📘 মাদারিজুস সালিকীন > 📄 দুনিয়াবিমুখতার পরিচয়

📄 দুনিয়াবিমুখতার পরিচয়


আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
مَا عِنْدَكُمْ يَنْفَدُ وَمَا عِنْدَ اللَّهِ بَاقٍ
"তোমাদের কাছে যা আছে, তা শেষ হয়ে যাবে এবং আল্লাহর কাছে যা আছে, তা কখনো শেষ হবে না।”[২৮১]
আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهُمْ وَزِينَةً وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَاهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُوْنُ حُطَامًا وَفِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللهِ وَرِضْوَانٌ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ
"ভালোভাবে জেনে রাখো, দুনিয়ার এ জীবন একটা খেলা, হাসি-তামাশা, বাহ্যিক চাকচিক্য, তোমাদের পারস্পরিক গৌরব ও অহংকার এবং সন্তান-সন্ততি ও অর্থ-সম্পদে পরস্পরকে অতিক্রম করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। এর উপমা হচ্ছে, বৃষ্টি হয়ে গেল এবং তার ফলে উৎপন্ন উদ্ভিদরাজি দেখে কৃষক আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠল। তারপর সে ফসল পেকে যায় এবং তোমরা দেখতে পাও যে, তা হলদে বর্ণ ধারণ করে এবং পরে তা ভূষিতে পরিণত হয়। পক্ষান্তরে আখিরাত এমন স্থান, যেখানে রয়েছে কঠিন আযাব, আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ ছাড়া আর কিছুই নয়।”[২৮২]
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, الْمَالُ وَالْبَنُونَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَالْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ خَيْرٌ عِنْدَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَخَيْرٌ أَمَلًا “এ ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি দুনিয়ার জীবনের একটি সাময়িক সৌন্দর্য মাত্র। আর স্থায়ী সৎকর্মসমূহ আপনার রবের কাছে ফলাফলের দিক দিয়ে উত্তম এবং এগুলোই আশা-আকাঙ্ক্ষা সফল হবার উত্তম মাধ্যম।”[২৮৩]
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَى "বস্তুত তোমরা পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দাও, অথচ পরকালের জীবন উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী।” [২৮৪]
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, وَلَا تَمُدَّنَّ عَيْنَيْكَ إِلَى مَا مَتَّعْنَا بِهِ أَزْوَاجًا مِّنْهُمْ زَهْرَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا لِنَفْتِنَهُمْ فِيْهِ وَرِزْقُ رَبِّكَ خَيْرٌ وَأَبْقَى "আমি এদের বিভিন্ন প্রকার লোককে পরীক্ষা করার জন্য পার্থিবজীবনের সৌন্দর্যস্বরূপ ভোগবিলাসের যে উপকরণ দিয়েছি, আপনি সেই সব বস্তুর প্রতি দৃষ্টি দেবেন না। আপনার পালনকর্তার দেওয়া জীবনোপকরণই উৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী।” [২৮৫]
দুনিয়াবিমুখতা, দুনিয়ার তুচ্ছতা, স্বল্পতা, ক্ষণস্থায়িত্ব, এর দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া, আখিরাতের প্রতি আগ্রহী হওয়া, আখিরাতের মর্যাদা, স্থায়িত্ব, এর দ্রুত আগমন ইত্যাদির আলোচনায় কুরআন পরিপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা যখন কোনো বান্দার কল্যাণ কামনা করেন, তখন তার অন্তরে একজন প্রহরী নিযুক্ত করে দেন, যার সাহায্যে সে দুনিয়া-আখিরাতের প্রকৃত অবস্থা দেখতে পায় এবং এ দুটির মধ্যে যেটি প্রাধান্য পাওয়া দরকার, সেটিকে প্রাধান্য দেয়।
অধিকাংশ মানুষ যুহন্দের ব্যাপারে নিজের পছন্দ-অপছন্দ, অবস্থা ও অভিজ্ঞতার আলোকে কথা বলেছেন। তবে এর চেয়ে ইলমি আলোচনা করাই উত্তম ও ফলপ্রসূ হবে। কারণ তা হবে দলীল-প্রমাণের নিকটবর্তী।
আমি শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যা -কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, 'যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতা হলো আখিরাতে যা উপকারে আসবে না, তা পরিত্যাগ করা। আর আল্লাহর ভয় হলো আখিরাতে যার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তাতে জড়িয়ে না পড়া। [২৮৬]
এই কথাটি দুনিয়াবিমুখতা ও ভয় সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, সেগুলো মধ্যে সর্বোত্তম ও ব্যাপক অর্থবোধক কথা।
