📄 اِهْدِنَا -এর মধ্যে হেদায়াতের বিভিন্ন স্তর
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ “আমরা কেবল তোমারই দাসত্ব করি, আর তোমার কাছেই সাহায্য চাই”-এর হাকীকত বা প্রকৃত মর্ম হলো: বান্দা (কেবল তোমারই) বলার দ্বারা সেই সত্তা (আল্লাহ)র সাক্ষ্য দিচ্ছে, যিনি পরিপূর্ণভাবে সমস্ত ভালো গুণাবলির অধিকারী এবং সমস্ত উত্তম নাম সেই সত্তার জন্যই।
অতঃপর দ্বারা এই সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য, ইচ্ছাকৃত, কওলি- আমলি, বর্তমান-ভবিষ্যৎ-সব ধরনের ইবাদাতের একমাত্র হকদার আল্লাহ তাআলাই।
অতঃপর وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ "আমরা কেবল তোমার কাছেই সাহায্য চাই"-এর দ্বারা এই সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, সব রকমের সাহায্য প্রার্থনা, তাওয়াক্কুল, নিজেকে অর্পণ করা একমাত্র আল্লাহ তাআলারই সমীপে। এর দ্বারা বান্দা রুবুবিয়্যাতকে কেবল আল্লাহ তাআলার জন্যই সাব্যস্ত করে।
আর إِيَّاكَ نَعْبُدُ "আমরা কেবল তোমারই দাসত্ব করি"-এর দ্বারা বান্দা আল্লাহ তাআলার জন্য তাঁর ইলাহিয়্যাত বা ইবাদাতের ক্ষেত্রে এককত্বের সাক্ষ্য প্রদান করে।
অতঃপর বান্দা اِهْدِنَا “আমাদের সরল পথ দেখাও”-এর দ্বারা হিদায়াতের ১০টি স্তরের সাক্ষ্য দেয়; যা তার মাঝে একত্রিত হলে তার জন্য হিদায়াত লাভ হবে-
প্রথম স্তর: ইলম ও বায়ানের হিদায়াত; যা তাকে সত্য সম্পর্কে জ্ঞানী ও সত্য উপলব্ধিকারী বানিয়ে দেবে।
দ্বিতীয় স্তর: আল্লাহ তাআলা তাকে এর ওপর সক্ষমতা দান করবেন; অন্যথায় সে নিজে নিজে হক পথে চলতে অক্ষম।
তৃতীয় স্তর: বান্দাকে হিদায়াতের ইচ্ছুক বানাবে।
চতুর্থ স্তর: বান্দাকে হিদায়াত পালনকারী বানাবে।
পঞ্চম স্তর: তাকে হিদায়াতের ওপর অটল রাখবে এবং ইস্তিকামাত দান করবে।
ষষ্ঠ স্তর: বান্দার নিকট থেকে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও বিপরীতমুখী বিষয় দূর করে দেবে।
সপ্তম স্তর : পথ সম্পর্কে সঠিক দিকনির্দেশনা দান করবে; যা একটি বিশেষ হিদায়াত। যা প্রথম প্রকার হিদায়াতের চেয়ে বিশেষায়িত। কেননা প্রথম প্রকার হিদায়াত তো ছিল সংক্ষিপ্তভাবে পথ দেখিয়ে দেওয়া, আর এই প্রকার হিদায়াত হলো এর পথ ও পথের বিভিন্ন মানযিল সম্পর্কে বিস্তারিত হিদায়াত।
অষ্টম স্তর: পথচলার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য দেখিয়ে দেওয়া এবং এর ওপর বারবার সতর্ক করা; ফলে সে তার চলার পথে এ বিষয়ে অবগত হয় এবং সে দিকে মনোযোগী হয়।
নবম স্তর : এই হিদায়াতের প্রয়োজনীয়তা যে অন্য সমস্ত প্রয়োজন থেকে বেশি, তা দেখিয়ে দেওয়া।
দশম স্তর : তাকে সিরাতে মুস্তাকীম থেকে বিচ্যুত ও বিচ্ছিন্ন পথ দুটি দেখিয়ে দেওয়া। আর সেই দুটি পথের একটি হলো গজবপ্রাপ্তদের পথ; যারা স্বেচ্ছায় ও একগুঁয়েমি করে জানার পরেও হকের অনুসরণ করা থেকে বিরত থেকেছে। আর একটি হলো গোমরাহ ও পথভ্রষ্টদের পথ; যারা সত্য পথ না জানা ও না চেনার কারণে তা অনুসরণ করা থেকে বিরত ছিল। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাকে সীরাতে মুস্তাকীমের পথ দেখিয়ে দেবেন, যে পথের ওপর ছিলেন সমস্ত নবি-রাসূল এবং তাঁদের অনুসারী সিদ্দীকগণ, শহীদগণ এবং নেককারগণ।