📘 মাদারিজুস সালিকীন > 📄 পরিচ্ছন্নতার একটি দিক হলো আপনি এমনভাবে ইবাদাত করবেন যেন আল্লাহকে দেখছেন

📄 পরিচ্ছন্নতার একটি দিক হলো আপনি এমনভাবে ইবাদাত করবেন যেন আল্লাহকে দেখছেন


ইহসানের স্তর বোঝাতে নবি ﷺ বলেছেন,
أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ
“তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত করবে, যেন আল্লাহকে দেখছো।”[৭৪৫]
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসূল ﷺ কর্তৃক আনীত খবরসমূহকে সত্যায়ন করা এবং তাতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করার মাধ্যমে অন্তর এ রকম শক্তিশালী হয় যে, গায়েব বা অদৃশ্যের বিষয়াবলি চাক্ষুষ দেখার মতো হয়ে যায়। এই স্তরে উপনীত ব্যক্তি যেন আল্লাহকে সাত আসমানের ওপর আরশে সমাসীন দেখতে পান যে, তিনি তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে সবকিছু অবগত, তিনি তাদেরকে দেখছেন, তাদের কথাবার্তা শুনছেন এবং তাদের ভেতর-বাহির সবকিছু অবলোকন করছেন।
তিনি যেন আল্লাহকে শুনছেন যে, আল্লাহ ওহির কথা বলছেন, এ সম্পর্কে জিবরীল আ.-এর সাথে কথোপকথন করছেন, আল্লাহ যা চান তাকে তার আদেশ দিচ্ছেন, নিষেধ করছেন, ফেরেশতাদের সমস্ত বিষয়াদি পরিচালনা করছেন; সবকিছুর মালিকানা তাঁরই এবং সবকিছু তাঁর থেকেই অবতীর্ণ হয়।
ইহসানের স্তরে উপনীত ব্যক্তি যেন আল্লাহকে অবলোকন করছেন যে, আল্লাহ খুশি হচ্ছেন, রাগান্বিত হচ্ছেন, ভালোবাসছেন, ঘৃণা করছেন, দান করছেন আবার দান করা থেকে বিরত থাকছেন, হাসছেন, আনন্দ প্রকাশ করছেন, ফেরেশতাদের মাঝে তাঁর ওলিদের প্রশংসা করছেন এবং তাঁর শত্রুদের নিন্দা করছেন।
সেই ব্যক্তি যেন আল্লাহকে প্রত্যক্ষ করছেন এবং তাঁর পবিত্র দুই হাতকেও দেখছেন যে, এক হাতে সাত আসমান এবং অপর হাতে সাত জমিনকে কবজা করে রেখেছেন। সাত আসমান যেন তাঁর ডান হাতে এমনভাবে ভাঁজ করা আছে, যেমন নথিপত্র বইয়ের সারিতে ভাঁজ করা থাকে।
সেই ব্যক্তি যেন দেখছেন, বান্দাদের মাঝে আল্লাহর ফায়সালা আসছে, আর এর আলোয় পুরো পৃথিবী আলোকিত হয়ে যাচ্ছে।
তিনি যেন বর্তমানে তার নিজ কানে শুনতে পাচ্ছেন, আল্লাহ তাআলা আদম -কে ডাকছেন:
يَا آدَمُ أَخْرِجْ بَعْثَ النَّارِ
"হে আদম, জাহান্নামি দলকে বের করে দাও।”[৭৪৬]
এমনিভাবে এটিও শুনতে পাচ্ছেন যে, কিয়ামাতের ময়দানে দণ্ডায়মান লোকদের আল্লাহ বলছেন,
مَاذَا أَجَبْتُمُ الْمُرْسَلِينَ
“তোমরা রাসূলদের কী জবাব দিয়েছিলে?”[৭৪৭]
مَنْ كُنتُمْ تَعْبُدُونَ؟
"তোমরা কার ইবাদাত করতে?” [৭৪৮]
মোটকথা ইহসান বা পরিচ্ছন্নতার গুণে গুণান্বিত ব্যক্তি নিজ অন্তর দ্বারা সেই সমস্ত গুণাবলি সহকারে আল্লাহকে দেখতে পান; যা আসমানি কিতাবসমূহ ও রাসূলগণ বর্ণনা করেছেন। এমনিভাবে তারা দ্বীনকেও দেখতে পান; যে দ্বীনের প্রতি রাসূলগণ দাওয়াত দিয়েছেন এবং তারা বস্তুর সেই সব রহস্য ও হাকীকতও প্রত্যক্ষ করেন, যে সম্পর্কে রাসূলগণ জানিয়ে দিয়েছেন। ফলে তিনি যেন নিজ অন্তর দ্বারা তা সরাসরি দেখতে পান; যেমন তাওয়াতুর বা সূত্র পরম্পরায় বর্ণিত কোনো সংবাদের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। যেমন কোনো শহর বা ঘটনা (সম্পর্কে শুনে শুনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মায় যে, ব্যক্তি যেন তা নিজ চোখে অবলোকন করেছে; অথচ সে তা দেখেইনি।) সুতরাং মুহসিন বা পরিচ্ছন্ন ব্যক্তির ঈমান স্বচক্ষে দেখায় ন্যায় (সংশয়মুক্ত) হয়। অপরদিকে অন্যান্য ব্যক্তির ঈমান হয় অন্ধ ব্যক্তির অনুসরণের মতো।

টিকাঃ
[৭৪৪] সূরা নূর, ২৪:৩১।
[৭৪৫] বুখারি, ৫০; মুসলিম, ১, ১০১।
[৭৪৬] বুখারি, ৩৩৪8; মুসলিম, ২২২১।
[৭৪৭] সূরা কাসাস, ২৮: ৬৫।
[৭৪৮] বুখারি, ৪৫৮১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00