📄 লেখকের কথা
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
প্রশংসা সবই আল্লাহর, যিনি মহাবিশ্বের অধিপতি। সুন্দর পরিণতি তাদের জন্য অপেক্ষমাণ, যারা আল্লাহর নাফরমানি থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখে। শাস্তিলাভের উপযুক্ত তারাই, যারা জুলুমের পথে চলে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি—আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তিনি মহাবিশ্বের অধিপতি, তিনি সমস্ত রাসূলের ইলাহ্, আসমান-জমিনের পরিচালক। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি— মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাঁকে পাঠানো হয়েছে সুস্পষ্ট কিতাব দিয়ে, যা পার্থক্যরেখা টেনে দেয়—হিদায়াত ও ভ্রষ্টতার মাঝে, সঠিক পথ ও ভুল পথের মাঝে এবং নিশ্চিত জ্ঞান ও সংশয়ের মাঝে।
আল্লাহ তাআলা কুরআন নাযিল করেছেন এ উদ্দেশ্য নিয়ে—আমরা যেন চিন্তাশীল মন নিয়ে তা পাঠ করি, সেখান থেকে অন্তর্দৃষ্টি লাভের চেষ্টা করি, তা থেকে উপদেশ নিয়ে ধন্য হই, এর সর্বোত্তম অর্থকে গ্রহণ করি, এর সংবাদগুলোকে সত্য বলে মেনে নিই, এর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করি, এর বৃক্ষ থেকে উপকারী-জ্ঞান-সদৃশ ফল আহরণ করি—যা মানুষকে আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্যে পৌঁছে দেবে—আর এর বাগান ও পুষ্পরাজি থেকে প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা-সদৃশ সুবাসিত উদ্ভিদ সংগ্রহ করি।
কুরআন আল্লাহর কিতাব, যা আল্লাহকে-চিনতে-ইচ্ছুক ব্যক্তিকে পথ দেখায়; এ হলো তাঁর দেখানো পথ, যা পথিককে তাঁর কাছে নিয়ে যায়; তাঁর স্পষ্ট আলো, যা অন্ধকার দূর করে দেয়; তাঁর দেওয়া রহমত, যাতে রয়েছে সৃষ্টিজগতের সবার কল্যাণ; তাঁর ও তাঁর বান্দার মধ্যে সংযোগকারী মাধ্যম, যখন অন্যসব মাধ্যম ছিন্ন হয়ে যায়, (তখন কেবল এ মাধ্যমটিই টিকে থাকে); আর (এই কুরআন হলো) তাঁর কাছে পৌঁছার বিশাল প্রবেশদ্বার, সব দরজা বন্ধ হলেও এ দরজা কখনো বন্ধ হবে না।
কুরআনই হলো সেই সরল পথ, যে পথে চললে মানুষের চিন্তাধারা কখনো বিকৃত হয় না; সেই প্রজ্ঞাময় উপদেশ, যা থাকলে মন কখনো বাঁকাপথে যায় না; মহান আপ্যায়ন, যার ব্যাপারে বিদ্বানরা কখনো তৃপ্ত হয় না; যার বিস্ময় শেষ হবার নয়; যার ছায়া কখনো সরে যাবে না; যার নিদর্শন অফুরন্ত; যার উত্থাপিত প্রমাণগুলোর মধ্যে কোনো বিরোধ নেই; এ কিতাব নিয়ে যত চিন্তাভাবনা করা হয়, হিদায়াত ও অন্তর্দৃষ্টি ততই বৃদ্ধি পায়; আর যখনই এর সরোবর উন্মুক্ত করা হয়, তখনই সেখান থেকে প্রবলবেগে প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার ফোয়ারা ছুটতে থাকে।
কুরআন হলো চোখের অন্ধত্ব-দূরকারী আলো, অন্তরকে ব্যাধিমুক্ত রাখার ওষুধ, অন্তরের সঞ্জীবনীশক্তি, মনের প্রফুল্লতা, অন্তরের বাগিচা, আত্মাকে আনন্দময় জগতে প্রেরণের চালিকাশক্তি, আর সকাল-সন্ধ্যায় এ কথার ঘোষক-“হে সফলতা-সন্ধানীরা! সফলতার দিকে আসো!” সীরাতে মুসতাকীমের মাথায় দাঁড়িয়ে ঈমানের ঘোষক এভাবে ডাকছে-
يَا قَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللهِ وَآمِنُوا بِهِ يَغْفِرْ لَكُمْ مِّنْ ذُنُوْبِكُمْ وَيُجِرْكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ
“আমাদের স্বজাতির লোকজন, তোমরা আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁর ওপর ঈমান আনো, তা হলে তিনি তোমাদের গুনাহগুলো মাফ করে দেবেন আর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে তোমাদের মুক্তি দেবেন।”[৪]
সুবহানাল্লাহ! যারা ওহীর মূলপাঠ এড়িয়ে চলে, যারা এ কুরআনের বিশাল জ্ঞানভান্ডার থেকে জ্ঞান সংগ্রহ করে না-তারা যে কী বিশাল জিনিস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে!! অন্তরের জীবনীশক্তি, চোখের উজ্জ্বল জ্যোতি আরও কত কিছু যে তাদের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে!!
