📄 মহব্বত সৃষ্টির কারণসমূহ
দশটি বিষয় আল্লাহর প্রতি মহাব্বত সৃষ্টি করে:
এক. অর্থসহ কুরআন তিলাওয়াত করা এবং তাতে কী বোঝানো হয়েছে, তা গভীরভাবে চিন্তাভাবনা-সহ অধ্যয়ন করা। যেমন কেউ কোনো কিতাব অধ্যয়ন করতে চিন্তা-ফিকির করে এবং ব্যাখ্যাগ্রন্থ দেখে বোঝার চেষ্টা করে, লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন।
দুই. ফরজ আমলসমূহ আদায়ের পর নফল আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করার চেষ্টা করা। কারণ এটি বান্দাকে মহাব্বতকারীর স্তর থেকে মহাব্বত লাভকারীর স্তরে পৌঁছিয়ে দেয়। (অর্থাৎ স্বয়ং আল্লাহ তাআলাই তখন তাকে ভালোবাসেন।)
তিন. জবান, অন্তর ও আমলের মাধ্যমে সবসময় আল্লাহর যিক্র করা। কারণ বান্দা যতটুকু যিক্র করে, আল্লাহর সাথে তার ততটুকুই মহাব্বত সৃষ্টি হয়।
চার. কষ্টকর হলেও আল্লাহর পছন্দনীয় বিষয়গুলোকে নিজের পছন্দনীয় বিষয়াদির ওপর প্রাধান্য দেওয়া। কষ্ট করে হলেও নফসের খাহেশাতকে দমিয়ে রাখা।
পাঁচ. আল্লাহ তাআলার নাম ও গুণাবলি হৃদয়ঙ্গম করতে এবং এর প্রকৃত মর্ম উপলব্ধি করতে চেষ্টা করা। কারণ যে ব্যক্তি নাম ও গুণাবলিসহ আল্লাহ তাআলার পরিচয় পাবে, সে অবশ্যই আল্লাহকে ভালোবাসবে।
ছয়. আল্লাহর দেওয়া প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সমস্ত দয়া, অনুগ্রহ, রহমত ও নিয়ামাতকে গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করা। কারণ এই পর্যবেক্ষণ করা আল্লাহকে ভালোবাসতে উদ্বুদ্ধ করবে।
সাত. এটি হলো সবচেয়ে কার্যকরী পন্থা। আল্লাহ তাআলার সামনে নিজের অন্তরকে ভেঙে একেবারে টুকরো টুকরো করে দেওয়া। এই বিষয়টি বর্ণনা করা যায় না। (এটি আসলে অনুভবের বিষয়।) লেখার ক্ষেত্রে তো কতগুলো অক্ষর ও শব্দ ছাড়া আর কিছুই দৃশ্যমান হয় না।
আট. বিশেষ বিশেষ রহমতের সময়, যখন আল্লাহ তাআলা বান্দার খুব কাছাকাছি আসেন, তখন আল্লাহর সাথে নির্জনতা অবলম্বন করা। তাঁর প্রতি যিক্রে, মুনাজাতে ও কুরআন তিলাওয়াতে মগ্ন হওয়া। পুরা সময়টা দেহমন উপস্থিত রেখে দাসত্বের আদব পরিপূর্ণভাবে মেনে তাঁর অভিমুখী হওয়া এবং ইস্তিগফার ও তাওবার মাধ্যমে বিশেষ সময়গুলো অতিবাহিত করা।
নয়. সত্যবাদী ও আল্লাহপ্রেমিকদের সাথে উঠাবসা করা এবং তাঁদের সান্নিধ্যে থাকা। তাঁদের বাণীসমূহ থেকে উত্তম বাণীগুলোকে নিজের পাথেয় হিসেবে সংগ্রহ করা; যেমন ফল সংগ্রহ করার সময় যেগুলো ভালো, কেবল সেগুলোই সংগ্রহ করা হয়। তাঁদের মজলিসে তীব্র প্রয়োজন ছাড়া কথা না বলা। যদি কথা বলায় নিজের ও অপরের উপকার হয়, তবেই কথা বলা।
দশ. যে সমস্ত কারণ আল্লাহ তাআলার মাঝে ও বান্দার অন্তরের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, সেগুলো থেকে বেঁচে থাকা।
উপরিউক্ত দশটি কারণ মানুষকে আল্লাহর মহাব্বত বা ভালোবাসার মানযিলে পৌঁছে দেয় এবং এর দ্বারা ব্যক্তি আল্লাহর মহাব্বতকারীদের দলে অন্তর্ভুক্ত হয়। এই সবগুলোর মূল ও ভিত্তি হলো দুইটি বিষয়: এর জন্য অন্তরকে প্রস্তুত করা এবং চোখ-কান খোলা রাখা। কেবল আল্লাহ তাআলাই সাহায্যকারী।
📄 বান্দার প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা এবং আল্লাহর প্রতি বান্দার ভালোবাসা
এ সংক্রান্ত আলোচনা দুইটি বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত: আল্লাহর প্রতি বান্দার ভালোবাসা এবং বান্দার প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা।
