📘 মাদারিজুস সালিকীন > 📄 দুনিয়াবিমুখতা অর্জন করার পদ্ধতি

📄 দুনিয়াবিমুখতা অর্জন করার পদ্ধতি


দুনিয়াবিমুখতার সূচনা করতে হবে হারাম ছাড়ার পর সন্দেহযুক্ত কাজকর্ম পরিত্যাগ করার মাধ্যমে; যা বান্দার মনে সংশয় সৃষ্টি করে যে, এটি হালাল নাকি হারাম?
যেমন নু'মান ইবনু বাশির থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, নবি বলেছেন, إِنَّ الْحَلَالَ بَيِّنٌ وَإِنَّ الْحَرَامَ بَيِّنٌ وَبَيْنَهُمَا مُشْتَبِهَاتٌ لَا يَعْلَمُهُنَّ كَثِيرٌ مِّنَ النَّاسِ فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ كَالرَّاعِي يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى يُوْشِكُ أَنْ يَرْتَعَ فِيْهِ أَلَا وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمِّى أَلَا وَإِنَّ حِمَى اللهِ مَحَارِمُهُ أَلَا وَإِنَّ فِي الجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الجَسَدُ كُلُّهُ وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الجَسَدُ كُلُّهُ أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ
"নিশ্চয় হালাল সুস্পষ্ট, হারামও সুস্পষ্ট, আর এ দুয়ের মাঝে রয়েছে কিছু সন্দেহযুক্ত বিষয়, যেগুলো অনেক মানুষই জানে না। যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয়সমূহে লিপ্ত হওয়া থেকে বেঁচে থাকে, সে তার দ্বীন ও সম্মানকে অটুট রাখে, আর যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয়সমূহে লিপ্ত হয়, সে হারামে জড়িয়ে যায়। এর উদাহরণ হলো, যেমন: কোনো রাখাল কারও সংরক্ষিত চারণভূমির আশপাশে পশু চরায়, আশঙ্কা রয়েছে যে, সে তার ভেতরে ঢুকে পড়বে। মনে রেখো, প্রত্যেক রাজারই একটি সংরক্ষিত এলাকা থাকে। আর মনে রেখো, আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হলো তার হারামকৃত বিষয়গুলো। মনে রেখো, দেহের মধ্যে এক টুকরো গোশত রয়েছে; যা সংশোধিত হলে পুরো দেহই সংশোধিত হয়ে যায়, আর যা নষ্ট হয়ে গেলে পুরো দেহই নষ্ট হয়ে যায়। মনে রেখো, সেটা হলো কলব বা অন্তর।”[২৯৯]
আসলে সন্দেহযুক্ত বিষয়াদি হলো হালাল ও হারামের মাঝে ভিন্ন একটি জগৎ।
এরপর প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার, পানীয়, পোশাক-আশাক, ঘরবাড়ি, বিবাহ-শাদী ইত্যাদি বিষয় থেকে বিমুখ হওয়া, আস্তে আস্তে এগুলোও পরিত্যাগ করা; এর মাধ্যমে যুহ্দ বা দুনিয়াবিমুখতা অর্জন করা যায়।

টিকাঃ
[২৯৯] বুখারি, ৫২; মুসলিম, ১৫৯৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00