📘 মাদারিজুস সালিকীন > 📄 যিকর সম্পর্কে কুরআনের বক্তব্য

📄 যিকর সম্পর্কে কুরআনের বক্তব্য


কুরআনে আল্লাহর স্মরণ বা যিক্র সম্পর্কে ১০টি বিষয় এসেছে—
১. যিক্রের আদেশ করা হয়েছে; কখনো সময় নির্দিষ্ট করে আবার কখনো কোনো নির্দিষ্টকরণ ছাড়াই; আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللهَ ذِكْرًا كَثِيرًا وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا )
“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করো।” [৬৪৮]
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَاذْكُرْ رَّبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيفَةً
"আর মনে মনে আপন রবকে স্মরণ করতে থাকো কান্নাজড়িত কণ্ঠে ও ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায়।"।৬৪৯।
২. যিক্রের বিপরীত বিষয় যেমন: গাফলতি, অমনোযোগিতা, ভুলে থাকা ইত্যাদি বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা এসেছে; আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَلَا تَكُنْ مِنَ الْغَافِلِينَ ) "আপনি তাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না, যারা গাফলতির মধ্যে ডুবে আছে।” [৬৫০]
وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ نَسُوا اللَّهَ فَأَنْسَاهُمْ أَنْفُسَهُمْ "তোমরা তাদের মতো হোয়ো না, যারা আল্লাহকে ভুলে গেছে। ফলে আল্লাহ তাদের নিজেদেরকেই ভুলিয়ে দিয়েছেন।”[৬৫১]
৩. নিয়মিত এবং বেশি বেশি যিক্র করাকে সফলতা লাভের জন্য শর্ত করা হয়েছে; আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ ) "তোমরা আল্লাহকে বেশি বেশি করে স্মরণ করতে থাকো। আশা করা যায়, এতে তোমরা সফল হবে।”[৬৫২]
৪. যিকারীদের প্রশংসা করা হয়েছে এবং আল্লাহ তাদের জন্য যে জান্নাত ও মাগফিরাত প্রস্তুত করে রেখেছেন, তার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِرَاتِ وَالخَاشِعِينَ وَالخَاشِعَاتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ وَالصَّابِمِينَ وَالصَّابِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذَّاكِرِينَ اللهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا ) “নিশ্চয় মুসলমান পুরুষ, মুসলমান নারী, ঈমানদার পুরুষ, ঈমানদার নারী, অনুগত পুরুষ, অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ, সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ, ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ, বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ, দানশীল নারী, রোযা পালনকারী পুরুষ, রোযা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হেফাজতকারী পুরুষ, যৌনাঙ্গ হেফাজতকারী নারী, আল্লাহর অধিক যিক্‌রকারী পুরুষ ও অধিক যিক্‌রকারী নারী—তাদের সবার জন্যই আল্লাহ প্রস্তুত করে রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।” [৬৫৩]
৫. যারা অন্য কিছুর জন্য আল্লাহকে ভুলে থাকে, তাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে; আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَأُولَبِكَ هُمُ الخَاسِرُونَ )
“হে মুমিনগণ, তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল না করে। যারা এরূপ করবে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।” [৬৫৪]
৬. আল্লাহকে স্মরণ করলে আল্লাহও তাদেরকে স্মরণ করবেন; আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ )
"সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ রাখব এবং আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো; অকৃতজ্ঞ হয়ো না।” [৬৫৫]
৭. যিক্‌রকে সবকিছু থেকে বড়ো বলে উল্লেখ করা হয়েছে; আল্লাহ তাআলা বলেন,
اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ
"আপনার নিকট যে কিতাব ওহির মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে আপনি তা পাঠ করুন এবং সালাত কায়েম করুন। নিশ্চয় সালাত অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে। আর অবশ্যই আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ।”[৬৫৬]
৮. যিকরের মাধ্যমে যেকোনো সৎকাজের শুরু ও শেষ করার বিষয়ে উদ্‌বুদ্ধ করা হয়েছে, যেমন রোযার আমল আল্লাহর যিকরের সাথে শেষ করা হয়েছে:
وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ "যাতে তোমরা রোযার সংখ্যা পূর্ণ করতে পারো এবং আল্লাহ তোমাদের যে হিদায়াত দান করেছেন, সেজন্য তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে পারো।”[৬৫৭]
এমনিভাবে সালাতের ক্ষেত্রেও যিকরের আলোচনা এসেছে, فَإِذَا قَضَيْتُمُ الصَّلَاةَ فَاذْكُرُوا اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِكُمْ "তারপর যখন তোমরা সালাত শেষ করবে, তখন দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে সব অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকো।”[৬৫৮]
৯. এই সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, যিকারীরাই কেবল আল্লাহর নিদর্শনাবলি থেকে উপকার লাভ করতে পারে এবং তারাই প্রকৃত জ্ঞানী; আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ ) الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ “নিশ্চয় আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে এবং রাত্রি ও দিনের আবর্তনে জ্ঞানী লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে; যাঁরা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে।”[৬৫৯]
১০. সমস্ত নেক আমলের সাথেই যিক্রকে যুক্ত করা হয়েছে এবং একে প্রাণ সাব্যস্ত করা হয়েছে। যিক্রকে সালাতের সাথে যুক্ত করে উল্লেখ করেছেন; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي *
"এবং আমাকে স্মরণ করার জন্য সালাত কায়েম করো।"[৬৬০]
এমনিভাবে আল্লাহ তাআলা সিয়াম, হাজ্জ ও অন্যান্য আমলসমূহের সাথেও যিক্রকে যুক্ত করে উল্লেখ করেছেন।

