📄 সত্যবাদিতার তাৎপর্য ও মর্মকথা
আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে আদেশ করেছেন তিনি যেন তাঁর নিকট এই প্রার্থনা করেন যে, তার বের হওয়া ও প্রবেশ করা সবই যেন হয় সততার সাথে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَقُلْ رَّبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَلْ لَي مِنْ لَّدُنْكَ سُلْطَانًا نَّصِيرًا *
“আপনি বলুন, ‘হে আমার রব, আমাকে প্রবেশ করান সততার সাথে এবং আমাকে বের করুন সততার সাথে এবং আমাকে দান করুন আপনার পক্ষ থেকে সাহায্যকারী শক্তি।” [৫২৮]
আল্লাহ তাআলা তাঁর খলীল ইবরাহীম সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, তিনি তাঁর নিকট পরবর্তীদের কাছে তার উত্তম প্রশংসা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য দুআ করেছিলেন।
وَاجْعَلْ لِي لِسَانَ صِدْقٍ فِي الْآخِرِينَ
"পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে আমার উত্তম প্রশংসা ছড়িয়ে দিয়ো।"[৫২৯]
আল্লাহ তাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদের সত্যিকারের মর্যাদা ও সম্মানজনক আসনের সুসংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوْا أَنَّ لَهُمْ قَدَمَ صِدْقٍ عِنْدَ رَبِّهِمْ "ঈমানদারগণকে সুসংবাদ শুনিয়ে দিন যে, তাদের রবের নিকট তাদের জন্য রয়েছে সত্যিকারের মর্যাদা।”[৫৩০]
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন, إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَنَهَرٍ فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِنْدَ مَلِيكٍ مُقْتَدِرٍ “আল্লাহভীরুরা থাকবে জান্নাতে ও ঝরনাসমূহতে, মহা শক্তিধর সম্রাটের সান্নিধ্যে সম্মানজনক আসনে।” [৫৩১]
এখানে পাঁচটি বিষয়ের আলোচনা এসেছে- ১. সততার সাথে প্রবেশ করা (مُدْخَلُ الصِّدْقِ) ২. সততার সাথে বের হওয়া (مُخْرَجُ الصِّدْقِ) ৩. উত্তম প্রশংসা (لِسَانُ الصِّدْقٍ) ৪. সত্যিকারের মর্যাদাবান হওয়া (قَدَمُ الصِّدْقِ) এবং ৫. সম্মানজনক আসন লাভ করা (مَقْعَدُ الصِّدْقِ)।
এই পাঁচটি বিষয়ই হলো সত্যবাদিতার মূল তাৎপর্য ও প্রকৃত মর্ম। এগুলো যথাযথ ও সুদৃঢ়ভাবে আল্লাহ তাআলার সাথে সম্পর্কিত এবং এগুলোই আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছে দেবে। কথা ও কাজের ক্ষেত্রে সত্যবাদিতার সবগুলো প্রকারই এর সাথে সম্পৃক্ত। আর দুনিয়া-আখিরাতে সত্যবাদিতার পুরস্কারও এর সাথে সম্পর্কিত।