অধিকাংশ সৃফিয়ায়ে কেরাম এই দুটি বিষয় যে প্রমাণিত, সে ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন এবং এ ব্যাপারেও একমত হয়েছেন যে, আল্লাহর প্রতি বান্দার ভালোবাসা সমস্ত ভালোবাসার চেয়ে উর্ধ্বে। এর সাথে অন্য কোনো ভালোবাসার তুলনাই হয় না। আর এটিই হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর হাকীকত বা তাৎপর্য। এমনিভাবে আল্লাহ তাআলা যে নবি, রাসূল ও আউলিয়াদের ভালোবাসেন সেটিও তাদের নিকট প্রমাণিত। এটি আল্লাহ তাআলার রহমত, দয়া ও দানের চেয়েও উচ্চ স্তরের একটি সিফাত। কারণ রহমত, দয়া ও দান ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ ও ফল। কেননা আল্লাহ তাআলা যখন তাদেরকে ভালোবাসেন, তখন তাদের প্রতি তাঁর দয়া, অনুগ্রহ ও নিয়ামাত পূর্ণতা পায়।
দলীল-প্রমাণের যতগুলো প্রকার রয়েছে-কুরআন-সুন্নাহ, যুক্তি, ফিতরাত, কিয়াস, রুচি, ইলহাম—সবগুলো দ্বারা প্রমাণিত যে, বান্দা তার রব আল্লাহকে ভালোবাসে আর আল্লাহ তাআলাও তার বান্দাদেরকে ভালোবাসেন।
আমি ভালোবাসা সম্পর্কে আমার এক দীর্ঘ রচনায় এর প্রায় ১০০টি পন্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সেখানে ভালোবাসার উপকারিতা ও মাহাত্ম্য, ব্যক্তির জন্য ভালোবাসা কী কী মর্যাদা বয়ে আনে, এর কারণ ও উপকরণ সম্পর্কেও বিশদ বর্ণনা করেছি। যারা একে অস্বীকার করে তাদের প্রতিহত করেছি এবং তাদের কথাবার্তার অসারতা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি। আসলে যারা মহাব্বত ও ভালোবাসাকে অস্বীকার করে, তারা মূলত আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি ও আদেশ- নিষেধের মূল তাৎপর্যকেই অস্বীকার করে। কারণ সৃষ্টিজগৎকে সৃষ্টি করা, আদেশ- নিষেধ, সাওয়াব-শাস্তি, জান্নাত-জাহান্নাম সবই এই মহাব্বতের কারণেই অস্তিত্বে এসেছে। মহাব্বতই হলো সেই মৌলিক ও প্রকৃত কারণ, যার দরুন আসমান- জমিন সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আদেশ-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মহাব্বতই হলো প্রভুত্বের রহস্য আর মহাব্বতের এককত্ব হলো লা ইলাহা ইল্লাহ-এর সাক্ষ্যদান।
অস্বীকারকারীরা যেমন ধারণা করে যে, ইলাহ্ হচ্ছে কেবল রব ও স্রষ্টা; বিষয়টি এমন নয়। কারণ মুশরিকরাও স্বীকার করত আল্লাহ ছাড়া কোনো রব নেই এবং তিনি ব্যতীত আর কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই। তারা সৃষ্টি করা এবং প্রতিপালন করার দিক দিয়ে আল্লাহকে এক হিসেবে মানত; কিন্তু প্রভুত্বের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক সার্বভৌম সত্তা বলে স্বীকার করত না। আর এটি হলো মহাব্বত ও সম্মান প্রদর্শন করার ক্ষেত্রে। বরং এ ক্ষেত্রে মুশরিকরা আল্লাহর সাথে অন্যকেও ইলাহ হিসেবে মানত। এটিই হলো শির্ক। আল্লাহ তাআলা শির্ক কখনো ক্ষমা করবেন না। শিরককারী হলো যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে তাঁর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُوْنِ اللَّهِ أَنْدَادًا يُحِبُّوْنَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ
"আর কিছু লোক এমনও রয়েছে, যারা অন্যদেরকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি তেমনই ভালোবাসা পোষণ করে, যেমন আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা হয়ে থাকে।”[৭০৭]
