📄 যিকুরের প্রকারভেদ
যিক্র তিন প্রকার-প্রশংসা, দুআ এবং মনোযোগ।
১. প্রশংসাসূচক যিক্র : যেমন : সুবহানাল্লাহ, আলহামদু লিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী-এ রকম বিভিন্ন প্রকার যিক্।
২. দুআ সংবলিত যিক্স: যেমন, رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الخَاسِرِينَ
“হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তা হলে আমরা অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাব।” [৬৬৬]
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةٌ وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
"হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।” [৬৬৭]
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْتُ
“হে চিরঞ্জীব, হে অবিনশ্বর সত্তা, আমি আপনার রহমতের ওসীলায় সাহায্য প্রার্থনা করছি।”[৬৬৮]
এ জাতীয় আরও অন্যান্য দুআ এর অন্তর্ভুক্ত।
৩. মনোযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে যিক্ : যেমন, যিক্রের মাঝে মাঝে বলা, اللَّهُ مَعِى-আল্লাহ আমার সঙ্গে আছেন।
اللَّهُ نَاظِرْ إِلَى -আল্লাহ আমাকে দেখছেন।
اللَّهُ شَاهِدِي -আল্লাহ আমাকে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এই রকম আরও যিক্র করা, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্যকে আরও জোরালোভাবে উপলব্ধি করা যায়। এ ধরনের যিক্র করার মাধ্যমে অন্তর সংশোধন করার জন্য মনোযোগী হওয়া যায়, আল্লাহর সাথে আদব রক্ষা করা যায়, গাফলত থেকে বাঁচা যায় এবং শয়তান ও নফসের প্ররোচনা থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
নবি যত যিক্র করেছেন, সবগুলোই এই তিন প্রকারের মধ্যে শামিল। হয়তো আল্লাহ তাআলার প্রশংসাসূচক যিক্র, অথবা আল্লাহর নিকট কিছু চেয়ে দুআ করা, অথবা মনোযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে (অন্তর সংশোধন করতে এবং শয়তান থেকে সুরক্ষা পেতে) যিক্র।
টিকাঃ
[৬৬৬] সূরা আ'রাফ, ৭: ২৩।
[৬৬৭] সূরা বাকারা, ২: ২০১।
[৬৬৮] তিরমিযি, ৩৫২৪।