📄 উত্তম ব্যবহারের উপযোগী সময়
মাতাপিতার সাথে ভাল ব্যবহার ও সদাচরণের উত্তম সময় হচ্ছে ইবাদত আদায়ের সময়। সুতরাং আপনি যখন হজ্জ বা উমরাতে মায়ের সাথে থাকেন, তখন তাঁর দাস হয়ে যান। তাঁর পুরোপুরি যত্ন নিবেন। নিরাপত্তার প্রতি খেয়াল রাখবেন। বিনম্র আচরণ করবেন। তাঁর সাথে থেকে আমল ও ইবাদত করার মাঝে স্বাদ উপভোগ করবেন। তাঁকে তেমন কাজ-কর্ম করতে দিবেন না। যে রাস্তা দিয়ে তিনি অতিক্রম করবেন, সেখানে কোন ভয়ানক বা ক্ষতিকর বস্তু থাকলে সে সম্পর্কে তাঁকে পূর্ব থেকেই সতর্ক করে দিবেন। তাঁকে চোখে চোখে এবং লক্ষ্য বস্তু করে রাখবেন।
📄 আপনার ওযর ও অপারগতা পেশ করুন
আপনার যে ভাই/বোন ভুল বা অন্যায় করে, তাকে শাসন করার ব্যাপারে আপনার ওযর ও অপারগতা পেশ করুন। তাদের প্রতি আপনার মায়ের শাসনকে সুদৃঢ় করুন। তাদের থেকে যে ভুল বা অন্যায় প্রকাশ পেয়েছে, তা শয়তানের কুমন্ত্রণায় হয়েছে। আল্লাহ তাআলা অচিরেই তাকে সঠিক বুঝ ও সরল পথে ফিরিয়ে দিবেন।
📄 অন্যদের ভুলত্রুটি বড় করে তুলবেন না
মায়ের নিকট অন্যদের ভুলত্রুটি বড় করে পেশ করবেন না। অন্যদের বলতে যে, ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব প্রমুখ। বরং এদের ভুলের প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব তাঁর উপর একেবারে হালকা ও ছোট করবেন। নিশ্চয়ই তাতে তাঁর ব্যথা লাঘব হবে। প্রিয়জনদের মান-মর্যাদা রক্ষা করা হবে।
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- লَمَّا عَرَجَ بِي رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ ، مَرَرْتُ بِقَوْمٍ لَهُمْ أَظَافِرُ مِنْ نُحَاسٍ يَحْمِشُونَ وُجُوهَهُمْ وَصُدُورَهُمْ فَقُلْتُ : مَنْ هَؤُلَاءِ يَا جِبْرِيلُ ؟ فَقَالَ : هَؤُلَاءِ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ لُحُومَ النَّاسِ وَيَقَعُونَ فِي أَعْرَاضِهِمْ মেরাজের রাত্রিতে আমি এমন সম্প্রদায়ের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম, যাদের নখগুলো হলো তামার। সেই নখগুলো দিয়ে তারা নিজেদের চেহারা ও বক্ষগুলো খামচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে। জিবরিলকে জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? বললেন, তারা ওই সব লোক, যারা মানুষের নিন্দা করে বেড়াত, তাদের কুৎসা রটনা করত। [আবু দাউদ : ৪৮৮০]
📄 হঠাৎ করে দুঃসংবাদ জানাবেন না
মাকে দুঃসংবাদ বা দুঃচিন্তার বিষয় হঠাৎ করে জানাবেন না। বরং এর জন্য প্রথমে এমন একটি ভূমিকা পেশ করবেন, যেন সংবাদের প্রভাব একেবারে হালকা হয়ে যায়। এ জাতীয় সংবাদ মোবাইল ও টেলিফোনের মাধ্যমেও জানাবেন না। বরং নিজে উপস্থিত হয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবেন। প্রথমে সালাম দিয়ে তাঁর নিকট যাবেন। তারপর বিষয়টির জন্য সাজিয়ে-গুছিয়ে একটি ভূমিকা বলবেন। অতপর তাঁর কাছে সংবাদটি পেশ করবেন এবং ধৈর্যশীলদের সাওয়াব ও পুরষ্কারের বিষয়ে আলোচনা করবেন।
বলবেন, ধৈর্য ধারণ করা ও সহ্য করতে পারা দৃঢ় প্রত্যয়ীদের গুণ। এঁরা ধৈর্য্য, সহ্য ও দৃঢ়তার সঙ্গে বিপদ-আপদের মোকাবিলা করেন। আপনি বা আমি যদি ধৈর্য ধারণ না করি, তবে আমাদের আর কীইবা করার আছে? ধৈর্যধারণ ছাড়া কি আমাদের আর কোনো উপায় আছে? এ ছাড়া কি আমাদের আর কোনো পথ আছে?