📄 তাওবার আলোচনা
অধিকাংশ মানুষ তাওবার তাফসীর করে থাকে তিনটি বিষয়ের মাধ্যমে—গুনাহে লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা, তাৎক্ষণিকভাবে তা থেকে বিরত থাকা এবং অতীতের করা-গুনাহের ওপর অনুতপ্ত হওয়া। আর যদি বান্দার হকসংক্রান্ত হয়, তা হলে চতুর্থ আরেকটি বিষয় জরুরি তা হলো: বান্দার কাছ থেকে বৈধ করে নেওয়া।
তারা যে বিষয়গুলো উল্লেখ করে থাকেন, তা হলো তাওবার কিছু অংশ বা শর্ত। অন্যথায় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বাণীতে এগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকার সাথে সাথে আরেকটি বিষয়ও রয়েছে। তা হলো—সেই গুনাহের বিপরীতে যে বিষয়ের আদেশ করা হয়েছে, তা করার সুদৃঢ় ইচ্ছা ও তা পালন করাকে নিজের ওপর অপরিহার্য করে নেওয়া। সুতরাং শুধু গুনাহ থেকে বিরত থাকা, পুনরায় তাতে লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা এবং অনুশোচনার মাধ্যমে কেউ তাওবাকারী বলে গণ্য হয় না; যতক্ষণ-না যা করতে আদেশ করা হয়েছে, তা পালন করতে তার কাছ থেকে সুদৃঢ় প্রতিজ্ঞা পাওয়া যায়। এটিই হলো তাওবার প্রকৃত মর্ম। তাওবা হলো এই দুটি বিষয়ের সম্মিলিত নাম। তবে যদি আদেশকৃত বিষয়টি এর সাথে সংযুক্ত থাকে, তা হলে তারা যা উল্লেখ করেন, তা-ই উদ্দেশ্য হবে। আর যদি সংযুক্ত না হয়ে আলাদাভাবে আসে, তা হলে দুটি বিষয়ই এর অন্তর্ভুক্ত হবে।
এটি হলো ‘তাকওয়া’ (اتَّقوى) শব্দটির মতো; যখন তা আলাদাভাবে আসে, তখন তা আল্লাহ তাআলা যা আদেশ করেছেন তা পালন করা এবং যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা—এ দুটিকেই অন্তর্ভুক্ত করে। আর যদি আদেশকৃত বিষয়ের সাথে তাকওয়া যুক্ত হয়ে আসে, তা হলে তা হারাম থেকে বেঁচে থাকাকে অন্তর্ভুক্ত করে।
কারণ তাওবার মূল অর্থ হলো: আল্লাহর দিকে ফিরে আসা; তিনি যা ওয়াজিব করেছেন, তা আদায় করার মাধ্যমে এবং তিনি যা অপছন্দ ও নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে। সুতরাং অপছন্দনীয় বিষয়াদি থেকে নিজেকে সংযমে রেখে, পছন্দনীয় বিষয়াদির দিকে ধাবিত হওয়ার নামই তাওবা। এখানে দুটি বিষয় রয়েছে; একটি হলো মাকরূহ বা অপছন্দনীয় বিষয় থেকে নিজেকে বিরত রাখা। আরেকটি হলো মাহবুব বা পছন্দনীয় বিষয়ের দিকে ধাবিত হওয়া। আর এ কারণেই আল্লাহ তাআলা আদেশকৃত কাজগুলো পালন করা এবং নিষেধকৃত কাজগুলো পরিত্যাগ করার সাথে সফলতাকে সম্পৃক্ত করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَتُوْبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُوْنَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
“হে মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর নিকট তাওবা করো, আশা করা যায় তোমরা সফলকাম হবে।”[৭৬]
সুতরাং প্রত্যেক তাওবাকারী ব্যক্তিই সফল; তবে সে ততক্ষণ পর্যন্ত সফল হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত-না তাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তা আদায় করে এবং তাকে যা নিষেধ করা হয়েছে, তা পরিত্যাগ করে।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَنْ لَّمْ يَتُبْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُوْنَ
