📘 মাদারিজুস সালিকীন > 📄 ভিন্ন আরেকটি প্রকারভেদ

📄 ভিন্ন আরেকটি প্রকারভেদ


সূফিয়ায়ে কেরাম আল্লাহ-অভিমুখিদেরকে যে তিনটি প্রকারে বিভক্ত করেছেন: ১. সাধারণ, ২. বিশেষ এবং ৩. অতি বিশেষ-তা সৃষ্টি হয়েছে কেবল ফানা বা বিলীন হওয়াকে এই পথের শেষ ও চূড়ান্ত সাব্যস্ত করার কারণে। এবং যে-ইলমের প্রতি তারা বিশেষ আগ্রহী, তার কারণেও এই প্রকারভেদগুলোর সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে এবং ফানা বা বিলীন হওয়ার প্রকারভেদ; এর প্রশংসনীয়-নিন্দনীয়, উপকারী-অপকারী সব দিক নিয়েই আলোচনা করব, ইন শা আল্লাহ। কারণ তাদের ইশারা-ইঙ্গিত একে কেন্দ্র করেই আবর্তিত এবং এর ওপরেই তাদের সবকিছুর ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত।
মানযিলসমূহের ক্রমবিন্যাস যারা করেছে, তাদের ক্রমবিন্যাস সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। কারণ কোনো বান্দা যখন ইসলামকে নিজের জন্য আবশ্যক করে নেয় এবং ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করে, তখন এর প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সব ধরনের দায়-দায়িত্ব, অবস্থা ও বিধানাবলিকে সে নিজের জন্য আবশ্যক করে নেয়। (তার জন্য মানযিলসমূহের ক্রমবিন্যাসের কোনো প্রয়োজন পড়ে না।) তার জন্য ইসলামের আমলসমূহের মধ্যে প্রতিটি আমলে, ওয়াজিবসমূহের মধ্যে প্রতিটি ওয়াজিব আমলে অনেকগুলো মাকাম ও হাল বা বিশেষ অবস্থা রয়েছে। যেগুলো ছাড়া সে সেই আমল ও ওয়াজিব আদায় করতে পারবে না। আর যখনই একটি ওয়াজিব আমল পরিপূর্ণরূপে আদায় করবে, তখনই এর পরবর্তী আরেকটি আমল তার জিম্মায় চলে আসবে। এভাবে যখনই সে একটি মানযিল অতিক্রম করবে, তখনই তার সামনে আরেকটি মানযিল এসে হাজির হবে। কখনো পথের শুরুতেই তার সামনে সর্বোচ্চ মাকাম ও হাল চলে আসে; যার ফলে তার জন্য মহাব্বত, সন্তুষ্টি, ঘনিষ্ঠতা, নিশ্চিন্ততার দরজা খুলে যায়; যা কারও কারও ক্ষেত্রে পথের শেষেও অর্জিত হয় না। এই ব্যক্তির জন্য তার পথচলার শেষ পর্যায়ে কিছু বিষয়ের প্রয়োজন হয়—যেমন, বিচক্ষণতা, তাওবা, মুহাসাবা বা নিজের অবস্থার গভীর পর্যবেক্ষণ—যা সূচনাকারী ব্যক্তির প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তীব্র। সুতরাং বোঝা গেল, পথচলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ও আবশ্যকীয় কোনো ক্রমবিন্যাস নেই।

