📘 মাদারিজুস সালিকীন > 📄 আল্লাহ তাআলার নিজের ব্যাপারে নিজের সাক্ষ্যদান

📄 আল্লাহ তাআলার নিজের ব্যাপারে নিজের সাক্ষ্যদান


আল্লাহ তাআলা নিজেই নিজের ব্যাপারে তাওহীদের সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ ব্যাপারে ফেরেশতাগণ, রাসূলগণ এবং আম্বিয়ায়ে কেরামও সাক্ষ্য দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
شَهِدَ اللهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ
“আল্লাহ নিজেই সাক্ষ্য দিয়েছেন, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। আর ফেরেশতা ও সকল আলিমগণই সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে এ সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, সেই প্রবল পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময় সত্তা ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম।”[৮২৬]
এই আয়াতটি প্রকৃত তাওহীদকে সাব্যস্ত করে, সমস্ত বাতিলপন্থিকে প্রত্যাখ্যান করে এবং তাদের কথা ও মতবাদ যে ভ্রান্ত তার সাক্ষ্য দেয়। এই আয়াতে ঈমান এবং আল্লাহ তাআলার প্রজ্ঞার যে মর্মার্থ নিহিত রয়েছে, তা উপলব্ধি করার পর এই বিষয়টি সুস্পষ্ট হবে।
ওপরের আয়াতটি মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সবচেয়ে সম্মানিত, সত্য ও ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্য দেওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে। এবং যে বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন তাও সবচেয়ে সম্মানিত। সালাফগণ সাক্ষ্যদানের অর্থ সম্পর্কে যা বলেছেন; তা হুকুম প্রদান করা, ফায়সালা দেওয়া, জানানো, ব্যাখ্যা করা এবং খবর দেওয়া- এই অর্থগুলোর মধ্যেই আবর্তিত হয়। মুজাহিদ বলেছেন, '(সাক্ষ্য দেওয়া মানে) হুকুম প্রদান করা এবং ফায়সালা দেওয়া।' যাজ্জাজ বলেছেন, 'ব্যাখ্যা করা।' কেউ কেউ বলেছেন, 'জানিয়ে দেওয়া এবং খবর প্রদান করা।'
এই সব অভিমতের সবগুলোই সঠিক; পরস্পরের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। কেননা সাক্ষ্যদান সাক্ষীর কথাবার্তা ও খবর, কোনোকিছু জানিয়ে দেওয়া, সংবাদ দেওয়া, ব্যাখ্যা করা, তার হুকুম, ফায়সালা সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে। সাক্ষ্যদানের চারটি স্তর রয়েছে-
১. যে বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়, তা সঠিক হওয়ার জন্য সে বিষয়ের জ্ঞান থাকা এবং তা বিশ্বাস করা আবশ্যক।
২. সে সম্পর্কে কথা বলা; যদিও তা মানুষকে না জানায়। বরং সে নিজেই নিজের সাথে তা নিয়ে কথা বলবে, তা স্মরণ করবে অথবা লিখে রাখবে।
৩. যে বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে, তা মানুষজনকে জানানো, সে সম্পর্কে খবর দেওয়া এবং তা সুস্পষ্ট করা।
৪. এর বিষয়বস্তুর আদেশ দেওয়া এবং তা মানতে বাধ্য করা।
সুতরাং নিজের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের ন্যায়নিষ্ঠভাবে সাক্ষ্যদান এই চারটি স্তরকেই শামিল করে: এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার ইলম রয়েছে, তিনি এ সম্পর্কে বলেছেন, তা সবাইকে জানিয়েছেন, সে সম্পর্কে আদেশ করেছেন এবং তা মানা বাধ্যতামূলক করেছেন।