"আর যারা তাওবা করে না, তারাই জালিম বা অত্যাচারী।”[৭৭]
হারামে-লিপ্ত-ব্যক্তির মতো আল্লাহর আদেশ-পরিত্যাগকারী ব্যক্তিও জালিম। সুতরাং জুলুম থেকে বেঁচে থাকতে হলে দুটি বিষয়েই তাওবা করতে হবে। উপরিউক্ত আয়াত অনুসারে সমস্ত মানুষ দুই প্রকারে সীমাবদ্ধ-১. তাওবাকারী, ২. জালিম। তাওবাকারী ব্যতীত সবাই জালিম। আর তাওবাকারী ব্যক্তিরা হলেন নিম্নোক্ত আয়াতের গুণে গুণান্বিত-
الْعَابِدُونَ الْحَامِدُونَ السَّائِحُونَ الرَّاكِعُونَ السَّاجِدُونَ الْآمِرُونَ بِالْمَعْرُوْفِ وَالنَّاهُوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَالْحَافِظُونَ لِحُدُودِ اللَّهِ
“ইবাদাতকারী, শোকরগুজার, (দুনিয়ার সাথে) সম্পর্কচ্ছেদকারী, রুকূ ও সাজদা আদায়কারী, সৎকাজের আদেশ দানকারী, মন্দকাজ থেকে নিষেধকারী এবং আল্লাহর দেওয়া সীমাসমূহের হেফাজতকারী।”[৭৮]
আল্লাহর-দেওয়া-সীমারেখা হেফাজত করা হলো তাওবার একটি অংশ। আর তাওবা হলো এই সবগুলো বিষয়ের সমষ্টির নাম। তাওবাকারীকে 'তায়িব' এ কারণেই বলা হয় যে, সে আল্লাহর নিষেধকৃত বস্তুসমূহ থেকে আল্লাহর আদেশকৃত বস্তুর দিকে এবং গুনাহ ছেড়ে তাঁর আনুগত্যের দিকে ফিরে আসে। যেমন পূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে।
সুতরাং তাওবাই হলো দ্বীন-ইসলামের হাকীকত। দ্বীনের পুরাটাই তাওবার অন্তর্ভুক্ত। এর দ্বারা তাওবাকারী আল্লাহ তাআলার ভালোবাসার পাত্রে পরিণত হয়। কারণ আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন, পবিত্র-পরিচ্ছন্ন এবং সেই ব্যক্তিদেরও তিনি ভালোবাসেন, যারা তাঁর দেওয়া আদেশগুলো পালন করে আর নিষেধগুলো থেকে বেঁচে থাকে।
তা হলে বুঝা যায়, তাওবা হলো প্রকাশ্যভাবে ও অপ্রকাশ্যভাবে আল্লাহ তাআলা যা অপছন্দ করেন, তা থেকে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যভাবে তিনি যা পছন্দ করেন সে দিকে ফিরে আসা।
তাওবার মধ্যে ইসলাম, ঈমান, ইহসান-সবই শামিল এবং তা সমস্ত মানযিল ও মাকামকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এ কারণেই প্রতিটি মুমিনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং শুরু ও শেষ হলো তাওবা। যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে। এটি হলো সেই উদ্দেশ্য, যার জন্য সমগ্র সৃষ্টিজগৎকে অস্তিত্বে আনা হয়েছে। আদেশ ও তাওহীদ হলো এর একটি অংশ। বরং বলা যায় সবেচেয়ে বড়ো অংশ; যার ওপর এর ভিত্তি।
অধিকাংশ মানুষ তাওবার মর্যাদা ও প্রকৃত মর্মই বোঝে না; ইলমি, আমলি, অবস্থাগতভাবে তা আদায় করা তো অনেক দূরের কথা। আল্লাহ তাআলার নিকট তাওবাকারীদের বিশেষ মর্যাদা ও সম্মান আছে বলেই তিনি তাদের অনেক ভালোবাসেন।
তাওবা যদি পুরা ইসলামি শারীআতকে এবং ঈমানের হাকীকতকে অন্তর্ভুক্ত না করত, তা হলে আল্লাহ তাআলা বান্দার তাওবার কারণে অত বেশি খুশি হতেন না। আসলে সূফিয়ায়ে কেরাম সে সমস্ত মানযিল, মাকাম ও অন্তরের বিশেষ অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করেন, তা তাওবারই বিস্তারিত বিবরণ ও প্রভাব।
টিকাঃ