আল্লাহ তাআলা এখানে জানিয়ে দিয়েছেন যে, কেউ যদি আল্লাহকে বাদে অন্য কাউকে এমন ভালোবাসে যেমন আল্লাহকে ভালোবাসা উচিত; তা হলে সেই ব্যক্তি যেন অন্যকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করল। এটি হলো ভালোবাসা ও মহাব্বতের ক্ষেত্রে সমকক্ষ বানানো, সৃষ্টিগত ও রুবুবিয়্যাত বা প্রতিপালনগত ক্ষেত্রে সমকক্ষ বানানো নয়। কারণ এই পৃথিবীর কেউই রুবুবিয়্যাতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে কাউকে সমকক্ষ সাব্যস্ত করে না। কিন্তু ভালোবাসার ক্ষেত্রে এর সম্পূর্ণ বিপরীত। কেননা পৃথিবীবাসীর অধিকাংশ মানুষই ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে অন্যকে তাঁর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে।
এরপর আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ
“অথচ ঈমানদাররা আল্লাহকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে।”[৭০৮]
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যা বলতেন, 'এ কারণেই তাদের নিন্দা ও ভর্ৎসনা করা হয়েছে যে, তারা ভালোবাসার ক্ষেত্রে আল্লাহর মাঝে ও তাদের শরীকদের মাঝে অংশীদার সাব্যস্ত করেছে। তাদের মহাব্বত ও ভালোবাসা মুমিনদের মতো একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য একনিষ্ঠ ছিল না। [৭০৯]
আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ )
"হে নবি, লোকদের বলে দিন, 'যদি তোমরা যথার্থই আল্লাহকে ভালোবাসো, তা হলে আমার অনুসরণ করো, ফলে আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহ মাফ করে দেবেন। তিনি বড়োই ক্ষমাশীল ও করুণাময়। "[৭১০]
এই আয়াতটিকে 'ভালোবাসার আয়াত' )آيَةُ الْمَحَبَّةِ( বলা হয়।
আবূ সুলাইমান দারানি বলেছেন, 'যখন মানুষের অন্তর আল্লাহর ভালোবাসার দাবি করে, তখন আল্লাহ তাআলা তার জন্য ভালোবাসার এই আয়াতটি অবতীর্ণ করেন- "যদি তোমরা যথার্থই আল্লাহকে ভালোবাসো, তা হলে আমার (নবির) অনুসরণ করো, ফলে আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসবেন।"
পূর্ববর্তী মনীষীদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, 'একটি সম্প্রদায় আল্লাহকে ভালোবাসে বলে দাবি করেছিল, তখন ভালোবাসার এই আয়াতটি আল্লাহ অবতীর্ণ করেছিলেন- "যদি তোমরা যথার্থই আল্লাহকে ভালোবেসে থাকো, তা হলে আমার অনুসরণ করো, ফলে আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসবেন।” [৭১১]
আল্লাহ তাআলা এখানে বলেছেন, يُحِبُّهُمْ “ফলে আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসবেন।” এর মধ্যে ভালোবাসার প্রমাণ, ফলাফল ও উপকারিতার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। মহাব্বতের প্রমাণ হলো রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ করা। আর এর ফলাফল ও উপকারিতা হলো স্বয়ং আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা অর্জিত হবে। সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত রাসূলের আনুগত্য আপনার জীবনে না আসবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর প্রতি আপনার ভালোবাসাও নিখাদ হবে না; আর আপনার প্রতিও আল্লাহর ভালোবাসা থাকবে শূন্যের কোঠায়।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَنْ يَرْتَدَّ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةً عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُوْنَ لَوْمَةَ لَا بِئِمٍ
“হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যে তার দ্বীন থেকে ফিরে যায়, (সে ফিরে যাক), অচিরেই আল্লাহ এমন সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যাদেরকে তিনি ভালোবাসবেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসবে। তারা মুমিনদের প্রতি কোমল এবং কাফিরদের প্রতি কঠোর হবে। তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারে ভীত হবে না।”[৭১২]
আল্লাহ তাআলা এখানে তাদের চারটি আলামতের কথা উল্লেখ করেছেন:
এক ও দুই. أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ ‘মুমিনদের প্রতি কোমল’ অর্থাৎ তাদের প্রতি নরম, দয়ালু, স্নেহশীল ও সহানুভূতিশীল হওয়া এবং أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ ‘কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর’। আতা বলেন, ‘তারা মুমিনদের জন্য তেমনই (সহানুভূতিশীল) হবে, যেমন পিতার প্রতি সন্তান এবং মনিবের প্রতি গোলাম (সহানুভূতিশীল) হয়। আর তারা কাফিরদের ওপর কঠোর হবে, যেমন সিংহ তার শিকারের ওপর কঠোর হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, أَشِدَّاءُ عَلَى الْكَفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ
“তারা কাফিরদের প্রতি অতি কঠোর আর নিজেরা পরস্পর দয়া পরবশ।”[৭১৩]
তিন. আল্লাহর পথে নিজের জান দিয়ে, হাত দিয়ে, জবান দিয়ে এবং সম্পদ দিয়ে জিহাদ করা। এর মাধ্যমে ভালোবাসার দাবির সত্যতা ফুটে ওঠে।
চার. আল্লাহ ও তাঁর দ্বীনের ব্যাপারে তিরস্কারকারীর তিরস্কারের কোনো পরোয়া না করা। এটি হলো খাঁটি ভালোবাসার নিদর্শন। প্রিয় মানুষের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি তিরস্কারের ভয় করে, সে আসলে প্রকৃত ভক্ত নয়। যেমন কবি বলেন,
لَا كَانَ مَنْ لِسِوَاكَ فِيهِ بَقِيَّةٌ ... يَجِدُ السَّبِيلَ بِهَا إِلَيْهِ الْعُزَّلُ
সে তোমার প্রকৃত ভক্ত ও অনুরক্ত নয়, যার মাঝে তোমাকে ছাড়াও কিছু অবশিষ্ট রয়; ফলে সে পথ ধরে তিরস্কারকারীরা তিক্ত করে হৃদয়।
'সহীহ বুখারি'-তে এসেছে, আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
ثَلَاثَ مَنْ كُنَّ فِيْهِ وَجَدَ حَلَاوَةَ الإِيْمَانِ أَنْ يَكُونَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا وَأَنْ يُحِبَّ الْمَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلهِ وَأَنْ يَكْرَهَ أَنْ يَعُوْدَ فِي الْكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النَّارِ
“তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকে, সে ঈমানের মিষ্টতা অনুভব করে: ১. তার নিকট আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অন্য সব কিছু থেকে প্রিয় হওয়া, ২. কাউকে একমাত্র আল্লাহর জন্যই ভালোবাসা এবং ৩. কুফরিতে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতোই অপছন্দ করা।”[৭১৪]
আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন,
'আল্লাহ বলেন,
مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالْحَرْبِ وَمَا تَقَرَّبَ إِلَى عَبْدِي بِشَيْءٍ أَحَبَّ إِلَيَّ مِمَّا افْتَرَضْتُ عَلَيْهِ وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ فَإِذَا أَحْبَبْتُهُ كُنْتُ سَمْعَهُ الَّذِي يَسْمَعُ بِهِ وَبَصَرَهُ الَّذِي يُبْصِرُ بِهِ وَيَدَهُ الَّتِي يَبْطِشُ بِهَا وَرِجْلَهُ الَّتِي يَمْشِي بِهَا وَإِنْ سَأَلَنِي لَأُعْطِيَنَّهُ وَلَبِنْ اسْتَعَاذَنِي لَأُعِيْذَنَّهُ
“যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলির সঙ্গে দুশমনি রাখবে, আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করব। আমার বান্দার ওপর আমি যা কিছু ফরজ করেছি, আমার নিকট তার চাইতে অধিক প্রিয় কোনো আমল নেই, যা দ্বারা সে আমার নৈকট্য লাভ করে থাকে। আর আমার বান্দা নফল আমল দ্বারা প্রতিনিয়ত আমার অধিক নৈকট্য লাভ করতে থাকে। অবশেষে আমি তাকে ভালোবেসে ফেলি। যখন আমি তাকে ভালোবেসে ফেলি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শোনে; আমি তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে; আমি তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে এবং আমি তার পা হয়ে যাই, যা দিয়ে সে চলাফেরা করে। যদি সে আমার কাছে কোনোকিছু চায়, তবে অবশ্যই আমি তাকে তা দান করি। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে নিশ্চিতভাবেই আমি তাকে আশ্রয় দিই।”[৭১৫]
'সহীহাইন'-এর আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, নবি বলেছেন,
إِذَا أَحَبَّ اللَّهُ الْعَبْدَ نَادَى جِبْرِيلَ إِنَّ اللهَ يُحِبُّ فُلَانًا فَأَحْبِبْهُ فَيُحِبُّهُ جِبْرِيلُ فَيُنَادِي جِبْرِيلُ فِي أَهْلِ السَّمَاءِ إِنَّ اللهَ يُحِبُّ فُلَانًا فَأَحِبُّوْهُ فَيُحِبُّهُ أَهْلِ السَّمَاءِ ثُمَّ يُوْضَعُ لَهُ الْقَبُولُ فِي الْأَرْضِ
"যখন আল্লাহ কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তিনি জিবরীল -কে ডেকে বলেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালোবাসেন, সুতরাং তুমিও তাকে ভালোবাস।' তখন জিবরীল -ও তাকে ভালোবাসেন। তারপর জিবরীল আসমানবাসীর মধ্যে ঘোষণা করে দেন যে, 'আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালোবাসেন। সুতরাং তোমরাও তাকে ভালোবাস।' তখন আসমানবাসীরাও তাকে ভালোবাসতে শুরু করে। অতঃপর পৃথিবীতেও তার গ্রহণযোগ্যতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।"[৭১৬] কারও প্রতি ঘৃণা করার ক্ষেত্রেও এ রকম করে ঘোষণা দিয়ে থাকেন।
আল্লাহ তাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদের মধ্য থেকে যাদেরকে ভালোবাসেন, কুরআন ও সুন্নাহে তাদের অনেক আলোচনা এসেছে। তাদের কোন কথা, কোন কাজ এবং কোন আখলাক আল্লাহ তাআলার প্রিয় সে বর্ণনাও এসেছে। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী:
وَاللَّهُ يُحِبُّ الصَّابِرِينَ
"আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন।”[৭১৭]
وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
"আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।”[৭১৮]
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারী এবং পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের ভালোবাসেন।”[৭১৯]
فَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ
"অবশ্যই আল্লাহ পরহেজগারদের ভালোবাসেন।”[৭২০]
এর বিপরীতে আল্লাহ তাআলা যে সমস্ত ব্যক্তিকে এবং যে সমস্ত কাজকে ভালোবাসেন না, সেগুলোর আলোচনাও এসেছে। যেমন:
وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الْفَسَادَ "আল্লাহ ফাসাদ (দাঙ্গা-হাঙ্গামা) পছন্দ করেন না।"[৭২১]
وَاللهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُوْرٍ "যারা নিজেরা নিজেদের বড়ো মনে করে এবং অহংকার করে বেড়ায়, আল্লাহ তাদের পছন্দ করেন না।”[৭২২]
وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ "আল্লাহ অত্যাচারীদের ভালোবাসেন না।”[৭২৩]
সুন্নাহতেও আল্লাহর পছন্দনীয় আমলের বর্ণনা এসেছে। যেমন: আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন, أَحَبُّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللهِ : الصَّلَاةُ عَلَى وَقْتِهَا ، ثُمَّ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ، ثُمَّ الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ "আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো: যথা সময়ে সালাত আদায় করা। এরপর মা-বাবার খিদমত করা। এরপর আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।”[৭২৪]
আরেকটি হাদীসে এসেছে, أَحَبُّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللهِ : الْإِيْمَانُ بِاللَّهِ، ثُمَّ الجِهَادُ فِي سَبِيْلِ اللَّهِ، ثُمَّ حَجٌ مَّبْرُورٌ "আল্লাহর নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় আমল হলো: আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস। এরপর আল্লাহর পথে জিহাদ। এরপর গুনাহমুক্ত হাজ্জ।”[৭২৫]
আরেকটি হাদীসে এসেছে, أَحَبُّ الْعَمَلِ إِلَى اللَّهِ : مَا دَاوَمَ عَلَيْهِ صَاحِبُهُ “আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো: যে আমলটি ব্যক্তি নিয়মিত করতে থাকে।”[৭২৬]
এ রকম আরও অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। বান্দার তাওবার কারণে আল্লাহ তাআলা একজন মানুষ যত খুশি হতে পারে, তার চেয়েও বেশি খুশি হন। তাওবা ও তাওবাকারীর জন্য এটি আল্লাহ তাআলার ভালোবাসার নিদর্শন।
সুতরাং ভালোবাসা ও মহাব্বতের বিষয়টি যদি বাতিল হতো, তা হলে ঈমান ও ইহসানের সমস্ত স্তর বাতিল হয়ে যেত। আল্লাহর পথে অগ্রসর হওয়ার সমস্ত মানযিল অকেজো হয়ে পড়ত। কারণ মহাব্বতই হলো সব আমল ও মানযিলের রূহ। তাই আমল যখন মহাব্বতশূন্য হয়, তখন তা মৃত ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। আমলের সাথে মহাব্বতের সম্পর্ক হলো, আমলের সাথে ইখলাসের সম্পর্কের ন্যায়। বরং মহাব্বতই হলো ইখলাসের মূল। বরং বলা যায় মহাব্বতই হলো ইসলাম। কেননা ইসলাম হলো আল্লাহ তাআলার প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্য, মহাব্বত ও অপদস্থতা স্বীকার করা। সুতরাং আল্লাহর মহাব্বত যার নেই, নিশ্চিতভাবেই তার ইসলামও নেই। মহাব্বত হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর সাক্ষ্য দেওয়ার হাকীকত বা প্রকৃত মর্ম। কেননা ইলাহ্ হলো সেই সত্তা, বান্দা যাকে মহাব্বত ও বশ্যতা, ভয় ও আশা এবং আনুগত্য ও শ্রদ্ধার ক্ষেত্রে ইলাহ্ মানে। ইলাহ্ অর্থ: মা'নূহ (مَأْلُوْهُ) অর্থাৎ যার প্রতি অন্তর ভালোবাসায় ও নত স্বীকারে পরিপূর্ণ থাকে।
মাঁয়া (প্রভুত্ব)-এর মূল হলো عَبْدٌ (দাসত্ব)। আর দাসত্ব হলো মহাব্বতের শেষ ধাপ। যখন অনুরক্ত ব্যক্তি তার প্রিয় মানুষের প্রতি নিজেকে উৎসর্গ করে এবং তার বশ্যতা স্বীকার করে নেয়, তখন বলা হয় عَبَّدَهُ الْحُبُّ وَتَيَّمَهُ
সুতরাং মহাব্বত হলো দাসত্বের মূল ভিত্তি। মহাব্বত, সন্তুষ্টি, কৃতজ্ঞতা, প্রশংসা, ভয় ও আশা ব্যতীত কি আল্লাহর প্রতি ধাবিত হওয়া যায়? আসলে মহাব্বতকারীদের সবর ছাড়া আর কি কোনো সবর আছে? কারণ আল্লাহর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য ধৈর্য ধারণ করে তাদের অপেক্ষা করতে হয়। (এর সাথে কি আর কোনো অপেক্ষার কোনো তুলনা চলে?)
