📘 মাদারিজুস সালিকীন > 📄 মহাব্বতের উৎস ও স্থায়িত্ব

📄 মহাব্বতের উৎস ও স্থায়িত্ব


বান্দার প্রতি আল্লাহর দেওয়া প্রকাশ্য ও গোপন নিয়ামতসমূহ গভীরভাবে দেখা ও পর্যবেক্ষণ করার দ্বারা আল্লাহর সাথে তাদের মহাব্বত সৃষ্টি হয়। পর্যবেক্ষণের গভীরতা অনুসারে মহাব্বতের তীব্রতা নির্ণীত হয়। কারণ অন্তর অনুগ্রহকারীকে ভালোবাসতে আর খারাপ আচরণকারীকে ঘৃণা করতে বাধ্য। বান্দার প্রতি যত অনুগ্রহ ও নিয়ামাত সবই আল্লাহরর তরফ থেকে। অপরদিকে সব ধরনের মন্দ ও খারাপ বিষয়াদি আসে অভিশপ্ত শয়তানের পক্ষ থেকে। (সুতরাং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হবে আর শয়তানের প্রতি ঘৃণা।)
বান্দা যদি আল্লাহর দেওয়া নিয়ামাতসমূহ পর্যবেক্ষণ করে, তা হলে সে দেখতে পাবে, তার ওপর আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে বড়ো নিয়ামাত হলো-আল্লাহ তাআলাকে ভালোবাসার, তাঁর সম্পর্কে জানার, তাঁর সন্তুষ্টি আশা করার এবং তাঁর রাসূল -এর অনুসরণ করার যোগ্যতা তাকে দেওয়া হয়েছে। এর মূল হলো একটি নূর, যা আল্লাহ তাআলা বান্দার অন্তরে ঢেলে দেন। এরপর যখন সেই নূর ব্যক্তির অন্তরে ও সত্তায় উদ্ভাসিত হয়, তখন সে নিজেকে গভীরভাবে দেখতে পায় এবং যে সমস্ত মর্যাদা ও সৌন্দর্যের যোগ্যতা তার মাঝে নিহিত রাখা হয়েছে, তাও সে দেখতে পায়। এতে তার মনোবল সুদৃঢ় হয়, সংকল্প ও ইচ্ছা শক্তিশালী হয় এবং নিজের নফস ও স্বভাব থেকে সমস্ত অন্ধকার দূর হয়ে যায়। কারণ আলো আর অন্ধকার একজায়গায় একসাথে অবস্থান করে না। একটির আগমনে অপরটি এমনি এমনি অপসারিত হয়ে যায়।
কথায়, কাজে ও আচার-আচরণে রাসূল -এর অনুসরণ করার দ্বারা আল্লাহর সাথে বান্দার ভালোবাসা প্রমাণিত হয় এবং স্থায়িত্ব লাভ করে। কারও জীবনে রাসূল -এর অনুসরণ যতটুকু হবে, আল্লাহর সাথে তার মহাব্বতও ততটুকু স্থায়ী ও শক্তিশালী হবে। আর রাসূলের অনুসরণে যে পরিমাণ ঘাটতি হবে, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসাও সে পরিমাণ কমে যাবে। যেমন পূর্বে আলোচনা হয়েছে যে, নবিজির অনুসরণ আল্লাহর প্রতি বান্দার ভালোবাসা এবং বান্দার প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা উভয়টিই একসাথে তৈরি করে। আর এ দুটি ব্যতীত (বান্দার সফলতার) বিষয়টি পরিপূর্ণ হয় না।
(জেনে রাখুন,) প্রকৃত মর্যাদা এর মধ্যে নয় যে, আপনি আল্লাহকে ভালোবাসেন। বরং প্রকৃত মর্যাদা এর মধ্যে রয়েছে যে, আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসেন। আর আল্লাহ আপনাকে কেবল তখনই ভালোবাসবেন, যখন আপনি আপনার প্রকাশ্য ও গোপন সর্বাবস্থায় তাঁর হাবীব ﷺ-এর অনুসরণ করবেন, তাঁর দেওয়া খবরসমূহকে সত্যায়িত করবেন, তাঁর আদেশ-নিষেধ পালন করবেন, তাঁর আহ্বানে সাড়া দেবেন, তাঁর অনুসরণকেই সবার আগে প্রাধান্য দেবেন এবং অন্যের দেওয়া সিদ্ধান্ত এড়িয়ে তাঁর দেওয়া সিদ্ধান্তেই, অন্যের ভালোবাসা উপেক্ষা করে তাঁর ভালোবাসাতেই এবং অন্যের অনুসরণ বাদ দিয়ে কেবল রাসূল ﷺ-এর অনুসরণেই নিজেকে উৎসর্গ করবেন। আপনার অবস্থা যদি এ রকম না হয়, তা হলে নিজেকে নিয়ে ভাবুন, নিজের জন্য আলো খুঁজুন। কারণ এখনো আপনার কিছুই অর্জন হয়নি।
আর এই আয়াতটি নিয়ে চিন্তা করুন-
فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللهُ
"আমার আনুগত্য করো, তা হলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।” [৭২৭]
অর্থাৎ প্রকৃত মর্যাদা হলো আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসবেন। আপনি আল্লাহকে ভালোবাসবেন এটি প্রকৃত মর্যাদা নয়। আর আপনার সেই মর্যাদা হাসিল হবে আল্লাহর হাবীব ﷺ-এর অনুসরণ করার মাধ্যমে।

টিকাঃ
[৭২৭] সূরা আ-ল ইমরান, ৩: ৩১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00