[৭৬] সূরা নূর, ২৪: ৩১।
[৭৭] সূরা হুজুরাত, ৪৯: ১১।
[৭৮] সূরা তাওবা, ৯: ১১২।
📄 ইস্তিগফারের আলোচনা
ইস্তিগফার দুই প্রকার: ১. আলাদাভাবে উল্লেখকৃত ও ২. তাওবার সাথে যুক্ত করে উল্লেখকৃত।
১. আলাদাভাবে উল্লেখকৃত ইস্তিগফার যেমন: আপন কওমকে উদ্দেশ্য করে নূহ-এর বক্তব্য-
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا ۞
"অতঃপর আমি বলেছি, 'তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিঃসন্দেহে তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তা হলে তিনি তোমাদের ওপর অজস্র বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন।” [৭৯]
যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী-
وَمَا كَانَ اللهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُوْنَ ۞
"অথচ আল্লাহ কখনই তাদের ওপর আযাব নাযিল করবেন না, যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন। তা ছাড়া তারা যতক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে, আল্লাহ কখনো তাদের ওপর আযাব দেবেন না।” [৮০]
২. তাওবার সাথে যুক্ত করে উল্লেখকৃত: যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী-
وَأَنِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُمَتِّعْكُمْ مَّتَاعًا حَسَنًا إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى وَيُؤْتِ كُلَّ ذِي فَضْلٍ فَضْلَهُ
"তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও এবং তাঁর নিকট তাওবা করো, তা হলে তিনি একটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তোমাদেরকে উত্তম জীবন- সামগ্রী দেবেন এবং অনুগ্রহ লাভের যোগ্য প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার অনুগ্রহ দান করবেন।"[৮১]
যেমন সালিহ তার সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, فَاسْتَغْفِرُوهُ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ إِنَّ رَبِّي قَرِيبٌ مُجِيبٌ "কাজেই তোমরা তাঁর কাছে ক্ষমা চাও, অতঃপর তাঁর নিকটেই তাওবা করো। নিশ্চয়ই আমার রব নিকটে আছেন, তিনি আহ্বানে সাড়া দেন।”[৮২]
আলাদাভাবে উল্লেখকৃত ইস্তিগফার তাওবার ন্যায়। বরং তা হুবহু তাওবাই; তবে এর সাথে সাথে আল্লাহ তাআলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করাকেও তা অন্তর্ভুক্ত করে। ক্ষমা প্রার্থনা হলো গুনাহকে মিটিয়ে দেওয়া, এর প্রভাব দূর করা এবং এর ক্ষতি থেকে বাঁচা। কিছু মানুষ যেমন ধারণা করে, বিষয়টি সেরকম নয় যে, তা হলো সতর বা পর্দা; অর্থাৎ গুনাহকে ঢেকে রাখা। কারণ আল্লাহ তাআলা তার গুনাহও ঢেকে রাখেন, যাকে তিনি ক্ষমা করেন আবার তার গুনাহও ঢেকে রাখেন, যাকে তিনি ক্ষমা করেন না। তবে হ্যাঁ ক্ষমার অংশ বা অপরিহার্য ব্যাপার হলো গুনাহকে পর্দায় রাখা বা ঢেকে রাখা। সুতরাং পর্দার বিষয়টি পরোক্ষভাবে সাব্যস্ত হয়।