১-২. সততার সাথে প্রবেশ করা এবং সততার সাথে বের হওয়া : এর মানে হলো— প্রবেশ করা ও বের হওয়া সবই হবে আল্লাহর হুকুম মোতাবেক, আল্লাহর সাথে মজবুত সম্পর্ক সৃষ্টি করা, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা এবং একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে তা অর্জন করার উদ্দেশ্যে। এর বিপরীতে রয়েছে মিথ্যার সাথে বের হওয়া ও প্রবেশ করা, এর নির্দিষ্ট কোনো গন্তব্য নেই, যেখানে সে পৌঁছাবে এবং এর মজবুত কোনো ভিত্তিও নেই, যার ওপর তা স্থায়ী হবে। যেমন, বদরের দিন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শত্রুদের বের হওয়া। পক্ষান্তরে সেদিন রাসূলুল্লাহ ও সাহাবায়ে কেরাম -এর বের হওয়া ছিল সত্যবাদিতার সাথে বের হওয়া, (তা ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায়।)
এমনিভাবে রাসূল -এর মদীনায় প্রবেশ করাও ছিল সত্যবাদিতার সাথে প্রবেশ করা, যা আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত এবং আল্লাহকে রাজি করার উদ্দেশ্যে। ফলে আল্লাহ তাআলার সাহায্য-সহযোগিতাও এসেছে এবং দুনিয়া-আখিরাতের লক্ষ্যও অর্জন হয়েছে। এর বিপরীতে মিথ্যার সাথে প্রবেশ করা হলো: খন্দকের যুদ্ধের দিন আল্লাহর শত্রুদের মদীনায় প্রবেশ করা। কেননা তা আল্লাহকে রাজি-খুশি করার জন্য ছিল না; বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ছিল। ফলে তারা কেবল লাঞ্ছিত, অপমানিত আর ধ্বংস হয়েই ফিরেছে।
কেউ কেউ আল্লাহর রাসূল -এর সততার সাথে প্রবেশ করা ও সততার সাথে বের হওয়ার ব্যাখ্যা করেছেন, মক্কা থেকে বের হওয়া এবং মদীনায় প্রবেশ করার মাধ্যমে। নিঃসন্দেহে এটি একটি উত্তম উদাহরণ। কেননা এই বের হওয়া এবং প্রবেশ করা ছিল নবি -এর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বের হওয়া ও প্রবেশ করা। আসলে আল্লাহর রাসূল -এর প্রতিটি বের হওয়া ও প্রবেশ করাই ছিল সত্যবাদিতা ও সততার সাথে। কারণ সবগুলোই ছিল আল্লাহর আদেশে এবং সবগুলোর উদ্দেশ্যই ছিল আল্লাহ তাআলার রাজি-খুশি ও সন্তুষ্টি অর্জন।
যে কেউ তার বাড়ি থেকে বের হয়, এরপর বাজারে কিংবা অন্য কোথাও প্রবেশ করে; তা হয়তো সততার সাথে হয় কিংবা মিথ্যার সাথে। প্রত্যেকের বের হওয়া ও প্রবেশ করা অবশ্যই এ দুটির কোনো না কোনো একটির সাথে সম্পর্কিত। হয়তো সততার সাথে নয়তো মিথ্যার সাথে। আল্লাহ তাআলাই একমাত্র সাহায্য-লাভের উৎস।
৩. উত্তম প্রশংসা : লিসানুস সিদ্ক )لِسَانُ الصِّدْقِ( অর্থ: উত্তম প্রশংসা। নবি সমগ্র উম্মাতের মধ্যে এ রকম উত্তম প্রশংসায় প্রশংসিত ছিলেন। এর দ্বারা কপট বা মিথ্যা প্রশংসা উদ্দেশ্য নয়। যেমন নবি-রাসূলগণ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَجَعَلْنَا لَهُمْ لِسَانَ صِدْقٍ عَلِيًّا ۩ “এবং তাদেরকে দিলাম যথার্থ সুখ্যাতি।”[৫০২]
এখানে لِسَانُ(জবান) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উত্তম প্রশংসা। জবান দ্বারাই যেহেতু প্রশংসা করা হয়, তাই আল্লাহ তাআলা সরাসরি জবান উল্লেখ করে প্রশংসা উদ্দেশ্য নিয়েছেন।