যে তার রবের কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ থেকে দূরে থাকে, সে কি মনে করে—মানুষের বুদ্ধিপ্রসূত মতামতের দোহাই দিয়ে তার রব থেকে রেহাই পেয়ে যাবে? অথবা প্রচুর জ্ঞান-গবেষণা, যুক্তিতর্ক, বুদ্ধিবৃত্তিক উদাহরণ ও রকমারি প্রশ্ন-উত্থাপন কিংবা ইশারা-ইঙ্গিত, লাগামহীন আলোচনা, নানারকম কাল্পনিক চিত্র উপস্থাপন—এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর শক্ত পাকড়াও থেকে বাঁচতে পারবে?
আল্লাহর কসম! এ এক বিরাট ভুল ধারণা! যে এমনটা ধারণা করেছে, তার ধারণা জঘন্য মিথ্যা! তার মন তাকে অসম্ভব জিনিসের প্রবোধ দিয়েছে। বাস্তবতা হলো—নাজাত কেবল সেই ব্যক্তির জন্যই নির্ধারিত, যে আল্লাহর দেখানো পথকে অন্য সবার মতের ওপর প্রাধান্য দেয়, তাকওয়ার রসদ সংগ্রহ করে, দলীলের অনুসরণ করে, সরল পথে চলে, আর ওহিকে এমন মজবুত রশি দিয়ে আঁকড়ে ধরে, যা কখনো ছিঁড়বার নয়। আল্লাহ সব শোনেন, সব জানেন।
মূলকথায় আসি। মানুষের পূর্ণতা মাপা হয় উপকারী জ্ঞান ও ভালো কাজ—এ দুয়ের ভিত্তিতে; আর জিনিস দুটি হলো যথাক্রমে ‘হিদায়াত’ ও ‘দ্বীনে হক’। অন্যদের ভেতর পূর্ণতা আনতে হলেও, আনতে হবে এ দুটি জিনিসের মাধ্যমেই, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَالْعَصْرِ إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ “শপথ মহাকালের! সব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; ব্যতিক্রম কেবল তারা—যারা ঈমান আনে, ভালো ভালো কাজ করে, একে অপরকে সত্যের উপদেশ দেয়, আর দেয় ধৈর্যধারণের পরামর্শ।”[৫]
আল্লাহ তাআলা শপথ করে বলেছেন—প্রত্যেকেই ক্ষতিগ্রস্ত, ব্যতিক্রম কেবল সে, যে তার জ্ঞানের শক্তিকে ঈমান দিয়ে পূর্ণ করে, কর্মের শক্তিকে পূর্ণ করে ভালো কাজের দ্বারা, আর অন্যকে পূর্ণতা দেয় সত্য-অনুসরণ ও ধৈর্যধারণ—এ দুয়ের উপদেশ দেওয়ার মাধ্যমে। (এখানে) সত্য দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঈমান ও আমল: আর এ দুটি বিষয় পূর্ণতা পায় না, যতক্ষণ-না এ দুটি বিষয়ে ধৈর্য ধরা হয় এবং পরস্পরকে এ দুটি বিষয়ে উপদেশ দেওয়া হয়। মানুষের দায়িত্ব হলো তার জীবনের সময়গুলো—বরং প্রতিটি শ্বাসপ্রশ্বাস—এমন কাজে খরচ করা, যার মাধ্যমে সে তার সর্বোচ্চ লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে এবং যার দ্বারা সুস্পষ্ট ক্ষতি থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারবে। আর তা কেবল তখনই সম্ভব, যখন সে কুরআনের দিকে এগিয়ে আসবে, তা ভালোভাবে উপলব্ধি করার চেষ্টা চালাবে, তা নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করবে, এর বিপুল সম্পদ লাভ ও এর গুপ্তধন উত্তোলনের উদ্যোগ নেবে, এর পেছনে সবসময় লেগে থাকবে এবং এর জন্য কষ্ট সহ্য করবে। কারণ, দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতে কুরআনই হলো বান্দার কল্যাণের জিম্মাদার, এটিই তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করবে, এটিই হাকীকত, এটিই তরীকত, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও মহিমা-প্রকাশের সঠিক মাধ্যম এটিই। এ সবকিছুই নিতে হবে কেবল কুরআন থেকে, আর ফল লাভের আশা করা যায় শুধু এরই বৃক্ষ থেকে।