📘 মাদারিজুস সালিকীন > 📄 মানযিলসমূহের ক্রমবিন্যাস নির্ধারণে পূর্ববর্তীদের তরীকা

📄 মানযিলসমূহের ক্রমবিন্যাস নির্ধারণে পূর্ববর্তীদের তরীকা


এই সমস্ত মাকামের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সূফিয়ায়ে কেরামের তরীকা বা পদ্ধতি সম্পর্কে সর্বোত্তম কথা হলো প্রতিটি মাকামের (ক্রমবিন্যাস উল্লেখ না করে সেগুলোর) ব্যাপারে আলাদা আলাদা আলোচনা করা; তার প্রকৃত অবস্থা ও দাবি, তা অর্জনে প্রতিবন্ধকতা কী, কোন বস্তু পথিককে সেই মাকাম থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, এর সাধারণ ও বিশেষ অবস্থা কী ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা। চিন্তাভাবনা করলে দেখা যায়, সূফিয়ায়ে কেরামের মধ্যে যারা ইমাম ছিলেন, তাদের কথা এই পদ্ধতি অনুসারেই ছিল। যেমন : সাহল ইবনু আবদিল্লাহ তুসতারি, আবূ তালিব মাক্কি, জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদ বাগদাদি, আবূ উসমান নিশাপুরি, ইয়াহইয়া ইবনু মুআয রাযি প্রমূখ।
এবং যারা তাদের চেয়ে উঁচু স্তরের ছিলেন; যেমন, আবূ সুলাইমান দারানি, আওন ইবনু আবদিল্লাহ (যাকে 'হাকীমুল উম্মাহ' বলা হতো) এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ; তারা সবাই ক্রমবিন্যাস করা ছাড়াই অন্তরের আমল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং মাকামসমূহকে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যায় সীমাবদ্ধ না করে মাকাম ও হাল সম্পর্কে বিস্তৃত, সারগর্ভ ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কারণ তারা ছিলেন এর চেয়েও অধিক সম্মানিত, তাদের সংকল্প ছিল অনেক উঁচু ও উন্নত। তারা পিপাসার্ত ছিলেন হিকমত ও মা'রিফাতের জন্য, অন্তর ও নফসের পবিত্রতা অর্জন করার জন্য এবং নিজেদের মুআমালা-লেনদেন সঠিক করার জন্য। আর এ কারণেই তাদের কথা ছিল কম আর তাতে বারাকাহ ছিল বেশি। অপরদিকে, পরবর্তীদের কথা বেশি, কিন্তু বারাকাহ কম।

📘 মাদারিজুস সালিকীন > 📄 মানযিলসমূহের ক্রমবিন্যাসে লেখকের তরীকা

📄 মানযিলসমূহের ক্রমবিন্যাসে লেখকের তরীকা


আমাদের জন্য সর্বোত্তম হলো আমরা কুরআন-সুন্নাহয় বর্ণিত ইবাদাত ও দাসত্বের মানযিলগুলো উল্লেখ করব এবং এর সীমা ও স্তরের পরিচয় তুলে ধরব। কারণ সেগুলো সম্পর্কে জানা আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের ওপর যা কিছু নাযিল করেছেন, তার সীমারেখা সম্পর্কে জানাকে পূর্ণতা দান করে। আর যারা তা জানে না, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে মূর্খতা ও নিফাকের দোষে দোষী করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
الْأَعْرَابُ أَشَدُّ كُفْرًا وَنِفَاقًا وَأَجْدَرُ أَلَّا يَعْلَمُوا حُدُودَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى رَسُوْلِهِ
“বেদুইন আরবরা কুফরি ও মুনাফিকিতে অত্যন্ত কঠোর এবং আল্লাহ তাঁর রাসূলের প্রতি যা কিছু নাযিল করেছেন, তার সীমারেখা সম্পর্কে তাদের অজ্ঞ থাকার আশঙ্কাই বেশি।” [৪২]
সুতরাং প্রত্যেকের জন্য আবশ্যক হলো ইসলামের নির্ধারিত সীমারেখা সম্পর্কে গভীরভাবে জানা এবং খুব যত্নসহকারে তা পালন করা। তা হলে বান্দা এর মাধ্যমে তার ঈমানকে পরিপূর্ণ করে নেবে এবং সে إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ -এর গুণে গুণান্বিত বলে সাব্যস্ত হবে।
আমরা মানযিলসমূহের একটি ক্রমবিন্যাস উল্লেখ করব, তবে তা অপরিহার্য কোনো বিষয় নয়; বরং উত্তমতার ভিত্তিতে এবং বাহ্যিক অবস্থা অনুসারে তা উপস্থাপন করব। যাতে বিষয়টি উপলব্ধি করতে সুবিধা হয়, ভালোভাবে জানা যায় এবং সহজেই তা আয়ত্ত করা যায়।

টিকাঃ
[৪২] সূরা তাওবা, ৯: ৯৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00