তবে ইস্তিগফারের হাকীকত বা প্রকৃত মর্ম হলো: গুনাহের ক্ষতি থেকে সংরক্ষিত থাকা। এই শব্দমূল থেকেই اَلْمِغْفَرُ শব্দের উৎপত্তি; এর অর্থ হলো: যা মাথাকে আঘাত পাওয়া থেকে সংরক্ষিত রাখে, শিরস্ত্রাণ। আর ঢেকে রাখা বা পর্দার বিষয়টি অপরিহার্যভাবে এর সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু এটিই মূল না। আর এ কারণেই পাগড়িকে ‘মিগফার’ বলা হয় না, টুপিকেও না। মিগফার শব্দের মধ্যে সংরক্ষণ করার অর্থ থাকা জরুরি।
এই ইস্তিগফারই আযাবকে প্রতিহত করে, শাস্তি থেকে সংরক্ষিত রাখে; যেমন আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে তা লক্ষ করা যায়-
وَمَا كَانَ اللهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ “অথচ আল্লাহ কখনই তাদের ওপর আযাব নাযিল করবেন না, যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন। তা ছাড়া তারা যতক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে, আল্লাহ কখনো তাদের ওপর আযাব দেবেন না।”[৮৩]
কারণ আল্লাহ তাআলা ক্ষমা প্রার্থনাকারীকে শাস্তি দেন না, তাদেরকে শাস্তি থেকে নিরাপদ রাখেন।
আর যে ব্যক্তি অবিরাম গুনাহ করতে থাকে আবার আল্লাহর কাছে ক্ষমাও প্রার্থনা করে, তা হলে এটা তার কোনো ক্ষমা প্রার্থনাই নয়। আর এই কারণে সে আযাব ও শাস্তি থেকে সংরক্ষিতও থাকবে না।
ইস্তিগফার তাওবাকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর তাওবা ইস্তিগফারকে। সাধারণভাবে একটি অপরটির মধ্যে শামিল।
আর যখন ইস্তিগফার ও তাওবা একসাথে আসে, তখন ইস্তিগফার দ্বারা উদ্দেশ্য হয় : অতীতে যা অতিবাহিত হয়েছে, তার ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য প্রার্থনা করা; আর তাওবা দ্বারা উদ্দেশ্য হয় : গুনাহ থেকে ফেরা এবং ভবিষ্যতে মন্দ আমলের ক্ষতির আশঙ্কা থেকে মুক্তি পাওয়ার কামনা করা।
এখানে দুটি গুনাহ: একটি গুনাহ যা অতীতে হয়ে গেছে; এর থেকে ইস্তিগফারের অর্থ হবে: এর ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য প্রার্থনা করা; আরেকটি গুনাহ যা সামনে সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা আছে; এর থেকে তাওবা করার অর্থ হবে: তা না করার দৃঢ় সংকল্প করা। আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এই দুই প্রকারকেই শামিল করে— তাঁর দিকে ফেরা; যাতে তিনি অতীতে যা অতিবাহিত হয়েছে, তার ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন এবং যাতে তিনি ভবিষ্যতে নফসের ও মন্দ আমলের ক্ষতি থেকেও বাঁচিয়ে দেন।
গুনাহগার ব্যক্তির উদাহরণ হলো সেই পথিকের ন্যায়; যে একটি পথ ধরে হেঁটে চলেছে, যা তাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে, তার গন্তব্যে তাকে পৌঁছাবে না। এখন তার জন্য জরুরি হলো: সে তার যাত্রা থামিয়ে দিয়ে পেছন ফিরবে এবং এমন পথ অবলম্বন করবে, যা তাকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দেবে এবং সেখানে নিয়ে যাবে, যেখানে রয়েছে তার সফলতা।
এখানে দুটি বিষয় জরুরি: যে পথে সে চলছিল, তা থেকে পৃথক হওয়া এবং অন্য পথ ধরে গন্তব্যে ফেরা। সুতরাং তাওবা হলো এই ফিরে আসা আর ইস্তিগফার হলো (বাতিল থেকে) পৃথক হয়ে যাওয়া। যখন আলাদা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়, তখন প্রত্যেকটিই এই দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। এ কারণেই-আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন-আগে ইস্তিগফারের হুকুম দেওয়া হয়েছে, পরে তাওবার :