(উপরিউক্ত চারটি স্তর সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা :)
ইলমের স্তর: সত্য-সাক্ষ্য দেওয়া ইলমের স্তরকে আবশ্যিকভাবেই অন্তর্ভুক্ত করে। অন্যথায় সাক্ষ্যদাতা এমন বিষয়ে সাক্ষ্য দেবে, যে বিষয়ে তার কোনো জ্ঞান নেই! আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
إِلَّا مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُوْنَ
“তবে যদি কেউ জ্ঞানের ভিত্তিতে ন্যায় ও সত্যের সাক্ষ্য দান করে।”[৮২৭]
খবর দেওয়া ও কথা বলার স্তর: যে ব্যক্তি কথা বলল ও খবর দিলো, সে যেন সে সম্পর্কে সাক্ষ্যই দিলো; যদিও সাক্ষ্য দেওয়ার কথা মুখে উচ্চারণ না করে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَجَعَلُوا الْمَلَائِكَةَ الَّذِينَ هُمْ عِبَادُ الرَّحْمَنِ إِنَاثًا أَشَهِدُوا خَلْقَهُمْ سَتُكْتَبُ شَهَادَتُهُمْ وَيُسْأَلُونَ ۞
"এরা স্ত্রীলোক গণ্য করেছে ফেরেশতাদেরকে; যারা দয়াময় আল্লাহর খাস বান্দা। তারা কি তাদের দৈহিক গঠন প্রত্যক্ষ করেছে? এখন তাদের সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে।” [৮২৮]
এটিকে তাদের সাক্ষ্যস্বরূপ সাব্যস্ত করা হয়েছে। যদিও তারা সাক্ষ্য দেওয়ার কথা মুখে উচ্চারণ করেনি এবং অপরের কাছে তা পৌঁছিয়েও দেয়নি।
সংবাদ প্রদান করা ও জানিয়ে দেওয়ার স্তর: এটি দুই প্রকার: ১. কথার মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া এবং ২. কাজের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া। কোনো বিষয়ে জানিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ দুটি পন্থা অবলম্বন করা হয়। কখনো কথার মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয় আবার কখনো কাজের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। এ কারনেই যে ব্যক্তি নিজের বাড়িকে মাসজিদ বানায়, এর দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয় এবং সেখানে সালাতের সময় আযান দেয়; তা হলে তা ওয়াক্‌ফ হিসেবে গণ্য হয়, তার বাড়ি শারঈ মাসজিদ হিসেবে সাব্যস্ত হয়। যদিও সে ওয়াফ্‌ফের কথা মুখে উল্লেখ না করে।
এমনিভাবে আল্লাহ তাআলার সাক্ষ্যদান, ব্যাখ্যা, কোনোকিছু সম্পর্কে অবগত করানো কখনো কথার মাধ্যমে হয় আবার কখনো কাজের মাধ্যমেও হয়।
কথার মাধ্যমে: যা দিয়ে তিনি রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছেন এবং কিতাবসমূহ নাযিল করেছেন। সমস্ত রাসূল আল্লাহ সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি নিজের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছেন, لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ 'তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই' এবং তিনি তাঁর বান্দাদেরও এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দিতে আদেশ করেছেন। আল্লাহ তাআলার বাণী পৌঁছানোর সবকটি উৎস থেকেই এ বিষয়টি জানা যায়।
