📄 আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সবকিছুর চেয়ে প্রাধান্য দেওয়া
অন্যের সন্তুষ্টির ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া, যে কাজে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি নিহিত রয়েছে, তা সম্পন্ন করা, যদিও মানুষজন তাতে অসন্তুষ্ট হয়।
এটি হলো আম্বিয়ায়ে কেরাম-এর স্তর। এর চেয়েও উঁচু স্তর হলো রাসূলগণের স্তর। তার চেয়েও উচ্চ স্তর হলো রাসূলদের মধ্যে যারা أُولُو الْعَزمِ (দৃঢ় মনোবলের অধিকারী) ছিলেন তাদের স্তর। আর সর্বোচ্চ স্তর হলো আমাদের নবি মুহাম্মাদ -এর স্তর। কেননা তিনি (তাওহীদের বাণী নিয়ে) সমগ্র পৃথিবীবাসীর বিপরীতে একা দাঁড়িয়েছেন, একাই আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিয়েছেন, আল্লাহর জন্য কাছের-দূরের সব রকমের শত্রুতা সহ্য করেছেন, সবকিছুর সন্তুষ্টির আগে পুরাপুরিভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কার তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বরং নবি -এর সমস্ত চেষ্টা-প্রচেষ্টা, ইচ্ছা-উদ্যম ও তৎপরতা ছিল একমাত্র আল্লাহ তাআলাকে রাজি-খুশি করা, তাঁর দেওয়া বিধিবিধান মানুষের নিকট পৌঁছিয়ে দেওয়া, তাঁর কালিমাকে বিজয়ী করা এবং তাঁর শত্রুদের সাথে জিহাদ করার উদ্দেশ্যে; যতক্ষণ-না আল্লাহর দ্বীন সমস্ত দ্বীনের ওপর বিজয়ী হয়, আল্লাহর বিধান সমগ্র পৃথিবীবাসীর ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মুমিনদের ওপর তাঁর নিয়ামাত পূর্ণতা পায়। অবশেষে রাসূলুল্লাহ (তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায়) আল্লাহর বিধান (রিসালাত) সবার নিকট পৌঁছিয়ে দিয়েছেন, তাঁর ওপর অর্পিত আমানত যথাযথভাবে আদায় করেছেন, উম্মাতের কল্যাণকামিতায় তিনি ছিলেন পরিপূর্ণ মনোযোগী, আল্লাহর জন্য সর্বশক্তি দিয়ে জিহাদ করেছেন এবং একনিষ্ঠতার সাথে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত আপন রবের ইবাদাত করে গিয়েছেন। সুতরাং মুহাম্মাদ ছাড়া প্রাধান্যদানের এই স্তর আর কেউ পেতে পারে না।