সুফইয়ান সাওরি বলেছেন, 'দুনিয়াবিমুখতা হচ্ছে আশাকে ছোটো রাখা। এটি মোটা খাবার খাওয়া আর মোটা জোব্বা পরিধান করার নাম নয়। [২৮৭]
জুনাইদ বাগদাদি বলেছেন, 'আমি সারি সাকাতি -কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, 'আল্লাহ তাআলা তাঁর বন্ধুদের কাছ থেকে দুনিয়াকে ছিনিয়ে নিয়েছেন, এর থেকে তাঁর অতি কাছের লোকদেরকে রক্ষা করেছেন এবং তাঁর মহাব্বতের অধিকারী ব্যক্তিদের অন্তর থেকে তা বের করে দিয়েছেন। কারণ তিনি তাদের জন্য এতে সন্তুষ্ট হননি। [২৮৮]
কেউ কেউ বলেছেন, 'আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে যুহদের প্রকৃত অর্থ নিহিত রয়েছে-
لِكَيْلَا تَأْسَوْا عَلَى مَا فَاتَكُمْ وَلَا تَفْرَحُوا بِمَا آتَاكُمُ
"যাতে তোমাদের যা হাতছাড়া হয়ে যায়, তার কারণে তোমরা দুঃখিত না হও এবং তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, সে জন্য গর্বিতও না হও।"[২৮৯]
সুতরাং যাহিদ বা দুনিয়াবিমুখ হলো সেই ব্যক্তি, যে দুনিয়ার কোনোকিছু পেয়ে আনন্দ-উল্লাসও করে না আবার কোনোকিছু না পেলে আফসোসও করে না।
ইয়াহইয়া ইবনু মুআয বলেছেন, 'যুহদ নিজ মালিকানাকে দান করতে উদ্‌বুদ্ধ করে আর মহাব্বত আপন রূহকে দান করতে উদ্বুদ্ধ করে।'[২৯০]
ইবনুল জালা বলেছেন, 'যুহদ হলো দুনিয়ার দিকে এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাকানো যে, তা ধ্বংস হয়ে যাবে, ফলে তোমার চোখে তা ছোটো ও হীন হয়ে ধরা দেবে। যার দরুন দুনিয়া থেকে দূরে থাকা তোমার জন্য সহজ হবে।'[২৯১]
ইমাম আহমাদ বলেছেন, 'দুনিয়াবিমুখতা হলো ছোটো আশা পোষণ করা।'[২৯২]
তাঁর থেকে আরেকটি কথা বর্ণিত আছে, যুহৃদ হলো দুনিয়া কারও কাছে হাজির হলে আনন্দিত না হওয়া এবং হাতছাড়া হয়ে গেলে পেরেশানও না হওয়া। তাকে একজন লোক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যার সাথে এক হাজার দীনার ছিল, সে কি দুনিয়াবিমুখ হতে পারবে? তিনি জবাব দেন, 'হ্যাঁ, একটি শর্তে হতে পারবে। তা হলো এই সম্পদের চেয়ে যদি তার আরও সম্পদ বেড়ে যায়, তা হলে সে আনন্দিত হবে না আবার যদি এর থেকে কমে যায়, তা হলে সে দুঃখও পাবে না।'[২৯৩]
আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেছেন, 'যুহদ হলো অভাবের প্রতি ভালোবাসার সাথে আল্লাহর ওপর নিশ্চিন্ত নির্ভরতা।' এটি শাকীক বালখি ও ইউসুফ ইবনু আসবাত-এরও কথা।
আবূ সুলাইমান দারানি বলেছেন, 'যা আল্লাহ থেকে দূরে রাখে, তা পরিত্যাগ করা।' এটি শিবলি -এরও কথা।
রুওয়াইম দুনিয়াবিমুখতা সম্পর্কে জুনাইদ বাগদাদি -কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জবাব দেন, 'দুনিয়াকে অপদস্থ, হীন ও ছোটো মনে করা এবং অন্তর থেকে এর প্রভাব মিটিয়ে দেওয়া। [২৯৪]
একব্যক্তি ইয়াহইয়া ইবনু মুআয-কে বললেন, 'কখন আমি তাওয়াক্কুলের ঘরে প্রবেশ করব, দুনিয়াবিমুখদের পোশাক পরিধান করব এবং তাদের সাথে বসব?' জবাবে তিনি বললেন, 'যখন তুমি তোমার অন্তরের ওপর সাধনা করতে করতে এই পর্যায়ে পৌঁছাবে যে, আল্লাহ তাআলা যদি তোমার নিকট থেকে তিন দিন রিস্ক বন্ধ করে রাখেন, তা হলেও তোমার অন্তর দুর্বল হয়ে পড়বে না। আর তুমি যদি এই স্তরে না পৌঁছেই তাদের সারিতে বসে যাও, তা হলে তা হবে তোমার মূর্খতা, তখন তোমার লাঞ্ছিত হওয়ার ব্যাপারে আমি নিরাপদ নই।[২৯৫]
ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল বলেছেন, 'যুহদ হলো তিন প্রকার: ১. হারাম পরিত্যাগ করা; এটি হলো সাধারণ লোকদের যুহদ। ২. হালাল বস্তুর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার পরিত্যাগ করা; এটি হলো বিশেষ ব্যক্তিদের যুহদ। ৩. যা আল্লাহ থেকে বিমুখ করে, তা পরিত্যাগ করা; এটি হলো আল্লাহর মা'রিফাতপ্রাপ্র ব্যক্তিদের যুহদ।[২৯৬]
ইমাম আহমাদ-এর এই বাণী পূর্বে উল্লেখিত সালাফদের সমস্ত বাণীকে অন্তর্ভুক্ত করে। সেগুলোর পাশাপাশি এর বিস্তারিত বিবরণ ও স্তরের বর্ণনাও এতে রয়েছে। এটি হলো ব্যাপক অর্থবহ একটি কথা। এটি এ ব্যাপারেও ইঙ্গিত প্রদান করে যে, তিনি এই বিষয়ে অনেক উঁচু স্তরের অধিকারী ছিলেন। ইমাম শাফিয়ি তাঁর ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি আটটি বিষয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা রাখেন। তার মধ্যে একটি হলো যুহৃদ বা দুনিয়াবিমুখতা।