টিকাঃ
[৬৪৭] আর-রিসালাতুল কুশাইরিয়্যা, ২/৩৭৮।
[৬৪৮] সূরা আহযাব, ৩৩: ৪১-৪২।
[৬৪৯] সূরা আ'রাফ, ৭:২০৫।
[৬৫০] সূরা আ'রাফ, ৭:২০৫।
[৬৫১] সূরা হাশর, ৫৯ : ১৯।
[৬৫২] সূরা আনফাল, ৮: ৪৫।
[৬৫৩] সূরা আহযাব, ৩৩: ৩৫।
[৬৫৪] সুরা মুনাফিকূন, ৬৩: ৯।
[৬৫৫] সূরা বাকারা, ২: ১৫২।
[৬৫৬] সূরা আনকাবুত, ২৯: ৪৫।
[৬৫৭] সূরা বাকারা, ২: ১৮৫।
[৬৫৮] সূরা নিসা, ৪: ১০৩।
[৬৫৯] সূরা আ-ল ইমরান, ৩: ১৯০-১৯১।
[৬৬০] সূরা ত্ব-হা, ২০: ১৪।

📘 মাদারিজুস সালিকীন > 📄 আল্লাহর স্মরণকারীদের মর্যাদা

📄 আল্লাহর স্মরণকারীদের মর্যাদা


আল্লাহর স্মরণকারী বা যিক্রকারীরাই হলো সবচেয়ে অগ্রগামী। যেমন, 'সহীহ মুসলিম'-এর এক বর্ণনায় এসেছে, আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'নবি মক্কার পথ দিয়ে হাঁটছিলেন। 'জুমদান' নামক পাহাড় অতিক্রমকালে তিনি বলেন,
سِيرُوا، هُذَا جُمْدَانُ، سَبَقَ الْمُفَرِّدُونَ
"তোমরা চলতে থাকো, এটি হলো জুমদান পাহাড়। 'মুফাররিদূন'রা অগ্রগামী হয়ে গেল।"
সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, মুফাররিদূন কারা? নবি উত্তর দিলেন,
الذَّاكِرُونَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتُ
“আল্লাহ তাআলাকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও নারীগণ।”[৬৬১]
আরেকটি হাদীসে এসেছে, আবুদ দারদা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
أَلَا أُنَبِّئُكُمْ بِخَيْرِ أَعْمَالِكُمْ وَأَزْكَاهَا عِنْدَ مَلِيْكِكُمْ وَأَرْفَعِهَا فِي دَرَجَاتِكُمْ وَخَيْرٌ لَّكُمْ مِّنْ إِنْفَاقِ الذَّهَبِ وَالْوَرِقِ وَخَيْرٌ لَّكُمْ مِّنْ أَنْ تَلْقَوْا عَدُوَّكُمْ فَتَضْرِبُوا أَعْنَاقَهُمْ وَيَضْرِبُوا أَعْنَاقَكُمْ
"আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের অধিক উত্তম কাজ সম্পর্কে জানিয়ে দেবো না, যা তোমাদের মালিকের নিকট সবচেয়ে পবিত্র, তোমাদের মর্যাদার দিক দিয়ে সর্বাধিক উঁচু, স্বর্ণ ও রৌপ্য দান করার চেয়ে বেশি উত্তম, তোমাদের শত্রুর মোকাবিলায় অবতীর্ণ হয়ে তাদেরকে হত্যা করা এবং তোমাদের নিহত হওয়ার চাইতেও উত্তম?”
সাহাবায়ে কেরাম বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, সেটি কী'
রাসূলুল্লাহ বললেন,
ذِكْرُ اللَّهِ تَعَالَى “আল্লাহ তাআলার যিক্।”[৬৬২]
আবূ হুরায়রা ও আবূ সাঈদ রাসূলুল্লাহ -এর ওপর সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
لَا يَقْعُدُ قَوْمٌ يَذْكُرُونَ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ إِلَّا حَقَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَنَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ
"কোনো সম্প্রদায় আল্লাহ তাআলার যিক্র বা স্মরণ করতে বসলে একদল ফেরেশতা তাদের বেষ্টন করে রাখে, রহমত তাদের ঢেকে নেয়, তাদের ওপর সাকীনা বা প্রশান্তি অবতীর্ণ হয় এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছের ফেরেশতাগণের নিকট তাদের নিয়ে আলোচনা করেন।”[৬৬৩]
যিরের সুউচ্চ মর্যাদার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, আল্লাহ তাআলা যিকরকারীদের নিয়ে ফেরেশতাদের ওপর গর্ব করেন। যেমন, 'সহীহ মুসলিম'-এর বর্ণনায় এসেছে, মুআবিয়া থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর সাহাবাদের একটি দলের নিকটে গিয়ে বললেন, 'তোমাদেরকে কীসে বসিয়েছে?'
তারা বলল, 'আমরা বসেছি আল্লাহর স্মরণ ও তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য। যেহেতু তিনি আমাদেরকে ইসলামের পথ দেখিয়েছেন এবং এর দ্বারা আমাদের ওপর তিনি অশেষ অনুগ্রহ করেছেন।'
তিনি বললেন, 'আল্লাহর শপথ! তোমাদেরকে কি শুধু এ বিষয়টিই বসিয়েছে?'
তারা বলল, 'আল্লাহর শপথ! আমাদেরকে কেবল এই বিষয়টিই বসিয়েছে।'
তখন নবি ﷺ বললেন, أَمَا إِنِّي لَمْ أَسْتَحْلِفْكُمْ تُهْمَةً لَّكُمْ وَلَكِنَّهُ أَتَانِي جِبْرِيلُ فَأَخْبَرَنِي أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُبَاهِي بِكُمُ الْمَلَائِكَةَ
"আমি তোমাদের প্রতি মিথ্যে অপবাদ দেওয়ার জন্য শপথ করতে বলিনি; বরং আমার নিকট জিবরীল আলাইহিস সালাম এসে আমাকে জানিয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা তোমাদের নিয়ে ফেরেশতাদের ওপর গর্ব করছেন।” [৬৬৪]
আবদুল্লাহ ইবনু বুস্র থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'এক ব্যক্তি এসে বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল, আমার জন্য ইসলামের বিধিবিধান অনেক বেশি হয়ে গেছে। সুতরাং আমাকে এমন একটি বিষয়ের আদেশ করুন, যা আমি মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরতে পারি।'
জবাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, لَا يَزَالُ لِسَانُكَ رَطْبًا مِّنْ ذِكْرِ اللَّهِ
“তোমার জিহ্বা যেন সবসময় আল্লাহর যিক্র সিক্ত থাকে।”[৬৬৫]

