📄 সান্ত্বনা দিন
মায়ের অসুস্থতার সময় মাকে সান্ত্বনা দিন যে, অতিদ্রুত আপনি পূর্বের চেয়েও বেশী সুস্থ হয়ে যাবেন। এ সময়ে তাঁকে তাঁর মত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবস্থার অবনতি সংক্রান্ত কোন সংবাদ শোনাবেন না।
তাঁকে কষ্ট দিতে পারে এমন সব ঘটনা তাঁর সামনে বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকুন। বরং তাঁর সামনে এমনটি আলোচনা করুন যে, অসুস্থতা মানব জীবনে আল্লাহ তাআলার এক বিশেষ নীতি। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদেরকে পরীক্ষা করেন এবং তাদের গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেন। তাছাড়া এটা তো সামান্য সময়ের জন্য; অচিরেই আপনি পূর্বের চেয়েও বেশী সুস্থতা বোধ করবেন।
📄 বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়ে আসুন
মায়ের জন্য তাঁর অবস্থানের জায়গায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়ে আসুন। অথবা তাঁকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান, যদি তিনি যেতে সক্ষম হন। আপনি ডাক্তারদের সাথে সমোঝতা করে নিন যেন তারা আপনার মাকে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিন্ত করেন এবং এ কথা বলে সান্ত্বনা দেন যে, (চাচিআম্মা!) আপনার এ সমস্যা একেবারে নরমাল বিষয়; খুব শীঘ্রই সেরে যাবে।
📄 আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করুন
আপনার মাকে তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করুন। তাঁকে তাঁর বান্ধবী ও নিকটাত্মীয়-স্বজনদের কাছে নিয়ে যান। যাতে করে তাঁর মনে আনন্দ সঞ্চার হয়, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে তাঁর মর্যাদা আরো বেড়ে যায় এবং প্রভূর আনুগত্য আরো বৃদ্ধি পায়। অতি উত্তম হবে যদি তঁকে তাঁর আত্মীয়দের যথাপোযোগী হাদিয়া কিনে দেন, যাতে করে তিনি সেগুলো সাক্ষাতের সময় তাদের নিকট পেশ করতে পারেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
মَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ رِزْقُهُ أَوْ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ.
যে চায় তার রিযিকে বরকত হোক এবং আয়ু বৃদ্ধি পাক, সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন মিলিত করে। [সহীহ বুখারী : ১৯৬১]
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- আল্লাহ তাআলা যখন সকল সৃষ্টির সৃজন শেষ করলেন, তখন আত্মীয়তার বন্ধন দাঁড়িয়ে বলল, এই হল আত্মীয়তার বন্ধন থেকে আপনার কাছে আশ্রয়প্রার্থনাকারীর স্তর? প্রতিপালক বললেন, হাঁ...! আমি যদি তোমার বন্ধন মিলনকারীদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করি এবং তোমার বন্ধন কর্তনকারীদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করি, তবে তুমি সন্তুষ্ট হবে? সে বলল, হাঁ...! বললেন, তবে সেটাই হবে! [বুখারী : ৫৯৮৭]
📄 একটি বিশেষ বাক্স রাখুন
মায়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র বাক্স বা আলমারির ব্যবস্থা করুন। সেখানে তাঁর জন্য সব সময় বিভিন্ন প্রকার বিস্কুট, মিষ্টিদ্রব্য, ছোট ছোট হাদিয়া এবং কিছু খেলনা। এগুলো এ জন্য যে, যখন তাঁর নাতী-নাতনীরা তাঁর নিকট আসবে তখন যেন তিনি তাদেরকে সেগুলো দিতে পারেন। এর দ্বারা তাঁর প্রতি বাচ্চাদের মায়া-মহব্বত সৃষ্টি হবে এবং তাঁর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী হবে।