কাজের মাধ্যমে: আল্লাহ তাআলার ব্যাখ্যা, কোনোকিছু সম্পর্কে অবগত করানো তাঁর কাজের মাধ্যমেও জানা যায়। চিন্তাভাবনা করলে সৃষ্টিজগতের প্রতিটি বস্তুর মাঝেই আল্লাহর একত্ববাদের প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন,
سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ
"অচিরেই আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাবো পৃথিবীর দিক-দিগন্তে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে; যাতে এ কথা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, তা যথার্থ সত্য।” [৮২৯]
অর্থাৎ কুরআন যথার্থই সত্য। আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর দিক-দিগন্তে ছড়িয়ে-থাকা নিদর্শনাদি তাঁর বাণী-সমৃদ্ধ-নিদর্শন কুরআনকে সত্যায়ন করে। কাজের মাধ্যমে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা অনেক মুফাস্স্সির ও ইমামগণও বলেছেন। ইবনু কাইসান বলেছেন, 'আল্লাহ তাআলার সুনিপুণ পরিচালনা ও সৃষ্টিজগতে তাঁর অনন্য সৃষ্টিই সাক্ষ্য দেয় যে, তিনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ্ নেই।'[৮৩০]
আদেশ দেওয়া ও বাধ্যতামূলক করার স্তর: যদিও শুধু সাক্ষ্য প্রদান করাই আদেশ দেওয়া ও বাধ্যতামূলক করাকে আবশ্যক করে না। কিন্তু এখানে আল্লাহর সাক্ষ্যদান এর প্রতি ইঙ্গিত করে এবং তা অন্তর্ভুক্ত করে। কেননা আল্লাহ তাআলা এর সাক্ষ্যও দিয়েছেন এবং বান্দাদের তা আদেশও করেছেন। যেমন তিনি বলেছেন,
وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ
"আপনার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদাত করো না।"[৮৩১]
তিনি আরও বলেন, وَقَالَ اللَّهُ لَا تَتَّخِذُوا إِلَهَيْنِ اثْنَيْنِ إِنَّمَا هُوَ إِلَهُ وَاحِدٌ "আল্লাহ বলেছেন, 'তোমরা দুই উপাস্য গ্রহণ করো না, উপাস্য তো মাত্র একজনই।”[৮৩২]
পুরা কুরআনই এই বিষয়ের সাক্ষী।
আল্লাহ তাআলার সাক্ষ্যদান এই বিষয়টিকে (অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-কে) আবশ্যক করার কারণ হলো: আল্লাহ যখন এই সাক্ষ্য প্রদান করেছেন যে, তিনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই, তখন তিনি এই বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন, সুস্পষ্ট করেছেন, হুকুম দিয়েছেন এবং ফায়সালা করেছেন যে, তিনি ব্যতীত যা কিছু রয়েছে তা ইলাহ্ নয়, তাদের ইলাহ্ হওয়াটা চরম ভ্রান্ত ও বাতিল। সুতরাং তিনি ব্যতীত আর কেউ ইবাদাত পাওয়ার অধিকার রাখে না, যেমন তিনি ব্যতীত অন্য কেউ ইলাহ্ হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। আর এই বিষয়টিই এক আল্লাহকে ইলাহরূপে গ্রহণ করার আদেশকে আবশ্যক করে এবং অন্য কাউকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করা থেকে বিরত রাখে।