টিকাঃ
[৭০৭] সূরা বাকারা, ২: ১৬৫।
[৭০৮] সূরা বাকারা, ২: ১৬৫।
[৭০৯] ইবনু তাইমিয়্যা, মাজমুউল ফাতাওয়া, ৮/৩৫৭।
[৭১০] সূরা আ-ল ইমরান, ৩: ৩১।
[৭১১] সূরা আ-ল ইমরান, ৩: ৩১।
[৭১২] সূরা মায়িদা, ৫: ৫৪।
[৭১৩] সূরা ফাতহ, ৪৮: ২৯।
[৭১৪] বুখারি, ১৬; মুসলিম, ৪৩।
[৭১৫] বুখারি, ৬৫০২।
[৭১৬] বুখারি, ৩২০৯; মুসলিম, ২৬৩৭।
[৭১৭] সূরা আ-ল ইমরান, ৩: ১৪৬।
[৭১৮] সূরা আ-ল ইমরান, ৩: ১৩৪।
[৭১৯] সূরা বাকারা, ২: ২২২।
[৭২০] সূরা আ-ল ইমরান, ৩: ৭৬।
[৭২১] সূরা বাকারা, ২: ২০৫।
[৭২২] সূরা হাদীদ, ৫৭:২৩।
[৭২৩] সূরা আ-ল ইমরান, ৩: ৫৭।
[৭২৪] মুসলিম, ৮৫।
[৭২৫] বুখারি, ১৫১৯; মুসলিম, ৮৩।
[৭২৬] বুখারি, ৪৩; মুসলিম, ৭৮৫।
📄 মহাব্বতের উৎস ও স্থায়িত্ব
বান্দার প্রতি আল্লাহর দেওয়া প্রকাশ্য ও গোপন নিয়ামতসমূহ গভীরভাবে দেখা ও পর্যবেক্ষণ করার দ্বারা আল্লাহর সাথে তাদের মহাব্বত সৃষ্টি হয়। পর্যবেক্ষণের গভীরতা অনুসারে মহাব্বতের তীব্রতা নির্ণীত হয়। কারণ অন্তর অনুগ্রহকারীকে ভালোবাসতে আর খারাপ আচরণকারীকে ঘৃণা করতে বাধ্য। বান্দার প্রতি যত অনুগ্রহ ও নিয়ামাত সবই আল্লাহরর তরফ থেকে। অপরদিকে সব ধরনের মন্দ ও খারাপ বিষয়াদি আসে অভিশপ্ত শয়তানের পক্ষ থেকে। (সুতরাং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হবে আর শয়তানের প্রতি ঘৃণা।)
বান্দা যদি আল্লাহর দেওয়া নিয়ামাতসমূহ পর্যবেক্ষণ করে, তা হলে সে দেখতে পাবে, তার ওপর আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে বড়ো নিয়ামাত হলো-আল্লাহ তাআলাকে ভালোবাসার, তাঁর সম্পর্কে জানার, তাঁর সন্তুষ্টি আশা করার এবং তাঁর রাসূল -এর অনুসরণ করার যোগ্যতা তাকে দেওয়া হয়েছে। এর মূল হলো একটি নূর, যা আল্লাহ তাআলা বান্দার অন্তরে ঢেলে দেন। এরপর যখন সেই নূর ব্যক্তির অন্তরে ও সত্তায় উদ্ভাসিত হয়, তখন সে নিজেকে গভীরভাবে দেখতে পায় এবং যে সমস্ত মর্যাদা ও সৌন্দর্যের যোগ্যতা তার মাঝে নিহিত রাখা হয়েছে, তাও সে দেখতে পায়। এতে তার মনোবল সুদৃঢ় হয়, সংকল্প ও ইচ্ছা শক্তিশালী হয় এবং নিজের নফস ও স্বভাব থেকে সমস্ত অন্ধকার দূর হয়ে যায়। কারণ আলো আর অন্ধকার একজায়গায় একসাথে অবস্থান করে না। একটির আগমনে অপরটি এমনি এমনি অপসারিত হয়ে যায়।