'লিসান' দ্বারা তিনটি জিনিস বোঝানো হয়ে থাকে-
এক. প্রশংসা, যেমন ওপরে বর্ণনা করা হলো।
দুই. ভাষা। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَّسُوْلٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ "আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তার সম্প্রদায়ের ভাষা দিয়ে প্রেরণ করেছি।”[৫৩৩]
তিন. লিসান দ্বারা 'জিহ্বা' বোঝানো হয়ে থাকে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ ۩ "এ ওহিকে দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য আপনার জিহ্বা দ্রুত সঞ্চালন করবেন না।” [৫৩৪]
৪. সত্যিকারের মর্যাদাবান হওয়া (قَدَمُ الصِّدْقِ) : কেউ কেউ এর ব্যাখ্যা করেছেন জান্নাত দ্বারা। কেউ করেছেন মুহাম্মাদ ﷺ দ্বারা। আর কেউ এর ব্যাখ্যা করেছেন সৎকর্ম দ্বারা।
الْقَدَمُ এর প্রকৃত অর্থ হলো: যা আগে পাঠানো হয়েছে। কিয়ামাতের দিনের জন্য পাথেয়স্বরূপ তারা বিভিন্ন প্রকার সৎকর্ম, মুহাম্মাদ ﷺ-এর প্রতি ঈমান আনাসহ ইত্যাদি আমল আগে পাঠিয়ে দেয়। অতঃপর এই সমস্ত আমলের প্রতিদানস্বরূপ জান্নাতের দিকেই তারা অগ্রসর হয়।
৫. সম্মানজনক আসন লাভ করা (مَقْعَدُ الصِّدْقِ) : এটি হচ্ছে মহান আল্লাহ তাআলার নিকট চিরসুখের জান্নাত লাভ।
ওপরের পাঁচটি বিষয়কে সিদ্ক শব্দের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। এর কারণ হলো এ বিষয়গুলোর সংঘটিত হওয়া ও স্থায়ী হওয়া সুনিশ্চিত এবং এগুলোর উপকারিতা ও পরিপূর্ণতা অবশ্যম্ভাবী। কেননা এই বিষয়গুলো আল্লাহ তাআলার সাথে সম্পর্কিত এবং এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি নিহিত রয়েছে। সুতরাং এগুলো হলো সত্য ও হক, মিথ্যা ও বাতিল নয়; এমনিভাবে স্থায়ী ও উপকারী, অস্থায়ী ও ক্ষতিকর নয়। আর বাতিল ও বাতিলসংক্রান্ত কোনোকিছুর সম্পৃক্ততা ও অনুপ্রবেশ এখানে নেই।
সত্য (الصِّدْقُ) হলো—কোনো বস্তু পরিপূর্ণভাবে অর্জিত হওয়া, তার শক্তি সম্পূর্ণ হওয়া এবং তার সব অংশগুলো একত্রিত হওয়া। যেমন বলা হয়, عَزِيْمَةٌ صَادِقَةٌ (সুদৃঢ় ইচ্ছা) যখন ইচ্ছাশক্তি পূর্ণতা পায়। এমনিভাবে বলা হয় مَحَبَّةٌ صَادِقَةٌ (প্রবল ভালোবাসা), إِرَادَةٌ صَادِقَةٌ (প্রবল অভিলাষ), حَلَاوَةٌ صَادِقَةٌ (সুমিষ্ট); যখন এই বস্তুগুলো পরিপূর্ণভাবে অর্জিত হয় এবং এতে কোনো প্রকার ঘাটতি না থাকে।
এই কারণে صِدْقُ الخَبَرِ (সত্য সংবাদ) বলা হয়ে থাকে। যখন সংবাদদাতা শ্রোতাকে কোনো বিষয়ে বাস্তবসম্মত পূর্ণ সংবাদ প্রদান করে, যাতে মিথ্যার কোনো মিশ্রণ থাকে না।
টিকাঃ
[৫২৮] সূরা ইসরা, ১৭:৮০।
[৫২৯] সূরা শুআরা, ২৬: ৮৪।
[৫৩০] সূরা ইউনুস, ১০:২।
[৫৩১] সূরা কমার, ৫৪ : ৫৫-৫৫।
