📄 তাওয়াক্কুল এবং তাফবীয
তাফবীয হলো: শক্তি ও সামর্থ্য দেখানো থেকে মুক্ত থাকা, সমস্ত বিষয় আপন মালিকের নিকট অর্পণ করা।
কুরআনের কেবল এক জায়গাই তাফবীযের আলোচনা এসেছে। ফিরআউনের অনুসারীদের মধ্যে যে ঈমান গ্রহণ করেছিল তার প্রসঙ্গে-
وَأُفَوِّضُ أَمْرِي إِلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ
"আমি আমার ব্যাপার আল্লাহর কাছে সমর্পণ করছি। নিশ্চয় আল্লাহ বান্দাদের দেখছেন।”[৪২৩]
আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল -কে আদেশ করেছেন যেন তিনি তাঁকে ওকীল বা অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
رَّبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَاتَّخِذْهُ وَكِيلًا
"তিনিই পূর্ব ও পশ্চিমের রব। তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। অতএব, তাঁকেই অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করুন।” [৪২৪]
এটি জাহমিয়্যাদের সেই কথাকে বাতিল করে দেয়, যারা বলে, আল্লাহকে ওকীল বা অভিভাবক বানানোর অর্থ তাঁর ওপর দুঃসাহসিকতা দেখানো। কারণ কাউকে ওকীল বানানোর অর্থ হলো: যাকে ওকীল বানানো হয়, সে তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে কাজ করবে। আর আল্লাহর সাথে এমনটা করা তো চরম ধৃষ্টতা। এটা জাহমিয়্যাদের সবচেয়ে বড়ো মূর্খতা। কারণ আল্লাহকে ওকীল বা অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করা খাঁটি দাসত্ব ও স্বচ্ছ তাওহীদের পরিচায়ক; যখন ব্যক্তি তা যথাযথভাবে পালন করে।
সাহল ইবনু আবদিল্লাহ তুসতারি কতই-না প্রজ্ঞাবান ছিলেন, তিনি বলেছেন, 'ইলমের পুরাটাই বন্দেগির একটি অধ্যায়। বন্দেগির পুরাটাই আল্লাহভীতির একটি অধ্যায়। আল্লাহভীতির পুরাটাই দুনিয়াবিমুখতার একটি অধ্যায়। আর দুনিয়াবিমুখতার পুরাটাই হলো তাওয়াক্কুলের একটি অধ্যায়।' [৪২৫]
সুতরাং আমাদের নিকট তাওয়াক্কুল হলো তাফবীযের চেয়েও উচ্চস্তরের ও উচ্চ মর্যাদার।
টিকাঃ
[৪২৩] সূরা গাফির, ৪০: ৪৪।
[৪২৪] সূরা মুযযাম্মিল, ৭৩: ৯।
[৪২৫] আবূ তালিব মাক্কي, কূতুল কুলুব, ২/৪।
📄 আল্লাহর ওপর ভরসা এবং আল্লাহর ওপর আস্থা
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ -এর আরেকটি মানযিল হলো—আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা (اَلثِّقَةُ بِاللهِ)।
আল্লাহ তাআলা মূসা -এর মাকে বলেছিলেন,
فَإِذَا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيْهِ فِي الْيَمِّ وَلَا تَخَافِي وَلَا تَحْزَنِي
"তারপর যখন তার প্রাণের ভয় করবে, তাকে সমুদ্রে ভাসিয়ে দেবে এবং কোনো ভয় ও দুঃখ করবে না।" [৪২৬]
(মূসা -এর মা নির্দ্বিধায় আল্লাহ তাআলার সে হুকুম পালন করেছিলেন।) এটি আসলে আল্লাহর ওপর আস্থা রাখার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। কারণ আল্লাহর ওপর যদি তার পরিপূর্ণ আস্থা না থাকত, তা হলে তিনি তার কলিজার টুকরা সন্তানকে উত্তাল সমুদ্রে নিক্ষেপ করতেন না; যার বিশাল বিশাল ঢেউ তাকে নিয়ে খেলা করত, অবশেষে কোথায় নিয়ে পৌঁছাত তা ছিল অজানা।
পূর্বে অনেকের উক্তি বর্ণনা করা হয়েছে, যারা তাওয়াক্কুলের ব্যাখ্যা করেছেন, ‘আল্লাহ ওপর আস্থা রাখা’ বলে। কেউ কেউ একে তাওয়াক্কুলের হাকীকত আখ্যা দিয়েছেন। কেউ তাফবীয বা আত্মসমর্পণ করার দ্বারা আর কেউ তাসলীম বা নির্দ্বিধায় মেনে নেওয়ার দ্বারাও তাওয়াক্কুলের ব্যাখ্যা করেছেন।
সুতরাং আপনি অবগত হয়েছেন যে, তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর ভরসা করার মানযিল উপরিউক্ত সবগুলোকেই অন্তর্ভুক্ত করে।
টিকাঃ
[৪২৬] সূরা কাসাস, ২৮: ৭।