📄 মানযিলসমূহের ক্রমবিন্যাস নির্ধারণে পূর্ববর্তীদের তরীকা
এই সমস্ত মাকামের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সূফিয়ায়ে কেরামের তরীকা বা পদ্ধতি সম্পর্কে সর্বোত্তম কথা হলো প্রতিটি মাকামের (ক্রমবিন্যাস উল্লেখ না করে সেগুলোর) ব্যাপারে আলাদা আলাদা আলোচনা করা; তার প্রকৃত অবস্থা ও দাবি, তা অর্জনে প্রতিবন্ধকতা কী, কোন বস্তু পথিককে সেই মাকাম থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, এর সাধারণ ও বিশেষ অবস্থা কী ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা। চিন্তাভাবনা করলে দেখা যায়, সূফিয়ায়ে কেরামের মধ্যে যারা ইমাম ছিলেন, তাদের কথা এই পদ্ধতি অনুসারেই ছিল। যেমন : সাহল ইবনু আবদিল্লাহ তুসতারি, আবূ তালিব মাক্কি, জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদ বাগদাদি, আবূ উসমান নিশাপুরি, ইয়াহইয়া ইবনু মুআয রাযি প্রমূখ।
এবং যারা তাদের চেয়ে উঁচু স্তরের ছিলেন; যেমন, আবূ সুলাইমান দারানি, আওন ইবনু আবদিল্লাহ (যাকে 'হাকীমুল উম্মাহ' বলা হতো) এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ; তারা সবাই ক্রমবিন্যাস করা ছাড়াই অন্তরের আমল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং মাকামসমূহকে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যায় সীমাবদ্ধ না করে মাকাম ও হাল সম্পর্কে বিস্তৃত, সারগর্ভ ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কারণ তারা ছিলেন এর চেয়েও অধিক সম্মানিত, তাদের সংকল্প ছিল অনেক উঁচু ও উন্নত। তারা পিপাসার্ত ছিলেন হিকমত ও মা'রিফাতের জন্য, অন্তর ও নফসের পবিত্রতা অর্জন করার জন্য এবং নিজেদের মুআমালা-লেনদেন সঠিক করার জন্য। আর এ কারণেই তাদের কথা ছিল কম আর তাতে বারাকাহ ছিল বেশি। অপরদিকে, পরবর্তীদের কথা বেশি, কিন্তু বারাকাহ কম।
📄 মানযিলসমূহের ক্রমবিন্যাসে লেখকের তরীকা
আমাদের জন্য সর্বোত্তম হলো আমরা কুরআন-সুন্নাহয় বর্ণিত ইবাদাত ও দাসত্বের মানযিলগুলো উল্লেখ করব এবং এর সীমা ও স্তরের পরিচয় তুলে ধরব। কারণ সেগুলো সম্পর্কে জানা আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের ওপর যা কিছু নাযিল করেছেন, তার সীমারেখা সম্পর্কে জানাকে পূর্ণতা দান করে। আর যারা তা জানে না, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে মূর্খতা ও নিফাকের দোষে দোষী করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
الْأَعْرَابُ أَشَدُّ كُفْرًا وَنِفَاقًا وَأَجْدَرُ أَلَّا يَعْلَمُوا حُدُودَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى رَسُوْلِهِ
“বেদুইন আরবরা কুফরি ও মুনাফিকিতে অত্যন্ত কঠোর এবং আল্লাহ তাঁর রাসূলের প্রতি যা কিছু নাযিল করেছেন, তার সীমারেখা সম্পর্কে তাদের অজ্ঞ থাকার আশঙ্কাই বেশি।” [৪২]
সুতরাং প্রত্যেকের জন্য আবশ্যক হলো ইসলামের নির্ধারিত সীমারেখা সম্পর্কে গভীরভাবে জানা এবং খুব যত্নসহকারে তা পালন করা। তা হলে বান্দা এর মাধ্যমে তার ঈমানকে পরিপূর্ণ করে নেবে এবং সে إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ -এর গুণে গুণান্বিত বলে সাব্যস্ত হবে।
আমরা মানযিলসমূহের একটি ক্রমবিন্যাস উল্লেখ করব, তবে তা অপরিহার্য কোনো বিষয় নয়; বরং উত্তমতার ভিত্তিতে এবং বাহ্যিক অবস্থা অনুসারে তা উপস্থাপন করব। যাতে বিষয়টি উপলব্ধি করতে সুবিধা হয়, ভালোভাবে জানা যায় এবং সহজেই তা আয়ত্ত করা যায়।
টিকাঃ
[৪২] সূরা তাওবা, ৯: ৯৭।