টিকাঃ
[২৮১] সূরা নাহল, ১৬: ৯৬।
[২৮২] সূরা হাদীদ, ৫৭ : ২০।
[২৮৩] সূরা কাহফ, ১৮: ৪৬।
[২৮৪] সূরা আ'লা, ৮৭: ১৬-১৭।
[২৮৫] সূরা ত্ব-হা, ২০: ১৩১।
[২৮৬] ইবনু তাইমিয়্যা, মাজমূউল ফাতাওয়া, ১০/৬১৫।
[২৮৭] ইবনু আবিদ দুনইয়া, আয-যুহদ, ১০৯।
[২৮৮] বাইহাকি, আয-যুহদুল কাবীর, ৬১।
[২৮৯] সূরা হাদীদ, ৫৭:২৩।
[২৯০] আবদুল কারীম কুশাইরি, আর-রিসালাতুল কুশাইরিয়্যা, ১/২৪০।
[২৯১] আবদুল কারীম কুশাইরি, আর-রিসালাতুল কুশাইরিয়্যা, ১/২৪০।
[২৯২] ইবনু রজব হাম্বালি, জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম, ২/১৮৪।
[২৯৩] ইবনু আবী ইয়া'লা, তবাকাতুল হানাবিলা, ২/১৪।
[২৯৪] বাইহাকি, আয-যুহদুল কাবীর, ২০।
[২৯৫] ইমাম গাযালি, ইহইয়াউ উলূমিদ-দ্বীন, ৪/২৪২।
[২৯৬] আর-রিসালাতুল কুশাইরিয়‍্যা, ১/২৪৩।