[৫০২] সূরা মারইয়াম, ১৯: ৫০।
[৫৩৩] সূরা ইবরাহীম, ১৪: ৪।
[৫৩৪] সূরা কিয়ামাহ, ৭৫: ১৬।
📄 সত্যবাদিতার আলামত
সত্যবাদিতার আলামত হলো: অন্তরে নিশ্চিন্ততা ও স্বস্তি আসে। আর মিথ্যাচারের আলামত হলো : অন্তর দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। যেমন 'সুনানুত তিরমিযি'তে এসেছে, হাসান ইবনু আলি ইবনি আবী তালিব থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন,
إِنَّ الصِّدْقَ طُمَأْنِيْنَةٌ وَإِنَّ الْكَذِبَ رِيبَةً “সত্য হলো নিশ্চিন্ততা আর মিথ্যা হলো দ্বিধাগ্রস্ততা।”[৫৩৫]
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন,
عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ؛ فَإِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِى إِلَى البِرّ، وَإِنَّ البِرَّ يَهْدِي إِلَى الْجَنَّةِ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَصْدُقُ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللهِ صِدِّيقًا، وَإِيَّاكُمْ وَالكَذِبَ؛ فَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُوْرِ، وَالْفُجُورُ يَهْدِى إِلَى النَّارِ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَكْذِبُ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللهِ كَذَّابًا "তোমরা সত্যকে আঁকড়ে ধরো। কেননা নিশ্চয়ই সত্য পুণ্যের পথ দেখায় আর পুণ্য জান্নাতের পথ দেখায়। কোনো ব্যক্তি সত্য বলতে থাকলে অবশেষে তাকে আল্লাহ তাআলার নিকট সিদ্দীক বা সত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়। আর তোমরা মিথ্যা থেকে কঠোরভাবে বেঁচে থাকো। কেননা মিথ্যা নিশ্চিতরূপে পাপাচারের পথ দেখায় আর পাপাচার জাহান্নামের পথে নিয়ে যায়। কোনো ব্যক্তি মিথ্যা বলতে থাকলে অবশেষে তাকে আল্লাহ তাআলার নিকট কায্যাব বা মিথ্যাবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়।”[৫৩৬]
রাসূলুল্লাহ সত্যবাদিতাকে সিদ্দীকের মর্যাদা লাভের চাবি ও সূচনা বানিয়েছেন। আর সিদ্দীকের মর্যাদা লাভ করাই হলো সত্যবাদিতার চূড়ান্ত ধাপ। সুতরাং কথায়, কাজে বা আচার-আচরণে মিথ্যাবাদী কোনো ব্যক্তি কখনো এই মর্যাদা অর্জন করতে পারবে না। বিশেষভাবে যারা আল্লাহ তাআলার গুণাবলি ও নামসমূহের ক্ষেত্রে মিথ্যা আরোপ করে এবং আল্লাহ যা নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন আর যা সাব্যস্ত করেননি, সেসব ক্ষেত্রেও আল্লাহ তাআলার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, তারা কোনোকালেও সিদ্দীকের মর্যাদা লাভ করতে পারবে না।
