📘 মাদারিজুস সালিকীন > 📄 আল্লাহর স্মরণকারীদের মর্যাদা

📄 আল্লাহর স্মরণকারীদের মর্যাদা


আল্লাহর স্মরণকারী বা যিক্রকারীরাই হলো সবচেয়ে অগ্রগামী। যেমন, 'সহীহ মুসলিম'-এর এক বর্ণনায় এসেছে, আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'নবি মক্কার পথ দিয়ে হাঁটছিলেন। 'জুমদান' নামক পাহাড় অতিক্রমকালে তিনি বলেন,
سِيرُوا، هُذَا جُمْدَانُ، سَبَقَ الْمُفَرِّدُونَ
"তোমরা চলতে থাকো, এটি হলো জুমদান পাহাড়। 'মুফাররিদূন'রা অগ্রগামী হয়ে গেল।"
সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, মুফাররিদূন কারা? নবি উত্তর দিলেন,
الذَّاكِرُونَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتُ
“আল্লাহ তাআলাকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও নারীগণ।”[৬৬১]
আরেকটি হাদীসে এসেছে, আবুদ দারদা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
أَلَا أُنَبِّئُكُمْ بِخَيْرِ أَعْمَالِكُمْ وَأَزْكَاهَا عِنْدَ مَلِيْكِكُمْ وَأَرْفَعِهَا فِي دَرَجَاتِكُمْ وَخَيْرٌ لَّكُمْ مِّنْ إِنْفَاقِ الذَّهَبِ وَالْوَرِقِ وَخَيْرٌ لَّكُمْ مِّنْ أَنْ تَلْقَوْا عَدُوَّكُمْ فَتَضْرِبُوا أَعْنَاقَهُمْ وَيَضْرِبُوا أَعْنَاقَكُمْ
"আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের অধিক উত্তম কাজ সম্পর্কে জানিয়ে দেবো না, যা তোমাদের মালিকের নিকট সবচেয়ে পবিত্র, তোমাদের মর্যাদার দিক দিয়ে সর্বাধিক উঁচু, স্বর্ণ ও রৌপ্য দান করার চেয়ে বেশি উত্তম, তোমাদের শত্রুর মোকাবিলায় অবতীর্ণ হয়ে তাদেরকে হত্যা করা এবং তোমাদের নিহত হওয়ার চাইতেও উত্তম?”
সাহাবায়ে কেরাম বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, সেটি কী'
রাসূলুল্লাহ বললেন,
ذِكْرُ اللَّهِ تَعَالَى “আল্লাহ তাআলার যিক্।”[৬৬২]
আবূ হুরায়রা ও আবূ সাঈদ রাসূলুল্লাহ -এর ওপর সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
لَا يَقْعُدُ قَوْمٌ يَذْكُرُونَ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ إِلَّا حَقَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَنَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ
"কোনো সম্প্রদায় আল্লাহ তাআলার যিক্র বা স্মরণ করতে বসলে একদল ফেরেশতা তাদের বেষ্টন করে রাখে, রহমত তাদের ঢেকে নেয়, তাদের ওপর সাকীনা বা প্রশান্তি অবতীর্ণ হয় এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছের ফেরেশতাগণের নিকট তাদের নিয়ে আলোচনা করেন।”[৬৬৩]
যিরের সুউচ্চ মর্যাদার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, আল্লাহ তাআলা যিকরকারীদের নিয়ে ফেরেশতাদের ওপর গর্ব করেন। যেমন, 'সহীহ মুসলিম'-এর বর্ণনায় এসেছে, মুআবিয়া থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর সাহাবাদের একটি দলের নিকটে গিয়ে বললেন, 'তোমাদেরকে কীসে বসিয়েছে?'
তারা বলল, 'আমরা বসেছি আল্লাহর স্মরণ ও তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য। যেহেতু তিনি আমাদেরকে ইসলামের পথ দেখিয়েছেন এবং এর দ্বারা আমাদের ওপর তিনি অশেষ অনুগ্রহ করেছেন।'
তিনি বললেন, 'আল্লাহর শপথ! তোমাদেরকে কি শুধু এ বিষয়টিই বসিয়েছে?'
তারা বলল, 'আল্লাহর শপথ! আমাদেরকে কেবল এই বিষয়টিই বসিয়েছে।'
তখন নবি ﷺ বললেন, أَمَا إِنِّي لَمْ أَسْتَحْلِفْكُمْ تُهْمَةً لَّكُمْ وَلَكِنَّهُ أَتَانِي جِبْرِيلُ فَأَخْبَرَنِي أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُبَاهِي بِكُمُ الْمَلَائِكَةَ
"আমি তোমাদের প্রতি মিথ্যে অপবাদ দেওয়ার জন্য শপথ করতে বলিনি; বরং আমার নিকট জিবরীল আলাইহিস সালাম এসে আমাকে জানিয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা তোমাদের নিয়ে ফেরেশতাদের ওপর গর্ব করছেন।” [৬৬৪]
আবদুল্লাহ ইবনু বুস্র থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'এক ব্যক্তি এসে বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল, আমার জন্য ইসলামের বিধিবিধান অনেক বেশি হয়ে গেছে। সুতরাং আমাকে এমন একটি বিষয়ের আদেশ করুন, যা আমি মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরতে পারি।'
জবাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, لَا يَزَالُ لِسَانُكَ رَطْبًا مِّنْ ذِكْرِ اللَّهِ
“তোমার জিহ্বা যেন সবসময় আল্লাহর যিক্র সিক্ত থাকে।”[৬৬৫]