আল্লাহ তাআলার এই সাক্ষ্য প্রদানে আলিমদের ব্যাপারে প্রশংসা রয়েছে, যারা এর সাক্ষ্য দিয়েছেন। এতে আলিমদের ন্যায়পরায়ণতারও প্রমাণ রয়েছে। কেননা আল্লাহ তাআলা আলিমদের সাক্ষ্যকে নিজ সাক্ষ্যের সাথে ও ফেরেশতাদের সাক্ষ্যের সাথে মিলিয়েছেন এবং আলিমদের মাধ্যমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। কেউ যখন সত্যকে অস্বীকার করে, তাদের বিরুদ্ধে যেমন দলীল-প্রমাণ পেশ করা হয়, তেমনিভাবে এই সাক্ষ্যকে যারা অস্বীকার করে, তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহ তাআলা আলিমদেরকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছেন। সুতরাং সৃষ্টির ওপর রাসূলদের মাধ্যমে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর বান্দাদের ওপর আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে আলিমগণ হলেন রাসূলদের খলীফা ও স্থলাভিষিক্ত।
আলিমদের সাক্ষ্যদানকে কেউ কেউ স্বীকার করা অর্থে ব্যাখ্যা করেছেন। আবার কেউ কেউ বর্ণনা করা ও প্রকাশ করা অর্থে ব্যাখ্যা করেছেন। সঠিক অভিমত হলো এটি উপরিউক্ত দুইটি বিষয়কেই শামিল করে। আলিমদের সাক্ষ্যদান তা স্বীকার করা, বর্ণনা করা, প্রকাশ করা, প্রচার করা সবগুলো অর্থকেই অন্তর্ভুক্ত করে। তারাই কিয়ামতের ময়দানে মানুষের ওপর আল্লাহর পক্ষে সাক্ষী হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُوْنَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا
"আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে একটি 'মধ্যমপন্থি' উম্মাতে পরিণত করেছি, যাতে তোমরা দুনিয়াবাসীদের ওপর সাক্ষী হতে পারো এবং রাসূল হতে পারেন তোমাদের ওপর সাক্ষী।”[৮৩৩]
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِنْ قَبْلُ وَفِي هَذَا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُوْنُوْا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ
"তিনিই তোমাদের নাম 'মুসলমান' রেখেছেন পূর্বেও এবং এই কুরআনেও, যাতে রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন এবং তোমরা সাক্ষী হও মানুষদের ওপর।” [৮৩৪]
আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি আলিমদেরকে সর্বোত্তম ও ন্যায়পরায়ণ বানিয়েছেন, তাদের সৃষ্টি করার পূর্বেই বিশেষভাবে তাদের নাম উল্লেখ করেছেন। কারণ আল্লাহ তাআলা আগে থেকেই জানতেন তিনি কাদেরকে কিয়ামতের দিন সমস্ত উম্মাতের ওপর সাক্ষী বানাবেন। সুতরাং যে এই সাক্ষ্য সম্পর্কে পরিপূর্ণরূপে জানবে না, সে অনুযায়ী আমল করবে না, তা স্বীকার করবে না, তার দাওয়াত দেবে না, কাউকে তা শিখাবে না এবং পৌঁছাবে না; সে আল্লাহ তাআলার সাক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না। আল্লাহ তাআলাই একমাত্র সাহায্য-লাভের উৎস।
(সাক্ষ্য প্রদানের পরে) আল্লাহ তাআলার বাণী:
إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ "নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন হলো ইসলাম।”[৮০]
মুফাস্সিরগণ এই বিষয়ে মতবিরোধ করেছেন যে, এটি নতুন একটি বাক্য নাকি পূর্বে বর্ণিত সাক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত? এবং এটিও সাক্ষ্যের একটি অংশ।
এই মতবিরোধ মূলত ‘ও’ শব্দটির ই'রাবকে ঘিরে। অর্থাৎ যেরযুক্ত (৩১) হবে নাকি যবরযুক্ত (৩১) হবে—এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই এই মতভেদ।
