📄 মায়ের সামনে বউয়ের বেশী প্রশংসা নয়
আপনার মায়ের সামনে বউয়ের বেশী প্রশংসা করবেন না। আপনার জীবনের বিবরণ অবগত করবেন না। বিশেষ করে আপনি স্ত্রীকে যা প্রদান করেন এবং স্ত্রী আপনাকে যা প্রদান করে, সে সম্পর্কে মাকে জানাবেন না। স্ত্রীর প্রতি যদি অধিক বিনম্র আচরণ হয়ে থাকে তাহলে মায়ের মনে আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত হতে পারে। তিনি আশঙ্কা করতে পারেন যে, ছেলে এখন তাঁর পরিবর্তে অন্য জনকে গ্রহণ করেছে। তিনি কষ্ট করে ফসল রোপন করলেন, এখন অন্য জন এসে ফসল কেটে নিচ্ছে। সঙ্গতিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং অন্যেদের হক নষ্ট হওয়ার ব্যাপারে যত্নবান হোন।
দাম্পত্য জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ শ্বশুর-শাশুড়ী। পুত্রবধূর সাথে শ্বশুরের ওরকম লেনদেন থাকে না, যেরকম থাকে শাশুড়ীর। কিন্তু পুত্রবধূদের মুখে প্রায় সবসময়ই শ্বশুরদের প্রশংসা শুনতে পাওয়া যায়। দুঃখজনক হলেও সত্য কথা যে, পুত্রবধূর মুখে শাশুড়ীর প্রশংসা তেমন একটা শুনতে পাওয়া যায় না। আবার শাশুড়ীর মুখেও পুত্রবধূর তেমন একটা প্রশংসা শুনতে পাওয়া যায় না। আমার কাছে একটি বিষয় এখানে বুঝতে অসুবিধা হয়, তা হল একজন নারী আরেক জন নারীর দুঃখ-বেদনা উপলব্ধি করার কথা। এজন্য বউ-শাশুড়ী একজন আরেক জনের সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টায় থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যাপারটা এখন উল্টো। পুত্রবধূ শ্বশুরকে যতটা সমীহ করে, শাশুড়ীকে তা করে না। আবার শ্বশুরও পুত্রবধূর যতটা পক্ষপাতিত্ব করেন, শাশুড়ীকে তা করতে দেখা যায় না। এজন্য মায়ের সামনে বউরে বেশী প্রশংসা করা যাবে না।
📄 মাতাপিতারের বৈবাহিক মতবিরোধে ফায়সালা
এমনিভাবে মায়ের সাথে আপনার সুসম্পর্কের সবটুকু স্ত্রীর কাছে প্রকাশ করবেন না। সব সময় মায়ের মর্যাদা সুউচ্চ রাখবেন। মায়ের সম্মান-মর্যাদা কমতে দিবেন না। মা ও বউয়ের মাঝে সম্পর্ক মজবুত করুন। তবে সব সময় মা ও বউয়ের মধ্যকার বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন না। কেননা, প্রত্যেকেরই মান-মর্যাদা রয়েছে। প্রত্যেকেরই নিজস্ব রুচিবোধ ও স্বভাব রয়েছে। আমাদের জন্য তার সাথে সেই অনুসারেই আচরণ করা দরকার। প্রত্যেকেরই হক বা অধিকার এবং আবশ্যকীয় কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলো ত্রুটিহীনভাবে আদায় করা আমাদের জন্য আবশ্যক।
📄 দাম্পত্য কলহে রায় দিতে যাবেন না
আপনার মাতা-পিতার দাম্পত্য কলহের বিষয়ে রায় দেওয়া থেকে বেঁচে থাকুন। এ দায়িত্ব পালন করার প্রয়োজন নেই আপনার। বরং প্রকাশ্য নিরপেক্ষতাকে কাজে লাগান। আর পরোক্ষভাবে উপদেশ ও মিমাংসা করার চেষ্টা চালিয়ে যান।
📄 খুঁত বের করতে যাবেন না
মায়ের পোশাক-পরিচ্ছদ, অবয়ব, পছন্দ-অপছন্দ, মন-মেজাজ, রীতি-নীতি এবং কাজের পদ্ধতির মাঝে খুঁত বের করতে যাবেন না। তবে যদি আপনি মনে করেন যে, এগুলো একেবারেই প্রকাশ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং আপনি আশঙ্কা করেন যে, অন্যরা এ ব্যাপারে খুঁত বের করবে ও দোষ ধরবে, তাহলে আপনার জন্য আবশ্যক হচ্ছে বিষয়টি মায়ের কাছে এমন হেকমতপূর্ণ পদ্ধতিতে পেশ করা, যাতে তিনি মনে আঘাত না পান এবং তাঁর দোষোমোচন না হয়। অন্যথায় তিনি ব্যথিত ও বিচলিত হবেন।
মানুষের ত্রুটিবিচ্যুতি বিবিধ- কতগুলো বড়, কতগুলো ছোট। তবে যেমনই হোক, তার প্রতিকারবিধান সম্ভব। তা ছাড়া ভুলত্রুটি সংশোধন করতে গিয়ে আমরা এমন পন্থা অবলম্বন করি, যা স্বতন্ত্র আরেক ভুল।