📘 মাদারিজুস সালিকীন > 📄 সাধারণ মুসলমানদের দলীল-প্রমাণ

📄 সাধারণ মুসলমানদের দলীল-প্রমাণ


কোনো সন্দেহ নেই যে, অধিকাংশ মানুষ সুন্দরভাবে দলীল-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে না। তাদের অন্তরে তাওহীদের উপস্থিতির চেয়ে এটি অতিরিক্ত একটি বিষয়। কোনোকিছু অর্জন হলে, কোনো বিষয় সম্পর্কে জানলে এবং কোনোকিছুতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করলেই সবাই তার ওপর সুন্দর করে প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে না, তা দৃঢ়ভাবে সাব্যস্ত করতে পারে না এবং তাতে আরোপিত আপত্তিগুলো প্রতিহতও করতে পারে না। এ রকম যোগ্যতা থাকা এক বিষয় আর সে সম্পর্কে জানা, বিশ্বাস করা আরেক বিষয়। তবে তাওহীদ সম্পর্কে জানা ও বিশ্বাস করার সাথে সাথে এক প্রকার দলীল-প্রমাণও বান্দার নিকট থাকতে হবে। যদিও তা তার্কিকরা যেমন সুন্দর করে বিন্যস্তভাবে উপস্থাপন করে সেরকম হওয়া জরুরি।
নয়। আসলে তাওহীদ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য এটি কোনো শর্তও নয়। আর তাওহীদ সম্পর্কে জানতে এবং সে অনুযায়ী আমল করতেও এর কোনো প্রয়োজন নেই। প্রত্যেকেই নিজ নিজ সামর্থ্য ও অবস্থা অনুসারে প্রমাণ পেশ করবে। আসলে প্রমাণ উপস্থাপনের প্রকার, পদ্ধতি ও স্তর অসংখ্য; আল্লাহ ছাড়া আর কেউ তা গণনা করার সক্ষমতা রাখে না। আর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যই রয়েছে পথপ্রদর্শক।
প্রতিটি সহীহ ইলম ও ইয়াকীনের দলীল রয়েছে; যা সেই বিষয়কে আবশ্যক করে এবং এর সাক্ষীও রয়েছে; যার মাধ্যমের তার বিশুদ্ধতা নির্ণীত হয়। কিন্তু কখনো কখনো সেই ইলম ও ইয়াকীনের অধিকারী ব্যক্তি তা উপস্থাপন করতে পারে না; অক্ষমতা বা মূর্খতার কারণে। যদি কখনো সেই বিষয়ে কথা বলে, তখন জ্ঞানীদের পরিভাষা ও শব্দ ব্যবহার করতে পারে না। (তবে তাদের মধ্যেও অনেক উপকারী বিষয় পাওয়া যায়।) অনেক দলীল এমন রয়েছে, যেগুলো দ্বারা সত্যের পরিচয় সুস্পষ্ট হয়; সেগুলো দার্শনিকদের দলীল ও প্রস্তাবনার চেয়ে বেশি বিশুদ্ধ, সংশয় থেকে অনেক দূরবর্তী এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বেশ কাছাকাছি হয়।
যে ব্যক্তি মানুষজনের অবস্থা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে, সে ব্যক্তি অধিকাংশ মুসলিমকেই এমন পায় যে, তারা তাওহীদ, মা'রিফাত ও ঈমানের ক্ষেত্রে অধিকাংশ দার্শনিক, তার্কিক ও যুক্তিবিদের চেয়ে বেশি অগ্রগামী ও মজবুত। সাধারণ মুসলিমদের নিকট সে এমন এমন দলীল ও নিদর্শনাদিও পেয়ে যায়, যা তাদের বিশুদ্ধ ঈমানের পরিচায়ক, যা মুতাকাল্লিমীন বা দার্শনিকদের নিকট থাকা দলীল-প্রমাণের চেয়ে সুস্পষ্ট ও পরিচ্ছন্ন।
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদেরকে প্রাকৃতিক নিদর্শনাদির প্রতি গভীরভাবে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন। এগুলোর মাধ্যমে তাঁর তাওহীদ, সিফাত, কার্যাবলি ও রাসূলদের সত্যবাদিতার ওপর প্রমাণ উপস্থাপন করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। সেই নিদর্শনগুলো ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে প্রত্যক্ষ করা যায়, আকল দ্বারা উপলব্ধি করা যায় এবং সেগুলো মানুষের তবিয়তে সৃষ্টিগতভাবেই রয়েছে। যা বোঝার জন্য পর্যবেক্ষণকারীর প্রয়োজন পড়ে না যে, সে তার্কিক ও দার্শনিকদের পথ, মত, পরিভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গির অনুসরণ করবে। সুস্থ অনুভূতি ও পার্থক্যকারী বোধবুদ্ধির অধিকারী প্রতিটি ব্যক্তিই তা চিনতে পারে, তা স্বীকার করে এবং সেসব নিদর্শন যা বোঝায়, তা হৃদয়ঙ্গম করে। কুরআন মাজীদে এ রকম প্রায় দশ হাজার সুস্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে। যে ব্যক্তি কুরআন মুখস্থ করেনি; যখন সে তা শুনবে, বুঝার চেষ্টা করবে এবং তা উপলব্ধিতে আনবে, তখন আয়াতগুলো যা বোঝাতে চেয়েছে, তার মস্তিষ্ক সে দিকে খুব দ্রুতই ধাবিত হবে এবং তা স্বীকার করে নেবে।
মোটকথা কোনোকিছু সম্পর্কে জানে এমন প্রতিটি ব্যক্তিই সে সম্পর্কে দলীল-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে না। আবার দলীল-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে এমন প্রতিটি ব্যক্তিই তা সুবিন্যস্তভাবে গুছিয়ে বলতে পারে না, প্রশ্নকারীর প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না এবং সে সম্পর্কে কোনো আপত্তির খণ্ডনও করতে পারে না।
আমরা দুচোখে যা দেখি, তা-ই দলীল। যেমন: নির্মিত বস্তুর মাধ্যমে নির্মাতার ওপর এবং সৃষ্ট বস্তুর মাধ্যমে স্রষ্টার ওপর দলীল উপস্থাপন। এটি হলো কুরআনের পন্থা; যার চেয়ে উত্তম আর কোনো পন্থা নেই।

টিকাঃ
[৮৩৯] সূরা বাকারা, ২: ১৩০-১৩১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00