে 'ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ বিন ফজল'-কে নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।
৪৩. আব্বাস মাহমূদ আক্কাদ সম্পাদিত ও হিন্দাওয়া প্রকাশনী হতে প্রকাশিত আবু নাওয়াস: ১৩৮
৪৪. তারীখে বাগদাদ: ৭/৪৫৮; আল জালিসুস সালিহুল কাফী ওয়াল আনীসুন নাসিহুশ শাফী: ১/৯৯
৪৫. আব্বাস মাহমূদ আক্কাদ সম্পাদিত ও হিন্দাওয়া প্রকাশনী হতে প্রকাশিত আবু নাওয়াস: ১৪৩। তবে এখানে পুরো ৩ লাইন নেই। পুরোটা রয়েছে কাশফুল খাফা: ২/৭২ তে। সিলসিলাতু আলামিল উদাবা ওয়াশ শুআরা: ১৮, আবু নাওয়াস পর্ব, পৃষ্ঠা: ৮৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00