অধিকাংশ মুফাসসিরের মত হলো নতুন বাক্য হিসেবে যের (৩১) হবে। একমাত্র ইমাম কাসায়ি যবরের পক্ষে মত দিয়েছেন। কিন্তু যের হওয়াটাই হলো সঠিক অভিমত। কারণ এর পূর্বেই বাক্য পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে। তবে দ্বিতীয় আয়াতটি প্রথম আয়াতের বিষয়বস্তুকে আরও শক্তিশালী করে। এটি বর্ণনার ক্ষেত্রে অধিকতর পূর্ণাঙ্গ এবং প্রশংসা ও স্তুতির ক্ষেত্রে বেশ গভীর।

টিকাঃ
[৮২৬] সূরা আ-ল ইমরান, ৩: ১৮-১৯।
[৮২৭] সূরা যুখরুফ, ৪৩: ৮৬।
[৮২৮] সূরা যুখরুফ, ৪৩: ১৯।
[৮২৯] সূরা ফুসসিলাত, ৪১ : ৫৩।
[৮৩০] সা'লাবি, তাফসীর, ৮/১৫৮।
[৮৩১] সূরা ইসরা, ১৭: ২৩।
[৮৩২] সূরা নাহল, ১৬: ৫১।
[৮৩৩] সূরা বাকারা, ২: ১৪৩।
[৮৩৪] সূরা হাজ্জ, ২২: ৭৮।
[৮৩৫] সূরা আ-ল ইমরান, ৩: ১৯।

📘 মাদারিজুস সালিকীন > 📄 তাওহীদপন্থিদের পরস্পরের মাঝে পার্থক্য

📄 তাওহীদপন্থিদের পরস্পরের মাঝে পার্থক্য


কোনো সন্দেহ নেই যে, তাওহীদপন্থিদের পরস্পরের ভেতর তাওহীদের ক্ষেত্রে তাদের ইলম, আমল, মা'রিফাত ও অবস্থা অনুসারে অনেক পার্থক্য রয়েছে; যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ হিসেব করতে সক্ষম নয়।
মানুষের মধ্যে তাওহীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ছিলেন আম্বিয়ায়ে কেরাম। আবার তাদের চেয়েও বেশি পরিপূর্ণ ছিলেন রাসূলগণ।
তাদের মধ্যে আবার অগ্রগামী ছিলেন, যারা দৃঢ়তার অধিকারী )أُولُو الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ(। তারা হলেন: নূহ, ইবরাহীম, মূসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ।
তাদের মধ্যে আবার শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হলেন: আল্লাহর দুই খলীল, মুহাম্মাদ ও ইবরাহীম। কারণ তাঁরা দুজন ইলম, মা'রিফাত, অবস্থা, মানুষকে এর প্রতি দাওয়াত দেওয়া, জিহাদ করা ইত্যাদি সার্বিক বিবেচনায় তাওহীদকে এমনভাবে ধারণ করেছিলেন, যা আর কেউ পারেনি।
সমস্ত রাসূল যে স্তরের তাওহীদের অধিকারী ছিলেন, তার চেয়ে পরিপূর্ণ তাওহীদ আর নেই। এর প্রতিই তারা দাওয়াত দিয়েছেন এবং এর ওপরেই তারা কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন।
এ কারনেই আল্লাহ তাআলা নবি-কে এ ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী রাসূলদের অনুসরণ করার আদেশ করেছেন। যেমন: ইবরাহীম-এর আলোচনা এবং তাঁর পিতা ও সম্প্রদায়ের সাথে শিরকের ভ্রান্তি ও তাওহীদের বিশুদ্ধতা নিয়ে ইবরাহীম-এর বাবিতণ্ডা উল্লেখ করার পর আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
أُولَبِكَ الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ فَإِنْ تَكْفُرْ بِهَا هُؤُلَاءِ فَقَدْ وَكَلْنَا بِهَا قَوْمًا لَّيْسُوا بِهَا بِكَافِرِينَ * أُولَبِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِةُ
"তাদেরকেই আমি কিতাব, শারীআত ও নুবুওয়াত দান করেছি। অতএব, এখন যদি এরা আপনার নুবুওয়াত অস্বীকার করে, তা হলে (কোনো পরোয়া নেই।) এর জন্য এমন সম্প্রদায় নির্দিষ্ট করেছি, যারা এতে অবিশ্বাসী হবে না। (হে মুহাম্মাদ,) তারাই আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়াত প্রাপ্ত ছিল। অতএব, আপনি তাদের পথ অনুসরণ করুন।"[৮৩৬]
