📄 সন্তুষ্টি সম্পর্কে মনীষীদের কতিপয় উক্তি
যুন-নূন মিস্ত্রি বলেছেন, 'সন্তুষ্টির তিনটি আলামত আছে : ১. ফায়সালার আগে কোনো একদিক পছন্দ না করা, ২. ফায়সালার পরে মনঃক্ষুণ্ণ না হওয়া এবং ৩. বিপদাপদের কারণে মহাব্বত হ্রাস না পাওয়া। [৪৮১]
হুসাইন ইবনু আলি-কে বলা হলো: আবূ যার বলেন, 'দরিদ্রতা আমার নিকট প্রাচুর্যতার চেয়ে বেশি পছন্দনীয় এবং অসুস্থতা আমার নিকট সুস্থতার চেয়ে বেশি প্রিয়।' তখন হুসাইন বললেন, 'আল্লাহ তাআলা আবূ যারের প্রতি রহম করুন! আমি বলব, আল্লাহ তাআলা কারও জন্য যা পছন্দ করেন, সে যদি তা মেনে নেয়, তা হলে সে কখনো আল্লাহর পছন্দের বাইরে কোনোকিছু কামনা করতে পারে না।'[৪৮২]
ফুযাইল ইবনু ইয়ায বিশ্ব হাফী-কে বলেন, 'সন্তুষ্টি দুনিয়াবিমুখতা থেকেও উত্তম। কারণ সন্তুষ্ট ব্যক্তি তার স্তরের চেয়ে ওপরের স্তরের কোনো বস্তুর আকাঙ্ক্ষা করে না।'[৪৮৩]
আবূ উসমান-কে নবি -এর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো: أَسْأَلُكَ الرِّضَى بَعْدَ الْقَضَاءِ “হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট ফায়সালার পরে সন্তুষ্টি চাই।”[৪৮৪] (এ রকম বলার কারণ কী?) এর জবাবে তিনি বললেন, 'কারণ ফায়সালার আগে সন্তুষ্টি হলো সন্তুষ্টির ওপর দৃঢ় সংকল্প। আর ফায়সালার পরের সন্তুষ্টিই হলো প্রকৃত সন্তুষ্টি।'[৪৮৫]
উমর ইবনুল খাত্তাব আবূ মূসা-কে একবার চিঠি লিখলেন, 'মনে রাখবে, সমস্ত কল্যাণ নিহিত রয়েছে সন্তুষ্ট থাকার মধ্যে। সুতরাং যদি পারো সন্তুষ্ট থেকো, অন্যথায় সবর কোরো।'[৪৮৬]
একবার উহাইব ইবনুল ওয়ার্ন্দ, সুইয়ান সাওরি ও ইউসুফ ইবনু আসবাত এক জায়গায় সমবেত হলেন। তখন সুইয়ান সাওরি বললেন, 'আমি আজকের পূর্বে হঠাৎ-মৃত্যুকে অপছন্দ করতাম, তবে আজকে আমি মৃত্যুকেই পছন্দ করি।' ইউসুফ জিজ্ঞেস করলেন, 'এর কারণ কী?' তিনি জবাব দিলেন, 'কারণ আমি ফিতনার আশঙ্কা করছিলাম।' তখন ইউসুফ বললেন, 'কিন্তু আমি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা পছন্দ করি।' সাওরি বললেন, 'কেন আপনি মৃত্যুকে অপছন্দ করেন?' তিনি জবাব দিলেন, 'হয়তো এমন একদিন আসবে, যেদিন আমি খাঁটি তাওবা করব এবং (মাকূল) নেক আমল করব।' এবার উহাইব -কে প্রশ্ন করা হলো: 'এ ব্যাপারে আপনি কী বলেন?' তিনি বললেন, 'এগুলোর কিছুই আমি পছন্দ করি না। আমার নিকট কেবল তা-ই প্রিয়, যা আল্লাহ তাআলার নিকট প্রিয়।' এই কথা শুনে সুফিয়ান সাওরি তার কপালে একটি চুমু দিলেন এবং বললেন, 'কা'বার রবের কসম, এটি রূহানিয়্যাত বা আধ্যাত্মিকতা!' [৪৮৭]
টিকাঃ
[৪৮১] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৯/৩৪১।
[৪৮২] যাহাবি, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, ৩/২৬২।
[৪৮৩] ইবনু তাইমিয়্যা, আল-ইসতিকামাহ, ২/৮১।
[৪৮৪] নাসাঈ, ১৩০৫।
[৪৮৫] বাইহাকি, শুআবুল ঈমান, ১৯২।
[৪৮৬] ইবনু তাইমিয়্যা, আল-ইসতিকামাহ, ২/৮৪।
[৪৮৭] আবূ তালিব মাক্কি, কুতুল কুলুব, ১/৭৩।