টিকাঃ
[৬৬১] মুসলিম, ২৬৭৬।
[৬৬২] তিরমিযি, ৩৩৭৭; ইবনু মাজাহ, ৩৯৯০; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ২১৭০২, সহীহ।
[৬৬৩] মুসলিম, ২৭০০; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৭৪২৭।
[৬৬৪] মুসলিম, ২৭০১; তিরমিযি, ৩৩৭৯; আহমাদ, ১৬৮৩৫।
[৬৬৫] তিরমিযি, ৩৩৭৫; ইবনু মাজাহ, ৩৭৯৩।

📘 মাদারিজুস সালিকীন > 📄 যিকুরের প্রকারভেদ

📄 যিকুরের প্রকারভেদ


যিক্র তিন প্রকার-প্রশংসা, দুআ এবং মনোযোগ।
১. প্রশংসাসূচক যিক্র : যেমন : সুবহানাল্লাহ, আলহামদু লিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী-এ রকম বিভিন্ন প্রকার যিক্।
২. দুআ সংবলিত যিক্স: যেমন, رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الخَاسِرِينَ
“হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তা হলে আমরা অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাব।” [৬৬৬]
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةٌ وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
"হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।” [৬৬৭]
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْتُ
“হে চিরঞ্জীব, হে অবিনশ্বর সত্তা, আমি আপনার রহমতের ওসীলায় সাহায্য প্রার্থনা করছি।”[৬৬৮]
এ জাতীয় আরও অন্যান্য দুআ এর অন্তর্ভুক্ত।
৩. মনোযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে যিক্ : যেমন, যিক্রের মাঝে মাঝে বলা, اللَّهُ مَعِى-আল্লাহ আমার সঙ্গে আছেন।
اللَّهُ نَاظِرْ إِلَى -আল্লাহ আমাকে দেখছেন।
اللَّهُ شَاهِدِي -আল্লাহ আমাকে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এই রকম আরও যিক্র করা, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্যকে আরও জোরালোভাবে উপলব্ধি করা যায়। এ ধরনের যিক্র করার মাধ্যমে অন্তর সংশোধন করার জন্য মনোযোগী হওয়া যায়, আল্লাহর সাথে আদব রক্ষা করা যায়, গাফলত থেকে বাঁচা যায় এবং শয়তান ও নফসের প্ররোচনা থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
নবি যত যিক্র করেছেন, সবগুলোই এই তিন প্রকারের মধ্যে শামিল। হয়তো আল্লাহ তাআলার প্রশংসাসূচক যিক্র, অথবা আল্লাহর নিকট কিছু চেয়ে দুআ করা, অথবা মনোযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে (অন্তর সংশোধন করতে এবং শয়তান থেকে সুরক্ষা পেতে) যিক্র।

টিকাঃ
[৬৬৬] সূরা আ'রাফ, ৭: ২৩।
[৬৬৭] সূরা বাকারা, ২: ২০১।
[৬৬৮] তিরমিযি, ৩৫২৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00