📄 আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করুন
আপনার মাকে তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করুন। তাঁকে তাঁর বান্ধবী ও নিকটাত্মীয়-স্বজনদের কাছে নিয়ে যান। যাতে করে তাঁর মনে আনন্দ সঞ্চার হয়, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে তাঁর মর্যাদা আরো বেড়ে যায় এবং প্রভূর আনুগত্য আরো বৃদ্ধি পায়। অতি উত্তম হবে যদি তঁকে তাঁর আত্মীয়দের যথাপোযোগী হাদিয়া কিনে দেন, যাতে করে তিনি সেগুলো সাক্ষাতের সময় তাদের নিকট পেশ করতে পারেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
মَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ رِزْقُهُ أَوْ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ.
যে চায় তার রিযিকে বরকত হোক এবং আয়ু বৃদ্ধি পাক, সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন মিলিত করে। [সহীহ বুখারী : ১৯৬১]
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- আল্লাহ তাআলা যখন সকল সৃষ্টির সৃজন শেষ করলেন, তখন আত্মীয়তার বন্ধন দাঁড়িয়ে বলল, এই হল আত্মীয়তার বন্ধন থেকে আপনার কাছে আশ্রয়প্রার্থনাকারীর স্তর? প্রতিপালক বললেন, হাঁ...! আমি যদি তোমার বন্ধন মিলনকারীদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করি এবং তোমার বন্ধন কর্তনকারীদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করি, তবে তুমি সন্তুষ্ট হবে? সে বলল, হাঁ...! বললেন, তবে সেটাই হবে! [বুখারী : ৫৯৮৭]
📄 একটি বিশেষ বাক্স রাখুন
মায়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র বাক্স বা আলমারির ব্যবস্থা করুন। সেখানে তাঁর জন্য সব সময় বিভিন্ন প্রকার বিস্কুট, মিষ্টিদ্রব্য, ছোট ছোট হাদিয়া এবং কিছু খেলনা। এগুলো এ জন্য যে, যখন তাঁর নাতী-নাতনীরা তাঁর নিকট আসবে তখন যেন তিনি তাদেরকে সেগুলো দিতে পারেন। এর দ্বারা তাঁর প্রতি বাচ্চাদের মায়া-মহব্বত সৃষ্টি হবে এবং তাঁর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী হবে।
📄 মা যখন সফরে যান
আপনার মা যখন সফরে যান কিংবা দূরবর্তী কোন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বের হন, তখন তাঁর সাথে (সম্ভব হলে দেখা করুন। দেখা করা সম্ভব না হলে কমপক্ষে) যোগাযোগ করুন। মা বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছার আগ পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষণে, প্রতিটি মুহূর্তে তাঁর (সাথে যোগাযোগ করে তাঁর) সম্পর্কে নিশ্চিত হোন। অতপর তাঁর অনুপস্থিতির দিনগুলোতে বারবার তাঁর সাথে যোগাযোগ করবেন। অল্পক্ষণ বা অল্পকথা দিয়ে হলেও তাকে আশ্বস্ত করুন; মা সুখ অনুভব করবে; সকল প্রকার সংশয়, দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠা দূর হয়ে যাবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
কেয়ামতের দিন প্রত্যেক আত্মীয়তার বন্ধন তার সাথীর কাছে এসে তার পক্ষে-বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে। যদি সে বন্ধন মিলিত করে থাকে তাহলে তার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে। আর যদি বন্ধন ছিন্ন করে থাকে তাহলে তার বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে। [আল-আদাবুল মুফরাদ-৭৩]
📄 সব ব্যথা বলতে নেই
মায়ের কাছে আপনার এমন সব পেরেশানির কথা বলবেন না, যেগুলো তাঁকে ব্যথিত করে। তাঁর কাছে এমন সব কষ্টের অভিযোগ করবেন না, যেগুলো তাঁর জন্য পিড়াদায়ক হয়। বরং (তিনি কোন কষ্টের বিষয় জেনে গেলে) তাঁকে বলুন যে, বিষয়টি একেবারেই সাধারণ। (এতে পেরেশান হওয়ার কোন কারণ নেই।) আমি এ বিষয়ে চিন্তিত নই; বরং নিশ্চিন্ত আছি। আল্লাহ তাআলা আমার এই পেরেশানি দূর করে দিবেন। আমি এক্ষেত্রে ভাল কিছু আশা করি।