আল্লাহর মদদে আমরা এ বিষয়ে (পাঠকদের) দৃষ্টি আকর্ষণ করতে যাচ্ছি। আর তা করা হবে কুরআনের মূল-সূরা ফাতিহা সম্পর্কে কিছু কথা বলার মাধ্যমে। (মানবজীবনের) লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, আল্লাহর-পথের-পথিকদের বিভিন্ন মানযিল, আল্লাহর মা'রিফাত-লাভকারীদের অবস্থান, সেসবের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য ও উপকরণের মধ্যকার পার্থক্য, আল্লাহর দান ও নিজের উপার্জন-এসব ব্যাপারে এ সূরা যা ধারণ করেছে এবং তাতে যা বলা হয়েছে, তার ওপর আলোকপাত করা হবে। আর স্পষ্টভাবে দেখানো হবে, (এসব বিষয়ে) সূরা ফাতিহার যে অবস্থান, অন্য কোনো সূরাই সেই অবস্থানে নেই; এ কারণে আল্লাহ তাআলা তাওরাত ও ইনজীলে—এমনকি কুরআনেও—এর অনুরূপ কোনো সূরা নাযিল করেননি।
আল্লাহ তাআলাই সাহায্য-লাভের উৎস, ভরসা করতে হবে কেবল তাঁরই ওপর, মহামহিম আল্লাহ ছাড়া না আছে কারও কোনো শক্তি, আর না আছে কোনো সামর্থ্য।
টিকাঃ
[৪] সূরা আহকাফ, ৪৬: ৩১।
[৫] সূরা আসর, ১০৩: ১-৩।
📄 উপসংহার
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
“তারা যা বর্ণনা করে থাকে, তা থেকে আপনার রব পবিত্র, তিনি সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। নবি-রাসূলগণের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহর জন্য।”[৮৬০]
এই আয়াতের মাধ্যমেই আমরা আমাদের বইয়ের সমাপ্তি টানছি। আল্লাহ তাআলা যেরকম প্রশংসা ও স্তুতি লাভের যোগ্য এবং তিনি নিজেই যেমন নিজের প্রশংসা করেছেন, আমরা তাঁর জন্য সেরকম প্রশংসাই করছি।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রব্বুল আলামীনের জন্য, উত্তম ও বরকতময় প্রশংসা; যেমন তিনি পছন্দ করেন এবং যে প্রশংসায় তিনি সন্তুষ্ট। তাঁর মহত্ত্ব ও বড়োত্বের উপযোগী প্রশংসা; আর এটিই যথেষ্ট কিংবা শেষ নয়। হে আমাদের রব, আমরা এর থেকে অমুখাপেক্ষীও নই।
আমরা আল্লাহর নিকট তাঁর দেওয়া নিয়ামাতের শোকরিয়া আদায় করার সামর্থ্য কামনা করছি, তাঁর হকসমূহ পালন করার তাওফীক চাচ্ছি, তিনি যেন আমাদেরকে সুন্দরভাবে তাঁর ইবাদাত, যিক্ ও শোকর আদায় করতে সাহায্য করেন সেই প্রার্থনা করছি, আরও প্রার্থনা করছি তিনি যেন এই রচনার কাজসহ আমাদের সমস্ত কাজকর্মকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই বানিয়ে দেন এবং সেগুলোকে তাঁর বান্দাদের জন্য নসীহত হিসেবে কবুল করেন।
প্রিয় পাঠক, এই বইয়ের উপকারিতাগুলো আপনার জন্য আর এর যাবতীয় ত্রুটি-বিচ্যুতির ভার লেখকের ওপর। এর সুমিষ্ট ফলগুলো আপনার জন্য আর এর পরিণামফল লেখকের দায়িত্বে। সুতরাং আপনি এখানে যা কিছু সঠিক ও হক হিসেবে পাবেন, তা গ্রহণ করুন। এর কথকের দিকে ভ্রুক্ষেপ করবেন না; বরং যা বলা হয়েছে তার প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখুন, কে বলেছে তার প্রতি নয়। আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তিকে মন্দ বলেছেন, যে শত্রু বলেছে বলে হককে প্রত্যাখ্যান করে, আর পছন্দের কেউ বলেছে বলে তা গ্রহণ করে। কোনো একজন সাহাবি বলেছেন, 'সত্য যে-ই বলুক, তা গ্রহণ কোরো; যদিও সে তোমার শত্রু হয়। আর বাতিলকে প্রত্যাখ্যান কোরো; যদিও এর কথক হয় তোমার বন্ধু।[৮৬১] আর আপনি এই বইয়ে যা কিছু ভুলত্রুটি পাবেন, জেনে রাখবেন— বইটিকে ত্রুটিমুক্ত করতে ও বিশুদ্ধ রাখতে লেখকের চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। আসলে মানুষ দোষত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়, পরিপূর্ণতার মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। যেমন কবি বলেন:
وَالنَّقْصُ فِي أَصْلِ الطَّبِيعَةِ كَامِنٌ ... فَبَنُو الطَّبِيعَةِ نَقْصُهُمْ لَا يُجْحَدُ দুর্বলতা ও অসম্পূর্ণতা প্রোথিত আছে মানুষের স্বভাবের মূলেই, স্বভাবের সন্তানদের ঘাটতি তাই অস্বীকার করা যায় না কিছুতেই।