📘 মাদারিজুস সালিকীন > 📄 দুনিয়াবিমুখতার প্রকৃত মর্ম এবং এ সম্পর্কিত বিষয়াদি

📄 দুনিয়াবিমুখতার প্রকৃত মর্ম এবং এ সম্পর্কিত বিষয়াদি


আল্লাহর মা'রিফাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ একমত পোষণ করেছেন যে, যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতা হলো দুনিয়ার আবাস থেকে আখিরাতের আবাসের দিকে আত্মিক সফর। এ সম্পর্কে পূর্ববর্তীগণ অনেক কিতাব রচনা করেছেন; যেমন: আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ওয়াকী, হান্নাদ ইবনুস সারি -সহ আরও অনেকেই। (সকলেই নিজ নিজ রচনার নাম দিয়েছেন 'কিতাবুয যুহদ'।)
যুহদ সম্পর্কিত ছয়টি বিষয় রয়েছে, যেগুলো থেকে বিমুখতা প্রদর্শন না করা পর্যন্ত কেউ যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতার গুণে গুণান্বিত হতে পারবে না। সেগুলো হলো :
১. সম্পদ, ২. (সুন্দর) আকৃতি, ৩. কর্তৃত্ব, ৪. মানুষজন, ৫. নফস এবং ৬. আল্লাহ ছাড়া বাকি সবকিছু।
এর দ্বারা উদ্দেশ্য এটা নয় যে, সবকিছু একেবারে ছেড়ে দেবে। কারণ সুলাইমান ও দাউদ ছিলেন তাদের সময়কার সবচেয়ে বড়ো দুনিয়াবিমুখ। অথচ তাদের প্রাচুর্য ছিল অনেক বেশি, স্ত্রী, দাস-দাসী এবং রাজত্বও ছিল ব্যাপক। আমাদের নবি ছিলেন সমস্ত মানুষের চেয়ে বেশি যাহিদ বা দুনিয়াবিমুখ; অথচ তাঁরও ছিল নয়জন স্ত্রী। আলি ইবনু আবী তালিব, আবদুর রহমান ইবনু আউফ, যুবাইর ইবনুল আওয়াম ও উসমান ইবনু আফফান ছিলেন দুনিয়াবিমুখদের অন্যতম; এর সাথে সাথে তাদের বেশ অর্থসম্পদও ছিল। হাসান ইবনু আলি খাঁটি যাহিদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, এর পাশাপাশি তিনি তার স্ত্রীদের প্রচণ্ড ভালোবাসতেন এবং আদর করতেন আর তিনি ধনাঢ্যদেরও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক-এর অনেক ধনসম্পদ থাকা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন দুনিয়ার প্রতি অনাগ্রহী। এমনিভাবে লাইস ইবনু সা'দ ও সুফইয়ান সাওরি ছিলেন দুনিয়াবিমুখদের ইমাম। সুফইয়ান সাওরি -এর অনেক ধনসম্পদ ছিল, তিনি বলতেন, 'এগুলো যদি না থাকত, তা হলে তারা (রাজা-বাদশাহরা) আমাদেরকে রুমাল হিসেবে ব্যবহার করত। অর্থাৎ তুচ্ছতাচ্ছিল্য করত। [২৯৭]
যুহদ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো হাসান বাসরি -এর কথা। তিনি বলেছেন, 'হালাল বস্তুকে নিজের ওপর হারাম করে নেওয়া এবং বেশি বেশি সম্পদ ব্যয় করার নাম দুনিয়াবিমুখতা নয়; বরং তা হলো আপনার হাতে যা রয়েছে, তার তুলনায় আল্লাহর হাতে যা রয়েছে, তার ওপর বেশি নির্ভরশীল হওয়া, আপনার নিকট বিপদাপদ না আসার চেয়ে আপনি বিপদাপদের সম্মুখীন হয়ে যে সাওয়াবের অধিকারী হবেন, তার প্রতি বেশি আগ্রহী হওয়া।'[২৯৮]
এটি হলো দুনিয়াবিমুখতা সম্পর্কে সবচেয়ে ব্যাপক ও উত্তম কথা।