فَاسْتَغْفِرُوهُ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ
"কাজেই তোমরা তাঁর কাছে ক্ষমা চাও, অতঃপর তাঁর নিকটই তাওবা করো।" [৮৪]
কারণ বাতিল থেকে পৃথক হওয়ার পরেই তো সত্য পথে ফিরে আসা।
এমনিভাবে ইস্তিগফার হলো: ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য প্রার্থনা আর তাওবা হলো : উপকার ও কল্যাণ লাভের জন্য প্রার্থনা। সুতরাং মাগফিরাত মানে গুনাহের ক্ষতি থেকে যেন তাকে রক্ষা করা হয়। আর তাওবা মানে এই রক্ষার পর আল্লাহ যা পছন্দ করেন, তা যেন তার হাসিল হয়। আর পৃথক পৃথকভাবে উল্লেখ করা হলে প্রতিটিই একটি অপরটিকে শামিল করে। আল্লাহ তাআলাই অধিক জানেন।
টিকাঃ
[৭৯] সূরা নূহ, ৭১: ১০-১১।
[৮০] সূরা আনফাল, ৮: ৩৩।
[৮১] সূরা হুদ, ১১:৩।
[৮২] সূরা হূদ, ১১:৬১।
[৮৩] সূরা আনফাল, ৮: ৩৩।
[৮৪] সূরা হুদ, ১১:৬১।
📄 খাঁটি তাওবা বা আন্তরিক অনুশোচনা (اَلتَّوْبَةُ النَّصُوحُ)
উপরিউক্ত বিষয়টি সুস্পষ্ট হবে, যখন খাঁটি তাওবা ও এর প্রকৃত অবস্থা বর্ণনা করা হবে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللهِ تَوْبَةً نَصُوحًا عَلَى رَبُّكُمْ أَنْ يُكَفِّرَ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ
“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো-খাঁটি তাওবা। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দকর্মসমূহ দূর করে দেবেন এবং তোমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশে রয়েছে প্রবাহিত নদী।”[৮৫]
আল্লাহ তাআলা এখানে গুনাহ ও মন্দকর্মসমূহের ক্ষতি থেকে রক্ষা করাকে, বান্দা যা অপছন্দ করে সেগুলোকে দূর করে দেওয়াকে; এবং বান্দা যা পছন্দ করে, সেই জান্নাতে প্রবেশ করানোকে— খাঁটি তাওবা (اَلتَّوْبَةُ النَّصُوحُ) হাসিল হওয়ার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন।
النَّصُوْحُ শব্দটি فَعُوْلٌ-এর গঠন অনুযায়ী হয়েছে; যা نَصَحَ থেকে উৎসারিত। শব্দকে এই আকৃতিতে গঠন করার কারণ হলো: যাতে শব্দটি ব্যাপক ও পরিপূর্ণতার অর্থ দেয়। যেমন : اَلشَّكُورُ (পরম প্রতিদানদাতা), اَلصَّبُوْرُ (পরম ধৈর্যশীল)। (ن ص ح)- এই শব্দমূলের আসল অর্থ হলো : কোনোকিছু ভেজাল ও দোষত্রুটি মুক্ত হওয়া। نَصَحَ মানে খাঁটি হওয়া, নির্ভেজাল হওয়া। তাওবা, ইবাদাত ও পরামর্শের ক্ষেত্রে النُّصْحُ-এর অর্থ হলো : সব ধরনের ধোঁকাবাজি, ঘাটতি ও ফাসাদ থেকে মুক্ত হওয়া এবং সর্বোত্তম পন্থায় তা বাস্তবায়িত করা। اَلنُّصْحُ-এর বিপরীত হলো اَلْغِشُ ধোঁকা বা প্রতারণা।
এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে সালাফদের ভাষা ও শব্দের তারতম্য হয়েছে; কিন্তু সবার মূল কথা ছিল একই।
উমর ইবনুল খাত্তাব ও উবাই ইবনু কা'ব বলেছেন, 'التَّوْبَةُ النَّصُوْحُ বা খাঁটি তাওবা হলো: গুনাহ থেকে তাওবা করবে, অতঃপর আর সে দিকে ফিরে যাবে না; যেমন দুধ আর ওলানে ফিরে যায় না।'[৮৬]