আর কীভাবেই-বা সেই ব্যক্তি নিজেকে ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে মুক্ত ঘোষণা করবে, যাকে সৃষ্টিই করা হয়েছে অজ্ঞ ও অত্যাচারী করে? তবে যার ভুলত্রুটিগুলো তার শুদ্ধ ও সঠিক বিষয়গুলোর তুলনায় কম, তার বিষয়টি বিবেচনা করা যায়।
এই বিষয়ে এবং অন্যান্য বিষয়ে যারা কথা বলে, তাদের জন্য জরুরি হলো: তাদের কথার মূল ভিত্তি হবে হক ও সত্য বিষয় এবং তাদের উদ্দেশ্য থাকবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর কিতাবের প্রতি, তাঁর রাসূলের প্রতি এবং তাদের মুসলিম ভাই-বোনদের প্রতি নাসীহা বা কল্যাণকামিতা। আর যদি তারা সত্যকে প্রবৃত্তি ও খাহেশাতের অনুসারী বানায়, তা হলে মানুষের অন্তর, আমল, অবস্থা ও চলার পথ নষ্ট হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَلَوِ اتَّبَعَ الْحَقُّ أَهْوَاءَهُمْ لَفَسَدَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ وَمَنْ فِيْهِنَّ
"আর সত্য যদি তাদের খেয়াল-খুশির অনুগত হতো, তা হলে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এর মধ্যে যারা রয়েছে সবাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ত।"[৮৬২]
নবি বলেছেন, لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يَكُوْنَ هَوَاهُ تَبَعًا لِمَا جِئْتُ بِهِ "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ-না তার প্রবৃত্তি ও খাহেশাত আমি যা কিছু নিয়ে এসেছি তার অনুগত হয়।”[৮৬৩]
ইলম ও আল্ল বা ন্যায়পরায়ণতা হলো সমস্ত কল্যাণের মূল। আর জুলুম ও জাহল বা মূর্খতা হলো সমস্ত অকল্যাণের মূল। আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন দিয়ে প্রেরণ করেছেন, তাঁকে সবার মাঝে ন্যায়সঙ্গত ফায়সালা করার হুকুম দিয়েছেন এবং কারও খেয়াল-খুশির অনুসরণ না করার আদেশ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, فَلِذلِكَ فَادْعُ وَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَقُلْ آمَنْتُ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنْ كِتَابٍ وَأُمِرْتُ لِأَعْدِلَ بَيْنَكُمُ اللهُ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ لَا حُجَّةً بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ اللَّهُ يَجْمَعُ بَيْنَنَا وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ ) “সুতরাং আপনি সে বিষয়ের দিকেই আহ্বান করুন এবং আপনাকে যেরূপ আদেশ করা হয়েছে তার ওপর অবিচল থাকুন আর তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না। আপনি বলুন, 'আমি ঈমান এনেছি (প্রত্যেক) সেই কিতাবের প্রতি, যা আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন এবং আমাকে আদেশ করা হয়েছে তোমাদের মাঝে ন্যায় বিচার করতে। আল্লাহ আমাদেরও রব এবং তোমাদেরও রব। আমাদের জন্য আমাদের কর্ম এবং তোমাদের জন্য তোমাদের কর্ম। আমাদের মাঝে ও তোমাদের মাঝে কোনো বিবাদ-বিসংবাদ নেই। আল্লাহ আমাদের সকলকে একত্র করবেন এবং তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে।"।৮৬৪]
প্রশংসা সবই আল্লাহর, যিনি মহাবিশ্বের অধিপতি। আর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক সর্বশেষ রাসূল, মুহাম্মাদ-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন সবার ওপর।
টিকাঃ
[৮৬০] সূরা সাফফাত, ৩৭: ১৮০-১৮২।
[৮৬১] উবাই ইবনু কা'ব। দেখুন-আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৯/১২১।
[৮৬২] সূরা মুমিনূন, ২৩: ৭১।
[৮৬৩] নববি, আল-আরবাঈন, ৪১।
[৮৬৪] সূরা শূরা, ৪২: ১৫।