📄 মা যখন সফরে যান
আপনার মা যখন সফরে যান কিংবা দূরবর্তী কোন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বের হন, তখন তাঁর সাথে (সম্ভব হলে দেখা করুন। দেখা করা সম্ভব না হলে কমপক্ষে) যোগাযোগ করুন। মা বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছার আগ পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষণে, প্রতিটি মুহূর্তে তাঁর (সাথে যোগাযোগ করে তাঁর) সম্পর্কে নিশ্চিত হোন। অতপর তাঁর অনুপস্থিতির দিনগুলোতে বারবার তাঁর সাথে যোগাযোগ করবেন। অল্পক্ষণ বা অল্পকথা দিয়ে হলেও তাকে আশ্বস্ত করুন; মা সুখ অনুভব করবে; সকল প্রকার সংশয়, দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠা দূর হয়ে যাবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
কেয়ামতের দিন প্রত্যেক আত্মীয়তার বন্ধন তার সাথীর কাছে এসে তার পক্ষে-বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে। যদি সে বন্ধন মিলিত করে থাকে তাহলে তার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে। আর যদি বন্ধন ছিন্ন করে থাকে তাহলে তার বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে। [আল-আদাবুল মুফরাদ-৭৩]
📄 সব ব্যথা বলতে নেই
মায়ের কাছে আপনার এমন সব পেরেশানির কথা বলবেন না, যেগুলো তাঁকে ব্যথিত করে। তাঁর কাছে এমন সব কষ্টের অভিযোগ করবেন না, যেগুলো তাঁর জন্য পিড়াদায়ক হয়। বরং (তিনি কোন কষ্টের বিষয় জেনে গেলে) তাঁকে বলুন যে, বিষয়টি একেবারেই সাধারণ। (এতে পেরেশান হওয়ার কোন কারণ নেই।) আমি এ বিষয়ে চিন্তিত নই; বরং নিশ্চিন্ত আছি। আল্লাহ তাআলা আমার এই পেরেশানি দূর করে দিবেন। আমি এক্ষেত্রে ভাল কিছু আশা করি।
📄 বৈবাহিক সমস্যা প্রকাশ করবেন না
মায়ের কাছে আপনার দাম্পত্যজীবনের সমস্যাগুলো প্রকাশ করবেন না। তিনি একারণে বিচলিত হয়ে পরবেন। কেননা, যখন তিনি দেখবেন তাঁর কলিজার টুকরা ছেলে দাম্পত্য জীবনে বহু কষ্টের সম্মুখীন হয়েছে, তখন তিনি আবেগে ব্যাকুল হয়ে আপনার জন্য কোন সমাধান করতে যাবেন। যে কোন পন্থায় সমাধান বের করে আপনাকে জীবনে সুখী ও সৌভাগ্যবান দেখতে চাইবেন। (এতে করে তাঁকে অনেক কষ্ট ও মেহনত সহ্য করতে হবে।) সুতরাং তাঁর সাথে এবং আপনার জীবনের সাথে দয়াদ্র ও বিনম্র আচরণ এটাই যে, আপনার মা আপনার সমস্যার বিষয়গুলো থেকে অনেক দূরে থাকবেন।
আপনি আপনার সমস্যাসমূহকে লাগাম পড়িয়ে দিন। ওগুলোকে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিবেন না। তা হলে ওগুলো মুক্ত হয়ে এদিক-সেদিক ইতস্তত ঘোরাঘুরি করে অবাধ্য হয়ে যাবে। আপনি আর ওগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না, বরং তারাই আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করবে। আপনার সামনে দুশ্চিন্তা আর পেরেশানীর যাবতীয় ফাইল মেলে ধরবে। আপনার জন্ম থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত যাবতীয় ঘটনা-দুর্ঘটনা আর বালা-মসিবতের ইতিবৃত্ত খুলে বসবে। বেদনাবিধুর অতীত আর শঙ্কিত ভবিষ্যতকে টেনে আনবে। ফলে আপনি হয়ে পড়বেন হতাশ, হতোদ্যম। আপনার অনুভূতি লোপ পাবে, আগ্রহ হারিয়ে যাবে। আর এতে আপনার ও আপনার মার সমস্যা বাড়বে, কমবে না।
📄 মায়ের সামনে বউয়ের বেশী প্রশংসা নয়
আপনার মায়ের সামনে বউয়ের বেশী প্রশংসা করবেন না। আপনার জীবনের বিবরণ অবগত করবেন না। বিশেষ করে আপনি স্ত্রীকে যা প্রদান করেন এবং স্ত্রী আপনাকে যা প্রদান করে, সে সম্পর্কে মাকে জানাবেন না। স্ত্রীর প্রতি যদি অধিক বিনম্র আচরণ হয়ে থাকে তাহলে মায়ের মনে আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত হতে পারে। তিনি আশঙ্কা করতে পারেন যে, ছেলে এখন তাঁর পরিবর্তে অন্য জনকে গ্রহণ করেছে। তিনি কষ্ট করে ফসল রোপন করলেন, এখন অন্য জন এসে ফসল কেটে নিচ্ছে। সঙ্গতিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং অন্যেদের হক নষ্ট হওয়ার ব্যাপারে যত্নবান হোন।
দাম্পত্য জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ শ্বশুর-শাশুড়ী। পুত্রবধূর সাথে শ্বশুরের ওরকম লেনদেন থাকে না, যেরকম থাকে শাশুড়ীর। কিন্তু পুত্রবধূদের মুখে প্রায় সবসময়ই শ্বশুরদের প্রশংসা শুনতে পাওয়া যায়। দুঃখজনক হলেও সত্য কথা যে, পুত্রবধূর মুখে শাশুড়ীর প্রশংসা তেমন একটা শুনতে পাওয়া যায় না। আবার শাশুড়ীর মুখেও পুত্রবধূর তেমন একটা প্রশংসা শুনতে পাওয়া যায় না। আমার কাছে একটি বিষয় এখানে বুঝতে অসুবিধা হয়, তা হল একজন নারী আরেক জন নারীর দুঃখ-বেদনা উপলব্ধি করার কথা। এজন্য বউ-শাশুড়ী একজন আরেক জনের সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টায় থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যাপারটা এখন উল্টো। পুত্রবধূ শ্বশুরকে যতটা সমীহ করে, শাশুড়ীকে তা করে না। আবার শ্বশুরও পুত্রবধূর যতটা পক্ষপাতিত্ব করেন, শাশুড়ীকে তা করতে দেখা যায় না। এজন্য মায়ের সামনে বউরে বেশী প্রশংসা করা যাবে না।