হাসান বাসরী বলেছেন, 'তা হলো: যা হয়েছে বান্দা তার জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হবে এবং পুনরায় তাতে লিপ্ত না হবার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করবে।'[৮৭]
কালবি বলেছেন, 'জবানে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, অন্তরে অনুতপ্ত হবে এবং শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে তা থেকে বিরত থাকবে।'[৮৮]
আমি বলি, 'খাঁটি তাওবা তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে-
১. এটি সব রকমের গুনাহ ও পাপকে অন্তর্ভুক্ত করবে; কোনো একটিকেও বাদ দেবে না।
২. এতে সব ধরনের গুনাহ থেকে বিরত থাকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ও সত্যবাদিতা থাকবে; সামান্যতম দ্বিধা ও বিলম্ব করার বিষয়ও থাকবে না। বরং তাৎক্ষণিকভাবে নিজের সাধ্যমতো সেগুলো থেকে বিরত থাকবে।
৩. একনিষ্ঠতার মধ্যে কোনো রকম কমতি ও ঘাটতি থাকবে না। এগুলো থেকে বেঁচে থাকবে একমাত্র আল্লাহর ভয়ভীতির কারণে, তাঁর কাছে যে নিয়ামাত রয়েছে তার প্রতি আগ্রহী হয়ে এবং তাঁর কাছে যে শাস্তি রয়েছে তাঁর ভয়ে; সেই ব্যক্তির মতো নয় যে নিজের মান-সম্মান, পদ-পদবি, কর্তৃত্ব-ক্ষমতা, ধনসম্পদ ইত্যাদি রক্ষার্থে তাওবা করে; কিংবা মানুষের প্রশংসা কুড়াতে বা তাদের নিন্দা থেকে বাঁচতে বা যাতে মূর্খ কেউ তার ওপর কর্তৃত্ব না পায় সে জন্য বা নিজের দুনিয়াবি কোনো উদ্দেশ্য পূরণের জন্য বা অক্ষমতা ও অর্থশূন্যের ভয়ে বা এ জাতীয় বিভিন্ন কারণ সামনে রেখে তাওবা করে; যেসব কারণে তাওবার বিশুদ্ধতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি বিনষ্ট হয়।
সুতরাং ১ নং বিষয়টি যেসব গুনাহ থেকে তাওবা করবে, তার সাথে সম্পর্কিত; ৩ নং বিষয়টি কার জন্য তাওবা করবে, তার সাথে সম্পর্কিত। আর ২ নং বিষয়টি তাওবাকারীর নিজসত্তার সাথে সম্পর্কিত। আসলে খাঁটি তাওবা সত্যবাদিতা ও একনিষ্ঠতা, সমস্ত গুনাহ ও পাপকে শামিল করে। আর তাওবা যে ইস্তিগফারকে অন্তর্ভুক্ত করে এতে কোনো সন্দেহ নেই এবং এই তাওবা সমস্ত গুনাহ ও পাপকে মিটিয়ে দেয়। তাওবার সবচেয়ে পরিপূর্ণ রূপটিই হলো التَّوْبَةُ النَّصُوحُ আল্লাহ তাআলাই একমাত্র সাহায্যকারী এবং ভরসা কেবল তাঁরই ওপর। আল্লাহ তাআলার সাহায্য ব্যতীত কেউ কোনো নেককাজ করতে পারে না এবং কোনো গুনাহ থেকে বেঁচেও থাকতে পারে না।
টিকাঃ
[৮৫] সূরা তাহরীম, ৬৬: ৮।
[৮৬] সা'লাবি, আত-তাফসীর, ৯/৩৫০।
[৮৭] বাগাবি, আত-তাফসীর, ৮/১৬৯।
[৮৮] বাগাবি, আত-তাফসীর, ৮/১৬৯।
📄 سَيِّئَةٌ ও ذَنْبٌ -এর মাঝে পার্থক্য
আল্লাহ তাআলার পবিত্র কালামে এ দুটি শব্দ কোথাও একসাথে উল্লেখ করা হয়েছে আবার কোথাও পরস্পরকে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
একসাথে উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন: আল্লাহ তাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদের ব্যাপারে বলেছেন, তারা দুআ করে—
رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ “হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের সকল গুনাহ মাফ করে দাও এবং আমাদের সকল দোষত্রুটি দূর করে দাও, আর নেক লোকদের সাথে আমাদের মৃত্যু দিয়ো।” [৯০]
আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন: আল্লাহ তাআলার বাণী—
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَآمَنُوا بِمَا نُزَّلَ عَلَى مُحَمَّدٍ وَهُوَ الْحَقُّ مِنْ رَّبِّهِمْ كَفِّرَ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَأَصْلَحَ بَالَهُمْ "আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে মুহাম্মাদের প্রতি অবতীর্ণ সত্যে বিশ্বাস করে, আল্লাহ তাদের মন্দকর্মসমূহ মার্জনা করেন এবং তাদের অবস্থা ভালো করে দেন।” [৯১]
আর মাগফিরাতের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَلَهُمْ فِيهَا مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ وَمَغْفِرَةٌ مِّنْ رَّبِّهِمْ "সেখানে তাদের জন্য আছে রকমারি ফলমূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা।" [৯২]
এখানে চারটি বিষয় সামনে আসে, তা হলো: যুনূব (ذُنُوبُ), সায়্যিআত (سَيِّئَاتُ), মাগফিরাত (مَغْفِرَةٌ) ও তাকফীর (تَكْفِيْر)।
যুনূব (ذُنُوبُ) : এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: কবীরা গুনাহ।
সায়্যিআত (سَيِّئَاتُ) : এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সগীরা গুনাহ; যেগুলোর ক্ষেত্রে কাফফারা প্রয়োগ হয়। যেমন: ছোটো ছোটো ত্রুটি-বিচ্যুতি বা এ রকম অন্যান্য বিষয়াদি। এ কারণেই সায়্যিআতের বেলায় কাফফারা প্রযোজ্য হয়।
সায়্যিআত দ্বারা যে সগীরা গুনাহ উদ্দেশ্য এবং এতে যে কাফফারা প্রযোজ্য হয়, তার দলীল হলো আল্লাহ তাআলার এই বাণী-
إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبَابِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُم مُدْخَلًا كَرِيمًا
“যেগুলো সম্পর্কে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে তোমরা যদি তার বড়ো বড়ো গুনাহগুলো থেকে বেঁচে থাকো, তা হলে আমি তোমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা করে দেবো এবং সম্মানজনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করাবো।” [৯৩]
‘সহীহ মুসলিম’-এর বর্ণনায় এসেছে, আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলতেন,
الصَّلَوَاتُ الخَمْسُ وَالجُمُعَةُ إِلَى الجُمُعَةِ وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ مُكَفِّرَاتٌ مَّا بَيْنَهُنَّ إِذَا اجْتَنَبَ الْكَبَابِرَ
“পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমুআ থেকে আরেক জুমুআ এবং এক রমাদান থেকে আরেক রমাদান তার মধ্যবর্তী সময়ে সংঘটিত (ছোটো ছোটো) গুনাহগুলোকে মিটিয়ে দেবে, যদি কবীরা বা বড়ো বড়ো গুনাহগুলো পরিত্যাগ করে চলে।” [৯৪]
‘মাগফিরাত’ শব্দটি ‘তাকফীর’ শব্দটির চেয়ে বেশি পরিপূর্ণ। এই কারণে মাগফিরাতকে কবীরা গুনাহের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আর তাকফীরকে সগীরা গুনাহের সাথে। কারণ মাগফিরাত শব্দটি (বান্দাকে গুনাহের ভয়াবহতা থেকে) রক্ষা করা ও হেফাজত করার বিষয়টি শামিল করে। আর তাকফীর শব্দটি ছোটো ছোটো গুনাহকে ক্ষমা করা ও গোপন রাখার অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে। তবে পৃথক পৃথকভাবে উল্লেখ করলে একটি অপরটি মধ্যে দাখিল হয়ে যায়; যেমনটি আগে বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