টিকাঃ
[২৯৭] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৬/৩৮১।
[২৯৮] ইবনুল আসীর, জামিউল উসূল, ২৭৭০।

📘 মাদারিজুস সালিকীন > 📄 দুনিয়াবিমুখতা অর্জন করার পদ্ধতি

📄 দুনিয়াবিমুখতা অর্জন করার পদ্ধতি


দুনিয়াবিমুখতার সূচনা করতে হবে হারাম ছাড়ার পর সন্দেহযুক্ত কাজকর্ম পরিত্যাগ করার মাধ্যমে; যা বান্দার মনে সংশয় সৃষ্টি করে যে, এটি হালাল নাকি হারাম?
যেমন নু'মান ইবনু বাশির থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, নবি বলেছেন, إِنَّ الْحَلَالَ بَيِّنٌ وَإِنَّ الْحَرَامَ بَيِّنٌ وَبَيْنَهُمَا مُشْتَبِهَاتٌ لَا يَعْلَمُهُنَّ كَثِيرٌ مِّنَ النَّاسِ فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ كَالرَّاعِي يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى يُوْشِكُ أَنْ يَرْتَعَ فِيْهِ أَلَا وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمِّى أَلَا وَإِنَّ حِمَى اللهِ مَحَارِمُهُ أَلَا وَإِنَّ فِي الجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الجَسَدُ كُلُّهُ وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الجَسَدُ كُلُّهُ أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ
"নিশ্চয় হালাল সুস্পষ্ট, হারামও সুস্পষ্ট, আর এ দুয়ের মাঝে রয়েছে কিছু সন্দেহযুক্ত বিষয়, যেগুলো অনেক মানুষই জানে না। যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয়সমূহে লিপ্ত হওয়া থেকে বেঁচে থাকে, সে তার দ্বীন ও সম্মানকে অটুট রাখে, আর যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয়সমূহে লিপ্ত হয়, সে হারামে জড়িয়ে যায়। এর উদাহরণ হলো, যেমন: কোনো রাখাল কারও সংরক্ষিত চারণভূমির আশপাশে পশু চরায়, আশঙ্কা রয়েছে যে, সে তার ভেতরে ঢুকে পড়বে। মনে রেখো, প্রত্যেক রাজারই একটি সংরক্ষিত এলাকা থাকে। আর মনে রেখো, আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হলো তার হারামকৃত বিষয়গুলো। মনে রেখো, দেহের মধ্যে এক টুকরো গোশত রয়েছে; যা সংশোধিত হলে পুরো দেহই সংশোধিত হয়ে যায়, আর যা নষ্ট হয়ে গেলে পুরো দেহই নষ্ট হয়ে যায়। মনে রেখো, সেটা হলো কলব বা অন্তর।”[২৯৯]
আসলে সন্দেহযুক্ত বিষয়াদি হলো হালাল ও হারামের মাঝে ভিন্ন একটি জগৎ।
এরপর প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার, পানীয়, পোশাক-আশাক, ঘরবাড়ি, বিবাহ-শাদী ইত্যাদি বিষয় থেকে বিমুখ হওয়া, আস্তে আস্তে এগুলোও পরিত্যাগ করা; এর মাধ্যমে যুহ্দ বা দুনিয়াবিমুখতা অর্জন করা যায়।

টিকাঃ
[২৯৯] বুখারি, ৫২; মুসলিম, ১৫৯৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00