টিকাঃ
[৬৬১] মুসলিম, ২৬৭৬।
[৬৬২] তিরমিযি, ৩৩৭৭; ইবনু মাজাহ, ৩৯৯০; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ২১৭০২, সহীহ।
[৬৬৩] মুসলিম, ২৭০০; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৭৪২৭।
[৬৬৪] মুসলিম, ২৭০১; তিরমিযি, ৩৩৭৯; আহমাদ, ১৬৮৩৫।
[৬৬৫] তিরমিযি, ৩৩৭৫; ইবনু মাজাহ, ৩৭৯৩।

📘 মাদারিজুস সালিকীন > 📄 যিকুরের প্রকারভেদ

📄 যিকুরের প্রকারভেদ


যিক্র তিন প্রকার-প্রশংসা, দুআ এবং মনোযোগ।
১. প্রশংসাসূচক যিক্র : যেমন : সুবহানাল্লাহ, আলহামদু লিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী-এ রকম বিভিন্ন প্রকার যিক্।
২. দুআ সংবলিত যিক্স: যেমন, رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الخَاسِرِينَ
“হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তা হলে আমরা অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাব।” [৬৬৬]
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةٌ وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
"হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।” [৬৬৭]
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْتُ
“হে চিরঞ্জীব, হে অবিনশ্বর সত্তা, আমি আপনার রহমতের ওসীলায় সাহায্য প্রার্থনা করছি।”[৬৬৮]
এ জাতীয় আরও অন্যান্য দুআ এর অন্তর্ভুক্ত।
৩. মনোযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে যিক্ : যেমন, যিক্রের মাঝে মাঝে বলা, اللَّهُ مَعِى-আল্লাহ আমার সঙ্গে আছেন।
اللَّهُ نَاظِرْ إِلَى -আল্লাহ আমাকে দেখছেন।
اللَّهُ شَاهِدِي -আল্লাহ আমাকে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এই রকম আরও যিক্র করা, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্যকে আরও জোরালোভাবে উপলব্ধি করা যায়। এ ধরনের যিক্র করার মাধ্যমে অন্তর সংশোধন করার জন্য মনোযোগী হওয়া যায়, আল্লাহর সাথে আদব রক্ষা করা যায়, গাফলত থেকে বাঁচা যায় এবং শয়তান ও নফসের প্ররোচনা থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
নবি যত যিক্র করেছেন, সবগুলোই এই তিন প্রকারের মধ্যে শামিল। হয়তো আল্লাহ তাআলার প্রশংসাসূচক যিক্র, অথবা আল্লাহর নিকট কিছু চেয়ে দুআ করা, অথবা মনোযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে (অন্তর সংশোধন করতে এবং শয়তান থেকে সুরক্ষা পেতে) যিক্র।

টিকাঃ
[৬৬৬] সূরা আ'রাফ, ৭: ২৩।
[৬৬৭] সূরা বাকারা, ২: ২০১।
[৬৬৮] তিরমিযি, ৩৫২৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00