সুতরাং তাওহীদের ক্ষেত্রে তাঁদের চেয়ে পরিপূর্ণ আর কেউ নেই। কারণ স্বয়ং রাসূলুল্লাহ-কে তাঁদের অনুসরণ করার আদেশ করা হয়েছে।
যখন নবি-রাসূলগণ ইলম, আমল, দাওয়াত ও জিহাদের ক্ষেত্রে তাওহীদের হাকীকতকে পরিপূর্ণরূপে ধারণ করেছেন, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে সৃষ্টিকুলের জন্য ইমাম বানিয়ে দিয়েছেন, যারা আল্লাহর প্রতি পথপ্রদর্শন করবেন এবং তাঁর দিকেই দাওয়াত দেবেন। আর সমগ্র সৃষ্টিজগৎকে তাদের অধীন বানিয়েছেন; যারা তাঁদের অনুসরণ করবে এবং তাঁদের দেখানো পথে চলবে। আল্লাহ তাআলা নবি-রাসূলদের অনুসারীদের সৌভাগ্য, সফলতা ও হিদায়াতের অধিকারী বলে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন এবং তাদের বিরোধিতা-কারীদেরকে পথভ্রষ্ট ও গোমরাহ বলে চিহ্নিত করেছেন। নবি-রাসূলদের ইমাম ও তাদের শাইখ ইবরাহীম-কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا قَالَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي قَالَ لَا يَنَالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ ""আমি তোমাকে সকল মানুষের ইমাম বানাব।' ইবরাহীম বলল, 'আমার সন্তানদের সাথেও কি এই অঙ্গীকার?' তিনি বললেন, 'আমার এ অঙ্গীকার জালিমদের ব্যাপারে নয়।" [৮৩৭]
অর্থাৎ ইমাম বানানোর এই অঙ্গীকার মুশরিকদের ব্যাপারে নয়।
এ কারনেই আল্লাহ তাআলা নবি-কে মিল্লাতে ইবরাহীমের অনুসরণ করতে বলেছেন। আর নবি তাঁর সাহাবিদের শেখাতেন- "যখন সকাল হবে, তখন তোমরা বলবে,
أَصْبَحْنَا عَلَى فِطْرَةِ الْإِسْلَامِ، وَعَلَى كَلِمَةِ الْإِخْلَاصِ، وَعَلَى دِيْنِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ ، وَعَلَى مِلَّةِ أَبِيْنَا إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا مُسْلِمًا، وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ. "আমরা সকাল করলাম ইসলামের ফিতরাতের ওপর, ইখলাসের কালিমার ওপর, আমাদের নবি মুহাম্মাদ-এর দ্বীনের ওপর, আমাদের পিতা ইবরাহীম-এর মিল্লাতের ওপর; যিনি ছিলেন একনিষ্ঠ আত্মসমর্পণকারী। আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।”[৮০৮]
মিল্লাতু ইবরাহীম হলো: তাওহীদ। মুহাম্মাদ-এর দ্বীন হলো: আল্লাহর নিকট হতে তিনি যা কিছু নিয়ে এসেছেন-কথা, কাজ ও আকীদা-বিশ্বাস। ইখলাসের কালিমা হলো: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর সাক্ষ্য দেওয়া। আর ইসলামের ফিতরাত হলো: আল্লাহ তাআলা মানুষকে যে স্বভাবের ওপর সৃষ্টি করেছেন; তাঁর প্রতি ভালোবাসা, একক অদ্বিতীয় সত্তার ইবাদাত করা এবং গোলাম হিসেবে, বিনয়ী হয়ে, তাঁর সবকিছু মেনে নিয়ে, সবসময় তাঁকে স্মরণে রেখে তাঁর প্রতি আত্মসমর্পণ করা।
এটি হলো বিশিষ্টজনদের তাওহীদ। যে ব্যক্তি এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে হলো সৃষ্টিজগতের মধ্যে সবচেয়ে নির্বোধ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَمَنْ يَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ إِلَّا مَنْ سَفِهَ نَفْسَهُ وَلَقَدِ اصْطَفَيْنَاهُ فِي الدُّنْيَا وَإِنَّهُ فِي الْآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ * إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمَ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ )
"ইবরাহীমের দ্বীন থেকে কে মুখ ফেরায়? যে নিজেকে মূর্খতা ও নির্বুদ্ধিতায় আচ্ছন্ন করেছে, সে ছাড়া আর কে এ কাজ করতে পারে? ইবরাহীমকে তো আমি দুনিয়ায় নিজের জন্য নির্বাচিত করেছিলাম আর আখিরাতে সে সৎকর্মশীলদের মধ্যে গণ্য হবে। তার অবস্থা ছিল এই যে, যখন তার রব তাকে বলল, 'আত্মসমর্পণ করো', তখনই সে বলে উঠল, 'আমি বিশ্ব-জাহানের প্রতিপালকের প্রতি আত্মসমর্পণ করলাম।” [৮৩১]
উপরিউক্ত আয়াতে আল্লাহ তাআলা সমগ্র সৃষ্টিকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন: ১. সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্বোধ এবং ২. বুদ্ধিমান। নির্বোধ হলো: যে ব্যক্তি ইবরাহীম -এর মিল্লাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে শিরকের প্রতি ধাবিত হয়। আর বুদ্ধিমান হলো: যে ব্যক্তি মৌখিকভাবে, কাজের মাধ্যমে এবং ভাবভঙ্গিতে শির্ক থেকে বিচ্ছিন্নতা অবলম্বন করে। ফলে তার কথা হয় তাওহীদ, তার কাজ হয় তাওহীদ, তার অবস্থা হয় তাওহীদ এবং তার দাওয়াতও হয় তাওহীদ।

টিকাঃ
[৮৩৬] সূরা আনআম, ৬: ৮৯-৯০।
[৮৩৭] সূরা বাকারা, ২: ১২৪।
[৮৩৮] আহমাদ, আল-মুসনাদ, ১৫৩৬০; নাসাঈ, আস-সুনানুল কুবরা, ১০১৭৫।
[৮৩১] সূরা বাকারা, ২: ১৩০-১৩১।

📘 মাদারিজুস সালিকীন > 📄 সাধারণ মুসলমানদের দলীল-প্রমাণ

📄 সাধারণ মুসলমানদের দলীল-প্রমাণ


কোনো সন্দেহ নেই যে, অধিকাংশ মানুষ সুন্দরভাবে দলীল-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে না। তাদের অন্তরে তাওহীদের উপস্থিতির চেয়ে এটি অতিরিক্ত একটি বিষয়। কোনোকিছু অর্জন হলে, কোনো বিষয় সম্পর্কে জানলে এবং কোনোকিছুতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করলেই সবাই তার ওপর সুন্দর করে প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে না, তা দৃঢ়ভাবে সাব্যস্ত করতে পারে না এবং তাতে আরোপিত আপত্তিগুলো প্রতিহতও করতে পারে না। এ রকম যোগ্যতা থাকা এক বিষয় আর সে সম্পর্কে জানা, বিশ্বাস করা আরেক বিষয়। তবে তাওহীদ সম্পর্কে জানা ও বিশ্বাস করার সাথে সাথে এক প্রকার দলীল-প্রমাণও বান্দার নিকট থাকতে হবে। যদিও তা তার্কিকরা যেমন সুন্দর করে বিন্যস্তভাবে উপস্থাপন করে সেরকম হওয়া জরুরি।
নয়। আসলে তাওহীদ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য এটি কোনো শর্তও নয়। আর তাওহীদ সম্পর্কে জানতে এবং সে অনুযায়ী আমল করতেও এর কোনো প্রয়োজন নেই। প্রত্যেকেই নিজ নিজ সামর্থ্য ও অবস্থা অনুসারে প্রমাণ পেশ করবে। আসলে প্রমাণ উপস্থাপনের প্রকার, পদ্ধতি ও স্তর অসংখ্য; আল্লাহ ছাড়া আর কেউ তা গণনা করার সক্ষমতা রাখে না। আর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যই রয়েছে পথপ্রদর্শক।