এমনিভাবে দ্বীন ও শারীআতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা; যেমন: আল্লাহ তাআলা যা হারাম করেছেন, তা হালাল করা; যা হালাল করেছেন, তা হারাম করা; যা আবশ্যক করেছেন, তা পরিত্যাগ করা; যা আবশ্যক করেননি, তা অবধারিত করে নেওয়া; আর আল্লাহ তাআলা যা পছন্দ করেছেন, তা অপছন্দ করা কিংবা তিনি যা অপছন্দ করেছেন, তা পছন্দ করা ইত্যাদি এ সবগুলোই সিদ্দীক হওয়ার পরিপন্থি ও সাংঘর্ষিক।
এমনিভাবে বাহ্যিক আমলে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া; যেমন: কেউ সত্যবাদী, মুখলিস, দুনিয়াবিরাগী ও আল্লাহর ওপর ভরসাকারীদের মতো বেশভূষা গ্রহণ করে; অথচ বাস্তবে সে তাদের দলভুক্ত নয়। (সেও সিদ্দীক হতে পারবে না।)
এ জন্যই সত্যবাদিতা হলো—গোপনে ও প্রকাশ্যে পরিপূর্ণ ইখলাসের সাথে আল্লাহ তাআলার আদেশ-নিষেধের পূর্ণ আনুগত্য করা এবং তা মনে-প্রাণে মেনে নেওয়া।
টিকাঃ
[৫৩৫] তিরমিযি, ২৫১৮।
[৫৩৬] বুখারি, ৬০৯৪; মুসলিম, ২৬০৬।
📄 সত্যবাদিতা সম্পর্কে সালাফদের কতিপয় উক্তি
আবদুল ওয়াহিদ ইবনু যাইদ বলেছেন, 'সত্যবাদিতা হলো: আল্লাহর সাথে যে চুক্তি (করা হয়েছে) আমলের মাধ্যমে তা পূর্ণ করা।'[৫৩৭]
কেউ বলেছেন, 'সত্যবাদিতা হলো অন্তরে লুকায়িত কথার সাথে মুখে-বলা-কথার মিল থাকা।'[৫৩৮]
কেউ বলেছেন, 'বাহ্যিক অবস্থা ও গোপন অবস্থা এক হওয়া। অর্থাৎ মিথ্যাবাদীর বাহ্যিক অবস্থা তার গোপন অবস্থার চেয়ে ভালো হয়; মুনাফিকের মতো; যার ভেতরের চেয়ে বাইরের অবস্থা ভালো থাকে।'
কেউ বলেছেন, 'সত্যবাদিতা হলো—মৃত্যুর আশঙ্কা থাকলেও ন্যায় ও হক কথা বলা।'
কেউ বলেছেন, 'যার নিকট তুমি আশাও করো, আবার ভয়ও পাও; তার সামনে ন্যায্য কথা বলা।'
ইবরাহীম খাওয়াস বলেছেন, 'আপনি সত্যবাদীকে দেখবেন, হয়তো সে কোনো ফরজ দায়িত্ব পালন করছে, অথবা উত্তম কোনো কাজে লিপ্ত রয়েছে। [৫৩৯]
জুনাইদ বাগদাদি বলেছেন, 'সত্যবাদিতার প্রকৃত মর্ম হলো— যেখানে মিথ্যা বলা ছাড়া রেহাই পাবে না, সেখানেও তুমি সত্য কথা বলবে। [৫৪০]
কেউ কেউ বলেছেন, 'সত্যবাদী ব্যক্তিকে তিনটি বিষয় সত্য বলা থেকে বিরত রাখতে পারে না—
১. মিষ্টান্ন (অর্থাৎ উপহার), ২. ভয়ভীতি ও ৩. চাটুকারিতা। [৫৪১]
হাদীসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, مَنْ صَدَقَنِي فِي سَرِيرَتِهِ صَدَقْتُهُ فِي عَلَانِيَتِهِ عِنْدَ خَلْقِي
“যে ব্যক্তি তার গোপন অবস্থাতেও আমার প্রতি সত্যবাদী থাকে, আমি আমার সৃষ্টিকুলের মাঝে তাকে তার বাহ্যিক অবস্থাতেও সত্যবাদী হিসেবে রাখব।"[৫৪২]
টিকাঃ
[৫৩৭] সাহল ইবনু আবদিল্লাহ তুসতারি, তাফসীর, ১২৬।
[৫৩৮] আবদুল কারীম কুশাইরি, আর-রিসালাহ, ২/৩৬৪।
[৫৩৯] আবদুল কারীম কুশাইরি, আর-রিসালাহ, ২/৩৬৫।
[৫৪০] আবদুল কাদীর জীলানি, আল-গুনইয়া, ২/৩৩৫।
[৫৪১] আবদুল কাদীর জীলানি, আল-গুনইয়া, ২/৩৩৫।
[৫৪২] আবদুল কারীম কুশাইরি, আর-রিসালাহ, ২/৩৬৫।