كَفَرَ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ “আল্লাহ তাদের মন্দকর্মসমূহ মার্জনা করেন।”[৯৫]
আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে—ছোটোবড়ো সব গুনাহ, গুনাহকে মিটিয়ে দেওয়া, এর ক্ষতি থেকে বাঁচানো সবই এর মধ্যে শামিল রয়েছে। এমনিভাবে পৃথকভাবে উল্লেখিত তাকফীর সবচেয়ে খারাপ ও মন্দ আমলকেও অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
لِيُكَفِّرَ اللَّهُ عَنْهُمْ أَسْوَأَ الَّذِي عَمِلُوا "যাতে আল্লাহ তাদের সবচেয়ে মন্দকর্মসমূহ মার্জনা করেন।”[৯৬]
যখন এটা বোঝা গেল, তখন এই রহস্যও বোঝা সহজ হবে যে, আল্লাহ তাআলা বিপদাপদ, রোগব্যাধি, চিন্তা, পেরেশানি, দুঃখ-কষ্ট ইত্যাদির ক্ষেত্রে তাকফীর বা সগীরা গুনাহ মাফের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন; মাগফিরাত বা কবীরা গুনাহ মাফের নয়। যেমন, সহীহ হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ وَلَا وَصَبٍ وَلَا هَمْ وَلَا حُزْنٍ وَّلَا أَذًى وَلَا غَمْ حَتَّى الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا إِلَّا كَفَرَ اللَّهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ “মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে কষ্টক্লেশ, রোগব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানি আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে বিদ্ধ হয়, এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তার গুনাহসমূহ দূর করে দেন।”[৯৭]
কারণ বিপদ-মুসীবত গুনাহ মাফের ক্ষেত্রে এককভাবে যথেষ্ট নয়; আবার তাওবা ব্যতীত সমস্ত গুনাহ মাফও হয় না। সুতরাং গুনাহগারদের জন্য দুনিয়াতে তিনটি বড়ো বড়ো নদী রয়েছে, যার দ্বারা সে এখানে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অর্জন করে-যদি এর দ্বারাও পরিপূর্ণ পবিত্র না হতে পারে, তা হলে কিয়ামাতের দিন জাহান্নামের নদীতে নামিয়ে তা অর্জন করবে। দুনিয়ার বড়ো বড়ো তিনটি নদী হলো: ১. খাঁটি তাওবার নদী, ২. এমন নেক আমলের নদী; যা সমস্ত গুনাহকে বেষ্টন করে নেয় এবং ৩. গুনাহ-দূরকারী বড়ো বড়ো বিপদাপদের নদী। আল্লাহ তাআলা যখন কোনো বান্দার ব্যাপারে কল্যাণ ও মঙ্গলের ফায়সালা করেন, তখন তাকে এই তিন নদীর কোনো একটিতে প্রবেশ করান; ফলে সে কিয়ামাতের দিন পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠবে; চতুর্থ কোনো নদীর আর প্রয়োজন হবে না।
টিকাঃ
[৮৯] বাংলাতে দুটোর অর্থই গুনাহ বা পাপ। আসলে আরবি ভাষার ব্যাপকতা ও প্রাচুর্যতা অনেক থাকার কারণে এই দুটোর মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে।
[৯০] সূরা আ-ল ইমরান, ৩: ১৯৩।
[৯১] সূরা মুহাম্মাদ, ৪৭: ২।
[৯২] সূরা মুহাম্মাদ, ৪৭: ১৫।
[৯৩] সূরা নিসা, ৪:৩১।
[৯৪] মুসলিম, ২৩৩।
[৯৫] সূরা মুহাম্মাদ, ৪৭ : ২।
[৯৬] সূরা যুমার; ৩৯ : ৩৫।
[৯৭] বুখারি, ৫৬৪১; মুসলিম, ২৫৭৩।