প্রতিটি সহীহ ইলম ও ইয়াকীনের দলীল রয়েছে; যা সেই বিষয়কে আবশ্যক করে এবং এর সাক্ষীও রয়েছে; যার মাধ্যমের তার বিশুদ্ধতা নির্ণীত হয়। কিন্তু কখনো কখনো সেই ইলম ও ইয়াকীনের অধিকারী ব্যক্তি তা উপস্থাপন করতে পারে না; অক্ষমতা বা মূর্খতার কারণে। যদি কখনো সেই বিষয়ে কথা বলে, তখন জ্ঞানীদের পরিভাষা ও শব্দ ব্যবহার করতে পারে না। (তবে তাদের মধ্যেও অনেক উপকারী বিষয় পাওয়া যায়।) অনেক দলীল এমন রয়েছে, যেগুলো দ্বারা সত্যের পরিচয় সুস্পষ্ট হয়; সেগুলো দার্শনিকদের দলীল ও প্রস্তাবনার চেয়ে বেশি বিশুদ্ধ, সংশয় থেকে অনেক দূরবর্তী এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বেশ কাছাকাছি হয়।
যে ব্যক্তি মানুষজনের অবস্থা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে, সে ব্যক্তি অধিকাংশ মুসলিমকেই এমন পায় যে, তারা তাওহীদ, মা'রিফাত ও ঈমানের ক্ষেত্রে অধিকাংশ দার্শনিক, তার্কিক ও যুক্তিবিদের চেয়ে বেশি অগ্রগামী ও মজবুত। সাধারণ মুসলিমদের নিকট সে এমন এমন দলীল ও নিদর্শনাদিও পেয়ে যায়, যা তাদের বিশুদ্ধ ঈমানের পরিচায়ক, যা মুতাকাল্লিমীন বা দার্শনিকদের নিকট থাকা দলীল-প্রমাণের চেয়ে সুস্পষ্ট ও পরিচ্ছন্ন।
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদেরকে প্রাকৃতিক নিদর্শনাদির প্রতি গভীরভাবে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন। এগুলোর মাধ্যমে তাঁর তাওহীদ, সিফাত, কার্যাবলি ও রাসূলদের সত্যবাদিতার ওপর প্রমাণ উপস্থাপন করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। সেই নিদর্শনগুলো ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে প্রত্যক্ষ করা যায়, আকল দ্বারা উপলব্ধি করা যায় এবং সেগুলো মানুষের তবিয়তে সৃষ্টিগতভাবেই রয়েছে। যা বোঝার জন্য পর্যবেক্ষণকারীর প্রয়োজন পড়ে না যে, সে তার্কিক ও দার্শনিকদের পথ, মত, পরিভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গির অনুসরণ করবে। সুস্থ অনুভূতি ও পার্থক্যকারী বোধবুদ্ধির অধিকারী প্রতিটি ব্যক্তিই তা চিনতে পারে, তা স্বীকার করে এবং সেসব নিদর্শন যা বোঝায়, তা হৃদয়ঙ্গম করে। কুরআন মাজীদে এ রকম প্রায় দশ হাজার সুস্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে। যে ব্যক্তি কুরআন মুখস্থ করেনি; যখন সে তা শুনবে, বুঝার চেষ্টা করবে এবং তা উপলব্ধিতে আনবে, তখন আয়াতগুলো যা বোঝাতে চেয়েছে, তার মস্তিষ্ক সে দিকে খুব দ্রুতই ধাবিত হবে এবং তা স্বীকার করে নেবে।
মোটকথা কোনোকিছু সম্পর্কে জানে এমন প্রতিটি ব্যক্তিই সে সম্পর্কে দলীল-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে না। আবার দলীল-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে এমন প্রতিটি ব্যক্তিই তা সুবিন্যস্তভাবে গুছিয়ে বলতে পারে না, প্রশ্নকারীর প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না এবং সে সম্পর্কে কোনো আপত্তির খণ্ডনও করতে পারে না।
আমরা দুচোখে যা দেখি, তা-ই দলীল। যেমন: নির্মিত বস্তুর মাধ্যমে নির্মাতার ওপর এবং সৃষ্ট বস্তুর মাধ্যমে স্রষ্টার ওপর দলীল উপস্থাপন। এটি হলো কুরআনের পন্থা; যার চেয়ে উত্তম আর কোনো পন্থা নেই।

টিকাঃ
[৮৩৯] সূরা বাকারা, ২: ১৩০-১৩১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00