📘 মা কে খুশী করার ১৫০ উপায় 📄 জীবনের সবচেয়ে বড় বাসনা

📄 জীবনের সবচেয়ে বড় বাসনা


যে কোনভাবে মায়ের নিকট এ কথা পৌঁছে দিবেন যে, আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় কামনা-বাসনা হচ্ছে এই যে, 'আপনার মা সারাটি জীবন সুখে-শান্তিতে অতিবাহিত করুক আর আপনি তাঁর সেই সুখ-শান্তির জন্য মাধ্যম ও উপায় হন। সেই সাথে আপনার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট থাকুক।' যদি আপনি এটি করেন, তাহলে যেন তাঁর আশা-আকাঙ্খা বাস্তবায়িত করলেন। কেননা, তিনি তো দেখবেন, তার সন্তানদের সবচেয়ে বড় কামনা-বাসনা হচ্ছে মা কে আজীবন সুখী করে রাখা।

আপনি আপনার মায়ের জন্য প্রতিটি উৎসবে উপহার নির্ধারণ করে বুঝাতে পারেন যে, আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বাসনা আপনার মা। তাঁকে দুই ঈদে, তাঁর সন্তানদের বিবাহে, সন্তানদের সাফল্যে, আপনার ভ্রমণ থেকে প্রত্যাবর্তনের পরে বা তাঁর রোগমুক্তির পরে তাকে কোনো উপহার দিয়ে খুশি করতে পারেন। এতে তিনি মনে করবেন যে, আপনি আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বাসনা তাকেই মনে করেন।

📘 মা কে খুশী করার ১৫০ উপায় 📄 যদি নানা-নানী জীবিত থাকেন

📄 যদি নানা-নানী জীবিত থাকেন


যদি মায়ের মাতাপিতা তথা আপনার নানা-নানী জীবিত থাকেন, তাহলে তাদের সেবা-যত্ন ও সদ্ব্যবহার করতে কোন কৃপণতা করবেন না। তাঁদের সাথে সদ্ব্যবহার করার দ্বারাও মাকে সাহায্য করা হবে। আর যদি তারা মৃত হন, তাহলে তাঁদের উদ্দেশ্যে এমন সব আমল করেন, যেগুলোর সাওয়াব তাদের কবলে পৌঁছে যাবে। যেমন, তাদের জন্য দুআ করা, তাদের উদ্দেশ্যে সদকা করা, একইভাবে আরো এমন কিছু কাজ করুন, যা মুর্দারদের জন্য আনন্দের কারণ এবং আপনার মাতাও সন্তুষ্ট হন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো বলেছেন- إِذَا مَاتَ ابْنُ آدَمَ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثٍ : صَدَقَةٌ جَارِيَةٌ ، أَوْ عِلْمٌ عَلَّمَهُ ، أَوْ وَلَدٌ صَالِحٌ يَدْعُو لَهُ যখন আদম সন্তান মারা যায়, তার সকল আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমল তখনও চালু থাকে; বন্ধ হয় না। ১. সদকায়ে জারিয়া। ২. এমন ইলম যার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়। ৩. এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দুআ করে। [তিরমিযি : ১৩৭৬]

📘 মা কে খুশী করার ১৫০ উপায় 📄 কিছু ওয়াকফ করুন

📄 কিছু ওয়াকফ করুন


মায়ের নামে কিছু ওয়াকফ করুন, যাতে এর মাধ্যমে তাঁর নেক ও সাওয়াব বৃদ্ধি পেতে থাকে। ওয়াকফ করার সুরত এমন হতে পারে যেমন, মসজিদ নির্মাণে অংশগ্রহণ, এতিমদের লালন-পালনের যিম্মাদারি নেওয়া, আল্লাহ তাআলার কিতাবের হাফেযদের তত্ত্বাবধান করা, আর্থিক দুর্বল ও অসহায়দেরকে আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা করে চালিয়ে নেওয়া।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতিমের দুঃখ কষ্ট বুঝে তাকে সান্ত্বনা প্রদান ও তার জন্য উত্তম প্রতিপালনের উদ্যোগ নিতেন। যেন সে পূর্ণ মনুষ্যত্বের উপর বেড়ে ওঠে। সঠিক শিক্ষা-দীক্ষার উপর তার মেধাবিকাশ ঘটে। সমাজের অন্য শিশুদের দেখে যেন তার মনে পিতৃবিয়োগের পরিতাপ সৃষ্টি না হয়। আপনি আপনার মার জন্য ওয়াকফ হিসেবে এতিমদের দেখাশোনা করতে পারেন। কোনো এতিম দেখলে তাকে কাছে ডাকুন। তাকে আহার দিন। তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিন। তাকে আপনার খাদ্য দিন। কারণ, তা আপনার অন্তরকে নম্র করবে। আর এতে আপনার প্রয়োজন পূর্ণ হবে। [জামেউল আহাদিস : ৯৯৭ আলবানীর তাহকীককৃত সহীহ]

আপনার মার সওয়াবের নিয়ত করলে, তিনিও সওয়াব পাবেন।

📘 মা কে খুশী করার ১৫০ উপায় 📄 যথা সম্ভব স্বপ্ন পূরণ করুন

📄 যথা সম্ভব স্বপ্ন পূরণ করুন


যখন মা তার মনের কোন স্বপ্ন বা আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা, কিংবা নিজের সংশ্নিষ্ট কোন বস্তুর কথা আলোচনা করেন, তখন আপনার নিকট মা চাইবেন এই অপেক্ষায় বসে থাকবেন না। বরং আপনার সাধ্যানুসারে তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও আশা পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ নিন।

আপনি আপনার মায়ের সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন না। প্রতিশ্রুতি দিলে তা যথাযথভাবে পূর্ণ করুন, অন্যথায় প্রতিশ্রুতি থেকে বিরত থাকুন। আপনি যতটুকু পারবেন ততটুকুই আপনি আপনার মায়ের আশা-আকাঙ্ক্ষা বা স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চেষ্টা করবেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px