কথায়, কাজে ও আচার-আচরণে রাসূল -এর অনুসরণ করার দ্বারা আল্লাহর সাথে বান্দার ভালোবাসা প্রমাণিত হয় এবং স্থায়িত্ব লাভ করে। কারও জীবনে রাসূল -এর অনুসরণ যতটুকু হবে, আল্লাহর সাথে তার মহাব্বতও ততটুকু স্থায়ী ও শক্তিশালী হবে। আর রাসূলের অনুসরণে যে পরিমাণ ঘাটতি হবে, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসাও সে পরিমাণ কমে যাবে। যেমন পূর্বে আলোচনা হয়েছে যে, নবিজির অনুসরণ আল্লাহর প্রতি বান্দার ভালোবাসা এবং বান্দার প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা উভয়টিই একসাথে তৈরি করে। আর এ দুটি ব্যতীত (বান্দার সফলতার) বিষয়টি পরিপূর্ণ হয় না।
(জেনে রাখুন,) প্রকৃত মর্যাদা এর মধ্যে নয় যে, আপনি আল্লাহকে ভালোবাসেন। বরং প্রকৃত মর্যাদা এর মধ্যে রয়েছে যে, আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসেন। আর আল্লাহ আপনাকে কেবল তখনই ভালোবাসবেন, যখন আপনি আপনার প্রকাশ্য ও গোপন সর্বাবস্থায় তাঁর হাবীব ﷺ-এর অনুসরণ করবেন, তাঁর দেওয়া খবরসমূহকে সত্যায়িত করবেন, তাঁর আদেশ-নিষেধ পালন করবেন, তাঁর আহ্বানে সাড়া দেবেন, তাঁর অনুসরণকেই সবার আগে প্রাধান্য দেবেন এবং অন্যের দেওয়া সিদ্ধান্ত এড়িয়ে তাঁর দেওয়া সিদ্ধান্তেই, অন্যের ভালোবাসা উপেক্ষা করে তাঁর ভালোবাসাতেই এবং অন্যের অনুসরণ বাদ দিয়ে কেবল রাসূল ﷺ-এর অনুসরণেই নিজেকে উৎসর্গ করবেন। আপনার অবস্থা যদি এ রকম না হয়, তা হলে নিজেকে নিয়ে ভাবুন, নিজের জন্য আলো খুঁজুন। কারণ এখনো আপনার কিছুই অর্জন হয়নি।
আর এই আয়াতটি নিয়ে চিন্তা করুন-
فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللهُ
"আমার আনুগত্য করো, তা হলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।” [৭২৭]
অর্থাৎ প্রকৃত মর্যাদা হলো আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসবেন। আপনি আল্লাহকে ভালোবাসবেন এটি প্রকৃত মর্যাদা নয়। আর আপনার সেই মর্যাদা হাসিল হবে আল্লাহর হাবীব ﷺ-এর অনুসরণ করার মাধ্যমে।
টিকাঃ
[৭২৭] সূরা আ-ল ইমরান, ৩: ৩১।