📄 “মহিলা” সে যে বয়সেরই হোক না কেন
নারী সে যে বয়সেরই হোক না কেন, আবেগময়ী কথার প্রতি আগ্রহী হয়। রোমঞ্চক কথা শুনতে অস্থির হয়ে পড়ে। সুতরাং আপনি তাঁকে সুমধুর কণ্ঠে মিষ্টি (ইসলামী) সংগীত শ্রবণ থেকে বঞ্চিত করবেন না। তিনি নিজের সন্তানের সুরলিত কণ্ঠে যে সংগীত শোনবেন, তা কখনো ভুলতে পারবেন না। মায়ের সাথে কথোপকথনকালে উৎকৃষ্ট বাক্য নির্বাচন করুন, অন্যথায় কষ্টদায়ক ও মর্মব্যথী কোনো কথা শুনে হয়তো তিনি ‘উফ (আল-কুরআনে নিষেধকৃত) বলে ওঠবেন।
মাকে বলুন- তোমার উপস্থিতি, আমার প্রশান্তি। তোমার দোয়া, আমার মুক্তি। তোমার পদতল, আমার জান্নাত। প্রভু হে! আমার মা থেকে বঞ্চিত করো না আমায়...। আমাকে তাঁর চক্ষুর শীতলতা বানান। এভাবে আপনি আপনার মার সামনে বিভিন্নধরনের কথাবার্তা বলতে পারেন। ইনশাআল্লাহ! এতে তাঁর মন খুশিতে ভরে উঠবে।
📄 বয়স বড় করে দেখাবেন না
কখনো মাকে তাঁর বয়স বড় করে দেখাবেন না। কখনো এবিষয়টি প্রকাশ করবেন না যে, তিনি বার্ধক্যের কারণে নিজের অত্যাবস্ককীয় কাজগুলো করতে অক্ষম হয়ে গেছেন। বরং তাঁকে এমন সব কথা বলে উৎসাহিত করবেন, যাতে করে বুঝে আসে যে, তিনি তাঁর যৌবনের শ্রেষ্ঠাংশে আছে। সুন্দর সুন্দর কথার মাধ্যমে তাঁর কষ্ট লাঘব করবেন এবং তাঁর জীবনের প্রতিটি স্টেশনে সদ্ব্যবহার করুন।
📄 পছন্দনীয় বস্তু থেকে
মাকে এমন সব বস্তু থেকে বঞ্চিত করবেন না, সাধারণত নারীজাতী যেগুলো পছন্দ করে, চাই মা বৃদ্ধা হয়ে যাক না কেন। এ সব বস্তুর মধ্যে রয়েছে যেমন, খোশবো-সুগন্ধি, সাজ-সজ্জার সরঞ্জামাদি, নতুন কাপড়, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য সুন্দর ও উন্নতমানের কাপড় ইত্যাদি। মাকে নতুনত্বের সাথে জীবন যাপন করতে দিন।
📄 যদি সৎমাও থাকে
যদি আপনার পিতার একাধিক স্ত্রী থাকে এবং তাদের পরস্পরের মাঝে অমিল থাকে, তাহলে আপনার মায়ের সামনে তাদের প্রশংসা করবেন না। কোন বিষয়ে মায়ের বিরুদ্ধে ও তাদের পক্ষে রায় দিতে যাবেন না। এমনকি যদি উক্ত বিষয়ে সৎ মা হকের উপর থাকে, তবুও। বরং এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিজেকে ঝামেলা মুক্ত রাখার কোন বিকল্প নেই। তবে হ্যাঁ, আপনি তাদের মাঝে এমন পদ্ধতিতে মিমাংসা করুন, যাতে আপনার মায়ের নিকট এটা প্রকাশ না পায় যে, আপনি সৎ মায়ের পক্ষাবলম্বন করছেন।
জনৈক প্রজ্ঞাবান জিজ্ঞাসিত হলেন, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুখী কে? বললেন, যে মানুষকে সুখ দেয়। আপনি সত্যবাদী হলেও মায়ের সাথে কখনো বিতর্কে যাবেন না। কল্যাণকর বিষয় হলে সহজ ও উৎকৃষ্ট পন্থায় আপনার মতামত তুলে ধরুন। অযথা ও অহেতুক বিষয় হলে তা থেকে বিরত থাকুন; মায়ের চাহিদা পূরণই উত্তম ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ।